কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
উন্নয়নের স্বপ্ন
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"সপ্তাহ" পত্রিকার উৎসব সংখ্যা ১৪৩১-এ প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সব কিছু ভাসিয়ে দিতে
উড়ে আসছে নিম্নচাপের হাওয়া
সূর্যোদয় ঢেকে দেবে বলে বদ্ধ-পরিকর
নিমেষে চারপাশ অন্ধকার
ঘন ঘন বিদুৎ চমকায়, কোথাও পড়ে বাজ
এর সাথে জেগে ওঠে ভরা কোটাল
শিরায় উপশিরায় শনশন কাঁপন
কুমির আটকাতে সুচতুর কৌশলে
আলবাঁধ দেয় বক
উপবাসী শেয়ালের লোভাতুর চোখ জ্বলে
এক অসুখে সবাই অন্ধ
সবেতেই বনজ গন্ধ
আমি হাতে পায়ে বেড়ি বেঁধে নিশ্চিন্তে ঘুমোয়
আর স্বপ্ন দেখি উন্নয়নের
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"সপ্তাহ" পত্রিকার উৎসব সংখ্যা ১৪৩১-এ প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সব কিছু ভাসিয়ে দিতে
উড়ে আসছে নিম্নচাপের হাওয়া
সূর্যোদয় ঢেকে দেবে বলে বদ্ধ-পরিকর
নিমেষে চারপাশ অন্ধকার
ঘন ঘন বিদুৎ চমকায়, কোথাও পড়ে বাজ
এর সাথে জেগে ওঠে ভরা কোটাল
শিরায় উপশিরায় শনশন কাঁপন
কুমির আটকাতে সুচতুর কৌশলে
আলবাঁধ দেয় বক
উপবাসী শেয়ালের লোভাতুর চোখ জ্বলে
এক অসুখে সবাই অন্ধ
সবেতেই বনজ গন্ধ
আমি হাতে পায়ে বেড়ি বেঁধে নিশ্চিন্তে ঘুমোয়
আর স্বপ্ন দেখি উন্নয়নের
*********************
স্মৃতিগুলো আঁকড়ে আছে
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
চোখ খুলে ধড়মড়িয়ে উঠে বসি
বারবার কেন যে ফিরে ফিরে আসে সেই দুঃস্বপ্নটা
হেমন্তের শুরুতে সেরকম ঠান্ডা না পড়লেও
সকালে এক শিরশিরানি ভাব থাকে
তবুও সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে একশা। জানলার দিকে চোখ যেতে
নিচু প্রাচীর টপকে বাইরের পৃথিবীতে চোখ যায়
মাতৃভূমি দেখি, মফস্বলের জীবন দেখি
সূর্যের প্রথম রশ্মি আসে ঘরের জানলা দিয়ে
হাওয়া আসে
উঠোনের এক কোণে লাগানো শিউলি ফুলের গন্ধ আসে
এবার ফুল শেষ হয়ে যাবে
আর কটা দিনই বা গন্ধ ছড়াবে
সব কিছুরই নিজস্ব একটা আয়ু আছে প্রত্যেকের সময় নির্দিষ্ট করা আছে
তার বাইরে কেউ এগোতে পারে না প্রকৃতি এগোতে দেয় না
যা চোখে পড়ে সবই পার্থিব জগতের। জানলা দিয়ে স্বপ্ন দেখা যায় না
হেমন্তের নীল আকাশের মেঘ দেখা যায়
সামনের রাস্তা দিয়ে এক তরুণী হেঁটে যাচ্ছে পরনে জিন্স আর শর্ট কুর্তি
মেয়েটিকে দেখে
স্বপ্নের মতো মনে হয়।
আমার আর ওর, দুটো জেনারেশনের মধ্যে কতটা গ্যাপ
সেটা বোঝা যাচ্ছে
নিজের কথা মনে পড়ে
কিশোরী মনের চঞ্চলতা, ভীরুতা
মাঝে এতগুলো বছর পেড়িয়ে গেছে অথচ পুরোনো স্মৃতির জাল ছিঁড়ে আজও স্বাধীন হতে পারলাম না।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
চোখ খুলে ধড়মড়িয়ে উঠে বসি
বারবার কেন যে ফিরে ফিরে আসে সেই দুঃস্বপ্নটা
হেমন্তের শুরুতে সেরকম ঠান্ডা না পড়লেও
সকালে এক শিরশিরানি ভাব থাকে
তবুও সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে একশা। জানলার দিকে চোখ যেতে
নিচু প্রাচীর টপকে বাইরের পৃথিবীতে চোখ যায়
মাতৃভূমি দেখি, মফস্বলের জীবন দেখি
সূর্যের প্রথম রশ্মি আসে ঘরের জানলা দিয়ে
হাওয়া আসে
উঠোনের এক কোণে লাগানো শিউলি ফুলের গন্ধ আসে
এবার ফুল শেষ হয়ে যাবে
আর কটা দিনই বা গন্ধ ছড়াবে
সব কিছুরই নিজস্ব একটা আয়ু আছে প্রত্যেকের সময় নির্দিষ্ট করা আছে
তার বাইরে কেউ এগোতে পারে না প্রকৃতি এগোতে দেয় না
যা চোখে পড়ে সবই পার্থিব জগতের। জানলা দিয়ে স্বপ্ন দেখা যায় না
হেমন্তের নীল আকাশের মেঘ দেখা যায়
সামনের রাস্তা দিয়ে এক তরুণী হেঁটে যাচ্ছে পরনে জিন্স আর শর্ট কুর্তি
মেয়েটিকে দেখে
স্বপ্নের মতো মনে হয়।
আমার আর ওর, দুটো জেনারেশনের মধ্যে কতটা গ্যাপ
সেটা বোঝা যাচ্ছে
নিজের কথা মনে পড়ে
কিশোরী মনের চঞ্চলতা, ভীরুতা
মাঝে এতগুলো বছর পেড়িয়ে গেছে অথচ পুরোনো স্মৃতির জাল ছিঁড়ে আজও স্বাধীন হতে পারলাম না।
*********************
স্মৃতিরা পরম্পরায়
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
পুরোনো দিনের ইতিহাস ভুলে
অন্তহীন মনখারাপ নিয়ে
শূন্য মনে হাঁটি মোহনার দিকে।
দেখি, স্পর্ধিত হয়ে স্মৃতিগুলো
পরম্পরায় বাস্তবে ফিরে এসেছে
সম্পর্কের সমীকরণ বদলের সাথে
খাদ্য ও খাদকের হয়েছে বদল।
গাঙচিলের কর্কশ ডাকে বাতাস ভারী
পারদ চড়ছে তরতরিয়ে
আসল বা ভার্চুয়াল যাই হোক
ঠোঁটে শিকার ধরে দোল খায় ঢেউয়ে
চেটে নিচ্ছে চুমুর জেরক্সগুলি
ছিবড়ে করে উদ্গার তোলে।
হিসেবের গরমিল হলেই উদ্ধত আগ্রাসন
নিজেকে করতে আড়াল
শোনায় ঘোলা জলের গল্পকথা
চলে লোক দেখানো অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া।
মনখারাপ হয় ভীষণ
এটাই মাটির পৃথিবীর জীবন।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
পুরোনো দিনের ইতিহাস ভুলে
অন্তহীন মনখারাপ নিয়ে
শূন্য মনে হাঁটি মোহনার দিকে।
দেখি, স্পর্ধিত হয়ে স্মৃতিগুলো
পরম্পরায় বাস্তবে ফিরে এসেছে
সম্পর্কের সমীকরণ বদলের সাথে
খাদ্য ও খাদকের হয়েছে বদল।
গাঙচিলের কর্কশ ডাকে বাতাস ভারী
পারদ চড়ছে তরতরিয়ে
আসল বা ভার্চুয়াল যাই হোক
ঠোঁটে শিকার ধরে দোল খায় ঢেউয়ে
চেটে নিচ্ছে চুমুর জেরক্সগুলি
ছিবড়ে করে উদ্গার তোলে।
হিসেবের গরমিল হলেই উদ্ধত আগ্রাসন
নিজেকে করতে আড়াল
শোনায় ঘোলা জলের গল্পকথা
চলে লোক দেখানো অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া।
মনখারাপ হয় ভীষণ
এটাই মাটির পৃথিবীর জীবন।
*********************
টুকলি করার চেষ্টা
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
মাটির মূর্তি কিংবা পাথরের কোনও
বোধ ও ব্যথা-বেদনা আছে কিনা
আমার জানা নেই।
আমাদের মাথার ওপর উজ্জ্বল আকাশ
পায়ের নিচে সোঁদামাটি
চারপাশে অজস্র মানুষ।
তাদের ভেতরে খুঁজলে দেখতে পাওয়া যাবে
কাঁধে ছেড়া ঝোলা নিয়ে
হাত ধরাধরি করে হাঁটছে কোনো দম্পতি
বউটির কপালের টিপটি ধেবড়ে গ্যাছে।
শুশনি শাকের মতো এরকম অনেক
ছোট ছোট দাম্পত্য আছে
তারা শুধু সু -গন্ধ ছড়ায়
যেখানে পড়ে তাদের পায়ের চিহ্ন
সেখানে সূর্যাস্ত নেই, কেবল উদয়।
দূর কোনো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে
কেউ বা খোঁজে নাটকের ক্লাইম্যাক্স।
আমি ওদের নিঃশ্বাসকে টুকলি করি
জীবন তাতে কলকলিয়ে ওঠে।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
মাটির মূর্তি কিংবা পাথরের কোনও
বোধ ও ব্যথা-বেদনা আছে কিনা
আমার জানা নেই।
আমাদের মাথার ওপর উজ্জ্বল আকাশ
পায়ের নিচে সোঁদামাটি
চারপাশে অজস্র মানুষ।
তাদের ভেতরে খুঁজলে দেখতে পাওয়া যাবে
কাঁধে ছেড়া ঝোলা নিয়ে
হাত ধরাধরি করে হাঁটছে কোনো দম্পতি
বউটির কপালের টিপটি ধেবড়ে গ্যাছে।
শুশনি শাকের মতো এরকম অনেক
ছোট ছোট দাম্পত্য আছে
তারা শুধু সু -গন্ধ ছড়ায়
যেখানে পড়ে তাদের পায়ের চিহ্ন
সেখানে সূর্যাস্ত নেই, কেবল উদয়।
দূর কোনো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে
কেউ বা খোঁজে নাটকের ক্লাইম্যাক্স।
আমি ওদের নিঃশ্বাসকে টুকলি করি
জীবন তাতে কলকলিয়ে ওঠে।
*********************
জ্ঞানহীনতা
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
অবরুদ্ধ বাতাস
বুকের ভেতরের মেঘগুলো
যখম হচ্ছে দিনদিন
পূর্ব দিকে যাই
শিখণ্ডী হয়ে দাঁড়ায় গোধূলি বেলা।
কিছু দিন বৃষ্টি হচ্ছে খুব
হোকনা
টলমল জল
ফুলেরা পরাগ মিলনের কামনায়।
শ্যাওলামাখা মৃত গাছশরীরে
বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উৎপাত
বন্ধ রাখি দরজা
একটুখানি খুলে রাখি জানালার পাল্লা
একটা ফড়িং
বৃষ্টিতে ভিজে ঢুকে পড়ে ঘরে
কুন্ঠিত হয়ে হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়েও
গুটিয়ে নিই
ইচ্ছে করলে শৃঙ্গারে হতে পারতো ভোর বোবা মৈথুন যে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে কাদা
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
অবরুদ্ধ বাতাস
বুকের ভেতরের মেঘগুলো
যখম হচ্ছে দিনদিন
পূর্ব দিকে যাই
শিখণ্ডী হয়ে দাঁড়ায় গোধূলি বেলা।
কিছু দিন বৃষ্টি হচ্ছে খুব
হোকনা
টলমল জল
ফুলেরা পরাগ মিলনের কামনায়।
শ্যাওলামাখা মৃত গাছশরীরে
বর্ষাকালে পোকামাকড়ের উৎপাত
বন্ধ রাখি দরজা
একটুখানি খুলে রাখি জানালার পাল্লা
একটা ফড়িং
বৃষ্টিতে ভিজে ঢুকে পড়ে ঘরে
কুন্ঠিত হয়ে হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়েও
গুটিয়ে নিই
ইচ্ছে করলে শৃঙ্গারে হতে পারতো ভোর বোবা মৈথুন যে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে কাদা
*********************
অক্ষর-জ্ঞান
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"ত্রিপুরা দর্পণ" পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
অভাবের দিনগুলোকে ভুলিয়ে
বেলী আর জুঁই করে যখন সম্ভাষণ
বিদায় নেয় ফেসবুক হাসি
বৈশাখ এসে টোকা দেয় দরজায়
মনের অগোচরে প্রস্ফুটিত হয় নতুন সকাল
মাটির গভীরে শেকড় ছড়িয়ে
শুষে নিতে ইচ্ছে করে সংস্কৃতির বনেদীআনা
ঝাঁপিয়ে পড়ি উৎযাপন করতে
উনুনে উথলে ওঠে দুধ
পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরে
মাদুর পাতি বারান্দায়
ছুঁড়ে দিই অকৃত্রিম হাসি
ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে
মুখে বুলি ফোটে বাংলায়
শুভ নববর্ষ!
একদিনের জন্য বাঙালিয়ানা
পরদিন মানবতা, সভ্যতা ভুলে
নিজেকে শান দিই
ইংরেজি ব্যাকরণ শিখি…
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"ত্রিপুরা দর্পণ" পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
অভাবের দিনগুলোকে ভুলিয়ে
বেলী আর জুঁই করে যখন সম্ভাষণ
বিদায় নেয় ফেসবুক হাসি
বৈশাখ এসে টোকা দেয় দরজায়
মনের অগোচরে প্রস্ফুটিত হয় নতুন সকাল
মাটির গভীরে শেকড় ছড়িয়ে
শুষে নিতে ইচ্ছে করে সংস্কৃতির বনেদীআনা
ঝাঁপিয়ে পড়ি উৎযাপন করতে
উনুনে উথলে ওঠে দুধ
পাঞ্জাবি আর শাড়ি পরে
মাদুর পাতি বারান্দায়
ছুঁড়ে দিই অকৃত্রিম হাসি
ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে
মুখে বুলি ফোটে বাংলায়
শুভ নববর্ষ!
একদিনের জন্য বাঙালিয়ানা
পরদিন মানবতা, সভ্যতা ভুলে
নিজেকে শান দিই
ইংরেজি ব্যাকরণ শিখি…
*********************
“যেতে ইচ্ছে করে”
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ছেলেবেলার গরিব রাতে
হ্যারিকেনের আলোয়
দুলে দুলে মুখস্থ করতাম ক্লাসের পড়া।
প্লাস্টিকের বালতি ব্যাগে
থরে থরে গোছানো থাকতো
বই, দিস্তা খাতা আর
এক-টাকার নিব পেন
যাতে ভরা থাকতো সুলেখা কালি।
বড়ো হবার গোলমালে দিনে
সবকিছু হারিয়ে গেল।
হেঁটে চলেছি ফিউচার টেন্সের দিকে
সাজানো-গোছানো অন্দরমহল
চোখ ধাঁধানো শপিংমল
একে-একে বদলে যায় সব-কিছু
সেটাই ভবিতব্য, কিছুতে যাবে না রোখা।
মাথায় মধ্যে ধিকিধিকি আজও বয়ে চলেছে
মফস্বলের জীবন
আঁকড়ে আছে টিমটিমে আলোয়
“আমার যেতে ইচ্ছে করে
নদীটির ওই পারে…”
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ছেলেবেলার গরিব রাতে
হ্যারিকেনের আলোয়
দুলে দুলে মুখস্থ করতাম ক্লাসের পড়া।
প্লাস্টিকের বালতি ব্যাগে
থরে থরে গোছানো থাকতো
বই, দিস্তা খাতা আর
এক-টাকার নিব পেন
যাতে ভরা থাকতো সুলেখা কালি।
বড়ো হবার গোলমালে দিনে
সবকিছু হারিয়ে গেল।
হেঁটে চলেছি ফিউচার টেন্সের দিকে
সাজানো-গোছানো অন্দরমহল
চোখ ধাঁধানো শপিংমল
একে-একে বদলে যায় সব-কিছু
সেটাই ভবিতব্য, কিছুতে যাবে না রোখা।
মাথায় মধ্যে ধিকিধিকি আজও বয়ে চলেছে
মফস্বলের জীবন
আঁকড়ে আছে টিমটিমে আলোয়
“আমার যেতে ইচ্ছে করে
নদীটির ওই পারে…”
*********************
আমাদের বর্ষপঞ্জিতে নেই বসন্তকাল
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কথা - রূপকথা" পত্রিকার শারদীয়া ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ভাঙা স্বপ্নের কথা ভুলে
একটু শান্তি খুঁজতে রাতের আকাশে তাকায়
পুরো আকাশে মেঘজন্ম, মরচে লাগা চাঁদ।
নিচে চড়া আলোয় মোড়া পরিবেশ
স্ট্রিট লাইটগুলো রোশনাই ছড়াচ্ছে পুরো শহরটা
মাদকতায় ভরা ছমছমে বাতাস বিষময়
আশেপাশের গাছগুলোতে
গভীর সঙ্কট কাটিয়ে পাখিরা ধাতস্থ হয়ে নিদ্রারত।
রাস্তার দুধারের গাছগুলোরও শান্তি নেই
দূষণ আর গাড়ির ম্যারাথন মসৃণ হাইওয়েতে ক্রমাগত কাঁপে
শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য অনেক ঝক্কি।
আমাদের ক্যালেন্ডারে কোনও বসন্তকাল নেই
আলো আঁধারিতে এভাবেই বেঁচে আছি মৃত্যুর আয়োজনে
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কথা - রূপকথা" পত্রিকার শারদীয়া ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ভাঙা স্বপ্নের কথা ভুলে
একটু শান্তি খুঁজতে রাতের আকাশে তাকায়
পুরো আকাশে মেঘজন্ম, মরচে লাগা চাঁদ।
নিচে চড়া আলোয় মোড়া পরিবেশ
স্ট্রিট লাইটগুলো রোশনাই ছড়াচ্ছে পুরো শহরটা
মাদকতায় ভরা ছমছমে বাতাস বিষময়
আশেপাশের গাছগুলোতে
গভীর সঙ্কট কাটিয়ে পাখিরা ধাতস্থ হয়ে নিদ্রারত।
রাস্তার দুধারের গাছগুলোরও শান্তি নেই
দূষণ আর গাড়ির ম্যারাথন মসৃণ হাইওয়েতে ক্রমাগত কাঁপে
শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য অনেক ঝক্কি।
আমাদের ক্যালেন্ডারে কোনও বসন্তকাল নেই
আলো আঁধারিতে এভাবেই বেঁচে আছি মৃত্যুর আয়োজনে
*********************
বড় বাড়ির গল্প
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
সৈয়দ খালেদ নৌমান সম্পাদিত "অর্কেস্ট্রা" পত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
আমাদের বড় বাড়ির গল্প আগেই বলেছি
বাড়ির সব ঘর-গুলো আলোয় মাখামাখি ছিল
মায়া কুড়িয়ে থরে থরে সাজানো থাকতো তাকে
স্কুল ছুটির পর অনেক পায়ের ছুটোছুটি দাপাদাপি
লঘু-গুরু স্বরের উন্মাদনা
রোজ দু-বেলা, আর ছোটখাটো উৎসবে
লম্বা বারান্দায় সারি বেঁধে বসে খানাদানা…
দাদু মারা যাওয়ার পর ভাগ হল সেটা
মানুষ গাছপালা ঢেঁকি গোলা উঠোন
সব-সমেত একটা বাড়ি
চোখের সামনে দিনে দুপুরে ভাগ হল মস্ত আকাশটাও
ইটের প্রাচীর দেওয়া হল মাঝখান দিয়ে
সবার মনের ভেতর থেকে মায়া মমতা স্নেহ ভালোবাসা
টুকরো টুকরো হয়ে গেল
ভাগ হল সম্পদের জন্য আর স্বাধীন যাপনের জন্য।
এখন ভাঙা টুকরো-গুলো অন্ধকার মেখে
শুকনো কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে…
পারমাণবিক পরিবারের বশবর্তী হয়েও
ভালো লাগেনা আমার।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
সৈয়দ খালেদ নৌমান সম্পাদিত "অর্কেস্ট্রা" পত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
আমাদের বড় বাড়ির গল্প আগেই বলেছি
বাড়ির সব ঘর-গুলো আলোয় মাখামাখি ছিল
মায়া কুড়িয়ে থরে থরে সাজানো থাকতো তাকে
স্কুল ছুটির পর অনেক পায়ের ছুটোছুটি দাপাদাপি
লঘু-গুরু স্বরের উন্মাদনা
রোজ দু-বেলা, আর ছোটখাটো উৎসবে
লম্বা বারান্দায় সারি বেঁধে বসে খানাদানা…
দাদু মারা যাওয়ার পর ভাগ হল সেটা
মানুষ গাছপালা ঢেঁকি গোলা উঠোন
সব-সমেত একটা বাড়ি
চোখের সামনে দিনে দুপুরে ভাগ হল মস্ত আকাশটাও
ইটের প্রাচীর দেওয়া হল মাঝখান দিয়ে
সবার মনের ভেতর থেকে মায়া মমতা স্নেহ ভালোবাসা
টুকরো টুকরো হয়ে গেল
ভাগ হল সম্পদের জন্য আর স্বাধীন যাপনের জন্য।
এখন ভাঙা টুকরো-গুলো অন্ধকার মেখে
শুকনো কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে…
পারমাণবিক পরিবারের বশবর্তী হয়েও
ভালো লাগেনা আমার।
*********************
তেল কাহিনী
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
সৈয়দ খালেদ নৌমান সম্পাদিত "অর্কেস্ট্রা" পত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
দিনে দিনে তেলের দাম বেড়েই চলেছে
তার সাথে বেড়েছে গুণের মান
এর পেছনে নিশ্চয় আছে কোনো জাদু।
সাদা সাদা বকফুল ডুবো তেলে
বেসনে ডুবিয়ে ভাজলে মুচমুচে স্বাদ আসে
কম তেলে রান্না বে-স্বাদ আলু কুমড়োর ঘ্যাঁট।
পদ-প্রাপ্তির এ মহাযুগে
এক ফোঁটা তেলও নষ্ট করে না কেউ
পদ হিসেবে তেল মর্দনের মান বিচার হয়
গোপনে কেউ কাউকে শিশি শিশি খাঁটি সরষের তেল দিয়ে
মালিশ করে যাচ্ছে। জানাজানি হলে তুলকালাম কাণ্ড
প্রদীপে তেল ঢেলে সন্ধ্যা আরতি করার পেছনেও
স্বার্থ আছে বোধহয়…
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
সৈয়দ খালেদ নৌমান সম্পাদিত "অর্কেস্ট্রা" পত্রিকার সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
দিনে দিনে তেলের দাম বেড়েই চলেছে
তার সাথে বেড়েছে গুণের মান
এর পেছনে নিশ্চয় আছে কোনো জাদু।
সাদা সাদা বকফুল ডুবো তেলে
বেসনে ডুবিয়ে ভাজলে মুচমুচে স্বাদ আসে
কম তেলে রান্না বে-স্বাদ আলু কুমড়োর ঘ্যাঁট।
পদ-প্রাপ্তির এ মহাযুগে
এক ফোঁটা তেলও নষ্ট করে না কেউ
পদ হিসেবে তেল মর্দনের মান বিচার হয়
গোপনে কেউ কাউকে শিশি শিশি খাঁটি সরষের তেল দিয়ে
মালিশ করে যাচ্ছে। জানাজানি হলে তুলকালাম কাণ্ড
প্রদীপে তেল ঢেলে সন্ধ্যা আরতি করার পেছনেও
স্বার্থ আছে বোধহয়…
*********************
