কবি সঙ্গীতা পাল এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
স্মৃতির দরজায়
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
তুমি চলে গেলে, শব্দেরা রয়ে গেল—
আমার ঠোঁটে, জমে থাকা বরফের মতো,
জানালার পাশে বসে কাটছে সময়
রয়ে গেছে শুধু প্রতীক্ষার ক্ষত।
তোমার সেই মিষ্টি হাসিগুলো
উঁকি দেয়—এখনও স্মৃতির দরজায়
মেঘলা বিকেলের আলোয়,
খুঁজি হারানো বিকেলের ছায়ায়।
চিঠি লিখি না আর , তবু হৃদয়ে
যেন এক একটা মহাকাব্য তৈরি হয়,
ফেলে আসা প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি স্মৃতি
আজও আমার শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে রয়।
ভালো থেকো তুমি, যেখানেই থাকো—
আমার স্মৃতির শহরে ঠিকানা তোমার
আজও হয়নি বাতিল, রয়েছে অমলিন
শুধু তুমি হারায়েছো ঠিকানা আমার ।
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
তুমি চলে গেলে, শব্দেরা রয়ে গেল—
আমার ঠোঁটে, জমে থাকা বরফের মতো,
জানালার পাশে বসে কাটছে সময়
রয়ে গেছে শুধু প্রতীক্ষার ক্ষত।
তোমার সেই মিষ্টি হাসিগুলো
উঁকি দেয়—এখনও স্মৃতির দরজায়
মেঘলা বিকেলের আলোয়,
খুঁজি হারানো বিকেলের ছায়ায়।
চিঠি লিখি না আর , তবু হৃদয়ে
যেন এক একটা মহাকাব্য তৈরি হয়,
ফেলে আসা প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি স্মৃতি
আজও আমার শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে রয়।
ভালো থেকো তুমি, যেখানেই থাকো—
আমার স্মৃতির শহরে ঠিকানা তোমার
আজও হয়নি বাতিল, রয়েছে অমলিন
শুধু তুমি হারায়েছো ঠিকানা আমার ।
*********************
অস্তিত্বের ছায়া
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
আমি কি আদৌ বেঁচে আছি,
নাকি শ্মশানে দাঁড়িয়ে প্রেতাত্মার মতো
নিঃশব্দে হাঁটি? প্রাণহীন অনুভূতি হীন।
জীবনটা যেন মরুভূমির কুয়াশা,
আছে, অথচ ছুঁতে পারা যায় না।
আয়নার ভেতরে এক অচেনা প্রতিবিম্ব,
দেখি — সে চোখে বিষণ্ণতা বুনছে জাল।
সেই কি আমি? নাকি আমার ছায়া,
যে দিনরাত আলোর সন্ধানে অন্ধকারের কোলে।
স্বপ্নগুলো যেন রঙিন পাখি,
আমি নিজেই তাদের ডানা ছিঁড়ে ফেলি
নীরবে আহুতি দিই হতাশার আগুনে।
প্রতিটি পুড়ে যাওয়া ডানা থেকে
উঠে আসে ঘুমহীন রাতের ধোঁয়া।
চারপাশে মুখ — যেন মুখোশের মেলা,
কারো চোখে নেই আমার যন্ত্রণার ছাপ,
ভালোবাসা আজ ঠোঁটে জমে থাকা
অর্থহীন, উপেক্ষিত এক পুরানো সংলাপ।
আমার বুক এক শ্মশানবাতি —
জ্বলে, নিভে, আবার জ্বলে — কারো অগোচরে।
নদী শুকিয়ে গেছে সেই কবে -
তবু বুকের গোপন অলিন্দে
কান্নার জল জমে থাকে অলক্ষ্যে।
আমি হেঁটে যাই নিঃসঙ্গতার নীল গহ্বরে,
তবু...এক বিন্দু আশার আলো যদি জ্বলে,
আবার খুঁজে নেবো নিজের ছায়া।
একটা ডাক যদি আসে — "তুই আছিস",
এই ধুলোঢাকা হৃদয়ে আবার স্পন্দিত হবে প্রাণ।
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
আমি কি আদৌ বেঁচে আছি,
নাকি শ্মশানে দাঁড়িয়ে প্রেতাত্মার মতো
নিঃশব্দে হাঁটি? প্রাণহীন অনুভূতি হীন।
জীবনটা যেন মরুভূমির কুয়াশা,
আছে, অথচ ছুঁতে পারা যায় না।
আয়নার ভেতরে এক অচেনা প্রতিবিম্ব,
দেখি — সে চোখে বিষণ্ণতা বুনছে জাল।
সেই কি আমি? নাকি আমার ছায়া,
যে দিনরাত আলোর সন্ধানে অন্ধকারের কোলে।
স্বপ্নগুলো যেন রঙিন পাখি,
আমি নিজেই তাদের ডানা ছিঁড়ে ফেলি
নীরবে আহুতি দিই হতাশার আগুনে।
প্রতিটি পুড়ে যাওয়া ডানা থেকে
উঠে আসে ঘুমহীন রাতের ধোঁয়া।
চারপাশে মুখ — যেন মুখোশের মেলা,
কারো চোখে নেই আমার যন্ত্রণার ছাপ,
ভালোবাসা আজ ঠোঁটে জমে থাকা
অর্থহীন, উপেক্ষিত এক পুরানো সংলাপ।
আমার বুক এক শ্মশানবাতি —
জ্বলে, নিভে, আবার জ্বলে — কারো অগোচরে।
নদী শুকিয়ে গেছে সেই কবে -
তবু বুকের গোপন অলিন্দে
কান্নার জল জমে থাকে অলক্ষ্যে।
আমি হেঁটে যাই নিঃসঙ্গতার নীল গহ্বরে,
তবু...এক বিন্দু আশার আলো যদি জ্বলে,
আবার খুঁজে নেবো নিজের ছায়া।
একটা ডাক যদি আসে — "তুই আছিস",
এই ধুলোঢাকা হৃদয়ে আবার স্পন্দিত হবে প্রাণ।
*********************
স্মৃতির আলপথে
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
চিঠির পালক আর মেলে না ডানা,
পিওনের সাইকেলও আজ ক্লান্ত,
ভালোবাসার ছোঁয়া নেই খামের ভিতরে,
শুধু ভেসে আসে আবেগহীন ইমোজি শান্ত৷
টেলিফোনের চির পরিচিত সুর
কখন যে ডুবে গেল ডিজিটাল নিস্তব্ধতায়—
মনের কাঁপুনি, হৃদয়ের স্পন্দন
থেমে গেলো ডিজিটাল বার্তায় ৷
নেই আজ আবেগের সেই পুরোনো সঞ্চার,
চিঠির ঘ্রাণ, অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস,
এসেছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল ঝলকানি,
শুধু সংযোগহীন যোগাযোগের রয়েছে আশ্বাস৷
নেটওয়ার্কের নীল তরঙ্গে থাকে না আবেগ,
কথা হয়, দেখা হয়, হয় না হৃদয় ছোঁয়া,
আলাপে থাকে কথা, শব্দে থাকে না উত্তাপ,
প্রযুক্তির রোদে মুছে যায় সম্পর্কের ছায়া।
আমরা সত্যিই এগিয়েছি, ছুঁয়েছি আকাশ
তবু ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরানো বিশ্বাস
প্রযুক্তির উত্তরণে পেয়েছি অনেক, দিয়েছি মধুর স্বাদ৷
মাঝে মাঝে স্মৃতির আলপথে পড়ে দীর্ঘশ্বাস৷
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
চিঠির পালক আর মেলে না ডানা,
পিওনের সাইকেলও আজ ক্লান্ত,
ভালোবাসার ছোঁয়া নেই খামের ভিতরে,
শুধু ভেসে আসে আবেগহীন ইমোজি শান্ত৷
টেলিফোনের চির পরিচিত সুর
কখন যে ডুবে গেল ডিজিটাল নিস্তব্ধতায়—
মনের কাঁপুনি, হৃদয়ের স্পন্দন
থেমে গেলো ডিজিটাল বার্তায় ৷
নেই আজ আবেগের সেই পুরোনো সঞ্চার,
চিঠির ঘ্রাণ, অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস,
এসেছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল ঝলকানি,
শুধু সংযোগহীন যোগাযোগের রয়েছে আশ্বাস৷
নেটওয়ার্কের নীল তরঙ্গে থাকে না আবেগ,
কথা হয়, দেখা হয়, হয় না হৃদয় ছোঁয়া,
আলাপে থাকে কথা, শব্দে থাকে না উত্তাপ,
প্রযুক্তির রোদে মুছে যায় সম্পর্কের ছায়া।
আমরা সত্যিই এগিয়েছি, ছুঁয়েছি আকাশ
তবু ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুরানো বিশ্বাস
প্রযুক্তির উত্তরণে পেয়েছি অনেক, দিয়েছি মধুর স্বাদ৷
মাঝে মাঝে স্মৃতির আলপথে পড়ে দীর্ঘশ্বাস৷
*********************
আমি দ্রৌপদী
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
পাঁচজন পুরুষের স্ত্রীর অভিধা নিয়ে, আমি দ্রৌপদী
কারো একার অধিকারে ছিলাম না কখনো।
রাজনীতি আমাকে বস্ত্রের মতো ছিঁড়ে নিয়েছিল,
আর সভা?
সে তো নিঃশব্দ, নির্বিকার এক দর্শক!
ধর্মরাজও ধর্ম রক্ষা করেনি,
গুরুজনেরা মাথা নিচু করেছিল,
আর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম—
বস্ত্রহরণের ঠিক মাঝখানে,
যেখানে এক নারীর লজ্জা, এক সভ্যতার শেষ পরীক্ষা।
আমি দ্রৌপদী—
শুধু পাঞ্চালী নই,
আমি ইতিহাসের ঘরে আটকে থাকা রক্তাক্ত একটি প্রশ্ন:
যেখানে নারী আজও নিলামের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়—
ভাষায়, শরীরে, বিধানে।
তোমরা বলো ‘ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্র’—
আর আমি বলি—
এটা এক সংহারের ক্ষেত্র,
যেখানে নারীর সম্মান কেবল এক রণনীতি,
আর তার প্রতিবাদ—
এক "অশুভ সংবাদ", যাকে চাপা দিতে চায় ঘোমটা।
আমি দ্রৌপদী—
আমি আগুনে জন্ম নেওয়া এক উত্তর,
যে প্রশ্ন করে—
"তোমরা যখন বস্ত্র খুলেছিলে,
তখন তোমার চোখ খুলে ছিল তো?"
চোখ খোলা না থাকলে,
নারী শরীরের আনন্দ কিকরে পাবে?
তবে হে বীর পুঙ্গবগণ, তোমাদের বিবেক
কামনার লালসার আগুনে ছিল অন্ধ।
তোমরা বলো ধর্ম, কিন্তু সে-ই তো ছিল
একটি উপাস্য রক্ষক, আর আমি ছিলাম
অশ্রু-ধোয়া এক যন্ত্রণার প্রতিমা।
কখনো ভাবো,
তোমরা যে বস্ত্রহরণ করেছিলে,
সেই কাপড়ে কি কোনোদিন খুঁজে পেয়েছিলে সত্যের ছাপ?
আমি দ্রৌপদী—
আমি প্রতিটি শতকের প্রতিধ্বনি,
"তোমরা যুদ্ধ করো, আমি তার মূল্য দিই—
শরীর, আত্মা, কিংবা বস্ত্র দিয়ে।"
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
পাঁচজন পুরুষের স্ত্রীর অভিধা নিয়ে, আমি দ্রৌপদী
কারো একার অধিকারে ছিলাম না কখনো।
রাজনীতি আমাকে বস্ত্রের মতো ছিঁড়ে নিয়েছিল,
আর সভা?
সে তো নিঃশব্দ, নির্বিকার এক দর্শক!
ধর্মরাজও ধর্ম রক্ষা করেনি,
গুরুজনেরা মাথা নিচু করেছিল,
আর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম—
বস্ত্রহরণের ঠিক মাঝখানে,
যেখানে এক নারীর লজ্জা, এক সভ্যতার শেষ পরীক্ষা।
আমি দ্রৌপদী—
শুধু পাঞ্চালী নই,
আমি ইতিহাসের ঘরে আটকে থাকা রক্তাক্ত একটি প্রশ্ন:
যেখানে নারী আজও নিলামের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়—
ভাষায়, শরীরে, বিধানে।
তোমরা বলো ‘ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্র’—
আর আমি বলি—
এটা এক সংহারের ক্ষেত্র,
যেখানে নারীর সম্মান কেবল এক রণনীতি,
আর তার প্রতিবাদ—
এক "অশুভ সংবাদ", যাকে চাপা দিতে চায় ঘোমটা।
আমি দ্রৌপদী—
আমি আগুনে জন্ম নেওয়া এক উত্তর,
যে প্রশ্ন করে—
"তোমরা যখন বস্ত্র খুলেছিলে,
তখন তোমার চোখ খুলে ছিল তো?"
চোখ খোলা না থাকলে,
নারী শরীরের আনন্দ কিকরে পাবে?
তবে হে বীর পুঙ্গবগণ, তোমাদের বিবেক
কামনার লালসার আগুনে ছিল অন্ধ।
তোমরা বলো ধর্ম, কিন্তু সে-ই তো ছিল
একটি উপাস্য রক্ষক, আর আমি ছিলাম
অশ্রু-ধোয়া এক যন্ত্রণার প্রতিমা।
কখনো ভাবো,
তোমরা যে বস্ত্রহরণ করেছিলে,
সেই কাপড়ে কি কোনোদিন খুঁজে পেয়েছিলে সত্যের ছাপ?
আমি দ্রৌপদী—
আমি প্রতিটি শতকের প্রতিধ্বনি,
"তোমরা যুদ্ধ করো, আমি তার মূল্য দিই—
শরীর, আত্মা, কিংবা বস্ত্র দিয়ে।"
*********************
নিঃশব্দ ভালোবাসা
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
দিগন্তের পারে, এক নিঃসঙ্গ পথিক আমি,
ভগ্ন স্বপ্নের ধ্বংসাবশেষ বুকে চেপে চলেছি—
স্মৃতির মরিচিকায় পথ ভুলে যাওয়া
এক ছায়ার মতো দিশাহীন পথে হাঁটছি।
ব্যর্থতার বিষাদ-বাসরে মুখ লুকিয়ে বসে আছি,
আশাহীন আকাশের নিচে এক নীরব প্রতীক্ষা,
ভালোবাসাহীন জীবনের করুণ অনুরণন
কানে বাজে মৃত সুরের মতো—নীরব, নীরস, নিঃস্ব।
তবুও হৃদয়ের অতল গহ্বরে আমি এক ডুবুরি,
ভাঙা বুকে জোড়া দিতে চাই আশার প্রলেপে,
চাই এক বিন্দু স্নেহ—মায়ার উষ্ণ আবরণ,
যেন বিরান বুকের মরুভূমিতে মরুদ্যান।
ভালোবাসার শেকল খুঁজি—না বাঁধার জন্য,
বরং বাঁচার জন্য, চাই সেই বন্ধন,
যেখানে না বলা কান্নাগুলো আশ্রয় পায় কোনো সহৃদয় বুকে,
এই রুক্ষ হৃদয়পুঞ্জে এপশলা শীতল বৃষ্টির মতো।
শেষ প্রহরের আলোয় যদি কেউ ফিরে চায়,
আমি ছায়ার মতো জড়িয়ে ধরবো তাকে
সহাস্যে বলবো—“আমি এখানেই ছিলাম,
আছি তোমার জন্যই অপেক্ষায় নিঃশব্দ ভালোবাসা হয়ে।
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
দিগন্তের পারে, এক নিঃসঙ্গ পথিক আমি,
ভগ্ন স্বপ্নের ধ্বংসাবশেষ বুকে চেপে চলেছি—
স্মৃতির মরিচিকায় পথ ভুলে যাওয়া
এক ছায়ার মতো দিশাহীন পথে হাঁটছি।
ব্যর্থতার বিষাদ-বাসরে মুখ লুকিয়ে বসে আছি,
আশাহীন আকাশের নিচে এক নীরব প্রতীক্ষা,
ভালোবাসাহীন জীবনের করুণ অনুরণন
কানে বাজে মৃত সুরের মতো—নীরব, নীরস, নিঃস্ব।
তবুও হৃদয়ের অতল গহ্বরে আমি এক ডুবুরি,
ভাঙা বুকে জোড়া দিতে চাই আশার প্রলেপে,
চাই এক বিন্দু স্নেহ—মায়ার উষ্ণ আবরণ,
যেন বিরান বুকের মরুভূমিতে মরুদ্যান।
ভালোবাসার শেকল খুঁজি—না বাঁধার জন্য,
বরং বাঁচার জন্য, চাই সেই বন্ধন,
যেখানে না বলা কান্নাগুলো আশ্রয় পায় কোনো সহৃদয় বুকে,
এই রুক্ষ হৃদয়পুঞ্জে এপশলা শীতল বৃষ্টির মতো।
শেষ প্রহরের আলোয় যদি কেউ ফিরে চায়,
আমি ছায়ার মতো জড়িয়ে ধরবো তাকে
সহাস্যে বলবো—“আমি এখানেই ছিলাম,
আছি তোমার জন্যই অপেক্ষায় নিঃশব্দ ভালোবাসা হয়ে।
*********************
সোনার শিকল
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
আমি খাঁচায় বদ্ধ এক পাখি,
ডানা আছে—তবু উড়তে মানা।
বাবার আদর মায়ের স্নেহের
সোনার শিকলে বাঁধা৷
আমার শৈশব ছিলো সাজঘর,
যেখানে পুতুল ছিলাম আমি—
নাচতাম, হাসতাম যন্ত্রের মতো
মনের ভাষা ছিল কাঁচের ঘরে বন্দী৷
তারপর, আমার খাঁচার হলো বদল
সোনার শিকল মজবুত হলো সেথা,
সে বাঁধনের নাম ‘স্বামীর সংসার।
ডানা ভুলে গেল নীল আকাশের কথা৷
সংসার যাঁতায় পিষ্ট হলো স্বপ্নগুলো,
শাসন শোষনের নীঃশব্দ পীড়ণে-
হারিয়ে গেল আমার নিজস্ব অস্তিত্ব,
শিকল বাঁধা পায়ে ঘুরি স্বপ্নের ভুবনে৷
দেখতে দেখতে সূর্য পশ্চিম আকাশে
আলোর আশে ঠাঁই নিই ছেলের সংসারে৷
সেখানে আমার অন্ধকার কেউ দেখে না—
শুধু গ্লানি জমে থাকে চোখের কোণে৷
আমি বেঁচে আছি— যেন এক জীবন্ত লাশ
নির্বাক, নিঃস্ব, অবাঞ্ছিত পরজীবীর মতো
আমার ভেতরের সমুদ্র আজ তরঙ্গহীন
বুকে নিয়ে এক নিঃশব্দ যন্ত্রণার ক্ষত৷
আমি চাইনি প্রাসাদ, চাইনি গাড়ি বাড়ি
চেয়েছিলাম বাধাহীন মুক্ত নীলাকাশ
নিজের একটা নাম, নিজস্ব অস্তিত্ব
আর একটা বুক যেখানে থাকবে বিশ্বাস ৷
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
আমি খাঁচায় বদ্ধ এক পাখি,
ডানা আছে—তবু উড়তে মানা।
বাবার আদর মায়ের স্নেহের
সোনার শিকলে বাঁধা৷
আমার শৈশব ছিলো সাজঘর,
যেখানে পুতুল ছিলাম আমি—
নাচতাম, হাসতাম যন্ত্রের মতো
মনের ভাষা ছিল কাঁচের ঘরে বন্দী৷
তারপর, আমার খাঁচার হলো বদল
সোনার শিকল মজবুত হলো সেথা,
সে বাঁধনের নাম ‘স্বামীর সংসার।
ডানা ভুলে গেল নীল আকাশের কথা৷
সংসার যাঁতায় পিষ্ট হলো স্বপ্নগুলো,
শাসন শোষনের নীঃশব্দ পীড়ণে-
হারিয়ে গেল আমার নিজস্ব অস্তিত্ব,
শিকল বাঁধা পায়ে ঘুরি স্বপ্নের ভুবনে৷
দেখতে দেখতে সূর্য পশ্চিম আকাশে
আলোর আশে ঠাঁই নিই ছেলের সংসারে৷
সেখানে আমার অন্ধকার কেউ দেখে না—
শুধু গ্লানি জমে থাকে চোখের কোণে৷
আমি বেঁচে আছি— যেন এক জীবন্ত লাশ
নির্বাক, নিঃস্ব, অবাঞ্ছিত পরজীবীর মতো
আমার ভেতরের সমুদ্র আজ তরঙ্গহীন
বুকে নিয়ে এক নিঃশব্দ যন্ত্রণার ক্ষত৷
আমি চাইনি প্রাসাদ, চাইনি গাড়ি বাড়ি
চেয়েছিলাম বাধাহীন মুক্ত নীলাকাশ
নিজের একটা নাম, নিজস্ব অস্তিত্ব
আর একটা বুক যেখানে থাকবে বিশ্বাস ৷
*********************
মরু পথ
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
আমি একা হেঁটে চলেছি মরুভূমির মাঝে
পেছনে পায়ের দাগ, সামনে শুধু মরীচিকা।
চোখে জলের চাহিদা, অথচ চারপাশে বালির রাজত্ব—
যেখানে তৃষ্ণাও শিখে যায় মৌনতা।
আমার জীবন, মরুপথে উটের মতো—
পিঠে বোঝা ঠোঁটে নীরবতা,
যে হাঁটে নিরন্তর,
জানে—পথের শেষ নেই,
তবুও থামার উপায় নেই।
কখনো বাতাস বয়ে আনে
দূর পাহাড়ের গন্ধ,
কখনো রাতের তারা ফিসফিস করে জানায়
সমুদ্রের ছোঁয়ার প্রতিশ্রুতি।
কখনো দূর হতে ভেসে আসে আনন্দের সুর
আমি শুধু নীরব উষ্ণ বালিতে
এগিয়ে যাই পিছনে ফেলে পদচিহ্ন।
আমি জানি, এ পথ শুধু এগিয়ে যাওয়ার,
ফিরে আসার নয়। নয় বিশ্রামের৷
হয়তো কোনো একদিন মরুদ্যানের দেখা পাবো
শীতল হবে ক্লান্ত শরীর স্নিগ্ধ জলধারায়৷
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
আমি একা হেঁটে চলেছি মরুভূমির মাঝে
পেছনে পায়ের দাগ, সামনে শুধু মরীচিকা।
চোখে জলের চাহিদা, অথচ চারপাশে বালির রাজত্ব—
যেখানে তৃষ্ণাও শিখে যায় মৌনতা।
আমার জীবন, মরুপথে উটের মতো—
পিঠে বোঝা ঠোঁটে নীরবতা,
যে হাঁটে নিরন্তর,
জানে—পথের শেষ নেই,
তবুও থামার উপায় নেই।
কখনো বাতাস বয়ে আনে
দূর পাহাড়ের গন্ধ,
কখনো রাতের তারা ফিসফিস করে জানায়
সমুদ্রের ছোঁয়ার প্রতিশ্রুতি।
কখনো দূর হতে ভেসে আসে আনন্দের সুর
আমি শুধু নীরব উষ্ণ বালিতে
এগিয়ে যাই পিছনে ফেলে পদচিহ্ন।
আমি জানি, এ পথ শুধু এগিয়ে যাওয়ার,
ফিরে আসার নয়। নয় বিশ্রামের৷
হয়তো কোনো একদিন মরুদ্যানের দেখা পাবো
শীতল হবে ক্লান্ত শরীর স্নিগ্ধ জলধারায়৷
*********************
ঋতুহীন ক্যালেন্ডার
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
গ্রীষ্মের দাবদাহকে আমন্ত্রণ জানিয়ে
তুমি চলে গেলে বসন্তের বিদায়ী হাওয়ার মতো
আমাকে ফেলে গেলে মরুর শূন্যতায়৷
জানি না এই মরু মাঝে আবার কখনো
সবুজ সরস শীতলতার স্পর্শ পাবো কি না৷
পাবো কি না বেঁচে থাকার রসদ৷
তোমার স্পর্শে আবার বসন্তের ফুল ফুটবে কি না৷
এই শুকনো বৃক্ষের শিকড়ে পৌঁছায় না জল,
সেখানে পাখিরা আর বাসা বাঁধে না—
তুমি যে বসন্ত নিয়ে গেলে, সে আর আসে না।
রাত নামলে নক্ষত্রেরা ফিসফিস করে—
তারা বলে, একদিন আলো ছিল এই আকাশে।
এখন সে আকাশ কুয়াশায় ঢাকা,
চাঁদও মুখ লুকায় দুঃখের বাদলে৷
আমার ভেতরের নদী শুকিয়ে গেছে,
তবু সেই নদী পথ হারায়নি—
তোমার আশায় ছুটে চলে,
যেন মরীচিকায় জল খোঁজে এক তৃষ্ণার্ত পথিক।
তুমি ছিলে আমার অন্তর্গত বসন্ত,
তবুও এই হৃদয় জমিতে
প্রেমের বীজ বপন করতে পারোনি,
শুধু তার উপর হেঁটে গিয়েছিলে, ছায়া রেখে।
আমার জীবন যেন
একটি ঋতুহীন ক্যালেন্ডার
শুধু মরুর শূন্যতা,
যে ক্যালেন্ডারের সব পাতা পুড়ে গেছে
তোমার উপেক্ষার অনলে।
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
গ্রীষ্মের দাবদাহকে আমন্ত্রণ জানিয়ে
তুমি চলে গেলে বসন্তের বিদায়ী হাওয়ার মতো
আমাকে ফেলে গেলে মরুর শূন্যতায়৷
জানি না এই মরু মাঝে আবার কখনো
সবুজ সরস শীতলতার স্পর্শ পাবো কি না৷
পাবো কি না বেঁচে থাকার রসদ৷
তোমার স্পর্শে আবার বসন্তের ফুল ফুটবে কি না৷
এই শুকনো বৃক্ষের শিকড়ে পৌঁছায় না জল,
সেখানে পাখিরা আর বাসা বাঁধে না—
তুমি যে বসন্ত নিয়ে গেলে, সে আর আসে না।
রাত নামলে নক্ষত্রেরা ফিসফিস করে—
তারা বলে, একদিন আলো ছিল এই আকাশে।
এখন সে আকাশ কুয়াশায় ঢাকা,
চাঁদও মুখ লুকায় দুঃখের বাদলে৷
আমার ভেতরের নদী শুকিয়ে গেছে,
তবু সেই নদী পথ হারায়নি—
তোমার আশায় ছুটে চলে,
যেন মরীচিকায় জল খোঁজে এক তৃষ্ণার্ত পথিক।
তুমি ছিলে আমার অন্তর্গত বসন্ত,
তবুও এই হৃদয় জমিতে
প্রেমের বীজ বপন করতে পারোনি,
শুধু তার উপর হেঁটে গিয়েছিলে, ছায়া রেখে।
আমার জীবন যেন
একটি ঋতুহীন ক্যালেন্ডার
শুধু মরুর শূন্যতা,
যে ক্যালেন্ডারের সব পাতা পুড়ে গেছে
তোমার উপেক্ষার অনলে।
*********************
মরুর নির্ঝর
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
ডাকবাক্সে আর আসে না চিঠি,
শান্ত স্ক্রিনে আজ নীরবতার ঢেউ
হৃদয়ের কোণে কেবল প্রতিধ্বনি ওঠে
আমার কথা রাখে না মনে কেউ,
অপেক্ষার প্রহর গুণে কাটে দিনরাত,
ক্লিকের শব্দে খুঁজি অমৃত সময়,
স্ট্যাটাসের আড়ালে লুকানো জীবন
মনে থাকে নিরাশার সংশয় ।
কীবোর্ডে অস্থিরতা জাগে প্রত্যাশার ছলকে,
ইমোজির পানে ছুটে যায় কম কিছু অনুভব,
গিজগিজে নোটিফিকেশনে নন্দিত ভালোবাসা,
তারই মাঝে কখনো আবার নিস্তব্ধ নিরব৷
এখন সম্পর্ক থাকে না বাঁধা হৃদয় আঙনে
বরং চ্যাটের স্ক্রলে আঁকা খুশির প্রহর,
স্টিকারের হাসিতেই ভরে উঠে মন,
ডিজিটাল সম্পর্ক আজ মরুর নির্ঝর৷
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
ডাকবাক্সে আর আসে না চিঠি,
শান্ত স্ক্রিনে আজ নীরবতার ঢেউ
হৃদয়ের কোণে কেবল প্রতিধ্বনি ওঠে
আমার কথা রাখে না মনে কেউ,
অপেক্ষার প্রহর গুণে কাটে দিনরাত,
ক্লিকের শব্দে খুঁজি অমৃত সময়,
স্ট্যাটাসের আড়ালে লুকানো জীবন
মনে থাকে নিরাশার সংশয় ।
কীবোর্ডে অস্থিরতা জাগে প্রত্যাশার ছলকে,
ইমোজির পানে ছুটে যায় কম কিছু অনুভব,
গিজগিজে নোটিফিকেশনে নন্দিত ভালোবাসা,
তারই মাঝে কখনো আবার নিস্তব্ধ নিরব৷
এখন সম্পর্ক থাকে না বাঁধা হৃদয় আঙনে
বরং চ্যাটের স্ক্রলে আঁকা খুশির প্রহর,
স্টিকারের হাসিতেই ভরে উঠে মন,
ডিজিটাল সম্পর্ক আজ মরুর নির্ঝর৷
*********************
ভাঙা সাঁকো
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
তুই মেয়ে, তোর ছন্নছাড়া
একলা একলা পথ,
চাইলেই পাবি না রে তুই
জীবনে স্বর্ণরথ৷
মন খারাপের বিষণ্ণ ক্ষণে
পাশে থাকে না কেউ,
কান্না ঢেলে ছড়িয়ে দিস
তোর দুঃখের ঢেউ ৷
চেনা মুখেরা মুখ ফিরিয়ে
দেয় না খুশির আশ্বাস
তবুও কেন তাদের তরে
তোর মাথাটি নোয়াস।
আকাশ জুড়ে ভেসে ওঠে
তোর দুঃখ মেঘের কালো
চাইলেও পারবি না রে
জ্বালতে সুখের আলো ৷
তবুও মেয়ে, কষ্ট চেপে বুকে
চলিস মনের জোরে,
ভাঙা সাঁকোয় যাত্রা তোর
দুঃখের পোড়া সংসারে।"
*********************
কবি সঙ্গীতা পাল
মিলনসাগরে প্রকাশ ১২.৭.২০২৫।
তুই মেয়ে, তোর ছন্নছাড়া
একলা একলা পথ,
চাইলেই পাবি না রে তুই
জীবনে স্বর্ণরথ৷
মন খারাপের বিষণ্ণ ক্ষণে
পাশে থাকে না কেউ,
কান্না ঢেলে ছড়িয়ে দিস
তোর দুঃখের ঢেউ ৷
চেনা মুখেরা মুখ ফিরিয়ে
দেয় না খুশির আশ্বাস
তবুও কেন তাদের তরে
তোর মাথাটি নোয়াস।
আকাশ জুড়ে ভেসে ওঠে
তোর দুঃখ মেঘের কালো
চাইলেও পারবি না রে
জ্বালতে সুখের আলো ৷
তবুও মেয়ে, কষ্ট চেপে বুকে
চলিস মনের জোরে,
ভাঙা সাঁকোয় যাত্রা তোর
দুঃখের পোড়া সংসারে।"
*********************
