কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন এর পরিচিতির পাতায় . . .
রক্তে কেন প্রেমের আগুন
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ০৩.০৪.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

রক্তের বাঁধন ভাঙে আজ,
ভাইয়ের ছেলে হলো সাজ।
মায়ের চোখে প্রেমের দৃষ্টি,
বিবেক ঘুমায়, নীতি নষ্টি।

স্বামী দেখে মুখে তালা,
মেয়ে চুপ, গলায় মালা।
রক্তে গাঁথা সেই সম্পর্ক,
আজ হয়েছে প্রেমের রঙে বক।

ধর্মনিরপেক্ষ মুখোশ পরে,
অন্যায় দেখে চুপচাপ ঘরে।
মুসলিম হলে হতো হাহাকার,
এখানে সবই যেন স্বীকার।

সংস্কৃতি কি তবে হারিয়ে যায়?
নৈতিকতা পথ ভুলে কোথায়?
ভালবাসা নামের নোংরা খেলা,
রক্তে রক্তে লাগায় জ্বালা।

মায়ের প্রেমে কাঁদে সংসার,
ভেঙে পড়ে আত্মার দ্বার।
পবিত্রতা নিয়ে হাটে চলা,
নাম না দেখে থামাও গলা।

সত্যের জন্য কে দেবে আওয়াজ?
চুপ থাকলেই বাড়ে লজ্জার রাজ।
ভালোবাসা মানে কি ব্যভিচার?
না কি সম্পর্ক ভাঙার আদর্শবার্তা?

আজ যদি তুমিও চুপ থাকো,
কাল তোমার ঘরেও লাগবে ফাঁক।
প্রেম নয়, এ পাপের ছায়া,
মানবতা কাঁদে, জেগে উঠো মায়া।

*********************









*
গাজার ক্ষুধা, বিশ্বের উৎসব
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৮.০৪.২০২৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

বিশ্ব এখন খায় ভরপুর পুষ্টি
গাজা খোঁজে শুকনো রুটি।
রেস্তোরাঁয় আলো ঝললে,
গাজার শিশু খোঁজে জল।
মিষ্টি ও কেকে মোড়া শুভক্ষণ,
গাজায় খিদেতে শুধু কান্না ধুন।

প্লেট ভর্তি রঙিন রঙিন ভাজি,
গাজা খায় ধূলোর ডিক বাজি ।
সেলফি তোলে খুশির রাতে,
গাজা জেগে আগুন পাতে।
চকলেটে মুখ করে রঙিন,
গাজার মুখ ক্ষুধায় ক্ষীণ।

কফির কাপে সুখের ছবি,
গাজা গায় কষ্ট রবি।
মলে বাজে হাসির ফোয়ারা
গাজায় বাজে বোমার ফসরা।
শিশু খেলে খেলনার সাথে,
গাজায় খেলে মৃত্যু পাতে।

শান্তির নামে চুপ সবাই,
গাজার ডাকে সাড়া নাই।
রক্তে ভেজা সেই মাটি,
বিশ্ব বসে মদের পাটি।
খিদের ক্ষত বুকের ভিতর,
গাজায় বাঁচে যুদ্ধর অন্তর।

*********************









*
মুখের বাণ
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২১.০৫.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

মুখের বাণে ক্ষত হয় মন,
নীরব চোখে ঝরে শ্রাবণ।
কটু কথা, কাঁটায় ক্ষত
বুকে বাজে বিষের মতো।

নরম কথা ফুলের মত,
কঠিন শব্দ জ্বালায় রক্ত।
মিষ্টি হাসি গলে বরফ,
তীক্ষ্ণ বাক্যে জমে বিষাক্ত কফ।

যে বলে কথা বুঝে শোনে,
তার পাশে সুখে প্রাণ বোনে।
অন্য যারা বিষে ভরে,
তাদের বাণে হৃদয় মরে।

ভাষার মাঝে যুদ্ধ লুকায়,
ভালোবাসা নয়, হিংসা জাগায়।
তাই বলি হে মানব জাতি,
রাখো মুখের শুদ্ধ ভাষার খ্যাতি।

*********************









*
মাতৃভূমির আহ্বান
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ০৭.০৬.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

রেখো মা, বুকেতে জায়গা, প্রবাসী সন্তানের তরে,
চোখে রাখি শ্যামল ধরা, হৃদয় কাঁদে দিনে রাতে রে।
চলে গেছি দূরপথ পানে, সংসারের চাপে প’ড়ে,
তবু মনে তুমিই আছো, ছায়া হয়ে কষ্ট ঘোচে।

ধন-মান যতই পাই মা, শান্তি তোরই কোলে,
স্বপ্ন দেখি মাঠ-ঘাট নদী, বুকে জড়াই তোকে খোলে।
বটতলার ছায়ায় বসে, চাই যে আবার শীতের রোদ,
ঘরের ভাষা, ঘরের গন্ধ, ছুঁয়ে যায় এই প্রাণ জোড়।

চোখ বুঁজে শুনি মা তোর, হরিনাম বা সন্ধ্যাবেলা,
জোনাকির আলোয় সেই ছোট পথ, আজও বুকের খেলা।
ভুল যদি করে থাকি মা, করো না গো দোষ,
তোরই ছেলে ফিরবে একদিন, ভেঙে সব অভিমান রোষ।

তোরই নামে করি যাত্রা, তোরই নামেই স্বপ্ন বুনি,
মাটির গন্ধ বুকে নিয়ে, বিদেশ বিভুঁইয়ে পথ চলি।
স্মৃতির পটে আঁকা ছবি, দাও মা আশীর্বাদ করে,
আবার যেন ফিরে আসি, মাথা রেখে তোরই ঘরে।

*********************









*
বাবার হৃতপিণ্ডে মেয়ে
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৫.০৯.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

মেয়েটি বোঝা নয় গো মোটে,
সে তো বাবার হৃদয়-ভোটে।
নরম হাতে আনে আলো,
বাবার মুখে হাসে ভালো।

চুলে বৃষ্টি, চোখে তারা,
সুখের ছবি তারই ধারা।
জন্ম থেকে শুরু যত,
বাবাই তার শ্রেষ্ঠ পট।

কাঁধে তুলে স্বপ্ন রাখে,
ঘুম পাড়ায় দোলায় বাঁকে।
দুঃখ হলে চোখে জল,
বাবার কাছে সে অমল।

জীবন পথের রাঙা ধূলি,
মেয়েই তো সে ফুলের তুলী।
পড়ে গেলে হাত বাড়ায়,
বাবার কাঁধে চাঁদ সাজায়।

বয়স বাড়ে, দূর হয় মন,
তবু সে বাবার প্রেমাশন।
চিঠির পাতায় থাকে লেখা,
"মেয়ে ছাড়া জীবন একা"।

অশ্রু ঢালে গোপন রাতে,
মেয়ের ছবি হৃদয় পাতে।
বলো তবে বোঝা কেন?
সে তো বাবার প্রাণের বেনু।

*********************









*
বাবার অভিমান
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ১৫.১১.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

বাবা ছিলেন ছায়ার মতো নিরব,
নিজে কাঁদে, সন্তানে দেয় রোদ্দুর।
ভাত কম খেয়ে জোটান খাবার,
নতুন জামা শুধুই সন্তানের হক।
নিজে পরে পুরোনো ছেঁড়া পাঞ্জাবি,
ছেলের জন্য কেনে দামি জুতো।

স্কুল ফিস আর বইয়ের খরচ,
মিটাতেন ধারে কিংবা ধার করে।
কখনো বলেননি “আমায় দাও”,
বলতেন শুধু “পড়ো, মানুষ হও।”
ছুটির দিনে মাঠে খেলা শেখাতেন,
ঘামে ভিজে ফিরতেন সন্ধ্যা বেলায়।

মাথায় তার হাত ছিলো আশীর্বাদ,
ভুল করলেও দিতেন না অভিশাপ।
আজ সেই বাবা কোণে বসে,
ভাঙা গলায় বলেন না কিছু।
মোবাইল বাজে, তবু কারো না,
ছেলেরা ব্যস্ত, স্ত্রীও হয় অন্যমনা।

কখনো কেউ বলে না, “বাবা খেয়েছো?”
ঈদের জামা কে আনে তাঁর জন্য?
বিশ্ব বাবা দিবসে সবাই ব্যস্ত,
তবু বাবার বাড়ি থাকে নীরব।
ছবিতে হাসি, বাস্তবে শূন্যতা,
বাবা আছেন—তবু যেন নেই।

একদিন যদি থাকেন না পাশে,
তবে চোখে থাকবে কেবল জল।
আজ যদি দাও একটু সময়,
বাবার হাসিতে জ্বলবে আলো।
বাবা তো ফেরত চায় না কিছু,
চায় কেবল একটু সম্মান ভালো।

*********************









*
নীরব আকাশে কান্না
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে লেখা কবিতা। রচনা - ০২.১২.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

আকাশে উড়াল দিল বিমানের ডানায়,
স্বপ্ন ছিল চোখে, হাসি সবার মুখের খেয়ায়।
আহমেদাবাদের বুকে সকাল ছিল শান্ত,
কে জানতো হঠাৎ আসবে এমন দুর্ভান্ত?

১.৩৫-এ উড়লো তারা আশার পাখির মতো,
মিনিট ক’য়ের মাঝে নামলো যন্ত্রের রথ।
মেডিকেল হোস্টেলে ঝরে পড়লো প্রাণ,
ভেঙে দিলো পরিবারের শত শত বর্ণিল গান।

১৬৯ জন ছিল ভারতের সন্তান,
স্বপ্ন ছিল চোখে, ছিল ভালোবাসার টান।
পর্তুগালের সাত জন, কানাডার এক,
লন্ডনের তিপ্পান্ন জন হারালো সব একদম হঠাৎ।

বুক ফাটে, চোখ ভেজে, ব্যথায় ভরা মন,
একটি ভুল মুহূর্তে নিঃশেষ হলো জীবন।
পৃথিবী যেন থেমে গেলো এক নিঃশ্বাসে,
নিঃসঙ্গ রাত নামে আহাজারি আশে পাশে।

কে ছিল বাবা, কে ছিল কন্যা,
কে ছিল নতুন বউ, কে বা দাদার গাঁথা?
সবাই একত্রে আজ নিঃশব্দ যাত্রী,
মৃত্যুর রাজপথে ছুটে চলে সবার পাটরি।

মায়ের কোলে ফাঁকা বুক, শিশুর চেয়ে কান্না,
এই শোক সইবার নয়, নেই এর কোন মানা।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই আমরা সমবেদনা,
এই দুঃখভার নীরবে রাখো, হে দয়াময় প্রভু, সবার জন্য প্রার্থনা।

*********************









*
নষ্ট তালা, নষ্ট নারী
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ১৯.১২.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

নষ্ট তালা যেমন ঘর রক্ষা করে না,
তেমনি নষ্ট নারী সংসার গড়ে না।
তালা যদি নষ্ট দুর্বল হয়
মালপত্র চুরি যায়,চোরেরা সাহস পায়।

নারী যদি হারায় লজ্জার সীমা,
ভেঙে যায় ঘর, নামে অভিশাপের করিশমা
তালা চাইলে শক্ত হোক,
নারী হোক পবিত্র, নির্মল লোক।

তালা তো শুধু লৌহের পাত,
রক্ষা করে ধন, দেয় শান্তির হাট।
নারী যে মায়ের, স্ত্রীর অবয়ব,
সে যদি ভ্রষ্ট, তবে সংসার কবে সাব্যব?

নষ্ট তালা বদলানো যায়,
নষ্ট নারী কেবল অশ্রু বায়।
তালার দোষে চুরি শুধু হয়,
নারীর ভুলে পরিবার হয় ক্ষয়।

নারী যদি হয় মর্যাদার গরিমা,
সেথা সুখ ফোটে, বাড়ে শ্রদ্ধার সীমা।
তালা চাইলে রক্ষা করে দর,
নারী চাইলে রক্ষা করে ঘর।

তালা বদলাও যখনই চাও,
কিন্তু নারী বেছে ভেবেই নাও।
কারণ নারী সৃষ্টির আলো,
তার আচরণেই পরিবার ভালো।

শিক্ষা দাও নারীকে সত্যর পথে,
দোষ দিও না শুধু দুর্ভাগ্য রথে।
নষ্ট তালা আর নষ্ট নারী,
দু'টিই সমাজে আনে আঁধারি।

তাই গড়ো পরিবার, গড়ো মন,
নারী হোক ধার্মিক, চরিত্রবান জন।
সততার দীপ্তি ছড়াক তার মুখ,
তবেই মিলবে সংসারে সুখ।

*********************









*
খিদের ঈদ
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ২৭.১২.২০২৩। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

শূন্য হাঁড়ি নিঃস্ব চুলায়
ধোঁয়া ওঠে না আজ,
ঈদের চাঁদও যেন কাঁদে
দেখে দারিদ্র্যরাজ।

ফাটা জামা, ছেড়া স্যান্ডেল
সাজে না উৎসবে,
চোখের কোণে শিশুর আশা
ভাতের থালায় থমকে।

ঈদ মানে খুশির বারতা
সবার নয় তো সম,
যার ঘরে নেই একমুঠো চাল
তার কি ঈদে ভ্রম?

চাকচিক্যে ভরা শহরজুড়ে
আলোয় ভাসে রাত,
গ্রামের কোণে থমকে থাকে
ক্ষুধার গোপন হাত।

চাঁদে মাখে যারা সেমাই
পায়েসে খুঁজে সুখ,
তাদের জানে না অনাহার
ঘামে ভেজা মুখ।

ঈদের নাম করে যারা
বস্ত্র বিলায় হেসে,
খিদের চাহনি দেখেনি তো
বুভুক্ষু ওই চোখে।

*********************









*
হৃদয়ে ব্যথার পাহাড়
কবি মোহাম্মদ সামসের খাঁন
রচনা - ০১.০১.২০২৪। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩০.০৮.২০২৫।

হৃদয়ে ব্যথার পাহাড় জমে, নীরবে কাঁদি রাতের শেষে,
ভালোবেসে পেলাম বিষ, স্বপ্নগুলো সবই ভেসে।
যারে পেলে জীবন পেতাম, সে-ই হলো পর,
ফিরে তাকায়নি একবার,ছেড়ে দিলো কেবল ঘর

হাঁটছি আমি একা পথে, পায়ে পায়ে ক্লান্তি,
যে ছিলো আমার প্রাণ, সে আজ শুধু অশান্তি।
চোখে জ্বলে জলছবি, মনে বাজে সুর,
ভাঙা প্রেমের মর্মর ধ্বনি, কাটে না এই দূর।

কান্না পুড়ে ছাই হয়েছে, বুকের সব আশা,
সে তো এখন অন্য কারো, আমি শুধু ভাষা।
নিভে গেছে আলো আমার, অন্ধকারের রাজ্য,
জীবনটা আজ শূন্য আমার, প্রেমটা শুধু সাজ্য।

পাখির মতো উড়তে চেয়ে, বন্দী হলাম খাঁচায়,
দেখলো না সে হৃদয়খানি, কাঁদলো না বাঁচায়।
জীবনের এই মরণ খেলা, জয় হোক যন্ত্রণার,
তবু আমি বাঁচি বলে, লিখে যাই ব্যথার ধার।

যদি কখনো সে ফিরে আসে, কাঁপে তারো মন,
তাহলে সে বুঝবে জানি, কার ছিলো এ ধন।
তখন তবে থেমে যাবে, ব্যথার দীর্ঘস্বর,
হৃদয়ে জমা কান্নাগুলো, পাবে শান্তির ঘর।

*********************