কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
স্পর্ধা
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"উত্তরবঙ্গ সংবাদ" ৮ ডিসেম্বর,২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
মিথ্যের সঙ্গে ঝগড়া করে কখনও জিততে পারিনি
সে কলহের কারণ যায় হোক না কেন
চিরকাল নিয়ম ভাঙ্গার যুদ্ধে বেশি আনন্দ
ভুলের স্মারকের তালিকা দীর্ঘ
এতে সমাজের কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না
নক্ষত্রের আলো ভেবে গায়ে মাখি ঘিনঘিনে গন্ধ
শিক্ষার আলো ফিকে
জাদুর সাথে বাস করা রামধনুর সাতরং
ফসিল হয়েছে ঝড়-ঝাপটায়
মৃৎফলকে এঁকে রাখি প্রতিবাদ, বিদ্রোহ ও ভালোবাসা
বেঁচে থাকি আকাশ ছোঁয়ার স্পর্ধায়
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"উত্তরবঙ্গ সংবাদ" ৮ ডিসেম্বর,২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
মিথ্যের সঙ্গে ঝগড়া করে কখনও জিততে পারিনি
সে কলহের কারণ যায় হোক না কেন
চিরকাল নিয়ম ভাঙ্গার যুদ্ধে বেশি আনন্দ
ভুলের স্মারকের তালিকা দীর্ঘ
এতে সমাজের কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না
নক্ষত্রের আলো ভেবে গায়ে মাখি ঘিনঘিনে গন্ধ
শিক্ষার আলো ফিকে
জাদুর সাথে বাস করা রামধনুর সাতরং
ফসিল হয়েছে ঝড়-ঝাপটায়
মৃৎফলকে এঁকে রাখি প্রতিবাদ, বিদ্রোহ ও ভালোবাসা
বেঁচে থাকি আকাশ ছোঁয়ার স্পর্ধায়
*********************
মহড়া
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ফেরিঘাটে প্রতিটি সকাল হাঁটে দুপুরের দিকে।
লঞ্চে পারাপারের সময় দেখি
প্রকাশিত হচ্ছে বিকশিত হচ্ছে মৎস্য কন্যারা
বারুদ লেগেছে মাছেদের চরিত্রে
তৃষ্ণায় মিলনের উৎসব। রং মিশে যাচ্ছে জলে
রোজকার সূর্য ওঠা থেকে সূর্য-ডোবা পর্যন্ত
গাঙচিলেরা শিকার ধরে দোল খায় ঢেউয়ের তালে
সময় পেরিয়ে গেলেও
মনের আনাচে কানাচে থাকে আদিম কামনা
ঘুমের ঘোরে হেঁটে যায় দীর্ঘ পথ।
পুনরায় শুরু হয়
কালপুরুষের স্থানভেদে নতুন অভিযান
প্রতিটা গল্পে নারী-পুরুষ না থাকলে
সৃষ্টিটা লাগে নিরামিষ
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ফেরিঘাটে প্রতিটি সকাল হাঁটে দুপুরের দিকে।
লঞ্চে পারাপারের সময় দেখি
প্রকাশিত হচ্ছে বিকশিত হচ্ছে মৎস্য কন্যারা
বারুদ লেগেছে মাছেদের চরিত্রে
তৃষ্ণায় মিলনের উৎসব। রং মিশে যাচ্ছে জলে
রোজকার সূর্য ওঠা থেকে সূর্য-ডোবা পর্যন্ত
গাঙচিলেরা শিকার ধরে দোল খায় ঢেউয়ের তালে
সময় পেরিয়ে গেলেও
মনের আনাচে কানাচে থাকে আদিম কামনা
ঘুমের ঘোরে হেঁটে যায় দীর্ঘ পথ।
পুনরায় শুরু হয়
কালপুরুষের স্থানভেদে নতুন অভিযান
প্রতিটা গল্পে নারী-পুরুষ না থাকলে
সৃষ্টিটা লাগে নিরামিষ
*********************
লং ড্রাইভ
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
আগেকার দিনগুলোতে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলে
এক হাঁটু কাদা মাড়িয়ে যেতে হতো গন্তব্যে
আজকাল খুব কমই দেখা যায় মাটির রাস্তা
সেগুলোকে মুড়ে ফেলা হয়েছে পিচ
কিংবা সিমেন্ট দিয়ে
এখন জলমুখর দিনের পর সূর্য উঁকি দিলে
রাস্তাগুলো চকচক করে লাল বেনারসি পরা
লজ্জায় রাঙা নতুন বউয়ের মতো
খুশি মনে স্মার্ট ড্রাইভার
গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যায় লং-ড্রাইভে
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
আগেকার দিনগুলোতে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এলে
এক হাঁটু কাদা মাড়িয়ে যেতে হতো গন্তব্যে
আজকাল খুব কমই দেখা যায় মাটির রাস্তা
সেগুলোকে মুড়ে ফেলা হয়েছে পিচ
কিংবা সিমেন্ট দিয়ে
এখন জলমুখর দিনের পর সূর্য উঁকি দিলে
রাস্তাগুলো চকচক করে লাল বেনারসি পরা
লজ্জায় রাঙা নতুন বউয়ের মতো
খুশি মনে স্মার্ট ড্রাইভার
গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যায় লং-ড্রাইভে
*********************
চালচিত্র
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কবিতা পাক্ষিক" জন্মজয়ন্তী ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
আমার সংসারের ক্যালেন্ডারে নেই বসন্তকাল। লতার মতো রোগা সম্পর্কের সেতুগুলি রুগ্ন পাতায় আধভেজা হয়ে ঘুমিয়ে। অত্যন্ত আধুনিক চেহারার পাশের ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে অনবরত ছিটকে আসে চন্দনের গন্ধ। হুহু করে ওঠে মন। নখ দিয়ে খুঁটে তুলি মনখারাপ। নীল রংয়ের হাতছানিতে আলোর অণু-পরমাণু উবে যায়। ধার করা আগুনেও আনন্দ আছে।
সেদিন পাশের ফ্ল্যাট থেকে আঁশটে গন্ধ পাই। দেখি মাছি ভনভন করছে। গন্ধ শুঁকে পাশের ছাতিম গাছ বেয়ে তরতর করে উঠে আসছে কয়েকটি বিড়াল।
আমার নেই উপসংহার, একা থাকে ভালোবাসা।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কবিতা পাক্ষিক" জন্মজয়ন্তী ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
আমার সংসারের ক্যালেন্ডারে নেই বসন্তকাল। লতার মতো রোগা সম্পর্কের সেতুগুলি রুগ্ন পাতায় আধভেজা হয়ে ঘুমিয়ে। অত্যন্ত আধুনিক চেহারার পাশের ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে অনবরত ছিটকে আসে চন্দনের গন্ধ। হুহু করে ওঠে মন। নখ দিয়ে খুঁটে তুলি মনখারাপ। নীল রংয়ের হাতছানিতে আলোর অণু-পরমাণু উবে যায়। ধার করা আগুনেও আনন্দ আছে।
সেদিন পাশের ফ্ল্যাট থেকে আঁশটে গন্ধ পাই। দেখি মাছি ভনভন করছে। গন্ধ শুঁকে পাশের ছাতিম গাছ বেয়ে তরতর করে উঠে আসছে কয়েকটি বিড়াল।
আমার নেই উপসংহার, একা থাকে ভালোবাসা।
*********************
রেডিওটা আর নেই
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"মাতৃশক্তি" শারদীয়া ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
শরৎকাল এলেই হারিয়ে যাই পুরোনো দিনগুলোতে। আমাদের বাড়িতে মহালয়ার আগের দিন থেকেই
শুরু হয়ে যেতো তোড়জোড়। নতুন ব্যাটারি নিয়ে আসতো বাবা। যাতে ভোর না পোহাতেই চারটের সময় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষমর্দিনীর সঙ্গীত আলেখ্যতে বাড়িটা গমগম করে। প্রত্যেক বাড়ির রেডিও, ক্লাবের মাইকের আওয়াজ, শরতের বাতাসে ভেসে বেড়াতো ঐক্যবদ্ধভাবে। শেষ হতে না হতেই দল বেঁধে শিশির ভেজা ঘাসে পা মাড়িয়ে যেতাম নদীর পাড়ে। খুশিতে নাচতো কাশফুল। কাশফুলের গোছা নিয়ে সাজিয়ে রাখতাম বারান্দায়। শিউলি ফুলে আলপনা দেওয়া উঠোনে দুর্গা-ঠাকুর এসে দাঁড়াতো। মা ঠাকুর ঘরে জ্বেলে দিতো ধূপ। গন্ধে চারদিক হয়ে উঠতো পবিত্র।
টিভির বিনোদনের মোহে রেডিওটা পড়ে ছিল খাটের তলায় ঝুলকালি মেখে। মহালয়ার আগে যতোই নতুন ব্যাটারি লাগানো হোক না কেন, পড়ে থেকে থেকে চালালেই ঘড়ঘড় করতো। এখন আর রেডিওটা দেখিনা। শুনেছি মা ভাঙরিওয়ালার কাছে বদলে একটা ডেকচি নিয়েছে। তাতে ভাত রান্নার পর হাড়ি উপুড় করে ভাতের মাড় গালে। কেন জানিনা ডেকচিটা দেখলেই আমার রেডিওর কথা মনে পড়ে।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"মাতৃশক্তি" শারদীয়া ২০২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
শরৎকাল এলেই হারিয়ে যাই পুরোনো দিনগুলোতে। আমাদের বাড়িতে মহালয়ার আগের দিন থেকেই
শুরু হয়ে যেতো তোড়জোড়। নতুন ব্যাটারি নিয়ে আসতো বাবা। যাতে ভোর না পোহাতেই চারটের সময় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষমর্দিনীর সঙ্গীত আলেখ্যতে বাড়িটা গমগম করে। প্রত্যেক বাড়ির রেডিও, ক্লাবের মাইকের আওয়াজ, শরতের বাতাসে ভেসে বেড়াতো ঐক্যবদ্ধভাবে। শেষ হতে না হতেই দল বেঁধে শিশির ভেজা ঘাসে পা মাড়িয়ে যেতাম নদীর পাড়ে। খুশিতে নাচতো কাশফুল। কাশফুলের গোছা নিয়ে সাজিয়ে রাখতাম বারান্দায়। শিউলি ফুলে আলপনা দেওয়া উঠোনে দুর্গা-ঠাকুর এসে দাঁড়াতো। মা ঠাকুর ঘরে জ্বেলে দিতো ধূপ। গন্ধে চারদিক হয়ে উঠতো পবিত্র।
টিভির বিনোদনের মোহে রেডিওটা পড়ে ছিল খাটের তলায় ঝুলকালি মেখে। মহালয়ার আগে যতোই নতুন ব্যাটারি লাগানো হোক না কেন, পড়ে থেকে থেকে চালালেই ঘড়ঘড় করতো। এখন আর রেডিওটা দেখিনা। শুনেছি মা ভাঙরিওয়ালার কাছে বদলে একটা ডেকচি নিয়েছে। তাতে ভাত রান্নার পর হাড়ি উপুড় করে ভাতের মাড় গালে। কেন জানিনা ডেকচিটা দেখলেই আমার রেডিওর কথা মনে পড়ে।
*********************
অব্যক্ত
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সারাদিন অমঙ্গল ছুঁয়ে যাচ্ছে বাড়িটায়,
সকালে বাবা বেরোবার সময় ঠাম্মার হাঁচি...
একটু দাঁড়িয়ে যা
নইলে পথে বিপদ ধরবে চেপে
ত্রস্ত পায়ে বেরোলো বাবা
ধার ধারেনা এসবে।
একটা শালিখ খুঁটে খাবার খাচ্ছে
গেটের পাশটাতে
দুগ্গা দুগ্গা, মা বলে ওঠে
ভাতের ফ্যান ঝড়াতে গিয়ে
হাড়িটা গেল কাত হয়ে
কিছুটা ভাত গেল পড়ে
ফোস্কা পড়লো দু-হাতে
মায়ের মনে কু ঘোরে ফেরে
অকল্যাণের আর বাকি আছে কিছু
বিধবা যুবতী মেয়ে যার ঘরে!
শুধু মুমূর্ষু মেয়েটা জানে
আজ শুভ কিছু হতে যাচ্ছে
দুপুর নিঝুম হলে
অজ্ঞাতসারে
গেটের বাইরে পা রাখে
দুস্তর গোঁড়া পরিবার থেকে মুক্তি
জীবনের নির্ভেজাল স্বাদ
সকালে শালিখটা এসে খবর দিয়ে গেছে।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সারাদিন অমঙ্গল ছুঁয়ে যাচ্ছে বাড়িটায়,
সকালে বাবা বেরোবার সময় ঠাম্মার হাঁচি...
একটু দাঁড়িয়ে যা
নইলে পথে বিপদ ধরবে চেপে
ত্রস্ত পায়ে বেরোলো বাবা
ধার ধারেনা এসবে।
একটা শালিখ খুঁটে খাবার খাচ্ছে
গেটের পাশটাতে
দুগ্গা দুগ্গা, মা বলে ওঠে
ভাতের ফ্যান ঝড়াতে গিয়ে
হাড়িটা গেল কাত হয়ে
কিছুটা ভাত গেল পড়ে
ফোস্কা পড়লো দু-হাতে
মায়ের মনে কু ঘোরে ফেরে
অকল্যাণের আর বাকি আছে কিছু
বিধবা যুবতী মেয়ে যার ঘরে!
শুধু মুমূর্ষু মেয়েটা জানে
আজ শুভ কিছু হতে যাচ্ছে
দুপুর নিঝুম হলে
অজ্ঞাতসারে
গেটের বাইরে পা রাখে
দুস্তর গোঁড়া পরিবার থেকে মুক্তি
জীবনের নির্ভেজাল স্বাদ
সকালে শালিখটা এসে খবর দিয়ে গেছে।
*********************
মেঘে মেঘে কাটে দিন
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
দো-চালা টালির ঘর
অনবরত বাজে ভাঙা কলসির ঠনঠনানি
বাতাসে দোলে ঘুণ লাগা বাঁশ
স্যাঁতসেঁতে উঠোনের কোণে
গন্ধরাজ লেবু গাছে ফোটেনা ফুল
আসেনা মৌমাছি।
দিন ও রাতের যোগফল শূন্য
বিধ্বস্ত জীবনে ভাগ হয় অধিকার
চোখের জলের হাহুতাশ লুকায়
লোক চক্ষুর আড়ালে
সজারুর কাঁটা দাপিয়ে বেড়ায় পুরো মাথাতে।
বিজ্ঞপ্তিবিহীন রক্ত
চলকে ওঠে চুল্লুর ঠেকে
মাতাল হয়ে সবকিছু ছারখার করে দেওয়ার
সে কি অনাবিল আনন্দ।
রাত জাগে কৌলিন্য-হীন টিমটিমে ল্যাম্প
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
দো-চালা টালির ঘর
অনবরত বাজে ভাঙা কলসির ঠনঠনানি
বাতাসে দোলে ঘুণ লাগা বাঁশ
স্যাঁতসেঁতে উঠোনের কোণে
গন্ধরাজ লেবু গাছে ফোটেনা ফুল
আসেনা মৌমাছি।
দিন ও রাতের যোগফল শূন্য
বিধ্বস্ত জীবনে ভাগ হয় অধিকার
চোখের জলের হাহুতাশ লুকায়
লোক চক্ষুর আড়ালে
সজারুর কাঁটা দাপিয়ে বেড়ায় পুরো মাথাতে।
বিজ্ঞপ্তিবিহীন রক্ত
চলকে ওঠে চুল্লুর ঠেকে
মাতাল হয়ে সবকিছু ছারখার করে দেওয়ার
সে কি অনাবিল আনন্দ।
রাত জাগে কৌলিন্য-হীন টিমটিমে ল্যাম্প
*********************
নতুন সংস্করণ
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"এখন তমোহা" পত্রিকার শারদীয়া ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সত্যি হবেনা জেনেও থামেনা স্বপ্ন দেখার উৎসব
অষ্টাদশী আবেগের তীব্রতা কমলেও
দিন গেলে ঘনীভূত হয় গাঢ়তা
যদি মনে হয় বদলে গ্যাছে সবকিছু
তাহলে বের করতে হবে নতুন সংস্করণ
আচারের বয়েমে রাখা আছে সোনার চাহনি
খুঁটে খুঁটে তুলে
জড়ো করে রাখি ম’রে যাওয়া আলোটি
তারপর, জানিয়ে দ্যায় একটা বোধ
যেমন ভালো লাগেনা রসায়নে আলুনি
ঠিক তেমনই
চিনে নিই আনাজ আর মাংসের সমন্বয়ে
কীভাবে সূচনা করতে হবে সৃষ্টির মাহেন্দ্রক্ষণ।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"এখন তমোহা" পত্রিকার শারদীয়া ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সত্যি হবেনা জেনেও থামেনা স্বপ্ন দেখার উৎসব
অষ্টাদশী আবেগের তীব্রতা কমলেও
দিন গেলে ঘনীভূত হয় গাঢ়তা
যদি মনে হয় বদলে গ্যাছে সবকিছু
তাহলে বের করতে হবে নতুন সংস্করণ
আচারের বয়েমে রাখা আছে সোনার চাহনি
খুঁটে খুঁটে তুলে
জড়ো করে রাখি ম’রে যাওয়া আলোটি
তারপর, জানিয়ে দ্যায় একটা বোধ
যেমন ভালো লাগেনা রসায়নে আলুনি
ঠিক তেমনই
চিনে নিই আনাজ আর মাংসের সমন্বয়ে
কীভাবে সূচনা করতে হবে সৃষ্টির মাহেন্দ্রক্ষণ।
*********************
বাজার
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"দৌড়" পত্রিকার জুলাই ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সকালের রোদ গায়ে লাগতেই
ভিড় বাড়ে বাজারে
সারাদিন ক্রেতা বিক্রেতার কথার আওয়াজে সরগরম
দুপুর হেঁটে সন্ধ্যার আঁধার ছুলেই
এলাকায় পড়ে থাকে ধোঁয়াশা
দোকানিদের ক্লান্ত পা বাড়ি চিনিয়ে দ্যায়
এদিক সেদিকে ফেলে রাখা আবর্জনার স্তূপ
অসীম শূন্যতাবোধে আক্রান্ত হয়ে
যে পাগলটা খোঁজে প্রাবল্য
তার মনের আনাচে কানাচের কামনাগুলো
চলে যায় ঢেকুর তুলে।
রাত ঢুলে পড়ছে ছাতিম গাছে
সেখানে নাটকের শুটিং শুরু হবে
হাজার ওয়াটের আলো নিয়ে
ডালপালা ছড়িয়ে স্ট্রিট লাইট
তার নিচে জড়ো হওয়া কুকুরের মগ্নতা
তাদের কাছে “চেনা বামুনের পৈতা লাগেনা”
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"দৌড়" পত্রিকার জুলাই ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সকালের রোদ গায়ে লাগতেই
ভিড় বাড়ে বাজারে
সারাদিন ক্রেতা বিক্রেতার কথার আওয়াজে সরগরম
দুপুর হেঁটে সন্ধ্যার আঁধার ছুলেই
এলাকায় পড়ে থাকে ধোঁয়াশা
দোকানিদের ক্লান্ত পা বাড়ি চিনিয়ে দ্যায়
এদিক সেদিকে ফেলে রাখা আবর্জনার স্তূপ
অসীম শূন্যতাবোধে আক্রান্ত হয়ে
যে পাগলটা খোঁজে প্রাবল্য
তার মনের আনাচে কানাচের কামনাগুলো
চলে যায় ঢেকুর তুলে।
রাত ঢুলে পড়ছে ছাতিম গাছে
সেখানে নাটকের শুটিং শুরু হবে
হাজার ওয়াটের আলো নিয়ে
ডালপালা ছড়িয়ে স্ট্রিট লাইট
তার নিচে জড়ো হওয়া কুকুরের মগ্নতা
তাদের কাছে “চেনা বামুনের পৈতা লাগেনা”
*********************
সংবিধান
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"উত্তরবঙ্গ সংবাদ" পত্রিকার ৯ মার্চ ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ফুলশয্যার রাতে ছেলেটি সমর্পণ করে
রোদ মাখা গাঢ় লাল গোলাপ
আর কোচড় ভর্তি উপহার
পবিত্র মেয়েটির তোলপাড় বুকে
আঁকা ছিল অঙ্গীকারের স্নানের ছবি
স্পর্শের অভাবে ঢেকে যায় তা ধূসর মেঘে
বুকে লাগা রং নিঃশেষ হয় মুহূর্তেই
প্রেমের সংবিধান জানে
আগুন ছাড়া হয়না ভালোবাসা
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"উত্তরবঙ্গ সংবাদ" পত্রিকার ৯ মার্চ ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
ফুলশয্যার রাতে ছেলেটি সমর্পণ করে
রোদ মাখা গাঢ় লাল গোলাপ
আর কোচড় ভর্তি উপহার
পবিত্র মেয়েটির তোলপাড় বুকে
আঁকা ছিল অঙ্গীকারের স্নানের ছবি
স্পর্শের অভাবে ঢেকে যায় তা ধূসর মেঘে
বুকে লাগা রং নিঃশেষ হয় মুহূর্তেই
প্রেমের সংবিধান জানে
আগুন ছাড়া হয়না ভালোবাসা
*********************
অঙ্গীকার
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কফিহাউসের চারপাশে" পত্রিকার বুদ্ধ পূর্ণিমা ১৪৩১ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সবাই ভেক ভড়ং-এ নিমগ্ন,
কেউ হাঁটিনা
অর্থনীতিতে পঙ্গু
তাই উড়ে-উড়ে চলি…
হাঁটলে দেখা যেতো
আশেপাশের সবই আপন
বেওয়ারিশ কুকুর লেজ নাড়ে
কামিনী গন্ধ বিলিয়ে সম্ভাষণ করে
অন্ধকারেও নেই ভয়
চাঁদের আলো নির্বাক হয়ে সাথে চলে
মাটির নেই কোনো আমিত্ব
কারোর নেই অভিমান
আছে শুধু সারাজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার।
*********************
কবি অর্পিতা ঘোষ পালিত
"কফিহাউসের চারপাশে" পত্রিকার বুদ্ধ পূর্ণিমা ১৪৩১ সংখ্যায় প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৫.৪.২০২৬।
সবাই ভেক ভড়ং-এ নিমগ্ন,
কেউ হাঁটিনা
অর্থনীতিতে পঙ্গু
তাই উড়ে-উড়ে চলি…
হাঁটলে দেখা যেতো
আশেপাশের সবই আপন
বেওয়ারিশ কুকুর লেজ নাড়ে
কামিনী গন্ধ বিলিয়ে সম্ভাষণ করে
অন্ধকারেও নেই ভয়
চাঁদের আলো নির্বাক হয়ে সাথে চলে
মাটির নেই কোনো আমিত্ব
কারোর নেই অভিমান
আছে শুধু সারাজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার।
*********************
