কবি শাশ্বতী নন্দর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি শাশ্বতী নন্দর পরিচিতির পাতায় . . .
আমরা তো
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।

আমি তো হিন্দু নই।
তুমিও কি কিছু
মুসলমান, বৌদ্ধ, ক্রিশ্চান, ……?

হিন্দু হলে আমি
কবেই তো নির্ভুল মধুময় হয়ে যেত
পৃথিবীর আকাশ বাতাস,
মুসলমান হলে তুমি নিশ্চয়ই
ক্ষুধার্ত শীতার্ত কাঁপত না
প্রতিবেশী ভাই বন্ধু তোমার,
বৌদ্ধ হলে তো
মারণাস্ত্র নয়, তুলে নিতে হাতে
পরমান্ন শ্বেতকপোত
আর ক্রিশ্চান হলে তো নির্ঘাত
জামাটাও দিয়ে দিতে তাকে
যে কেড়ে নিয়েছিল তোমার কোটটা!

এসব কিছুই তো হয়নি আমাদের দিয়ে,
আমরা তো শুধু গীতায় কোরানে
ত্রিপিটক বাইবেলে হাত রেখে
শপথ অভিনয় করে যাচ্ছি
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ ক্রিশ্চান হবার,
আসলে এদিকে মানুষই হতে পারিনি এখনও।

    অমানুষ কী করে
হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ ক্রিশ্চান হয়, বলো!

*********************









*
সঙ্গে নাও
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।
জ্যামাইকায় ২২ জুলাই ২০১৩-তে নিহত ১৬ বছরের ডোয়েন জোন্‌স - Dwayne Jones এবং এমনই সব সংখ্যালঘু মানুষদের মনে রেখে।

ক্রমাগত নিঃশব্দে,
অবশেষে চিৎকার করে
মরিয়া ও বলে উঠেছিল
হ্যাঁ হ্যাঁ আমি মেয়ে মেয়ে মেয়ে।

ঝলসে উঠল লাইটার-
তবে এত বড়ো বড়ো কেন তোর পা?
হিস্‌হিসিয়ে উঠল
মুখের সামনে ওঁচানো লণ্ঠন,
মিথ্যে কথা মিথ্যে কথা- ব্যাটাছেলে তুই।

এরপর অন্ধ উন্মাদ
বর্বর পিশাচ এক সময়-
ছোরা গুলি গাড়ির চাকার আর্তনাদ,
রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত নিভে গেল
ভরপুর প্রাণ সে ষোড়শী পূর্ণিমা।

যে জন্মদাতা তাড়িয়েছিল বাড়ি থেকে
প্রতিবেশীদের হাতে হাত মিলিয়ে,
অস্বীকার করেছে এমন কি দেহটিও নিতে।
যেন ও শুধুই দেহ–
মন বুদ্ধি দক্ষতা প্রতিভা
ভালোবাসা স্বপ্ন– কিচ্ছু কিচ্ছু না।

ও যে মেয়ে ছিল তা তো সত্যি,
বন্দি কেবল এক পুরুষ শরীরে
প্রকৃতির কোন অদ্ভুত খেয়ালে।
আরো কিছু মা্নুষ সংখ্যালঘু এমনই-
তারা যেন,
অনেক ফুলের মতো প্রাণের মতো
উভলিঙ্গ সুসম্পূর্ণ অর্ধনারীশ্বর,
হয়তো বা একই দেহে
পিতৃত্ব মাতৃত্ব সম্ভাবনাময়
বিরল অনন্য তাই বিপন্ন আজীবন!

সভ্যতার অ্যাবাকাসে অতিক্রান্ত
উজ্জ্বল একুশের প্রথম দশক-
মঙ্গলে পৌঁছে গেছে কিউরিওসিটি,
কী উল্লাস!
তবুও আমাদের প্রিয় এই গ্রহে
ঘনঘোর অমাবস্যা নেমে আসে যখনতখন।

প্রিয় উসেইন বোল্ট,
এত দ্রুত দৌড়ে চলেছ
এগিয়ে গেছ অনেক অনেক দূর
একেবারে একা একা–

একটু থমকে দাঁড়াও,
ফিরে এসো তোমার বজ্রপতন ক্ষিপ্রতায়-
আমাদেরও সঙ্গে নাও।

*********************









*
রোমাঞ্চ ভ্রমণে
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


মায়ার কাছে যাই, বেশ লাগে-
কাঁচপোকা টিপ
খঞ্জন গঞ্জন আঁখি, পক্ষ্মলকার্ষ্ণ্য নয়নসাজ
উদ্ধত বেণীর সর্পিল বাহার
ডাকে নিশিডাক অবিরত-
অনাস্বাদিত রোমাঞ্চ ভ্রমণে।

ভারী প্রগল্‌ভ উচ্ছল মায়া,
হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে একান্ত সফরে
কনুইয়ের হঠাৎ খোঁচায় ফেলে দেয় খানাখন্দে,
তারপর হাততালি দিয়ে হাসে হিহি করে-
সহ্য হয় না আর, এত নিষ্ঠুর ফাজিল!

মুক্তির কাছে যাই, কী শান্ত ভরাট-
গেরিমাটি আলিপ্ত নিকোনো দাওয়ায়
বসায়,
নবীন শালের পাতায় গুড়ের বাতাসা
পোড়ামাটি পানপাত্রে কুন্দগন্ধী সুশীতল পেয়,
নীরবে দাঁড়ায়
শুশ্রূষা ব্যজনে জুড়ায়, অতলান্ত জুড়ায়-
তবু কাঁচপোকা ডাকে আয় আয়।

ঝকমকে শ্বদন্তে
কাঁচকাটা হিরের আলো-
হুঁশ থাকে না, আবার কাদা মাখামাখি
কালশিটে এখা্নে-ওখানে...

    মুক্তির ভরাট চোখ টানে।

*********************









*
জেনার‌্যাল কম্পার্টমেন্ট থেকে
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


জেনার‌্যাল কম্পার্টমেন্ট থেকে
নেমে আসছ তুমি, অথচ
আশেপাশে কোত্থাও কেউ নেই
থাকেও না কোনোদিন।

আমি দেখছি পলকহীন,
পাঁচশো ছিয়াত্তর মেগাপিক্সেল
ক্যামেরায় বন্দি করছি সেই দৃশ্য,
বাঁচিয়ে রাখছি নিলয় সুরক্ষায়।

ইচ্ছেমতো প্রিন্ট নিয়ে
দাঁড়াব অলিন্দে, দেখব
জেনার‌্যাল কম্পার্টমেন্ট থেকে
নেমে আসছ তুমি,
নস্যাৎ করে দিতে দিতে
ফার্স্টক্লাসের যাবতীয় প্রচল তকমা-

যথারীতি
আশেপাশে কোত্থাও কেউ নেই।

*********************









*
ছুঁয়ে আছ
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


আমাকে ছুঁয়ে থাকা ছাড়া
তোমার আর কোনও স্বপ্ন নেই, ইচ্ছেও-
একেবারে খালি তুমি, বাঁশির মতো।

    আর এই আমি মুরলীধর
    দুহাতে ধরেছি তোমায়
    ছুঁইয়ে রেখেছি অধরে ওষ্ঠে-
    নীপবীথির ছায়ায় ছায়ায়
    বেজে উঠছে সাত স্বর
    সপ্তলোকের সুরে,
    ছুঁয়ে যাচ্ছে মর্তলোক ভুবর্লোক
    ছাড়িয়ে যাচ্ছে গন্ধর্ব দেব সিদ্ধলোক-

তুমি আমার মোহনমুরলী,
আমি তোমার মুরলীমোহন
    ধরে আছি দুহাতে তোমায়-
    আর আলতো আদরে
    ছুঁয়ে আছ তুমি
    আমার আঙুল, অধর-ওষ্ঠ।

*********************









*
খুঁড়তে খুঁড়তে
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


খুঁড়তে খুঁড়তে কত কী যে-
পুরানা কিলার নীচে ইন্দ্রপ্রস্থ
হিসারের নীচে হরপ্পা
হুমায়ুননামার পরতে পরতে নামাগুলবদন...!

খুঁড়তে খুঁড়তে এই তো সেদিনই
পৌঁছোনো পলাশি প্রান্তরে, পানিপথে-
একে একে দেখা দাঁড়িয়ে ঠায়,
যত যুদ্ধ জয়-পরাজয়।
সিরাজ বালাজি হেমু লোদি,
আরও কত সহস্র-লক্ষ-কোটি
ভাঙা বুকের রক্তে ভিজতে ভিজতে
পেরোনো আরও হাজার ছশো পাঁচশো বছর,
অবশেষে উরুবিল্ব,
মহাবোধিদ্রুমতলে পদ্মসম্ভব ধ্যানমগ্ন শাক্যসিংহ-

বৃক্ষের মধ্যে আমি অশ্বত্থ
বলেছিলেন সেই মহাসারথি, তাই অমোঘ অশথ্‌,
ঐ তো নৈরঞ্জনা দুচোখ তুলে সুজাতা অন্তঃসলিলা
পায়েসের বাটি ধরে ব্যগ্র অঞ্জলিতে,
নতজানু কী এক নিঃস্বার্থ ব্যাকুলতায়-

বলো বলো সুজাতা, কী দিয়ে রেঁধেছ-
প্রায় তিন সহস্রাব্দ খুঁড়ে এসেছি তোমারই কাছে
শুধু জানতে, ভুলোমন পৃথিবীর হয়ে
দীর্ঘ বিস্মৃত প্রণালী এই পূজিত পায়েসের-

খুদ এতটুকু তোমার মধুপুষ্পী চালের,
গাঢ় দুধ ধবলীর আর ছটাকমাত্র ইক্ষুগুড়!
না না বলো আরও কিছু গূঢ়,
শুনি ধনীর কন্যা তুমি ধনীর গেহিনী
কিছুই অদেয় অলভ্য নয় তোমার
তবু এত সামান্যেই নির্বাণ,
প্রেমময় আলোময় বুদ্ধজীবন- বলো সেও কি সম্ভব!

নতমুখে থেকো না সুজাতা
পৃথিবীর বড়ো দুঃসময়, সে বড়ো আশা নিয়ে আছে।
কতবার কতভাবে বহু দুর্মূল্য উপচারে
সাজিয়েছে অলঙ্কৃত মুগ্ধ ক্ষিরান্ন ঘরে ঘরে
তবুও পায়নি ফল- বলো বলো কী কী আর...

আর..., আর তো কিছু নয়,
ধনীর কন্যা আমি ধনীর গেহিনী
তবু ওটুকুই একান্ত নিজস্ব আমার,
ও দিয়েই সাজাই আদরের উঠোন খেলাঘর।

তারপর সবই প্রভু- তাঁর খিদে,
তাঁরই চিনে নেওয়া, ক্ষুন্নিবৃত্তি- কতটুকু কিসে।

*********************









*
দেবীপক্ষ
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


সা-এ সুর লাগতেই, মুখ লুকোল বর্ষা
বেজে উঠল রে, শিউলির ডালে ডালে
ভরে এল পারিজাত কুঁড়ি
দিঘিতে দিঘিতে একশো আটটা লাল পদ্ম।

সা রে মা পা মাপাধা মাপা মাপাধা মাপা...
দশদিকে দুর্গা রাগিণীতে বাজছে বিসমিল্লার সানাই,
অমনি সেই সুরে সুরে আদিগন্ত সুনীল ওই পটে
ঝাঁকে ঝাঁকে রাজহাঁস মেলে দিচ্ছে ডানা-
বিম্বিত সে ছায়ার বিস্তার মাঠে প্রান্তরে
হিল্লোলিত সমুদ্র অকলঙ্ক কাশে,
ঠোঁটের রঙটুকু ছড়িয়ে যাচ্ছে শিউলির বোঁটায় বোঁটায়।
ময়ূর মেলেছে পেখম, পিঠে তার কাঙ্ক্ষিত কুমার
দ্যাখো দ্যাখো ঐ, প্যাঁচায় ইঁদুরে কী গাঢ় বন্ধুতা এখন!

আসছেন অসুরদলনী,
সিদ্ধি ঋদ্ধি অজেয় শারদা-
শঙ্খে শঙ্খে বেজে উঠছে আদিধ্বনি
ত্রিশুলে ত্রিগুণ, তর্জনীতে মহাবিশ্ব চক্রাকার-
চেনাবে ধর্ম, খণ্ডবিখণ্ড হবে হিংসা লোভ
তরবারিতে অজ্ঞান অন্ধকার,
গদায় গুঁড়িয়ে যাবে মদ মাৎসর্য যত
বর্শাবিদ্ধ বছরের জমানো বিষাদ।
নামবে দশ প্রহরণ বজ্রঅটল দৃঢ়তায়
যুগেযুগে এই সব মোহের মাথায়।
তিরধনুকে ঝলকাবে সুবিপুল প্রাণশক্তি
স্থিতি গতি, পুরুষ প্রকৃতি-
চর্ম বর্ম ঢাল শেখাবে কৌশল, আত্মরক্ষার।

বীণায় বীণায় কাছে দূরে বাজবে বন্দিশ
কেবলই ওই দুর্গা দুর্গতিনাশিনীর-

তারপর চরম সেই সন্ধিক্ষণে
অগ্নিবর্ষী ত্রিনয়ন চামুণ্ডার, গর্জে বলবে-
বশে আনো, পাশে বাঁধো তোমার বন্য সিংহশক্তি
পিঠে ওঠো সওয়ার হও সাহস ক্ষমতা আদিমতার
ঝাঁপিয়ে পড়ো, দশায়ুধে কাটো ভাঙো
চূর্ণ করে দাও ভেতর-বারের
বেসুরো বেতালা সব অ-সুর তোমার,
সৃষ্টি হোক সুরলোক।

করুণাময়ী মুছে ফেলবেন
দনুজদলনী প্রলয়ংকরী সে রূপ এবার,
কোমল কণ্ঠ দেবে বীজমন্ত্র কানে কানে-
মুখ তোলো, আমি এসেছি দ্যাখো তাপসী অপর্ণা
নাও, অর্ধস্ফুট পদ্ম এই আমার হাতের-
ফুটে ওঠো, বিকশিত হও আরও
পঙ্কজ হয়েও পাঁকের ওপর।

সানাই ধরেছে শোনো বেহাগের সুর,
জ্যোৎস্নাধোয়া দেবীপক্ষের বিদায় এ রাতে-
চোখ মোছো, আবারও তো দিয়ে যাচ্ছি
আমার বরদা মুদ্রায়- মস্ত ডাগর পূর্ণ ষোলোকলা
তমোনাশিনী জাগর এক নিটোল মধুচন্দ্রমা জীবন।

*********************









*
গান্ধারী তোমাকে
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


কী করছ, কাঁদছ?
ছিন্নভিন্ন পুত্র, ক্ষতবিক্ষত কন্যা-
নাকি রাঁধছ
খাইয়ে পাঠাবে ছেলেকে যুদ্ধে?
তবে তো কাঁদবেই।
এ ছেলেই তো মেরেছে মারবে
অন্যদের নয়, তোমারই অন্য ছেলেদের।

সব ছেলে সব মেয়েই তো তোমার আমার
সেই দশমাস, ব্যথাস্রোত, বিনিদ্র রজনী আর
যৌবন সেঁচে ডাঁটো করে তোলা অনুভবে একাত্ম–
সে কি তারা অত্যাচারী
অথবা অত্যাচারিত হবে এ অপচিত দু:স্বপ্ন লালিত!

সব গুলিগোলা বোমাবারুদ
শাশ্বত সমান ও বিপরীতমুখি বুমেরাংয়ে
ফিরে মারবে আমাদের এ ছেলেকেও।
তাই মাথায় হাত রেখে ‘বিজয়ী ভব’ নয়
পাত্রভেদে ও তো মাত্র প্রতিশব্দ ‘খুনি হও’, শুধু তৎসম
অথবা ‘যথা ধর্ম তথা জয়’-এর মুখোশও নয়–
অর্গলবন্ধ করো দুয়ার, কেড়ে নাও হাতিয়ার।

তোমার দৃষ্টির ভাগ তুমি দিলে না স্বামীকে
তার অন্ধত্বের ভাগীদার হলে,
চোখের আড়ালে রেখে রেখে ছেলেদের বিপথে পাঠালে–
ব্যর্থ হলে যাবতীয় শান্তিপ্রক্রিয়া
কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণকে নয়, তোমাকে প্রয়োজন গান্ধারী।
শ্মশানে নিষ্ফল সব অভিশাপ হাহাকার
ফেরে না কেউ।

এখনও সময় আছে, ছুটে যাও রণক্ষেত্রে
চোখে চোখ রেখে বলো দুর্যোধনের
আগে হত্যা করো মাকে তোমার, তারপর ভাইদের।
হয়তো রক্তাক্ত ভূলুণ্ঠিত হবে শেষ বিবেকও
তবুও কি কাম্য নয় তা– স্বামীহীন পুত্রহীন
পিতা-ভ্রাতা-জামাতাহীন সে মরণযাপনের চেয়ে?

কান্না আর রান্না ছাড়াও
কত কীই তো করছ আজকাল
তবুও যে জন্যে আসা, থাকা এতদূর পথ পাড়ি দিয়ে
হিংসা থেকে অপ্রেম থেকে বাঁচাতে পৃথিবীকে
ভুলে গেলে সে কাজ, ফেরা আফসোসে–

না পারলে এটুকু, মাতৃত্ব সমার্থক অভিশাপে।

*********************









*
ভালোবাসো
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


ভালোবাসো
ভালোবেসে ছুঁয়ে দাও মরুভূমি
হয়ে যাক শ্যামল অরণ্য,
ভালোবেসে তুলে নাও
জঞ্জাল আবর্জনা চতুর্দিকের
ছুঁড়ে ফেলে চাপা দাও বিস্মৃতির গহ্বরে
তারপর উপভোগ কর
নির্ভার বাতাস আর উজ্জ্বল মুখগুলিকে,
ভালোবেসে স্পর্শ কর অভিমানিনীকে
যে আজ বিষপাত্রে ছুঁইয়েছিল তার ঠোঁট
আবার ফিরে আসুক
রক্তিম আভা তার অধরে ওষ্ঠে।

সমস্ত প্রহর পৃথিবী রুদ্ধশ্বাস এখন
তোমারই ভালোবাসার প্রতীক্ষায়,
  ভালোবাসা তো শুধুই আবেগ নয়–
    ভালোবাসা জীবন
      ভালোবাসা আয়ু
        ভালোবাসা জাদু।


*********************









*
বারো ইয়ারি
কবি শাশ্বতী নন্দ
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৭.১০.২০২৩।


স্বপ্ন ভাসে ইথারে, তোলে বুদ্‌বুদ
  কুয়াশাধোয়া কোন সে প্রতিমা
  বুকে নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে
  কড়া নেড়ে ফেরে
  গুপ্তিপাড়ার বারো ইয়ার-

রাজভোগ রাজ সিংহাসন
  আলো আঁধারি বৈভব ঘেরাটোপ
  সুয়ো নাটমন্দিরে সুখাসনে বন্দিনি মা,
  দুয়ো আঙিনায় নিকোনো উঠোনে
  বাজে না উৎসব শংখ ভেরি
  শূন্য বেদী দু-হাত বাড়িয়ে
  মা-কে কাছে চায়,
  মুক্তির চাবিকাঠি খুঁজবে না!
  বারো সে ইয়ার, হেঁকে চলে ঘরবার-

চব্বিশ তিরিশ আটচল্লিশ
  হাতের ছোঁয়ায় জাগে হাত
  পেরোয় শতক পেরোয় হাজার
  জড়ো হয় খড় মাটি রঙ
  একমেটে দোমেটে চালচিত্র
  তিল তিল তিলোত্তমা
  তৃতীয় নয়নে প্রাণ-
  সিংহদুয়ার ভেঙে সিংহবাহিনী
  মাতৃরূপেণ শক্তিরূপেণ সংস্থিতা
  স্বপ্নসম্ভবা মধ্যবিত্ত আঙিনায়।

উন্মুক্ত আকাশ চন্দ্রাতপ, হৈমন্তী বাতাস
  মঙ্গল আলপনা গেরুয়া সাদায়,
  হাজার চোখের ঝাড়বাতি
  আকুল কাঁসর-ঘণ্টা-শাঁখ
  গুপ্তিপাড়ায় বারো ইয়ারি অধিবাস।

তবু ঝড় আসে, আঁচ লাগে
  টুকরো টুকরো হয়
  কখনো সে চালচিত্র
  প্রসাদ-কাঙাল কেউ
  ফিরে চলে প্রাসাদ তোরণে,
  নড়ে ওঠে পুজোর আসন
  মাটির উঠোন ছেড়ে
  মাও বুঝি ফেরে নাটমন্দিরে-

দিন যায়, ঋতু বদলায়
  স্থবির বল্মীক ছোঁয় আবারও সবুজ
  ফিনিক্স পাখায় ধুলো ঝেড়ে
  চোখ মেলে বারো সে ইয়ার
  শিখা থেকে শিখা হাজার প্রদীপ
  কল্লোলে কলরোলে সীমানা মোছায়,
  চালচিত্র মাটি রঙ আলপনা
  নবপল্লবে ধূপে নব অধিবাস
  প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী শান্তিরূপেণ
  প্রতিমায় সংস্থিতা উমা সর্বজনীন-

বারো(ই)য়ারি মূর্ছনায় ঐকতানে
  মধ্যবিত্ত চালচিত্র অক্ষয় অদ্বয়।

*********************