কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর পরিচিতির পাতায় . . .
বিজয় গীতি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


আমার জীবন-নদী মাঝখানে ভাসিয়া উঠিছে নিতি
অমল কমল ফুল সমান একটি বিজয় গীতি।
প্রতিদিন ধীরি ধীরি
সে বৈতব সুধাতরি
আমার দিবস আমার যামিনী হাসিছে মুদিছে ফিরি।

যেখানে শরণ লয়েছে, সে মোর মর্ম্ম গভীরতম,
অতল তল পশেছে মজিয়া সকল সুখ মম।
অসার বাসনা যত
নবীন মেঘের মত
তাহারে ঘেরিয়া বহিছে বাদিছে প্রেমেতে হতেছে নত।

আমার কোমল আশালতাগুলি ফুল মুকুল তারে,
বিরস নিরাস বাহু-বেষ্টনে তারিতে চাহিছে তারে।
মায়া-হিল্লোল-ঘাত
জীব-কল্পোল-স্নাত
ধৈরজ-বিহগ একেলা সেথায় উড়িতেছে অতি দ্রুত।

****************************








*
ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী
শিব স্তোত্র

কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

শিব স্তোত্র।

জয় জয় হর,
সর্ব্ব গুণাকর,
সর্ব্ব দেখ পর,
হৃদি মাঝে চর!

গেল বাল্যকাল,
বাড়িল জঞ্জাল,
দিয়া পদ ছায়া,
কাট ভবমায়া।

জিনি শত দল,
দেহি পদ তল,
তাই মাত্র বল,
সাধিতে মঙ্গল।

আমি অতি দীন,
বারি বিনা মীন,
হয়ে আছি ক্ষীণ,
কর মোরে লীন।

ভব তব ধাম,
ভব তব লাম,
কেবা বলে বাম,
বট অভিরাম।

আশুতোষে ধর,
আশু তোষ হর,
যাহা প্রিয়তর,
ত্বরা করি কর।

পাখী কর মোরে,
তব পদ তরে,
যাই অতঃপর,
বলি হর হর।

দুখে সুখ হয়,
যদি দয়া হয়,
তুমি দয়াময়,
সর্ব্বশাস্ত্রে কয়।

রেখ রেখ পদে,
পড়ি ভব হ্রদে,
ঊর দাস হৃদে,
কাট মোহমদে।

কত দাস এল,
কত দাস গেল,
লোকে বলে মো'ল,
আমি বলি হো'ল।

শেষ কালে কালে,
নাহি লহে কোলে,
মোর দুখ রোলে ;
তব হৃদি গলে।

মন ভৃঙ্গ শুন,
করি গুন্‌ গুন,
গাহ হর গুণ,
তাপ হবে ন্যূন।

****************************








*
ভারতেশ্বরীর স্বর্গারোহণে শোকোচ্ছাাস!
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


অপ্সরা প্রতি!


খোল দ্বার ত্বরা,
স্বগীয় অপ্সরা,
সঙ্গীত লহরী,
তোল স্বর্গভরি!


ভারত ঈশ্বরী,
এবে, তব দ্বারী,
কিবা বলিহারি,
ধন্যা তব পুরী!


মাতৃ সম হয়ে,
যতন করিয়ে,
দুখ বিনাশিয়ে,
তব ধামে ধায়ে!


নিয়তির খেলা,
ভবধাম লীলা,
ভারতে ভাসালে।
স্বরগে হাসালে!


ভাস এবে সুখে,
মরি মোরা দুখে,
হান বাণ বুকে,
লহ তেজে মাকে!

ঈশ্বর প্রতি !


দয়াময় নাম,
একি তব কাম,
তুমি হে নিষ্কাম,
গাছে গীত রাম!


ধন্য তব কন্যে,
মারে করি ধন্যে,
দিলে অন্নপূর্ণে,
নিলে হরি শূন্যে!


কারে কর সুখী,
কারে কর দুখী,
চির দেখে আঁখি,
কিবা আছে বাকী!


যাহা ছিল হল,
আর কিবা বল,
দীনে কথা খোল,
কেন হলাহল!


সুখ তব হবে,
যশ নাহি রবে,
কেবা ভার লবে,
কাঁদি সবে দুখে!


দাও ফিরে মারে,
রাখ কেন তারে,
মরি তব দ্বারে,
ভব শেষ পারে!


কুরু কুরু দয়া,
কেটো নাহি মায়া,
দিয়ে পদ ছায়া,
রাখ এবে কায়া,


কিসে পিতা আর,
দুখ বিষে জ্বর,
নাহি বল আর,
সবে মর মর!


তারা ব’ধে ছিলে,
সীতা বনে দিলে,
বধ ধর্ম্ম পেলে,
চির কাল মেলে!

১০
ভাসি আঁখি জলে,
সুখ ময় বলে,
নাহি ভয় কালে,
মার সঙ্গে মলে!

স্বর্গীয়া ভারতেশ্বরীর প্রতি!


কার ভাগ্য ফলে,
মারে মোর বলে
লয়ে সুত দলে,
রাখ পদ তলে!


চেয়ে দেখ রাজ্যে,
শোকে শর শয্যে,
স্বর্গ ধাম ত্যয্যে,
নাশ সর লজ্জ্যে!


কিসে বাঁচে আশু,
বল মাগো আশু,
জীব তৈল যিশু,
বলে জয় শিশু!

****************************








*
ভারতেশ্বরীর প্রতি শিক্ষয়িত্রী মিস্‌ লেজানের উপদেশ
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
মিস্‌ লেজান অর্থাৎ Baroness Louise Lehzen (1784–1870) ছিলেন রাণী ভিক্টোরিয়ার জার্মান গভর্নেস বা গৃহশিক্ষিকা।



তুমি মোর প্রাণ,
তুমি মোর মান,
ব্রহ্ম তব হৃদে,
পরি হর মদে।


তুমি মোর আশা,
তুমি মোর বাসা,
তব যশ ঘোষে,
রাখ মন আশে।


নাহি মোর মাতা,
নাহি মোর পিতা,
দেহ তব কোল,
এই মোর বোল।


নাহি পোষ ঘৃণা,
নাহি পোষ দেনা,
মধু মম বাণী,
হবে রাজ রাণী।


পিতা তব স্থানে,
পিতা তব জ্ঞানে,
দীন হীন জনে,
রাখ সদা মনে।

****************************








*
জননী শোকে ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


সুশীতল তরু তুমি ভবে গো জননি,
প্রচণ্ড মার্ত্তণ্ড তাপে তপ্ত যবে প্রাণী ;
এ সংসার মরুতে গো তুমি স্নেহধারা,
কার সাধ্য শোধে ধার ওগো শঙ্কাহরা।


কেমনে বিদায় দিব তোমা হেন খনি,
স্বর্গ বিরাজে তথা যথা চরণ দুখানি ;
ভব পারাবারে তব চরণ তরণি,
বিরাজিলে হৃদি মাঝে চিরকাল ধনী।


অন্য ধনে তোমা ধনে না হয় তুলনা,
তোমারি তুলনা তুমি জানে জগজ্জনা ;
কি ছার কণ্টক রাজ্যে-দুখের আগার,
কণ্টক বিধিলে কেবা করে হাহাকার।


কত দিন কতরূপে দিয়েছি যাতনা,
নাহি জানে শেষে হবে এরূপ লাঞ্ছনা ;
স্তন্যসুধা দানে দীনে মিটায়েছ ক্ষুধা,
মনে কি গো ছিল শেষে দিবে এবে ব্যথা।


কেমনে ভুলি সকলি শয্যা ধরা’পরে,
ছিল দুখে তব সুধা অঞ্চল মাঝারে,
তোর যতনের পাখী যাই গড়াগড়ি,
ত্যজি শয্যা ঝাড় ধূলা ওগো তাড়াতাড়ি।


মলিন এবে তব ভিক্টোরিয়া চাঁদ,
নিঠুর কেন গো পাতি সর্ব্বনেশে ফাঁদ ;
নাহি জানি স্বপ্নে এবে মার কাছে দোষ,
ক্ষম ওগো দয়াময়ি নাহি কর রোষ।


লোকে বলে মম রাজ্যে নাহি ওগো সীমা,
মাতৃহীন রাজ্যে কিছু নাহি গো দ্রাঘিমা ;
সে রাজ্যে সুখ গো যথা তোমারি উদয়,
জন্মে জন্মে মাতা তোরে বলি সুখ হয়।


দয়াময় বিধি তুমি বিদিত জগতে,
সাজে কভু এ আচার ভাসি দুখস্রোতে ;
ফুল দলে দলে কেবা কেন বা সৃজিলে,
শোকে দুখে মিশাইয়ে ভবে কি পাঠালে।


বিনা মেঘে বজ্রপাত কে জানে স্বপনে,
কি সুখ বিধি তব সৃজি ভব-কাননে ;
ধন্য যোগী যোগে মগ্ন যারা যোগাসনে,
তুচ্ছ ছার মিছা রাজ অশন ভূষণে।

১০
ভক্তেরই তরে প্রভু পতিত-পাবন,
ভক্তেরই তরে প্রভু শ্রীমধুসূদন ;
তক্কেরই তরে ঈশা ক্রুশে প্রাণ দিল,
ভক্তেরই তরে প্রভু সুর্য্যে দেখা দিল।

১১ স্নেহময়ী জননী গো তাঁতে মিশাইল,
দয়াময়ী নাম আজ স্বর্গধামে হো’ল ;
দ্য়াময়ী সুতা বলি করি কৃতাঞ্জলি,
স্বর্গধাম হ’তে লও দীন পুষ্পাঞ্জলি।

১২
জনম গো পুণ্যে তব রতন উদবে,
পুণ্যে গো ভারতেশ্বরী জগত প্রচাবে ;
ভবলীলা সাঙ্গ করি হবে না কি দেখা,
তব পূণ্য মা কি গো হবে না শেষ রেখা।

১৩
কেন এবে শোকাকুলা ভারত-জননী,
চিরদিন কার ঘর লয়ে গো জননী ;
আশু হেন দীন যবে মাতৃহীন প্রাণী,
বাহুরূপে শোক কেন আনন্দঘাতিনী।

১৪
ভারতের মাতা তুমি কেবা নাহি জানে,
ভারতের সুখ গেল কালের শাসনে,
কাঁদে গো ভারত তব দেখ মা নয়নে,
ভসাওনা ভারতে গো অশ্রু বরিষণে।

****************************








*
স্বগীয় কুমার লিওপাল্ড শোকে ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


ত্যজি মহানিদ্রা উঠ যাদুমণি,
ত্যজি মহানিদ্রা বাঁচাও জননী ;
মণিহারা ফণি বাচে কি কখন,
রাহুগ্রস্থ কেন সুধাংশু বদন।


ভাই সব তব ভাসে নেত্রজলে,
ভ্রাতৃ-বৎসল তুমি জানে সকলে ;
দয়ানিধি এবে কেন রে মলিন,
বিধি নিধি হরে হোয়েরে কঠিন।


কালরাহু গ্রাসে তব প্রণয়িণী,
নয়ন উন্মীলি দেখ আনন্দদায়িনী,
তব আশে পাশে হৃদয়-পুত্তলী,
কোলে তুলে জুড়া জ্বালারে সকলি।


মদন শাসন রূপ তব কাছে,
করিতে শাসন যাবে কার পাছে ;
ছাড়িয়ে জননী যাবে কোন্‌ দেশ,
করো না দলন ছার রে এ বেশ।


স্বপনে হেরিরে তোর পিতৃদেবে,
বলে তোর পুত্র রাণী কিহে দিবে ;
স্বপন স্মরিলে কাঁপয়ে পরাণী,
তাই বলে কি রে কুসুমে অশনি।


তোষিতে পিতারে চলিলে এখনি,
পিতৃভক্তি তোর আমি রে বাখানি ;
বাঁচাতে পিতায় বধিলে জননী,
এ পাপ করে কে মাঝারে ধরণী।


হতাশা তিমিরে তুমি রে প্রদীপ,
জীবন সাগরে তুমি রে দ্বীপ।
সাগর কল্পোলে জীবন হারাই,
মায়ার হিল্লোলে এখন দাঁড়াই।


ফুটে কি কমল সমল সলিলে,
অনিল অনল করিল কপালে ;
একে একে খসে রে জীবনতারা,
কে জানে জগতে এরূপ ধারা।


করিয়ে চয়ন গেঁথেছি রে হার,
পুষ্পের সৌরভে কালেব বিহার,
কুসুম উপরে (থাকিতে) নীহার পরিল,
অকালে কুমার এ ধাম ছাড়িল।

১০
তুলিয়ে কুমারে দিয়েছি চুম্বন,
সে সুখে কেন সে বিষাদ এখন ;
দশ মার ধরি দশ দিন তোরে,
দুখে সদা ঝরি কঠিন জঠরে।

১১
উঠ কুল রবি হেরি তব ছবি,
যাহা হবে হবি ভব ভাব ভাবি ;
মা মা বলে ছিলে ভুলিলে সব কি?
তব পুণ্যফলে মা আর হব কি?

১২
হৃদি মাঝারে যে ফুল দিলা বিধি,
অকালে হরিল বা কেন সে নিধি ;
বাদ সাধা দিতে বাধা নাহি রে কি,
ভবধামে পাঠালে চার রে বাকী।

১৩
কে বলে আমারে জগত জননী,
রাখিতে নারে সুতে সেকি জননী ;
ধরে চরণ বলিব তারে পুরে,
দিওনা মুকুট ভবে আর শিরে।

১৪
দিয়ে পদছায়া রেখো ঈশা সুতে,
তুমি বিনা আছে কেবা সঙ্গে যেতে,
মাতা পিতা সবে পথের পথিক
নেত্রজল পেয়ে চলে প্রাণাধিক।

১৫
তুমি নির্ব্বিকার নিত্যনিরঞ্জন,
সাকারে বিকার জানে সর্ব্বজন,
কর্ম্মফলে ভুঞ্জি দুখ শোক যত,
তুমি কি করিবে বল ওহে বিশ্বতাত।

****************************








*
স্বপ্নে স্বর্গীয় পতি-প্রতিমূর্ত্তি দর্শনে ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


আহা কিবা মনোহরা মধুরা মুরতি,
তুমি কি আমার দেব নিরুপম পতি ;
হৃদয়-পিঞ্জর ছাড়ি উড়িল যে পাখী,
দেখ প্রাণাধিকে ভাষে হাসে রে কি!


বহুদিন গত করি কেন হে আগত,
বিষম বিচ্ছেদে প্রাণ এবে ওষ্ঠাাগত ;
কি গুণে পড়িল মনে দাসী ভবধামে,
দাসীশূন্য আছে কি হে তব স্বর্গধামে।


নিন্দি পিক-স্বনে ক্ষর সুধাও বদনে,
হদয় কবাট খুলি বোস হে আসনে,
হদয়েশ্বরী তব শূন্য হৃদয়ে ভবে
মুকুট ধারণ দুখ কারণ হে সবে।


পেয়ে পিতা দয়ামায়া ভোল সমুদয়,
প্রাণদীপের কভু হে উচিত এ নয়,
ছায়াদেবী নামে মোরে ডাকিতে হে নাথ,
ব্যর্থ করি সে নাম চলিলে কার সাথ।


এ ভবধাম গোলোকধাম করেছিলে,
ভুলিয়ে সকলি কি সুখ আশে চলিলে,
তব পিতা সব সুখঘাত জানি এবে
দুখদাতা কেমনে হে ধাতা নাম লবে।


ধরিয়ে চরণ দাসী হে মিনতি করে,
সুখ কমল তুমি কেবল সরোবরে।
পতি প্রাণ পতি মান পতি হে দেবতা,
পতি সুখ পতি দুখ পতি হে বারতা।


পতিহীন ধন ভৃঙ্গহীন ও@ গণি,
স্বামী পদধন অমূল্য রতন জানি ;
তব পদে সব রতন লুকায়ে থাকে,
মনের দুখ মন জানে বলিব কাকে।


রেখ রেখ মনে হে নাথ এ অনাথারে,
দেখি দেখি হে তব চরণ তরণী রে ;
ভববাসা শেষে আশা ওরূপ শিয়রে,
পাপতাপ ওরূপ বিনা কে নিবারে।


ধরোনা ধরোনা অযতন গত যত,
ভেবোনা ভেবোনা কুবাক্য বলেছি কত
বলোনা বলোনা পতিহীনা আমি ভবে
ভুলোনা ভুলোনা অগতির গতি তবে।

১০
তোমারি ললনা তোমারি ললনা নাথ,
তোমারি কমল তোমরি কমল সাথ,
তোমারি বচন তোমারি বচন, মধু,
তোমারি বদন তোমারি বদন বিধু।

১১
তোমারি কুমার তোমারি কুমার এবে,
তোমারি হৃদয় তোমারি হৃদয় ভবে,
তোমারি আসন তোমারি আসন শূন্য,
তোমারি ভূষণ তোমারি ভূষণ গণ্য।

১২
চল চল যাব নাহি রব হে এ ভবে,
বল বল দেখা কোথা তোমার হে হবে,
সঙ্গে সঙ্গে যাব খাইব তোমার সাতে,
জয় জয় নাথ বলিব মনের সাধে। (পুলকপাতে)

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

****************************








*
পিতৃব্য উইলিয়াম শোকে ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

একি শুনি নিদারুণ বাণী দূত মুখে!
ধরাধাম ত্যজি অমর হয়ে রে পিতা
আজি শান্তিপুরে চলে? অশ্রুজল দিয়া
কাটিলা কি বিধাতা অপূর্ব্ব তরুবরে?
বিষাদসাগরে এবে কাণ্ডারী কে ভবে?
রাজ মুকুটে কিবা প্রয়োজন? কোমল
কুসুম কোরকে প্রবেশিলে চিন্ত-কীট
রাখে রে কি আর সে অপুর্ব্ব সৌন্দর্য্য?
ভস্ম তুলারাশি যথা রে অগ্নি সংযোগে?
কে আর ভবে ভয়ে ভয়ত্রাতা মোদের?
গুণহীন ধনু যথা! চক্রহীন রথ!
দোর্দ্দণ্ড সংসার সমরে কাতর যবে
সস্নেহে সম্ভাষি চুম্বি এ বদন ভয়
হরে হয়ে অভয়দাতা? তুলিয়ে ক্রোড়ে
হৃদয়পুত্তলী হৃদে রাখি তোষে? ভাষে
আনন্দদায়িনী সোণার হরিণী সম?
মধু আলাপনে অ'লাপে পাপ শ্রবণ?
সোণার দেউটী নিভিল জন্মের তরে?
তুলসী মুল্যহীন কালের প্রতাপে?
বিস্বের দল ভাসিল অগাধ সলিলে?
দেখি কেরে দূরে ভাসি আঁখিনীরেকর
প্রসারণে সহাসে নাশেরে চির ত্রাস
মা মা বলি রে মোরে কার প্রফুল্ল মন!
শিখী সম হৃদি নাচে কার মোর সুখে!
পড়িলে বিপদে রাখিবে কে পদে পদে!
এ হেন রতন ভাসিল অগাধ জলে!
ভাসাল সবে শোকসিন্ধুকূলে? নীরব
সব, দেখিরে শবাকার সব এ ভবে!
শূন্য সিংহাসন! শূন্য রে রাজভবন!
শূন্য মহাসভা! শূন্য বীরপ্রসূ ভূমি!
শূন্য মনে বীরগণে অশ্রু বরিষণে
ভাসাই মেদিনী? কাঁপাই অবনী ঘোর
রোদনের রোলে যতেক রমণী আজ?
কাঁদেরে রাজরাণী জননী মোর?
হা নাথ হা নাথ অনাথ সকলে ধ্বনি!
কি বলিয়ে বুঝাব রে জননীরে মার!
জিজ্ঞাসিবে যবে কোথারে জনক তোর?
মোর ধ্রুবতারা? স্নেহতরু সবাকার?
আর কি দেখিব সে করুণ বদনে?
আর কি নমিব রে সে যুগলচরণে?
স্মৃতির দংশনে প্রাণ ত্রাহি ত্রাহি করে!
কোথা গো পিতঃ রক্ষ তব অনাথা দাসীরে!
স্বর্গধাম হ'তে স্নেহধারা বরিষণে
নিবার দুখ জ্বালা পিতৃহীনার পিতা
কে আর সম্ভবে স্বার্থপর এ জগতে?
যাও যাও পিতঃ অমরপুরে! দেখিব
কে রক্ষে কালে, ভক্তি ডোরে যবে বাঁধিব
সে ভক্তবৎসল ভগবানে? শাসিব
দাসিব ভয়াল কালে চিককাল তরে?
বসিবে তুমি জনকের সনে! এ দাসী
সেবি চরণ দুখানি সফল করিবে
বিফল জনম তার? দুখময় ভবে
সুখ কি আর? তাই চরণ তরি বাখি
হৃদে! পুরাও বাসনা স্বর্গধাম হ'তে।
বাঁচাও প্রসূনে তব (নব) স্বর্গধাম হ'তে!

****************************








*
ভারত দুর্ভিক্ষে ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

একি হাহাকার,     শনি সবাকার
ভারত গগনে।
সোণার ভারত,     এবে শয্যাগত,
দির্ভিক্ষ পীড়নে॥
জাগ্রতঃভাঁরত,     হ'বে নিদ্রাগত,
না জানি স্বপনে।
সুখের আকড়,     দুখের নিগড়,
এদৃষ্ট লিখনে॥
ভারত কি ছিল,   ভারত কি হোল
দুখ ঘরে ঘরে।
ভারত রতন,     ভারত যতন
পুণ্যে জ্ঞান করে॥
শরীর শিহরে,     দুর্ভিক্ষ বিহরে
এবে দিন দিন।
দিন দিন ক্ষীণ,     দেখি সব দীন
ভারত মলিন॥
ভূমি কম্প কম্পে,     বাঙ্গালা বম্বে
মাদ্রাজ সেতারৈ।
ঘর সব পড়ে,     থর থর কবে
পাপে পাপে বসুন্ধরা॥
শোকে কাঁদে শিশু,   কোথা প্রভু যিশু
কাঁদে তব দাসী।
ভারত ঈশ্বরী,     কেন নাম ধরি
হই বনবাসী॥
বন ফল খাব,      তব গুণ গাব
ভুঞ্জি চিরসুধা।
যোগে যোগী সুখী,     কেন কর দুখী
দিয়ে রাজ্য বাধা॥
ক্রুসে প্রাণ দিলে,     পাপ তাপ নিলে,
পুণ্য ফল ফলে।
সংসার সলিলে,     আমায় ভাসালে
ভক্তদল দোলে॥
রেখোনা রেখোনা,     দিওনা দিওনা
ব্যথা চিরদিন।
ভাবি হোল ক্ষীণ,     জীব মোর মীন
কুরু মোরে লীন॥

****************************








*
বুরযুদ্ধে সৈন্যগণ প্রতি ভারতেশ্বরীর উৎসাহবাক্য
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

সাজ সাজ সৈন্যগণ,     সাজ সাজ সৈন্যগণ
বৃটিশ কেশরী জগত প্রচারে।
যাক্ প্রাণ রাখ্ মান,      যাক্‌ প্রাণ রাখ্ মান
বৃটিশ পতাকা পৎপৎ করে॥
স্বর্গের অপ্সরা তব,     স্বর্গের অপ্সরা তব
দেখিতে বীরত্ব বিমানে বিহরে।
মদে মত্ত বুরজাতি,     মদে মত্ত বুরজাতি
ধিক জন্ম তব বৃটীনী উদরে॥
বুর বোথা ধন্যবীর,     বুর বোথা ধন্যবীর
শুনিয়া ধমনী বর্ষে অগ্নিকরে।
পতঙ্গের ব্যঙ্গ দেখে,     পতঙ্গের ব্যঙ্গ দেখে
অগ্নিশিখাসম জ্বলে মোর শিরে॥
ভিক্টোরী জননী তব,     ভিক্টোরী জননী তব,
বিফল বিজয়া নাম নাহি ধরে।
বিরাজে স্বর্গের তেজ,     বিরাজে স্বর্গের তেজ,
কাল ভয় হরা হৃদি পয়োধরে॥
কি কর কি কর আর,     কি কর কি কর আর,
পূরাও গগন মার মার শব্দে।
বিজয়া কি ডরে কভু,     বিজয়া কি ডরে কভু,
বিভু সনে শোভিতে তার খৃষ্টাব্দে॥
চিররাজে বীর তব,     চিররাজে বীর তব,
কে না জানে স্বদেশভোম ইংলণ্ডে।
বীর রসভাষে ভাসি,     বীর রসভাষে ভাসি,
ত্যজি দেহ অমর হও তদ্দণ্ডে॥
দেন্মাট কামান আনি,     দেন্মাট কামান আনি,
যশে কাঁপাও সবে ওরে মেদিনী।
ইতিহাস দেবে সাক্ষী,     ইতিহাস দেবে সাক্ষী,
ধন্য বীর ধরে বৃটান জননী॥
তব দেহে কিবা হবে,     তব দেহে কিবা হবে,
কাঁদে ঘরে ঘরে রমণীমণ্ডলী।
প্রতিহিংসা করি ভর,     প্রতিহিংসা করি ভর,
কর ভ্রাতৃগণে স্বর্গে কুতূহলী॥
কি আর বলিব ওরে,     কি আর বলিব ওরে,
দীপ্ত ক্রোধাগ্নি মোর কিসে নিবারে।
ট্রান্সভাল বীরশূন্য,       ট্রান্সভাল বীরশূন্য,
এ সুধাপানে চিত্ত কি নৃত্য করে॥
দয়াময়ী নিরদয়া,        দয়াময়ী নিরদয়া,
অসম্ভব ভবে সাগর শুকালে।
স্বপ্নে আসি সুতে বলে,     স্বপ্নে আসি সুতে বলে। মাগো বুর-রক্তে তৃপ্ত পূত্রদলে॥

****************************