কবি সোমা ভট্টাচার্য এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি সোমা ভট্টাচার্য এর পরিচিতির পাতায় . . .
লোরকার জন্য
কবি সোমা ভট্টাচার্য
“দৈনিক সংবাদ ত্রিপুরা”-র রবিবার এর বিচিত্রা পাতায় প্রকাশিত কবিতা , সম্ভবত মার্চ ২০২৫। মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।



*********************









*
একাকীত্ব
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

আর কোন একাকীত্ব আজ আর আমাকে দৌড় করায় না ;
কোন পদ্ম বোঁটা ছিঁড়ে নেওয়া বিল এর এবড়ো খেবড়ো পাথরের ওপড় আছড়ে পড়ে না আমার বর্ষা বিকেল।
পাশে এসে কেউ দাঁড়ালে কোন রঙ অভিমানী করে না
কত প্রেম শুরু আর শেষ হয়ে গেছে ঝুলন থেকে রাখীর মাঝে।
ভরা গঙ্গার জলে কোন সাবান কতদিন হারায় নি
আমিও গঙ্গা স্নানে যাই নি কত যুগ যুগান্ত,
টিউশন পড়িয়ে ফেরার পথে তুমি অগোছালো বেশ এ এসে দাঁড়াও নি
মনোহারী দোকানের ধার ঘেঁষে।
তোমার মিষ্টি দৃষ্টি ভরে দেয় নি, আমার ঘাম ভেজা পরিচ্ছদ
কত কত হলুদ সূর্যমুখী
ঢলে ঢলে বেলোয়ারি গান তোলে ;
কত অগোছালো নিম্নচাপ এর বৃষ্টি ঝরে মেট্রোর কারশেডে

কোনো ছাতার ছটকে পরা জল
আর আমাকে উৎসুক করে না ;
ইশারা গুলো আমরা আমাদের অধৈর্যৈ অথবা নিরুপায় হারিয়ে ফেললে
বাকি জীবন মেঘজল এর অপেক্ষা করি আমরা ;
তখন আমাদের খ্যাতি, যশ, দান, আয়,ব্যয়, ছাড়া যতদূর দৃষ্টি যায় আর কিছু ই থাকে না।

বরং গরম জল চাপানোর ছুতো থাকে,
দামি চা এর সুবাস মেখে ;
সফলতা বিফলতার মাঝের এক চিলতে সুরু রাস্তায় ধারে ;
তেজপাতা, দারুচিনি, মাখা ঢিমঢিমে, টিমটিমে, দ্রিমিদ্রিমি রিমকি ঝিমকি,আগুন থাকে

দূরে একটা সবুজ টিয়া উড়ে যায়
আমাদের এলাকার সর্বজনীন শশ্মান এর আকাশ ছেড়ে

পুব এর সমুচিত সমুদ্র সৈকত আকাশ টেউ এ।

*********************









*
হলুদ পাখি
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

একদিন শব্দ ফুরাবে একদিন লিখবো না কোন রাতদিন।
একদিন এ শহর দূরের বিমান বন্দর এর চত্বরে ফুরাবে
যেমন ফুরাচ্ছে রোজ
কোন তাড়া নেই, নেই কোন আয়োজন।
একদিন চাঁদ ভরা রাতে সূর্য গলবে গনগনে স্রোতে
তারপর তুমি যদি দেরাজ খোল পুরাতন প্রসাধনী,
পুরাতন পোশাকের আঁশ,
হাতে লেগে থাকা চটচটে আঠালো খাম,
একটা দুটো পুরাতন সেফটিপিন অথবা ফাঁকা রাংতা সঙ এর মতন গর্ভনিরোধক পিল।
রাত্রি ওপাশে ফেরালে পিঠ
ভুল তোয়ালে অজানিত কোন টিপ
একদিন এই শহরের সিগন্যাল লাল অথবা সবুজ এর মাঝে হলুদ পাখির ডিম।

*********************









*
অন্তরালে
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

চিরদিন যে ভাবে।তবে ছিলে তুমি যখন ছিলে না উচ্চারণ এ।
তবে ছিলে তুমি তখনও আমার প্রেমিকেরই সাথে ।
এতটা সময় আমার ফুলে আমার ক্যাকটাস এ ।
আমার আবৃত, অনাবৃত এই মোহ আর সত্যের স্লুইস গেট -
হঠাৎ বর্ষা এলো তাই এমন মেঘদের অবকাশ, এমন পাগল পারাপার, এত আদিম অস্থির জল পাথর এমন বিরহী চরাচর!

এও ছিল তবে নিষেধ এর অন্তরালে -প্রশয়মাখা ইশারায়,
এত অতল তবুও বরাভয় এ শরীর, মেদ, মাংস এ আনন্দ এ তীব্র ব্যথার অবশেষ ধৌত গর্জন এ।

তুমি ছিলে তবে কেয়াবীথি তলে তাপের শীতল হিস্ হিস্
যেভাবে নেমে এল মুখ রক্তস্নাত পাঁজরে ।
তুমি ছিলে তবে চন্দ্রাতপ আততায়ী আকাশে
প্রচ্ছদ খুলে দেখি,
প্রচ্ছদ ছিঁড়ে দেখি

তুমি তো রয়েছ তোমার বিভীষিকা আকর্ষণ এর মহাকাশ এ
কী এক
কালো গোলাপি যুগপৎ

সময়রহিত দিগন্ত টপকানো
কী এক দুর্বোধ্য আয়োজন এ।

*********************









*
ক্ষত
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

জল এর প্রলয় সিসার মতো গাঢ়, আদিম, হিংস্র, আনত যুগপৎ

আদিম শালু, শুকনো মরিচ উড়ছে দিগ্বিদিক, চাপা বিচ্ছেদ জমাট শ্বাস, অল্প ধোওয়ায় উড়ছে চরাচরে
শূন্য স্মৃতি চুম্বনতে, জড়ানো স্মৃতি চুম্বনতে
মরচে রাঙা আকাশ, মাটি, আদিম জল স্রোত
হারনো তাবিজ, মাদুলি, মানতডোর
জলের ভিতর সর্পধ্বনি, মৈথুন অবগাহন
প্রলয় নামে প্রবল ঝড় এ রিপুর শিস্ ছড়ায় চরাচর ।

সকল ই যেন নাগরিক বিনোদন

সকাল, বিকেল স্বামীর ডেরায় বাজার রাখে যে নাগর
হারিকেন, জেনারেটর, হঠাৎ ডেকে ওঠা জংলী শ্বাপদ,
কীর্তন আর পুতুল নাচে‌,বৌ -নাচে অথবা বিহানপথে মধুর ডেরায়,
ভাঙ্গা মাটির বেবাক জলে,
নৌকা কিংবা ভাঙ্গা গাছের তক্তাপোষ এ মিষ্টি জলের পাত্র এগিয়ে দেওয়ায়
নেই কোন দংশন অথবা
বিরহ অবসর
সহজ প্রেম স্বামীর ঘরে, নাগর
আনে হাটবারে বাজার ও বাহারী প্রসাধন
কিন্তু যখন মাটির পরে বেড়া এগায়
কিংবা যখন নেতার নিশান প্রেমজ আকর্ষণ
পুরুষ যখন ভাষণরত
স্বপ্ন ঠোঙা ফেরি করে
নারীর চোখে আগুন নাচে
ওই নাচন এ প্রেমের দ্বৈরথ
তবু কিছু পাপ, কিছু নির্বাচন,
ভাঙা বাঁশির সুরে বেসুর বাজে
সন্ধ্যাসন্ধি বিলের জলে
অপসৃয়মান
রঙ গুলো পাক দিতে থাকে
দিন গুলো সব অবসন্ন

রঙ গুলো সব বিল এর জলে পদ্ম পাতায়
রঙ গুলো সব গভীর জলের মাছের মত
রঙ গুলো সব ঘাঁই ডাকে
নিশূত রাতে ।

হাতের ভিতর হাত

হাতের ভিতর জল

হাতের ভিতর মাছ নৌকা

হাতের ভিতর উপড়ানো ঠোঁট, ম্যাটিনি শো,
মশারি সুতো,
মাছবঁটি, গোবিন্দভোগ
আটচালা , দেউল আর, মতিনন্দী অতীন রায়।

উপচানো ঠোঁট, দুমড়ানো ঠোঁট
হাতের ভিতর ঝড়।
উপচানো মন দুমাড়ানো বিশ্বাস
মনের ভিতর অচিন বাড়ি
পাঁচ মাত্রিক
অনভ্যস্ত মহাবিশ্ব
নাইট্রোজেন শ্বাস!

*********************









*
নদী ও মাছ এর গল্প
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

আজ অনেক গুলো নদী তুলে এনেছি এঁটেল মাটি থেকে। আজ ওই মাটির ভিতর থেকে একটি সামুদ্রিক মাছের মাস্ হীন ভাঙ্গা শিড়দাড়া পেয়েছি। তরমুজ এর রসে তা চুবিয়ে রাখলাম - গামছা দিয়ে হাঁড়ি মুখ বেঁধে দিলাম - শিরদাঁড়া সোজা হলে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আসব। কামারশালার হাপড়ে গরু র মাংস পোড়ানোর মত আঁচ -জুটমিল ঘুরে ধাঙড় বস্তি তে আজ নাড়ী কাটা র উৎসব - এখন মঠ আর মাসকলাই বাতাসে উড়ে উড়ে নদী ছেড়ে ব্রিজ এর কালো পিচ এ পৌঁছেছে।

*********************









*
শহর যে নামে চিনি
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

থিবীর প্রাগৈতিহাসিক ঘোড়াদের সাথে কটাদিন কিছুসময় কাটানোর পর ঘোড়া, ঘোটকী, অন্ধকার
এসব পুরাতন থেকে পুরাতনতর পুঁথির বাঁধন খুলে দিই।
কালো হরফে লালচে পাতার দড়িতে বাঁধা যেসব পুঁথি।
ঘুমের আবেশ জড়িয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে পুঁথির পাতা জুড়ে
প্রাগৈতিহাসিক ঘোড়াদের ধূলো

আচ্ছন্ন করেছে দিগন্ত
নদীর জলে সুনামী
চোখ এ আবেশ নামে
সোনালী কেশর গুলি তাদের
মন্দির গির্জা মসজিদ তোড়ণ ছুঁয়ে আছে

মাটিতে শরীর,
মাটিতে প্রাগৈতিহাসিক পিঁপড়েরা,
চোখে আর কোন গন্ধ ছালের কর্কশ সুরভীতে তারাদের গুহাজল ঝরে
গোটা কলকাতা ঢেকে গেছে ভৌতিক ঘোড়াদের পেচ্ছাপ।

লেখক এর স্মৃতি তে ছুঁয়ে আছে এড়িয়ে যাওয়া আর এলিয়েন অবভাস ;

বিষন্ন বুটিক

প্রাগৈতিহাসিক ঘোড়াদের অশ্রু ধুয়ে দিয়ে যায় লেখার টেবিল

আজকের লেখকের ল্যাপটপ ফুঁটো হয়ে যায় প্রাগৈতিহাসিক হ্রেষায়।

*********************









*
চিকন কবিতা
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

কিছুটা সময় অঘোর ধোওয়া একলা বর্ষার পিছোল উঠোন। কিছু টা সময় শূন্য স্মৃতি
কিছু প্রাবন্ধিক বাতাস
এগিয়ে যাওয়া এলোমেলো
বোবা স্কুল এর গেট পেরিয়ে টগর মাঠ
কিছু সময় ঝাপসা বাতাস ঝাপটে পড়া পরকীয়া
কিছু টা সময় পুরাতন চায়ের দোকান
ফেলে রাখা ভাঁড় এ চোখ
ফেলে গেছে কেউ আর কোন অর্থ বহ বার্তালাপ

*********************









*
পিতা
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

কষ গড়ানো মুন্ড মেলল যেন চোখ
ভাঁড় এর মদে শশ্মান বন্ধু তখন খোঁজে পশ্চিম কোন উরু অথবা ঠোঁট
পুলিশ বাবুর ফোলা নাকের পাটা
শহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়ায় সামাজিক দাদা
ভোরের কষে শিশু ধর্ষণ
বাপে করেছে নিয়ম করে ভোগ
নাবালিকা মিড-ডে মিলের থালায় দেখে রক্ত মাখা সাদা জেলির মত বিষ
জীবন দিলি উসুল নিলি
দিলি জটিল ঘা
জীবন ভোর ভরলি যোনিদ্ধারে পিশাচ আক্রোশ
এই জীবন বলবে চিরদিন
পিতার ভোগ্য, আমি
চাঁদ উঠবে মল্লিকা যামিনী
নিকষ পাতাল কালচে স্রোতে
অলক্ত মন ডুবে ডুবে মরার মত ফ্যাকাশে সাদা মাছের মত ভেসে যাবে স্বর্গ পথে
দেব ও তার যে আত্মজা গম্য।

*********************









*
কেঁদুলি
কবি সোমা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রকাশ - ২৫.০৯.২০২৫।

সময়ান্তর : রাতের খামারে আলো কিছু কম গতায়ু ক্ষীণ ঝরণার কটিতটে জিটানেটর চামড়ায় প্রতিস্পর্ধী আগুন; যে কোনো তন্ত্রই অস্থিরতার সরাইখানা আর যাবতীয় মামুলি তান্ত্রিক মৃত্যু ধর্ষণ নীতিহীন সিদ্ধান্তে জেরবার হয়ে আছে সভ‍্যতা কলুষিত চরাচর - ক্রমে কলম ও ভোঁতা রাত্রির খামারে পশুদের জলজ অবতার; আরো কিছু মাত্রায় তারল‍্য অধিক অর্থহীন - হামলাবাজ সমসাময়িক হেফাজতে হাঁটতে হাঁটতে দৃঢ় অভিসন্ধি মধ‍্যস্থতার ক্লান্তির ছাপ; সফল মুখ বিফল মুখ দুই নাটুকে খুব ঘুম থেকে অন‍্য ঘুমে চলে গ‍্যালেন যারা তারা সন্তোষে ছিলেন না খুব জানি; শেষ মুহূর্তে ছায়া ছায়া চাপ চাপ রক্ত ছায়া যেন অবাধ নৈতিক বায়ো মেট্রিক - অজয় পাড়ে মকর সংক্রান্তি ব‍্যতিরেক মেলাহীন প্রাঙ্গন এ পড়ে খন্ডাংশ মাংসল বৈষ্ণব প্রণয়

*********************