কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন এর পরিচিতির পাতায় . . .
সর্বোত্তম কাকে বলে
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৯.০৩.২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

সর্বোত্তম জামা সেই, ফাটা হলেও থাকে গায়,
একটিই আছে, তবু সে তার উষ্ণতাটুকু চায়।
সেই জামাতেই মিশে থাকে, পরিশ্রমের গন্ধ,
ধনীর শাড়ি হার মানে, ওই দারিদ্র্যের ছন্দ।

সর্বোত্তম গন্ধ আসে, রন্ধনঘরের ধোঁয়ায়,
মায়ের কপাল ঘেমে ভেজে, ভালোবাসা যে রয়।
পোড়া চুলে, পুড়ে যাওয়া আঁচলে যে স্নেহ বাজে,
সেই গন্ধে বেঁচে থাকে সন্তান রাত-দুপুরে।

সর্বোত্তম আহার কী?—যে ক্ষুধার পেটে পড়ে,
বাসি রুটি তখন সুধা, তৃপ্তি নামায় ঘরে।
ভাতের সাথে নুনই যথেষ্ট, অভাবের যে রাত,
মন বোঝে তখন খাবার নয়—ভালোবাসার পাত।

সর্বোত্তম বিছানাটি, না সে মখমল বিছানো,
যেখানে শান্ত ঘুম আসে, বুক ধরা নয় হাহাকার।
সোনার খাটে নিদ্রাহীন রাজা কাঁদে রাতে,
গরিবের খড়ের খাটেও স্বপ্ন নামে সাথে।

আর যে দেশের প্রশ্ন এল—কোন দেশ শ্রেষ্ঠ হয়?
যেখানে মুক্ত চিন্তার আলো আঁধার পেরোয়।
যেখানে সত্য শাসক হয়, মিথ্যা পায় না স্থান,
স্বাধীন দেশের নামেই জাগে সর্বোত্তম মান।

*********************









*
দৃষ্টি বদলান, সমাজ বদলাবে
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ৩১.০৪.২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

পাঁচশো টাকায় কাপড় খুললে বলে—বেশ্যা,
আর দামি সিনেমায় খুললে হয়—নায়িকা।
নাম যদি রিনা-মিনা হয়, তবে “খানকি”,
আর যদি হয় জেনি-জেসিকা, তবে “স্মার্ট মডেল”।

একই শরীর, একই আবেগ,
কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয় চরিত্র।
ধর্ষিতা কখনো ইচ্ছায় ধর্ষিত হয় না,
তবুও সমাজ তাকেই করে বিচ্ছিন্ন।

যে পুরুষ রাতের আঁধারে দেহ খোঁজে,
সে-ই দিনের আলোয় বলে “ঘৃণা করি”।
যে মেয়ে ভিডিও ফাঁসে কাঁদে,
সমাজ তার কান্না নয়, নগ্নতাই দেখে।

ছেলে ছ্যাকা খেয়ে গালি দেয় মেয়ে জাতিকে,
আর নিজেই পড়ে পরের প্রেমে।
পরের বোন “মাল”, নিজের বোন “কলিজা”—
এই মানসিকতাই ধর্ষণের ভিত্তি।

কাপড় খোলা সমস্যা না,
সমস্যা—তোমার দৃষ্টির বিষ।
নারী শুধু দেহ নয়,
তার ভেতরে একটা “মা” বাস করে।

সমাজ বদলাবে কেবল তখনই,
যখন তুমি বদলাবে নিজের দৃষ্টি।

*********************









*
তুমি রবে নীরবে
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৮.০৭.২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

তুমি রবে নীরবে, যেমন থেকে যায় নিসর্গের শ্যামলতা,
জ্যোৎস্নার আলোয় তুমি ছড়িয়ে থাকবে আমার স্মৃতির চাদরে।
নিভে গেলেও প্রদীপ ফেলে যায় কোমল উষ্ণতা—
তেমনই তুমি, নিভে গিয়েও জ্বালিয়ে রাখো হৃদয়ের আঁচল।

নির্বাক শব্দের ভিতরে তুমি হয়ে উঠো এক প্রহর,
যেখানে আমার নিঃশ্বাস টের পায় তোমার উপস্থিতি।
তুমি রবে বইয়ের ভাঁজে, পুরোনো চিঠির ঘ্রাণে,
রবে শিউলি ঝরার সকালে, ভিজে উঠোনে একাকী।

তুমি রবে কষ্টের রাতে, চুপচাপ বালিশে চোখ রাখা জলে,
রবে স্বপ্নভঙ্গের পরেও ভরসা হয়ে, যেন এক নির্ভর ঠাঁই।
তুমি রবে, যেমন পুরোনো ঘড়ি টিকটিক করে চলে—
সময়ের ঘূর্ণিতে থেকেও অনড়, নির্ভার, চিরচেনা।

তুমি রবে শব্দহীন ভালোবাসায়,
রবে না বলা অপেক্ষায়, অপ্রকাশিত কবিতার মতো।
রবে একফোঁটা চোখের জলে, লুকানো প্রার্থনার শেষে।
তুমি রবে প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি চুপচাপ ভোরে।

যখন পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে নেবে, তখনও তুমি রবে
আমার মনেপ্রাণে, রবে নিঃশব্দ প্রহরে।
তুমি রবে, যেমন রোদ্দুর রয়ে যায় মেঘের আড়ালে—
অদৃশ্য, অথচ জীবন্ত।
তুমি রবে নীরবে… আমার হৃদয়ের অনন্ত জোনাকিপোকা হয়ে।

*********************









*
তাজ নয়, তৈরি হোক জ্ঞানালয়
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ০৩.১১.২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

তাজমহল গড়ে ওঠে শোকে,
হার্ভার্ড গড়ে জ্ঞানের ঢোকে।
একপাশে সোনা-রূপার ঢাল,
অন্যপাশে শিখনের ভাল।

শাহজাহান বানাল সমাধি,
কিন্তু ক’জন পেলো পাটি?
হার্ভার্ড দিলো নতুন প্রাণ,
জ্ঞান আর আলোয় নির্মিত জ্ঞান।

দেখি আজও শোভাযাত্রা,
হীরার কোটে ব্যর্থ নাট্য।
রিসোর্টে নাচে জৌলুসে লোক,
পাশে মরে শিশু না পেয়ে শোক।

আমেরিকায় বিলিয়ে দেয়,
বিল গেটস স্বপ্নের আলো বয়ে।
বাফেট, জুকারবার্গ দিচ্ছে তহবিল,
মানবতার সেবায় করে সাহসীল।

এখানে ধনীরা বাজায় বাজা,
দান মানে যেন লোক দেখানো সাজা।
শেষ বয়সে মসজিদ, গির্জা,
তারপর শুরু দ্বন্দ্বের গর্জা।

নোবেল যদি জন্মাত এখানে,
মন্দিরের গম্বুজ উঠত উঁচু টানে।
না হতো কোনো পুরস্কার,
শুধুই থাকত পারিবারিক দ্বার।

আমাদের কি নেই কিছু আশা?
কেনইবা শিক্ষা হয় উপহাসা?
দাও একটি বৃত্তির টান,
তৈরি হবে হাজারো জ্ঞান।

একজন যদি গড়েন তরণী,
শিক্ষায় দেন নতুন জ্বরণী।
তবে সে হবে সত্যিকারের নায়ক,
যার ছায়া পাবে মানব সমাজ এক।

উৎসব নয়, করো উৎসর্গ,
দান হোক হৃদয়ের সংগ।
নাচ নয়, গড়াই হোক ইতিহাস,
সত্য দানেই মানুষ পায় বিকাশ।

এবার তবে ভাবো ঠিক করে,
কে হবেন ইতিহাসের চূড়ায় দাঁড়িয়ে?
তাজ নয়, চাই হার্ভার্ডের ছায়া,
যেখানে শিক্ষাই হবে শ্রেষ্ঠ মায়া।

*********************









*
শিক্ষাই আলো
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৭.০৪.২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

শিক্ষা মানে আলো জ্বলে,
অন্ধকারে স্বপ্ন চলে।
বুকের ভিতর জাগে আশা,
মানবতার শুদ্ধ ভাষা।

কলম ধরে যে পথ চেনে,
সে তো জানে জীবন কেন।
বইয়ের পাতায় খোঁজে দিশা,
শিক্ষিত মন খোঁজে সত্য বিচ্ছা।

না হয় রাজা, না হয় ধনী,
জ্ঞানীর মত হয় না কেউ গুণী।
শিক্ষাই গড়ায় চরিত্রের মান,
যেখানে থাকে বিবেকের জান।

ভাত না থাকুক, থাকুক পাঠ,
শিক্ষাহীন সমাজের ঘাট।
ঘর-বাড়ি নয়, গড়ো স্কুল,
সেই তো হবে শ্রেষ্ঠ মূল।

যেখানে জ্ঞান, সেখানেই আলো,
মানবজীবন হবে নিখুঁত চালো।
শিক্ষা দিলে বাড়ে মানবতা,
কমে গিয়ে যায় অমানবতা।

তাই আসো গো, করি মান্য,
শিক্ষার চেয়ে নেই শ্রেষ্ঠ দান।
জীবনপথে যাত্রা শুরু,
শিক্ষাই হোক শ্রেষ্ঠ গুরু।

*********************









*
বিচারের বেদিতে কাঁদে সময়
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৩.০৭.২০২৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

আঠারো বছরের শিকল কাটা,
নিরপরাধ মুখ, নিঃশব্দ কথা।
কে শুনবে এ দীর্ঘ নিঃশ্বাস?
বিচার পায় না সময়ের আশ।

আইন ছিল, আইন রইল,
কিন্তু ন্যায় কবে জেগে উঠল?
কে রাখে খবর মায়ের চোখে
যে নেমেছিল প্রতিবাদের শোকে?

তোমার ঘরে যদি আগুন লাগে,
তবু তুমি চুপ—এই সমাজ ভাগে।
বেকসুর ১২টি নাম, ১২টি জীবন,
কে দেবে তাদের হারানো দিন গন?

বিচারালয়ের অলিন্দ জুড়ে,
অদৃশ্য হাত কারা টানে দূরে?
আইনের অপব্যবহারে হায়,
জনগণ হোক না আজ গর্জে যায়।

কে দেবে শাস্তি মিথ্যা দায়ে,
জীবন যারা করেছিলো ছায়ে?
বিচার যারা দেয় না সময়,
তাদের জন্য কাঁদে পৃথিবীর নিয়ম।

পোস্টারে লিখো, দেয়ালে চিৎকার,
ন্যায়বিচারের নামে না হোক অত্যাচার।
অন্যায় যদি রক্ষা পায় আইনের পোশাকে,
তবে গণতন্ত্র শুধু শব্দের খোয়াখাকি।

তোমার সন্তান যদি হয় কাল বন্দি,
তবে বুঝবে কীভাবে হয় বুকে সন্দি।
এ দেশে আমরা, এ দেশ আমাদের,
তবু বিচারে রয়ে যায় ব্যবধানের পর্দা।

বিচার চাই শুধু আদালতে নয়,
চাই মানুষের মনেও জেগে ওঠে সত্যের জয়।
এই অন্যায় যেন আর না ঘটে,
কথা বলো, লিখো, নীরবতা রটে।

*********************









*
রক্ত দান জীবন দান
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ০৬.০৮.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

রক্ত দান করো ভাই, জীবন বাঁচে এতে,
একটি ফোঁটা রক্ত দিয়ে রেখো মানবপাতে।
অসহায়ের চোখে জল, থেমে যায় না ক্ষণ,
তোমার রক্ত পেয়ে পায় সে বাঁচার অভিনয়ন।

দুঃখ নয়, ভয় নয়, রক্ত দানে সাহস থাক,
ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও, হৃদয় করো একাক।
মাঝরাতে ফোন এলে, বলো না “আমি পারি না”,
জীবন রক্ষা করাই তো মানবধর্মের সীমানা।

নতুন প্রাণের আশায় কেউ করে অপেক্ষা,
তোমার রক্তে হাসতে পারে অসুস্থ এক মুখপাত্র।
বয়স হলে দিও তুমি, সুস্থ দেহে থাকলে,
ভয় ভুলে এগিয়ে চলো, অন্য রক্তের ডাকে।

চল রক্ত দিয়ে গড়ি পথ, ভালোবাসার দল,
জীবন দানের স্বাক্ষর হোক, মানবিক এক চল।

*********************









*
দাদুর আবার বিয়ে দাও
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ১২.১২.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

দাদু এখন একা, খুব একা,
ঘরের কোণায় বসে থাকেন,
চোখ দুটো আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে—
যেন খুঁজে ফেরেন দাদির মুখ।
দাদি নেই, অনেক বছর হলো
তবু দাদুর হৃদয় আজও ভেজা,
এক কাপ চা বানাতে গিয়েও
দাদি বলে ফেলেন—"তোমার চিনি কম দেবো!"

ছেলে-মেয়েরা সবাই ব্যস্ত,
নাতি-নাতনিরা বড় হয়েছে,
কিন্তু কেউ বোঝে না দাদুর নিঃসঙ্গতা।
তার চুলে এখন শুধু ধূসর বাতাস,
শরীরে কাঁপুনি, চোখে কষ্টের রেখা।
রাত হলে দাদু চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়েন,
কারও সাথে গল্প করেন না,
দাদির সাথে কথা বলেন নিরবে।

তাই বলি, ও দুনিয়া,
দাদুর আরেকটা বিয়ে দাও,
তার একাকীত্ব ভাঙুক—
কেউ তো হোক, যে আবার বলবে,
"চা খেয়েছো তো আজ?"

*********************









*
ভুল থেকেই শিক্ষা
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ১৫.০২.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

ভুল করিলে ভয় করো না,
সেই ভুলেই আলো জ্বলা।
ভুলেই তো হয় অভিজ্ঞতা,
পথটা খোঁজে নতুন গতা।

নাম লিখে "ওয়াইফ" বইয়ে,
বেস্টসেলার জিতে দইয়ে!
দুধের ভুলে হয় দই ভাই,
আরও খারাপ? পনির তাই।

আঙুর রস টকেই মোহ,
হয় সে ওয়াইন—দামে বাহ!
কলম্বাস পথ হারায়ে,
নতুন দেশটি খুঁজে পায়।

ফ্লেমিং যখন ভুলে চলে,
পেনিসিলিন হয় দখলে।
এডিসনও হেরেছে কত,
তবু পায় আলোয় লিপ্ত।

রবিন বলে, "ভুল নয় শেখা",
আইনস্টাইনও দেয় সে দেখা।
চেষ্টা ছাড়া ঠিক ভুল কোথায়?
ফ্র্যাঙ্কলিন তো এ কথায়।

চেষ্টা-ভুলে শেখা হয় হাঁটা,
ব্রানসনের সেই উক্তি পাঁকা।
ভুলেই গড়ে নেতা রূপে,
পাওয়েল বলেন তেমনি ভূপে।

মাইকেল জর্ডান চিৎকারে,
"ভুলে আমার জয় সিঁড়াতে!"
ভুলে প্রেমে, শুদ্ধ পাই,
আবার শুরু, মনও চায়।

ভুল মানেই শেষ নয় বন্ধু,
পেন্সিল রেখে শেখো সত্য।
ঘষে মুছে এঁকে যাও ছবি,
ভুলের ভেতরই তো সুখ ভরি।

*********************









*
পাল তোলা নৌকা
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ১৬.০৭.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

পাল তুলে নৌকা চলে নদীর বুক,
সঙ্গী তার ঢেউ আর বাতাসের মুখ।
পাহাড়ের কোল ছুঁয়ে যায় সে দূর,
সুরে সুরে বাজে নদীর নিঃশব্দ সুর।

পানিতে ঝিলিক দেয় রোদের আলো,
জলের আয়নায় খেলে রঙের ঢালো।
ডাকে গাঙচিল, পাড়ে বাঁশি বাজে,
মনটা যেন উদাস হয়ে থাকে মাঝে।

পাল তুলে যায়, ডাকে দুরন্ত ডাক,
স্বপ্নেরা ছুঁতে চায় আকাশের ছাক।
জীবনের পথে এ নৌকা চিরচেনা,
আশা আর স্মৃতির সুরে বাঁধা বোনা।

ভাটির টানে সে যায় ভেসে চলি,
কোনো গন্তব্য নাই, শুধু দিগন্ত বলি।
কখনো ঝড় আসে, কাঁপে বুকটা,
তবুও থামে না—চলায় জীবনের যুক্তা।

ভাসতে ভাসতে নাও যায় যেইখানে,
হৃদয়ের ছোঁয়া মেলে সেই ঠিকানায়।
পাল তোলা নৌকা স্বপ্নের বাহন,
যতই চলি, তবু মনে হয় আহ্বান।

*********************