কবি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় - জন্মগহণ করেন কলকাতার বৌবাজারের মঙ্গলা লেনের পৈতৃক বাসভবনে। পিতা চিকিত্সক ডঃ গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং মাতা জগত্তারিণী দেবী। পরবর্তী সময়ে তিনি মায়ের নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জগত্তারিনী স্বর্ণপদক' প্রবর্তন করেন। ১৮৮৬ সালে তাঁর বিয়ে হয় কৃষ্ণনগরের পণ্ডিত রামনারায়ণ ভট্টাচার্যের কন্যা যোগমায়া দেবীর সঙ্গে। তাঁদের চার পুত্র ও তিন কন্যা ষথাক্রমে কমলা, রমা প্রসাদ, শ্যামা প্রসাদ, উমা প্রসাদ, অমলা, বামা প্রসাদ, রমলা। প্রথম পুত্র রমাপ্রসাদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছিলেন, যাঁর পুত্র চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ও কলকাতা এবং বম্বে হাইকোর্টের বিচাপতি হয়েছিলেন। দ্বিতীয় পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন এবং রাজনীতিতে বাংলায় হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব দিয়ে অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের ফজলুল হক সরকারের মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। উমা প্রসাদ ভ্রমণ পিপাসু ছিলেন এবং ভ্রমণ কাহিনী লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

পাঁচ জন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
স্যার আশুতোষের শিক্ষা জীবন
গণিতজ্ঞ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
বিচারপতি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
শিক্ষাবিদ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথকে দেশিকোত্তম (ডি.লিট)
স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
বুদ্ধদেবের অস্থি ও স্যার আশুতোষ
ইসলামিক সংস্কৃতির প্রতি স্যার আশুতোষের অনুরাগ
লর্ড কার্জন কে থামিয়ে বাংলার বাঘ
স্যার আশুতোষের চটিজোড়া ও সাহেবের কোট
স্যার আশুতোষের কন্যার পুনর্বিবাহ ও দান
স্যার আশুতোষ ও সুভাষচন্দ্র বসু
স্যার আশুতোষের রচনাবলী
স্যার আশুতোষের প্রাপ্ত সম্মাননা
স্যার আশুতোষের মূর্তির স্মৃতিফলকের কবিতা
স্যার আশুতোষের পরলোক গমন
স্যার আশুতোষের কবিতা
পাঁচ জন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
স্যার আশুতোষের শিক্ষা জীবন
গণিতজ্ঞ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
বিচারপতি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
শিক্ষাবিদ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথকে দেশিকোত্তম (ডি.লিট)
স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
বুদ্ধদেবের অস্থি ও স্যার আশুতোষ
ইসলামিক সংস্কৃতির প্রতি স্যার আশুতোষের অনুরাগ
লর্ড কার্জন কে থামিয়ে বাংলার বাঘ
স্যার আশুতোষের চটিজোড়া ও সাহেবের কোট
স্যার আশুতোষের কন্যার পুনর্বিবাহ ও দান
স্যার আশুতোষ ও সুভাষচন্দ্র বসু
স্যার আশুতোষের রচনাবলী
স্যার আশুতোষের প্রাপ্ত সম্মাননা
স্যার আশুতোষের মূর্তির স্মৃতিফলকের কবিতা
স্যার আশুতোষের পরলোক গমন
স্যার আশুতোষের কবিতা
.


কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ২ - জন্মগহণ করেন কলকাতার বৌবাজারের মঙ্গলা লেনের পৈতৃক বাসভবনে। পিতা চিকিত্সক ডঃ গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং মাতা জগত্তারিণী দেবী। পরবর্তী সময়ে তিনি মায়ের নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জগত্তারিনী স্বর্ণপদক' প্রবর্তন করেন। ১৮৮৬ সালে তাঁর বিয়ে হয় কৃষ্ণনগরের পণ্ডিত রামনারায়ণ ভট্টাচার্যের কন্যা যোগমায়া দেবীর সঙ্গে। তাঁদের চার পুত্র ও তিন কন্যা ষথাক্রমে কমলা, রমা প্রসাদ, শ্যামা প্রসাদ, উমা প্রসাদ, অমলা, বামা প্রসাদ, রমলা। প্রথম পুত্র রমাপ্রসাদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছিলেন, যাঁর পুত্র চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ও কলকাতা এবং বম্বে হাইকোর্টের বিচাপতি হয়েছিলেন। দ্বিতীয় পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন এবং রাজনীতিতে বাংলায় হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব দিয়ে অবিভক্ত বাংলার মুসলিম লীগের ফজলুল হক সরকারের মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। উমা প্রসাদ ভ্রমণ পিপাসু ছিলেন এবং ভ্রমণ কাহিনী লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
.
পাঁচ জন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় -    ^^ উপরে ফেরত
১। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-১। ইনি ১৮৭১ সালে প্রমোদকামিনী কাব্য লিখেছিলেন। ইনিই ১৮৬৪ সালের প্রথম পি.আর.এস. (প্রেমচাঁদ রয়চাঁদ স্কলার) কি না তা আমরা বলতে পারছি না।
২। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-২ স্যার (২৯. ০৬. ১৮৬৪ ~ ২৫. ০৫. ১৯২৪)। অর্থাৎ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
৩। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩ (১৮৭১ - ১৯২২)। তাঁর এই জীবনকাল দেওয়া থাকলেও আমারা তা জোর দিয়ে বলতে পারছি না। কারণ তার পরেও বেশ কিছু পত্রিকায় এই নামের কবির কবিতা বেরিয়েছিল। অধ্যাপক সুকুমার সেনের মতানুযায়ী তিনিই প্রথম বাংলার ছড়ার সংকলক।
৪। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৪ কবিগুণাকর (প্রকাশকাল ১৯২২ - ১৯৩১) এই কালের মধ্যে বহু নামকরা পত্রিকায় এই নামে যে কবিতা বেরিয়েছিল, তা সম্ভবত কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩-এরই। কিন্তু তবুও এই কবিতাগুলিকে আমরা আলাদা করে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪ কবিগুণাকর এর পাতায় তুলেছি।
৫। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৫ ঔপন্যাসিক (৭.৯.১৯২০ - ৪.৫.১৯৮৯)।

মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩ এবং কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৪ এর একই ব্যক্তি হবার সম্ভাবনা প্রবল।

এঁদের ছাড়াও একজন “রায় সাহেব আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বি.এল.” এর “গায়ত্রী পরিচয়” নামের একটি গ্রন্থ পাওয়া গিয়েছে যার ১ম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৩২ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৪ই মে ১৯২৫ নাগাদ প্রকাশিত হয়েছিল, মাধিপুরা, জিলা ভাগলপুর থেকে। এঁর কোনো কবিতা পাওয়া যায়নি তাই মিলনসাগরে এনার কোনো কবিতার পাতা করা হয় নি। “গায়ত্রী পরিচয়” গ্রন্থটি Published by the Author, 132, Dharmatala St, Calcutta এবং ছাপানো হয় তারা প্রেস থেকে। প্রিন্টার – শ্রীশশধর ঘোষ। ৫৬ নং সীতারাম ঘোষ স্ট্রীট্, কলিকাতা। .


স্যার আশুতোষের শিক্ষা জীবন -     ^^ উপরে ফেরত
সুচিকিত্সক ও বিদ্যানুরাগী পিতার সতর্ক নজরে থেকে আশুতোষের শিক্ষালাভ শুরু হয়। ১৮৬৯ সালে, পাঁচ বছর বয়সে তাঁকে ভর্তি করা হয় চক্রবেড়িয়া শিশু বিদ্যালয়ে। ১৮৭৫ সালে তিনি ভর্তি হন সাউথ সুবার্বান স্কুলে। সেই সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন শিবনাথ শাস্ত্রী

১৮৭৫ সালে একদিন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসগর, কলকাতায় থ্যাকার স্পিঙ্ক কোম্পানীর বইয়ের দোকানে ১১ বছরের আশুতোষকে দেখে Daniel Defoe-র লেখা Life and Adventures of Robinson Crusoe বইটি উপহার দিয়েছিলেন।

বাল্যকাল থেকেই আশুতোষের গণিতের দিকে বিশেষ ঝোঁক ছিল। স্কুলে পড়ার সময়েই “কেম্ব্রিজ মেসেঞ্জার অফ ম্যাথেমাটিক্স”-এ তাঁর দূরহ গাণিতিক সমস্যার সমাধান প্রকাশিত হয়। এডওয়ার্ডস এর ডিফারেনসিয়াল ক্যালকুলাস ও ফরমাইসের ডিফারেনসিয়াল ইকুয়েশন এর গনিতশাস্ত্রে আশুতোষের পারদর্শিতা ও সমাধান দক্ষতার স্বীকৃতি আছে। ১৮৮০-১৮৯০ এই দশ বছরের মধ্যে আশুতোষ উচ্চ গণিতের প্রায় কুড়িটির মতো মূল্যবান প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন।

১৮৭৯ সালে তিনি এনট্রান্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় ও ১৮৮১ সালে এফ.এ. (ফার্স্ট আর্টস) পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। ১৮৮৪ সালে তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর তুলে তিনি বি.এ. পরীক্ষায় প্রথম স্থান নিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৮৮৫ সালে তিনি পরীক্ষা দিয়ে প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তি এবং পদার্থ বিজ্ঞানে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রথম ছাত্র যে দুটি বিষয়ে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। এখানে পড়ার সময়ে তার সহপাঠী ছিলেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত, ভবিষ্যতের স্বামী বিবেকানন্দ.


গণিতজ্ঞ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় -   ^^ উপরে ফেরত
তিনি ১৯০৮ সালে ক্যালকাটা ম্যাথমেটিকাল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯২৩ পর্যন্ত তার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজের মধ্যে ইউক্লিডীয় জ্যামিতিতে নতুন প্রমাণ এবং ডিফারেনশিয়াল জ্যামিতিতে অবদান রয়েছে।


.


বিচারপতি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় -      ^^ উপরে ফেরত
ছোটবেলা থেকে তাঁর বাসনা ছিল হাইকোর্টের বিচারপতি হবেন। ১৮৮৮ সালে তিনি বি.এল পাশ করেন। সেই বছর থেকেই তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতী শুরু করেন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ রাসবিহারী ঘোষের অধীনে। ১৮৯৩ সালে অনার্স-ইন-ল এবং ডক্টর-অফ-ল উপাধি লাভ করেন পরীক্ষা দিয়ে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে অনারারী ডি.এসসি. ডিগ্রিও প্রদান করা হয়। ১৯০৪ সালে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯২০ সালে কিছুদিনের জন্য তিনি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। তাঁর বিচারক জীবনে তিনি ২০০০ এর উপর মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন।

.


শিক্ষাবিদ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় -        ^^ উপরে ফেরত
১৮৮৯ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। সেবছরই তিনি বাংলা কে অন্যান্য ভাষার সঙ্গে অবশ্যপাঠ্য করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবল বিরোধিতার জন্য তা সম্ভব হয়নি সেবছর। ১৯০৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েই তিনি স্নাতকোত্তর বিভাগের প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশিকা থেকে বি.এ. পর্যন্ত মাতৃভাষাকে অবশ্যপাঠ্য ও পরীক্ষার বিষয়রূপে নির্ধারণ করেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন দুবার। প্রথমে ১৯০৬ – ১৯১৪ ও পরে ১৯২১ থকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত।

তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট যা পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে, ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ সায়েন্স বা রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজ। ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ ল বা হাজরা ল কলেজ এবং আশুতোষ কলেজের প্রতিষ্ঠাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯১৪ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন আয়োজনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সি.ভি.রামন, সর্বোপল্লি রাধাকৃষ্ণন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিযুক্ত করেছিলেন। ললিতকলার শিক্ষার আগ্রহের কারণে তিনি শিল্পাচার্য অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বক্তৃতা দেবার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দীনেশচন্দ্র সেনকে বাংলা ভাষার পরীক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন। ১৯০৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দীনেশচন্দ্র সেনের “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” বইটি ইংরেজিতে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করেন।

বৌদ্ধধর্ম ও সাহিত্যে স্যার আশুতোষের বিশেষ অনুরাগ ও উৎসাহ ছিল। মবাবোধির প্রতিষ্ঠাতা ধর্ম্মপাল এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ মহামহোপাধ্যায় সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণের সহযোগিতায় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালি-বিভাগের প্রবর্ত্তন করেন।
.


রবীন্দ্রনাথকে দেশিকোত্তম (ডি.লিট) -     ^^ উপরে ফেরত
১৯১৩ সালের ২৬শে ডিসেম্বর তারিখে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেশিকোত্তম (ডি.লিট.) উপাধিতে সম্মানিত করেন। স্যার আশুতোষ তখন প্রথমবারের জন্য উপাচার্য ছিলেন।
.


স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় -         ^^ উপরে ফেরত
১৮৯৯ ও ১৯০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গীয় আইনসভার সভ্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১১ সালে তিনি “নাইটেড” হয়ে “স্যার” উপাধী লাভ করেন। ১৯১০ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তিনি ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরীর (বর্তমানের ন্যাশনাল লাইব্রেরী) সভাপতি ছিলেন। ১৯১৪ সালে ইণ্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে তিনি সভাপতি হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি আরও বহু বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
.


বুদ্ধদেবের অস্থি ও স্যার আশুতোষ -     ^^ উপরে ফেরত
১৮৯৮ সালে উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার (বর্তমান সিদ্ধার্থনগর জেলা) পিপরাহওয়া (Piprahwa) নামক স্থানে একটি প্রাচীন স্তূপ খনন করার সময় আলেকজান্ডার ক্যানিংহামের উত্তরসূরি উইলিয়াম পেপ্পে একটি শিলালিপিযুক্ত পাথরের পাত্র পান। এই পাত্রের ভেতরে বুদ্ধের পবিত্র অস্থি বা দেহাবশেষ এবং মূল্যবান অলঙ্কার ছিল।

ভাবত ও ভারতের বাইরে বৌদধ সম্প্রদায়েক সঙ্গে স্যার অশুতোষের গভীর সম্বন্ধ ছিল। তিনি বহু বৎসর মহাবোধি সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। এই অমূল্য দেহাবশেষ পাওয়ার পর তা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। বুদ্ধের প্রতি অসীম শ্রদ্ধায় তিনি এই দেহাবশেষ বাংলার মাটিতে আনার জন্য ব্রিটিশ প্রশাসনের সাথে কঠোর জেদ ও কূটনৈতিক লড়াই করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই পবিত্র সম্পদ ভারতেই থাকা উচিত, বিশেষ করে জ্ঞান-চর্চার কেন্দ্র হিসেবে কলকাতায়। তাঁরই প্রচেষ্টায় এই পবিত্র দেহাবশেষের একটি অংশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হয় এবং তা শ্রদ্ধার সাথে সংরক্ষণ করা হয়, কলেজ স্কোয়ার স্থিত মহাবোধি-বিহারে।

এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ছিল না, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণের প্রতীক ছিল। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ বুদ্ধের দর্শনের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা এবং বাঙালি হিসেবে ভারতের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার প্রচেষ্টাকে প্রমাণ করে।
.


ইসলামিক সংস্কৃতির প্রতি আশুতোষের অনুরাগ -     ^^ উপরে ফেরত
রায়বাহাদুর গীনেশচন্দ্র সেন, কবিশেখর, তাঁর "আশুতোষ স্মৃতিকথা" গ্রন্থের ১৪৬-পৃষ্ঠায় স্যার আশুতোষের মুসলমানদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিয়ে একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন যা আমরা এখানে তাঁর ভাষাতেই তুলে দিচ্ছি---

“মুসলিম-কীর্ত্তি এখনও পৃথিবীর উপর মাথা জাগাইয়া আছে, তাঁহাদের লিখিত বহু পুস্তক এখনও পাওয়া যাইতে পারে ; ইসলামিক সংস্কৃতির পথ সুগম করিয়া দিয়া আশুতোষ মুসলমানদের যে সুযোগ করিয়া দিয়াছেন, তাহাদ্বারা তাঁহারা অচিরে বিশেষরূপ উপকৃত হইবেন, ইহা আমরা আশা করি। তিনি মুনলমানদিগকে কিরূপ ভালবাসিতেন, তাহার পরিচয় আমি অনেক সময়ে পাইয়াছি। তাঁহার একান্ত অনুরক্ত ও প্রীতিভাজন ভক্ত ছিলেন আব্দুল্লা সরওয়ার্দ্দী ও হাসান সরওয়ার্দ্দী। যেদিন (তখনও ইঁহারা স্যার, হ'ন নাই) আশুতোষ হাইকোটের প্রধান বিচারপতি হন, সেদিন আব্দুল্লা সরওয়ার্দ্দী তাঁহার ভৃত্যগণকে অনেকগুলি টাকা বখশিশ্ দিয়াছিলেন। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, আমি আব্দুল্লার পকেট হইতে অবশিষ্ট ৫০ টাকার নোট কাড়িয়া লইলাম এবং বলিলাম---
“এ দিচ্ছি না, এই আনন্দের দিনে এ টাকা আমরা সন্দেশ খাওয়ার জন্য রাখিয়া দিব” আব্দুল্লা সরওয়ার্দ্দী হাসিয়া বলিলেন---
“বেশ, টাকা রাখুন, যদি বেশী কিছু দরকার হয় ; তবে আরও দিতে পারি।”
দুই-এক মিনিট পরে তিনি উঠিয়া গেলেন। আমি আশুবাবুকে বলিলাম---
“টাকা তো ফিরাইয়া দেই নাই, হয়ত উনি নীচে অপেক্ষা করিতেছেন, এখনই টাকার জন্য আবার আসিবেন।”
উত্তরে তিনি বলিলেন---
“আপনি শীঘ্র যান, আপনি লোক চিনেন না ; ইঁহারা যে-সে মুসলমান নহেন,---ইঁহাদের খান-দান যেমন উচ্চ, মনও তেমনই উদার ; ইঁহাকে শীঘ্র পাকড় করিয়া টাকা ফিরাইয়া দিন, ইনি উহা সহজে লইতে চাহিবেন ন।” প্রকৃতই শেষে সেই টাকা ফিরাইয়া দিতে আমাকে অনেক বেগ পাইতে হইয়াছিল।”
.


লর্ড কারজন কে কড়া উত্তর ও বাংলার বাঘ -     ^^ উপরে ফেরত
একবার বড়লাট লর্ড কারজন স্যার আশুতোষকে অনুরোধ করেছিলেন ইংল্যাণ্ডে যাবার জন্য যাতে ব্রিটিশ শাসনের অন্তর্গত শিক্ষা ব্যবস্থায় কেমন শিক্ষিত মানুষ তৈরী হচ্ছে, তা সেখানকার মানুষ দেখতে পান। স্যার আশুতোষ তার উত্তরে বড়লাটকে জানান যে তা সম্ভব নয় কারণ তাঁর মা তাঁকে সমুদ্র পার করার অনুমতি দেবেন না। এতে বড়লাট লিখেছিলেন "Tell your mother the Viceroy and Governor-General of India commands her son to go". তিনি উত্তর দিয়েছিলেন "Then I will tell the Viceroy and Governor General of India that Ashutosh Mukherji refuses to be commanded by any other person except his mother, be he Viceroy or be he somebody higher still". সম্ভবত এর পর থেকেই তাঁকে বাংলার বাঘ বলে ডাকা শুরু হয়। ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে আপোসহীন মনোভাব, বজ্রের মতো কঠিন, আদর্শনিষ্ঠ, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, প্রখর ব্যক্তিত্বের জন্যও তাঁকে “বাংলার বাঘ” বলা হতো।
.


স্যার আশুতোষের চটিজোড়া ও সাহেবের কোট -      ^^ উপরে ফেরত
খৃশ্চিয়ান ওলমার (Christian Wolmar) তাঁর “Blood, Iron and Gold” গ্রন্থে এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছেন। একবার স্যার আশুতোষ একটি ট্রেনের ফার্স্টক্লাসে উঠে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। একজন ইংরেজ উঠে তাঁকে দেখে তাঁর চটিজোড়া বাইরে ফেলে দেন। তারপর তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন। স্যার আশুতোষ ঘুম ভেঙে, তাঁর চটিজোড়া দেখতে না পেয়ে সব বুঝে সেই সাহেবের খুলে রাখা কোটটি বাইরে ফেলে দেন। ঘুম ভেঙে সাহেব যখন তাঁর কোট সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন স্যার আসুতোষ বলেছিলেন "your coat has gone to fetch my slippers!"
.


স্যার আশুতোষের কন্যা কমলার পুনর্বিবাহ ও দান -      ^^ উপরে ফেরত
স্যার আশুতোষের বড় কন্যা কমলা কৈশোরইে বিবাহের কিছুদিনের মধ্যেই বিধবা হন। তিনি গোঁড়া ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও বিধবা কন্যার দুর্দশা আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তিনি এই কন্যার পুনর্বিবাহ দেবার কথা স্থির করেন। শত আপত্তি সত্ত্বেও তিনি ১৯০৮ সালে বিধবা কন্যার বিবাহ দেন। দুর্ভাগ্যবশত কমলার ২য় বিবাহের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি দ্বিতীয়বার বিধবা হন। তাঁর নিজের মৃত্যুর এক বছর আগে ১৯২৩ সালে কমলারও অকাল মৃত্যু ঘটে। যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন তার বৈধব্যদশা দেখে আশুতোষের দুঃখের শেষ ছিল না।

এই ঘটনায় তিনি ভেঙে পড়লেও, কন্যার নামে লেকচারের জন্য ৪০,০০০ টাকা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন, যা আজও চালু রয়েছে। কমলা বক্তৃতামালার প্রথম বক্তা ছিলেন মিসেস অ্যানি বেসান্ত। ১৯২৫ সালে যখন তিনি বক্তৃতা দেন স্যার আশুতোষ তখন আর ইহ জগতে নেই।

স্যার আশুতোষের খুব নিকট, রায়বাহাদুর দীনেশচন্দ্র সেন কবিশেখরের “আশুতোষ-স্মৃতিকথা” গ্রন্থের ২১৭ পৃষ্ঠায়, “বিধবা কন্যা বিবাহে গোঁড়া হিন্দুদের প্রতিকূলতা” সাবহেডিং- থেকে জানতে পারি যে গন্ডোগোলটা ঘটেছিল স্যার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বিবাহে তাঁর আপত্তি ছিল না এবং তিনি কথাও দিয়েছিলেন যে সেই বিবাহে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু বিবাহে যাবার সময়ে তাঁর কূলপুরোহিত প্রচণ্ড ভাবে তাঁকে নিষেধ করেন এবং শেষে রাগ করে তাঁর পৈতা ছিঁড়ে কাণ্ড ঘটাবেন এমন অবস্থা তৈরী করার জন্য তিনি আর সেই বিবাহে যান নি। এর ফলে স্যার আশুতোষ তাঁর মায়ের মৃত্যুর পরে গুরুদাসবাবুকে ডাকেন নি। কিন্তু গুরুদাস বাবু ১০ দিন পর গিয়েছিলেন দেখা করতে এবং বাকি জীবন এই কথা না রাখার জন্য অনুশোচনায় ভোগেন এবং মৃত্যুর কিছু পূর্বে যখন স্যার আশুতোষ তাঁর সঙ্গে রোজ দেখা করতে যেতেন, তখন পুনরায় তাঁর কাছে ক্ষমা চান। এবার স্যার আশুতোষ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

এখানে উল্লেখনীয় এই যে স্যার আশুতোষের কন্যার পুনর্বিবাহের বহু পূর্বে ২৬শে জুলাই ১৮৫৬ তে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিধবা বিবাহ আইন পাশ করিয়েছিলেন। এতেই বোঝা যায় যে আইন পাশ করানো হলেও বহু উচ্চ শিক্ষিত মানুষের মন তখনও গোঁড়ামির জালেই আবদ্ধ ছিল।
.


স্যার আশুতোষ ও সুভাষচন্দ্র বসু - ^^ উপরে ফেরত
স্যার আশুতোষের উপাচার্যকালে প্রেসিডেন্সী কলেজের প্রফেসার ওটেন ক্লাসে ভারতীয়দের সম্বন্ধে আপত্তিজনক কথা বলায় ছাত্ররা প্রতিবাদ করে ওঠেন। সিড়ি দিয়ে নামবার সময় তাঁকে নাকি ছাত্র সুভাষচন্দ্র বসু জুতো ছুড়ে মারেন। কোথাও তাঁকে মারধোর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর ফলে শাস্তি হিসেবে সুভাষচন্দ্রকে রাস্টিকেট করা হয়। স্যার আশুতোষের কাছে সুভাষচন্দ্র যেতে তিনি তাঁকে স্কটিশ চার্চ কলেজে ভর্তির অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন। এখান থেকেই তিনি বি.এ. পাশ করেন।

স্যার আশুতোষের প্রয়াণের পর তাঁর স্মরণসভায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু বলেছিলেন, “আজ যে বাংলা ভাষায় কথা বলছি সে জন্য আমরা স্যার আশুতোষের নিকট কৃতজ্ঞ... তিনি বাংলা ভাষাকে সে যুগে ইংরেজির সমান মর্যাদা দিয়েছিলেন।”
.


স্যার আশুতোষের রচনাবলী -         ^^ উপরে ফেরত
স্যার আশুতোষের রচনাবলীর মধ্যে মুখ্যতঃ রয়েছে তাঁর গণিতের উপর লেখা এবং বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন বিষয়ের উপর সম্মেলনের সভাপতিত্ব করার সময়ে তাঁর অভিভাষণের সংকলনগুলি। এর মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যায় ও অন্যত্র থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অভিভাষণের সংকলন। তেমনই “জাতীয় সাহিত্য” নামে তাঁর একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। ১৯৯৫ সালে কলেজস্ট্রীট পাবলিকেশন থেকে, এই গ্রন্থটি, স্যার আশুতোষের পৌত্র ও কলকাতা ও বম্বে হাই কোর্টের জাস্টিস চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা সহ, মাধবানন্দ ভট্টাচার্যের সটীক সম্পাদনায় পুনঃপ্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের পরিশিষ্টে সম্পাদক মহাশয়, স্যার আশুতোষের গবেষণালব্ধ সমগ্র রচনাবলীর একটি সারণি দিয়েছেন। এই পরিশিষ্ট থেকে জানা যায় যে সর্বত্র স্যার আশুতোষের নামে প্রচারিত “Vakil : an examination of the principles and policy of the Bengal Tenancy Bill” এবং “Commentaries on the Law of Specific Relief in British India” গ্রন্থ দুটি তাঁর লেখা নয়।

এই পরিশিষ্ট থেকে আরও জানা যায় যে প্রথম গ্রন্থটির লেখক ছিলেন আশুতোষ নামের অন্য এক জন যিনি ছিলেন প্রথম পি.আর.এস. (প্রেমচাঁদ রয়চাঁদ স্কলার) প্রাপক। এই আশুতোষ যে বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, সেই বছর স্যার আশুতোষ জন্মগ্রহণ করেন অর্থাৎ ১৮৬৪ সালে! কাজেই এই তথ্যও সঠিক নয় যে স্যার আশুতোষই প্রথম পি.আর.এস. এর প্রাপক ছিলেন। প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ বৃত্তির প্রথম প্রাপকের নামও সম্ভবত আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, কিন্তু সেটি ছিল ১৮৬৮ সালে।
.


স্যার আশুতোষের প্রাপ্ত সম্মাননা -         ^^ উপরে ফেরত
১৯০৯ সালের জুন মাসে কম্প্যানিয়ন অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ইন্ডিয়া (সি.এস.আই.) নিযুক্ত হন এবং ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে নাইট করা হয় ও স্যার উপাধি লাভ করেন।

১৯১০ সালে নবদ্বীপের পণ্ডিতদের কাছ থেকে সরস্বতী এবং ১৯১২ সালে ঢাকা সারস্বত সমাজ থেকে শাস্ত্রবাচস্পতি উপাধি লাভ করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে নানা সময়ে তিনি স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ করেন যথা...
১৮৮৫ সালে তিনি রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির ফেলো হন (FRAS)
১৮৮৬ সালে রয়্যাল সোসাইটি অফ এডিনবার্গের ফেলো হন (FRSE)
১৮৮৬ সালে তিনি জ্যামিতিক শিক্ষার উন্নতির জন্য বেডফোর্ড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
১৮৮৭ সালে তিনি লন্ডনের ফিজিক্যাল সোসাইটির ফেলো হন (FPSL)
১৮৮৮ সালে তিনি এডিনবরো গাণিতিক সোসাইটির ফেলো হন।
১৮৮৮ সালে ফ্রান্সের গাণিতিক সোসাইটির সদস্য হন।
১৮৯০ সালে ইটালির গাণিতিক সোসাইটি - পালেরমোর সার্কোলো ম্যাটেমেটিকোর সদস্য হন।
১৮৯০ সালে তিনি ফ্রেঞ্চ ফিজিক্যাল সোসাইটির সদস্য পদ লাভ করেন।
১৮৯৩ সালে তিনি রয়্যাল আইরিশ একাডেমির সদস্য হন (MRIA)
১৯০০ সালে তিনি আমেরিকান গাণিতিক সোসাইটির ফেলো হন (AMS)
১৯৬৪ সালে শিক্ষায় তাঁর অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁর নামে একটি স্মারক ডাকটিকিট জারি করেন।
১৯৩৪ সালে, চৌরঙ্গীর সি.ই,এস.সির অফিসের সামনে প্রতিষ্ঠিত, স্যার আশুতোষ মুখার্জির মূর্তিটি সন্তোষের রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯২৪ এবং ১৯২৬ সালে অনুষ্ঠিত দুটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত তহবিল দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। এই ম্যাচগুলি আই.এফ.এ.-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ প্রতিনিধি কমিটির দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
.


স্যার আশুতোষের মূর্তির স্মৃতিফলকের কবিতা -       ^^ উপরে ফেরত
স্যার আশুতোষের মূর্তির স্মৃতিফলকে তাঁকে উৎসর্গ করা কবিতা -
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর আবক্ষ মূর্তির নীচে লেখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কলি . . .
একদা তোমার নামে সরস্বতী রাখিলা স্বাক্ষর,
তোমার জীবন তাঁর মহিমা ঘোষিল নিরন্তর।
এ মন্দিরে সেই নাম ধ্বনিত করুক তাঁরি জয়,
তাঁহার পূজার সাথে স্মৃতি তব হউক অক্ষয়॥


কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ মিউজিয়াম অফ আর্ট এ তাঁর শ্বেতপাথরের আবক্ষ মূর্তির স্মৃতিফলকে লেখা রয়েছে...
His noblest achievement, surest of them all
A place for his mother tongue --- in step mother's hall.

এই কলির রচয়িতার নাম আমরা জানতে পারিনি।
.


স্যার আশুতোষের পরলোক গমন -         ^^ উপরে ফেরত
শেষ জীবনে, পাটনায়, তার প্রতিপক্ষ ব্যারিস্টার সৈয়দ হাসান ইমামের কাছে হিন্দু উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি মামলায় হেরে যান। এর পর ২৫.৫.১৯২৪ তারিখে পাটনায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন।
.


স্যার আশুতোষের কবিতা -     ^^ উপরে ফেরত
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অনারেবল জাস্টিস স্যার আশুতোষ মুখার্জী, উপাচার্য্য, তাঁর ২৪শে মার্চ ১৯২৩ তারিখের সমাবর্তনী অভিভাষণের শেষে দেশমাতার উদ্দেশ্যে, কবি সিসিল স্প্রিং রাইস দ্বারা ১৯২১ সালে রচিত “I vow to thee” কবিতার প্রথম স্তবকের বাংলা অনুবাদ এবং ইংরেজী কবিতাটির ১ম স্তবকটি পড়েছিলেন। এই বাংলা অনুবাদটির রচয়িতা হিসেবে অন্য কোনো কবির নাম আমরা পাইনি। তাই স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ই এই অনুবাদ কবিতাটির রচয়িতা বলে আমরা ধরে নিচ্ছি। এরকম একটি কবিতা স্যার আশুতোষ চাইলে অবশ্যই লিখতে পারতেন, তাতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।

এ ছাড়া লীলা মজুমদার সংকলিত, নারায়ণ পুস্তকালয় দ্বারা প্রকাশিত, শিশুদের ছড়ার বই “শ্রেষ্ঠ ছড়া”-তে আমরা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের একটি ছড়া পেয়েছি। আমরা সঠিক বলতে পারছি না যে এই ছড়াটি বাংলার বাঘেরই রচনা কি না। কারণ ওই সময়ে একই নামের আরও দু-জন কবির অস্তিত্ব জানা যাচ্ছে। যাঁদের কাব্য ও ছড়া গ্রন্থ প্রকাশিত হচ্ছিল এবং বেশ কিছু প্রথম সারির পত্র-পত্রিকাতে তাঁদের কবিতা প্রকাশিত হচ্ছিল।

অধ্যাপক সুকুমার সেনের মতে মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ ই প্রথম বাংলা ছড়ার সংকলক। তবুও আমরা মনে করছি যে এই ছড়াটির রচয়িতা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় হতে পারেন কারণ ছড়ার বিযয়বস্তু “সুশিক্ষা”। কিন্তু কেউ যদি অন্য কবির নাম প্রমাণসহ আমাদের জানান, তবে আমরা তা এখানে প্রকাশ করবো।

এই দুটি কবিতা মিলনসাগরের পাতায় তুলে এই মহান মানুষটিকে মিলনসাগরের শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান করতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।

আমরা মিলনসাগরে কবি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা ও তাঁর জীবন ও কর্মযজ্ঞ আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।



কবি স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ
: +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭



এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


উৎস ---
^^ উপরে ফেরত