কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত এর পরিচিতির পাতায় . . .
এতকিছুর মধ্যেও দেখি আলো
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কবিতা সীমান্ত" পত্রিকার ১৪৩২ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

রাতের আকাশে যতই জ্যোৎস্না থাকুক
জন- বসতিতে নেমে আসে অমাবস্যার ঝুলকালি
আশেপাশে বনাঞ্চলের বাঘ-সিংহ-হায়না না থাকলেও
অট্টহাসিতে খাদক পিশাচের খড়্গ ঝলসে ওঠে
যেখানে সেখানে রক্তের ছোপ

আজকাল দিনের- বেলা যখন তখন
আস্ত একটা অন্ধকার নামিয়ে আনা যায়
সেখানে কখনোই দেখা যায় না চাঁদের আলো
জ্বরা ব্যাধিতে ভর্তি হয়ে গ্যাছে পৃথিবী

এতকিছুর মধ্যেও
নিশ্চিন্ত ঘরকন্নার ছোঁয়ায়
ব্যালকনিতে ফোঁটে হাসনুহানা
মনে জাগে শিহরণ

*********************











*
সেতু
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কবি সম্মেলন" পত্রিকার মে ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

ঝাপসা স্মৃতির গুঁড়ো মেখে
আমাদের মুখগুলো হারিয়ে গেছে
বিশ্বাস অবিশ্বাসের শূন্যে ভাসছি

বায়ু মণ্ডলের মধ্যে
সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া বৃথা

*********************











*
স্বপ্নগুলো জিইয়ে রাখি
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কবিতার গল্প" পত্রিকার উৎসব সংখ্যা ১৪৩২-এ প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

দিনদিন সবকিছু কেমন শুকনো জ্যোৎস্নার মতো
বেকুব বনে যাচ্ছে।
রোদের আশ্বাসহীন জীবন
স্বপ্নগুলো অজগরের পেটের ভেতর
ধীরে ধীরে সেঁধিয়ে যাচ্ছে
মনকেমনের শব্দকোষ থেকে স্বপ্নাবিষ্ট আলো খসে পড়ছে
ইচ্ছেডানায় ভর করে ইচ্ছে উড়ছে।
সাঁতার কাটতে নামি
এক ডুবে পৌঁছে যায় মাছেদের অতিথিশালায়
নতুন নতুন নিয়ম নীতির সঙ্গে যোগসাজশ করে
আরও খানিক চুরি করি বেঁচে থাকার স্বপ্ন
সভা সমিতিতে যুক্তি-তর্কের ভেতর না গিয়ে
লেজ নাড়তে থাকি ও হাততালি দিই।
ভগবানের উপর বিশ্বাস থাকুক আর না থাকুক
সন্ধ্যায় ঠাকুর ঘরে প্রদীপ জ্বালানোটা যেন
একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গ্যাছে

*********************











*
তেলের ব্যাপারী
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

আজকাল সবাই তেলের ব্যাপারী
কেউ দেয় কেউ নেয়
নতুন কিছু করতে গেলে
তেলমালিশ না করলে সফল হবে না

জলকে যতোই তেল দাও বশীভূত হবেনা


*********************











*
গল্পের গন্ধ
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

একেকটা গল্পে এক একরকম গন্ধ থাকে
বাইরে আর ভেতরে সম্পূর্ণ ভিন্নতা
ডেলি প্যাসেঞ্জারের গল্পে ঘরকন্নার ছবি আঁকে
বাতাসে ভেসে বেড়ানো মাংস অথবা পায়েসের সুগন্ধ জানিয়ে দেয়
আশেপাশের বাড়িতে ঘটা করে রান্না হচ্ছে

অথচ, খাতা পেন পাশাপাশি থাকলেও সবসময় কবিতা অথবা গল্প হয়ে ওঠে না
যদি না দুঃখবোধ অথবা চাঁদ ছুঁয়ে যায়

*********************











*
শিকড়ে শিকড়ে
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

আমার ঘরে চল্লিশ ওয়াটের টিমটিমে ল্যাম্প
রাত বাড়লেই বাতাসে ভাসে
পুড়ে যাওয়া স্বপ্নের গন্ধ।
শিরায় উপশিরার শ্বাসতন্ত্রে নৈঃশব্দ্য ও ঝরাপাতা
তরতরিয়ে বাড়ে পার্থেনিয়ামের জঙ্গল
রাতের নির্জন রাস্তার মতো
ক্রমশ একা হয়ে যাই।
আকুল নিশ্বাসের জন্য যতটুকু সম্ভাষণ দরকার
সবটুকু আশ্রয়হীন বিশ্বাস মিশে যায়
উপসংহারের কাছে।
ছায়ার সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে
জন্ম নেয় ইচ্ছাশক্তি
বুকের ভেতর তুমুল তাপ
শরীরময় অলৌকিক আলো নিয়ে
হেঁটে যায় দূর থেকে আরও দূরে
অরণ্যের দিকে
দূরের আকাশে লাল রক্তিম আভা
হঠাৎ করেই হয়ে যায় সকাল
মুঠোয় ধরে রাখি রোদ্দুর।

*********************











*
চোখ থাকতেও অন্ধ
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"প্রিয়পত্র" পত্রিকার শারদীয়া ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

মানচিত্র থেকে হারিয়ে গ্যাছে সম্পর্ক
সমর্পণের অঙ্গীকারে নেই কোনো প্রতিশ্রুতি
বিচ্যুতির প্রবল পরাক্রমে
জ্বরের ঘোরে কেটে যাচ্ছে দিনরাত
যেদিকে তাকাই নীল মরীচিকা
নষ্ট বাতাসে সবাই অভাবী কৃপণ
উজ্জ্বল বরফখণ্ডের মতো অসহায় চাঁদ
পাঁকাল মাছের মধ্যে বেঁচে থেকেও
মনে হয় জীবন পরিযায়ী

অতীতের দাবি, একমাত্র নদীর জল পূণ্য
ডুব দিলেই পাপ যাবে উবে
জল -স্থল -আন্তরিক্ষে হবে জীবনের জয়গান
যদি উদ্ধার করতে
আলখাল্লা পরে সামনে আসে ঈশ্বর
তবু চিনতে পারবে না তাঁকে

*********************











*
চরিত্র দিয়েছে আশকারা
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

বোবা ভালোবাসা নিয়ে উৎসবের বারোমাস্যা ঘিরে আছে দিনযাপন
ঝকঝকে হাসি, সুরে পাওয়া বাঁশি
যাপনের অনিশ্চিত বাধ্যতা নিয়ে শিনশিন হিমে ক্রমশ ঠাণ্ডা হয় অশান্ত দম্পতির প্রাত্যহিক চিৎকার
সে কলহের কারণ যায় হোক না কেন
চিরকাল নিয়ম ভাঙ্গার যুদ্ধে জিতে বেশি আনন্দ হয়েছে
কখনো এভাবেই নামি, ভুস করে ডুবে যায়
কাদা ছোড়াছুড়ি, গা-ময় পাঁক-গন্ধ
প্রতিদিন হারিয়ে যায় জলের বুদ্বুদ–
ফসিল হয় ঝড়-ঝাপটায়
নিষ্ফলা মাটিতে জেগে ঘাসেদের অমোঘ স্পন্দন
আবহসংগীতে আঁকে অনবদ্য স্বপ্নের মুখ
শ্যাওলা জড়ানো শরীর ভেসে ওঠে যুবতী মাছের মতো
ঝোঁপ জঙ্গলের ভেতরে জেগে দুটি নম্র চোখ

লাইটপোষ্টের ঝাঁপটা মারা আলোয় ভরে গ্যাছে ব্যালকনি
নষ্ট বাতাস দূরে সরিয়ে নাকে আসে মাতাল করা ছাতিম গন্ধ
জেগে উঠি মুহূর্তেই। হাসির আহ্নিক গতি থেকে সৃষ্টি হয় অক্সিজেন
তোমার ঠোঁটের মেঘ উষ্ণ বাষ্পময়
চোখ রাখি চিবুকের ভাঁজে
জানি, তুমি আলোর জাদুতে সব করবে শোধন।

*********************











*
ক্ষুধা
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"হাইওয়ে" পত্রিকার শারদীয়া ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

একটা ছোট্ট মিছরির দানার চারপাশে
দল-বেঁধে ঘিরে আছে পিঁপড়েরা
খাবার সামান্য, খাদক অনেক।
যে বনে হরিণ নেই
সেখানে নেই বাঘ-সিংহ-হায়না
কাঠুরে বন কেটে নেভায় পেটের আগুন।
সারাদিন ঘুরে বেরিয়ে চোখ সার্থক
মন্দিরে পংক্তি ভোজনের ভাতের গন্ধ
জেগে ওঠে গৌরব নিয়ে
পাশাপাশি বসে খায় গালিভার লিলিপুট
সবাই সবাইকে ছুঁয়ে আছে অযুত লক্ষ বছর।
ইঁদুরের সন্ধানে প্যাঁচাদের চোখ
তীক্ষ্ণ- তীব্রভাবে ঘোরে
খিদে পাওয়ার কাছে
অন্য সব-কিছু নিরর্থক।
আঁধার নেমে এলে নিরালা নির্জনে
তৎপর হয় প্রগৌণ খাদক।
খিদে পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে কিনা
আমার জানা নেই।

*********************











*
কূপমণ্ডূক
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।

কূপমণ্ডূক হয়ে বেশ আছি
চোখে পড়ে না আকাশ
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নিস্তেজ হয়ে ঝিমিয়ে কাতর
বুঝতে পারি না বশ্যতা
সব আঁতাত পেরিয়ে আরও গাঢ় হচ্ছে
লোভ আর অভিসন্ধি
ঢুকে যায় কুহকী রসায়নে
সঞ্চিত স্থিতিজাড্যে থাকে চলনের ক্ষুধা
ডিজিটাল পৃথিবী আর নানা-বিধ সফটওয়ায় গুলোতে
প্রতিশ্রুতির মনোরঞ্জন স্বল্পমেয়াদ জেনেও
অধিকার স্রোত হয়ে ছোটে তার পানে
শুষে নেয় গ্লানিময় ফসফরাস
যত ভোগ তত গুরুত্ব
হাবুডুবু খাই পার হতে অভিষ্ট পথ
প্রস্তরিভূত হই।
গদগদ হয়ে ভাবি, এটাই পূর্বরাগের সূর্য
বুঝিনা, মাথার ওপরে ঝুলছে খড়্গ

*********************