কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
অনাথ বালকের প্রতি ভারতেশ্বরীর উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কেঁদোনা কেঁদোনা ওরে বাছাধন,
মোরে জননী জানে রে সর্ব্বজন।
যাহা চাই তাহা দিব তোরে সদা,
অনাথ বালকে প্রভু বক্ষাদাতা।
দিব তোবে বিদ্যালয়ে বিদ্যার্জ্জনে,
নাহি কর ভয় এবে কোনখানে।
মন দিয়া করিবে বিদ্যাধ্যয়ন,
সকলের সার বিদ্যা মহাধন।
পড়িলে মা রে মনে ডেকো মা বলে,
কোলে নেব আমি তোরে অবহেলে।
ঈশ্বর দয়ার সাগর দুর্দ্দিনে,
তিনি বিনা কেহ নাই এ ভুবনে।
উঠি প্রাতে তাঁর নমিবে চরণ,
দুখ হবে তাঁর লইলে শরণ।
****************************
মোরে জননী জানে রে সর্ব্বজন।
যাহা চাই তাহা দিব তোরে সদা,
অনাথ বালকে প্রভু বক্ষাদাতা।
দিব তোবে বিদ্যালয়ে বিদ্যার্জ্জনে,
নাহি কর ভয় এবে কোনখানে।
মন দিয়া করিবে বিদ্যাধ্যয়ন,
সকলের সার বিদ্যা মহাধন।
পড়িলে মা রে মনে ডেকো মা বলে,
কোলে নেব আমি তোরে অবহেলে।
ঈশ্বর দয়ার সাগর দুর্দ্দিনে,
তিনি বিনা কেহ নাই এ ভুবনে।
উঠি প্রাতে তাঁর নমিবে চরণ,
দুখ হবে তাঁর লইলে শরণ।
****************************
বিধবার প্রতি ভারতেশ্বরীর উক্তি
শিব স্তোত্র
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
শিব স্তোত্র
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কেঁদোনা কেঁদোনা গো, এস আমার ঘরে,
আমি গো দুহিতা হব তব এ সংসারে।
পতিশোক ভুলিতে উপায় ভাল আছে,
ভক্তিজলে ভাসিলে সদা তার কাছে।
করুণানিদান তিনি জানে সর্ব্বজন,
করুণা প্রকাশিতে গো তিনি বিচক্ষণ,
শোক তাপ দূরে যাবে নীহি রবে ক্লেশ,
ভবধামে সবে তার দয়া গো অশেষ।
জগতের পতি তিনি কেন ভাব পতি,
বিপদে তিনি গো ভবে অগতির গতি।
ঈশ্বর তাঁহার নাম দয়ার সাগর,
পতিতপাবন তিনি ব্যক্ত চরাচর।
****************************
আমি গো দুহিতা হব তব এ সংসারে।
পতিশোক ভুলিতে উপায় ভাল আছে,
ভক্তিজলে ভাসিলে সদা তার কাছে।
করুণানিদান তিনি জানে সর্ব্বজন,
করুণা প্রকাশিতে গো তিনি বিচক্ষণ,
শোক তাপ দূরে যাবে নীহি রবে ক্লেশ,
ভবধামে সবে তার দয়া গো অশেষ।
জগতের পতি তিনি কেন ভাব পতি,
বিপদে তিনি গো ভবে অগতির গতি।
ঈশ্বর তাঁহার নাম দয়ার সাগর,
পতিতপাবন তিনি ব্যক্ত চরাচর।
****************************
পুষ্প প্রতি ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
পুষ্প এবে তুমি হও হৃদে বিকশিত,
চেয়ে দেখ দয়াময় তথা অধিষ্ঠিত।
বাসে ভাল প্রভু তোরে প্রাণের সহিত,
তাহ গাঁথি হার তোরে করিয়ে রচিত।
তোর সৌরভে ভবে পাগল অলিকুল,
তোর সৌন্দর্য্যে শোভেরে রমণীর চুল।
ফুলে ফল ভবে কেরে নাহি এবে জানে,
জলে ফুল ভবে এবে প্রভু গুণগানে।
তোমার মানের যাই এবে বলিহারি,
শিরে রাখে প্রভু তোরে সব তুচ্ছ করি।
তুমি রে শোভা সাধের উদ্যান মাঝারে,
তুমি দেব মনোলোভা ব্যাপ্ত চরাচরে।
****************************
চেয়ে দেখ দয়াময় তথা অধিষ্ঠিত।
বাসে ভাল প্রভু তোরে প্রাণের সহিত,
তাহ গাঁথি হার তোরে করিয়ে রচিত।
তোর সৌরভে ভবে পাগল অলিকুল,
তোর সৌন্দর্য্যে শোভেরে রমণীর চুল।
ফুলে ফল ভবে কেরে নাহি এবে জানে,
জলে ফুল ভবে এবে প্রভু গুণগানে।
তোমার মানের যাই এবে বলিহারি,
শিরে রাখে প্রভু তোরে সব তুচ্ছ করি।
তুমি রে শোভা সাধের উদ্যান মাঝারে,
তুমি দেব মনোলোভা ব্যাপ্ত চরাচরে।
****************************
ভারতেশ্বরীর কুকুরের সোহাগ
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
বুলি! কে তোরে দিল রে হৃগয় নির্ম্মল,
বুলি! কে তোরে শিখায় রে দয়ার ফল।
বুলি! কে তোরে বলেরে প্রভু এবে বল,
বুলি! জানিলাম তোর জনম সফল।
একখণ্ড রুটী তরে ফের অকাতরে,
তব ধ্বনি করে ধনী নরাধম নরে।
দয়াময় প্রভু উদয় এবে তোতে,
ভক্তিজলে ভাসে তব চক্ষু দিবারেতে।
নাহি ধন দিতে ভবে তোররে তুলনা,
প্রভু ছাড়া যবে তুমি কিছুরে জাননা।
এস এস রাখিব তোরে রে মোর বক্ষে,
যতনে মুছাই জল তোর রে ঐ চক্ষে।
যাহা চাও তাহা দিব কিসের ভাবনা,
হৃদয়ে বিরাজ তুমি তাহা কি জাননা।
****************************
বুলি! কে তোরে শিখায় রে দয়ার ফল।
বুলি! কে তোরে বলেরে প্রভু এবে বল,
বুলি! জানিলাম তোর জনম সফল।
একখণ্ড রুটী তরে ফের অকাতরে,
তব ধ্বনি করে ধনী নরাধম নরে।
দয়াময় প্রভু উদয় এবে তোতে,
ভক্তিজলে ভাসে তব চক্ষু দিবারেতে।
নাহি ধন দিতে ভবে তোররে তুলনা,
প্রভু ছাড়া যবে তুমি কিছুরে জাননা।
এস এস রাখিব তোরে রে মোর বক্ষে,
যতনে মুছাই জল তোর রে ঐ চক্ষে।
যাহা চাও তাহা দিব কিসের ভাবনা,
হৃদয়ে বিরাজ তুমি তাহা কি জাননা।
****************************
লর্ড মেলবোর্ণের বিদায় উপলক্ষে ভারতেশ্বরীর উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
১
কাঁদে তব প্রণয় যুগল!
স্নেহে তুমি অপুর্ব্ব কমল!
হৃদে রাখি স্বর্গীয় মাধুরী!
কিসে ভুলি উচ্ছাস লহরী!
২
তরি তুমি সংসার সাগরে!
ডুবি এবে অকুল পাথারে!
মণি তুমি অজ্ঞান তিমিরে!
ফণি আমি হারায়ে তোমারে!
৩
কোথা দয়া দযার সাগর!
কোথা মায়া স্নেহের আকর!
এবে সভা রতন বিহীন!
এবে মাতা শোকেতে মলিন!
৪
স্নেহরজ্জু লহ হে তোমার!
আসি তনু করিবে সংহার!
চিন্তা অণু প্রবেশে কোরকে!
গুণ রেণু বাজিছে স্ফাটিকে!
৫
প্রভু রাখে তোমারে কুশলে!
দুখ থাকে বিপক্ষ কল্লোলে!
মনে থাকে দুখিনী হরিণী!
বিধি পাকে নিদ্রিতা সিংহিনী!
****************************
কাঁদে তব প্রণয় যুগল!
স্নেহে তুমি অপুর্ব্ব কমল!
হৃদে রাখি স্বর্গীয় মাধুরী!
কিসে ভুলি উচ্ছাস লহরী!
২
তরি তুমি সংসার সাগরে!
ডুবি এবে অকুল পাথারে!
মণি তুমি অজ্ঞান তিমিরে!
ফণি আমি হারায়ে তোমারে!
৩
কোথা দয়া দযার সাগর!
কোথা মায়া স্নেহের আকর!
এবে সভা রতন বিহীন!
এবে মাতা শোকেতে মলিন!
৪
স্নেহরজ্জু লহ হে তোমার!
আসি তনু করিবে সংহার!
চিন্তা অণু প্রবেশে কোরকে!
গুণ রেণু বাজিছে স্ফাটিকে!
৫
প্রভু রাখে তোমারে কুশলে!
দুখ থাকে বিপক্ষ কল্লোলে!
মনে থাকে দুখিনী হরিণী!
বিধি পাকে নিদ্রিতা সিংহিনী!
****************************
ভারতেশ্বরীর প্রকৃত সুখ সম্বন্ধে উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
১
উন্নত পর্ব্বতচূড়ে অগাধ সাগরে,
অথবা মেদিনী তলে রত্ন আছে যত,
পায় যদি কোন জন নিজ ভোগ তবে,
ভেবনা প্রকৃত সুখ তার অনুগত।
২
আকাঙ্ক্ষা অসীম যার উদ্বেগ প্রবল,
শক্তির অধিক চেষ্টা করে অনুজ্ঞণ,
আশাভঙ্গ বিনা তার কোথাষ মঙ্গল,
সুখ তার নভোপুষ্প অথবা স্বপন।
৩
যোগ্যতার অতিরিক্ত না পেয়ে সৎকার,
পরের গ্লানি গানে সদা মত্ত মন,
আপন অশক্তি প্রতি দৃষ্টি নাহি যায়
প্রকৃত সুখেব স্বাদে বঞ্চিত সে জন।
৪
পরিহরি শুভকর স্বচেষ্টা উদ্যম,
স্বার্থতরে পালে যেই চাটুকার ব্রত,
শ্রেয়েলাভ বৃথা তাঁর পণ্ড পরিশ্রম,
জগতে অসুখী কেহ নহে তার মত।
৫
দিয়া যেই দুরাশার চরণে শৃঙ্খল,
শ্রম অনুরূপ ফলে প্রফুল্ল হৃদয়ে,
কার্য্য করে প্রতিদিন বুঝি আত্মবল,
আপন অধীনে বাখে ইন্দ্রিয় নিচয়ে।
৬
সম্পদ বিপদে যার ক্ষুব্ধ নহে মন,
হৃদয়ে সন্তোষ রহে শান্তির আশ্রয়,
সত্য সরলতা যার কণ্ঠের ভূষণ,
প্রকৃত সুখের সেই প্রকৃত আলয়।
****************************
উন্নত পর্ব্বতচূড়ে অগাধ সাগরে,
অথবা মেদিনী তলে রত্ন আছে যত,
পায় যদি কোন জন নিজ ভোগ তবে,
ভেবনা প্রকৃত সুখ তার অনুগত।
২
আকাঙ্ক্ষা অসীম যার উদ্বেগ প্রবল,
শক্তির অধিক চেষ্টা করে অনুজ্ঞণ,
আশাভঙ্গ বিনা তার কোথাষ মঙ্গল,
সুখ তার নভোপুষ্প অথবা স্বপন।
৩
যোগ্যতার অতিরিক্ত না পেয়ে সৎকার,
পরের গ্লানি গানে সদা মত্ত মন,
আপন অশক্তি প্রতি দৃষ্টি নাহি যায়
প্রকৃত সুখেব স্বাদে বঞ্চিত সে জন।
৪
পরিহরি শুভকর স্বচেষ্টা উদ্যম,
স্বার্থতরে পালে যেই চাটুকার ব্রত,
শ্রেয়েলাভ বৃথা তাঁর পণ্ড পরিশ্রম,
জগতে অসুখী কেহ নহে তার মত।
৫
দিয়া যেই দুরাশার চরণে শৃঙ্খল,
শ্রম অনুরূপ ফলে প্রফুল্ল হৃদয়ে,
কার্য্য করে প্রতিদিন বুঝি আত্মবল,
আপন অধীনে বাখে ইন্দ্রিয় নিচয়ে।
৬
সম্পদ বিপদে যার ক্ষুব্ধ নহে মন,
হৃদয়ে সন্তোষ রহে শান্তির আশ্রয়,
সত্য সরলতা যার কণ্ঠের ভূষণ,
প্রকৃত সুখের সেই প্রকৃত আলয়।
****************************
ভারতেশ্বরীর ভূষণ ও নীতি সম্বন্ধে উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
ভূষণের অভিলাষ কর পরিহার,
কাজ কি কণ্ঠেতে পরি হীরকের হার?
সত্য বটে মানবের যৌবন কৈশোরে,
বাড়ে অতি তনুরুচি ভূষণ অন্বরে।
বার্দ্ধক্যে পড়িলে কিন্তু সেই ভূষাবাস
বানর বলিয়া সবে করে উপহাস।
শৈশব বার্দ্ধক্য কিবা যৌবন কৈশোর
সর্ব্ব অবস্থায় হয় সর্ব্ব রুচিকর,
এমন সুনীতি ভূষা বিজ্ঞান বসন
পরিয়া মানব সুখী হও সর্ব্বক্ষণ॥
****************************
কাজ কি কণ্ঠেতে পরি হীরকের হার?
সত্য বটে মানবের যৌবন কৈশোরে,
বাড়ে অতি তনুরুচি ভূষণ অন্বরে।
বার্দ্ধক্যে পড়িলে কিন্তু সেই ভূষাবাস
বানর বলিয়া সবে করে উপহাস।
শৈশব বার্দ্ধক্য কিবা যৌবন কৈশোর
সর্ব্ব অবস্থায় হয় সর্ব্ব রুচিকর,
এমন সুনীতি ভূষা বিজ্ঞান বসন
পরিয়া মানব সুখী হও সর্ব্বক্ষণ॥
****************************
ভারতেশ্বরীর উদ্যম সম্বন্ধে উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
অতল জলধিতলে নানা রত্ন থাকে বলে
প্রাণ মায়া ত্যজি কতজন,
ভারী সুখে মত্ত হয়ে ভুলি বর্ত্তমান ভয়ে
হয় বেগে সলিলে মগন।
কারু ভাগ্যে রত্ন ফলে কেহ ডুবি মরে জলে
হাঙ্গরে কুম্ভীরে কারে খায়,
লব্ধ রত্ন রাখি তীরে জীবিত আবার নীরে
দেয় ঝাঁপ মুকুতা আশায়।
মগ্ন মৃত দেখি একে অপরে উদ্যম থেকে
বিরত না হয কদাচন,
জন্মিলে মরণ হবে ইহা সার বুঝি সবে
স্বার্থতরে করে প্রাণপণ।
অলক্ষিতে বহি যায় অনাদি অনন্তকায়
বেগশুন্য সময় সাগর,
তার গর্ভে তুলাহীন কত রত্ন আছে লীন
হয় শিশু উদ্ধারে তৎপর।
বিঘ্ন দেখি ভীত হয়ে লভিতে রতনচয়ে
নিরুদ্যম হ’য়োনা কখন।
ব্যর্থ চেষ্টা বারবার যদি হও, তবু তার
লাভ আশা কোরনা বর্জন।
হয়ে অতি দৃঢ়ব্রত যত্ন কর নানা মত
অবশ্যই সুফল ফলিবে,
যথাকালে শ্রমফল দেন বিধি সুপুষ্কল
ইহা স্থির অন্তরে জানিবে।
মৃত্যুভয় জলে স্থলে সদা বর্ত্তমান বোলে
কাপুরুষে থাকে উদাসীন,
চতুর উৎসাহী জন কিন্তু করে প্রাণপণ
রত্ন তরে হইতে অদীন॥
****************************
প্রাণ মায়া ত্যজি কতজন,
ভারী সুখে মত্ত হয়ে ভুলি বর্ত্তমান ভয়ে
হয় বেগে সলিলে মগন।
কারু ভাগ্যে রত্ন ফলে কেহ ডুবি মরে জলে
হাঙ্গরে কুম্ভীরে কারে খায়,
লব্ধ রত্ন রাখি তীরে জীবিত আবার নীরে
দেয় ঝাঁপ মুকুতা আশায়।
মগ্ন মৃত দেখি একে অপরে উদ্যম থেকে
বিরত না হয কদাচন,
জন্মিলে মরণ হবে ইহা সার বুঝি সবে
স্বার্থতরে করে প্রাণপণ।
অলক্ষিতে বহি যায় অনাদি অনন্তকায়
বেগশুন্য সময় সাগর,
তার গর্ভে তুলাহীন কত রত্ন আছে লীন
হয় শিশু উদ্ধারে তৎপর।
বিঘ্ন দেখি ভীত হয়ে লভিতে রতনচয়ে
নিরুদ্যম হ’য়োনা কখন।
ব্যর্থ চেষ্টা বারবার যদি হও, তবু তার
লাভ আশা কোরনা বর্জন।
হয়ে অতি দৃঢ়ব্রত যত্ন কর নানা মত
অবশ্যই সুফল ফলিবে,
যথাকালে শ্রমফল দেন বিধি সুপুষ্কল
ইহা স্থির অন্তরে জানিবে।
মৃত্যুভয় জলে স্থলে সদা বর্ত্তমান বোলে
কাপুরুষে থাকে উদাসীন,
চতুর উৎসাহী জন কিন্তু করে প্রাণপণ
রত্ন তরে হইতে অদীন॥
****************************
ভারতেশ্বরীর ঈশ্বর স্তোত্র
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
১
ওগো পিত! অন্ধ আমি দৃষ্টি মোর নাই
অন্ধকারে আমি তোমা দেখিতে না পাই,
আঁধারে মাণিক তুমি অন্ধের লোচন,
কৃপা কোরে অভাগীরে দাও দরশন।
২
শাস্ত্রজ্ঞান আছে কিন্তু ভক্তি নাহি যার,
সে নাহি শরণ পায় চরণে তোমার,
দিব্য আঁখি থাকিলেও গভীর আঁধারে,
বিনা দীপে পথ কেহ জানিতে কি পারে?
৩
বড় ইচ্ছা করে পিত! তব গুণ গাই,
মুর্খ আমি কি বলিব ভাবিয়া না পাই,
শিশুরে শিখায় কথা জননী যেমন,
আমারে তোমার কথা শিখাও তেমন।
৪
পিত গো! তোমার পদে টান তুমি যারে,
কেহই তাহারে আর রাখিতে না পারে,
শত শত মায়াময় কঠিন বন্ধন,
তৃণসম অনায়াসে সে করে ছেদন।
৫
পিত গো! আত্মার আত্মা তুমিই আমার,
তুমিই প্রাণের প্রাণ হৃদয়ের সার,
তুমিই গতির গতি এ ভবে সবার,
বলিতে পারি না তুমি কি ধন আমার।
৬
বদনে বিকট হাস্য কর প্রসারিয়া,
রবিসুত অতি রোষে আসিছে ধাইয়া,
পিত গো! কোথাও আমি না পাই অভয়,
তাই আজি তব পদে লয়েছি আশ্রয়।
৭
অধম পাতকী আমি কি বলিব আর,
পড়েছি কালের হাতে নাহিক নিস্তার,
কালভয় নিবারণ! পতিত পাবন!
অভয় চরণে আজি দাও গো শরণ।
৮
মন প্রাণ আত্মা মোর শরীর ছাড়িয়া,
সকলি তোমার কাছে গিয়াছে চলিয়া,
পিত গো! এ শূন্য দেহ রয়েছে পড়িয়া,
জানি না মরেছি কিন্বা রয়েছি বাঁচিয়া!
৯
যত দুঃখ দাও পিতা সহিব সকলি,
কেবল তোমারে যেন কভু নাহি ভুলি,
যে যাতনা হয় পিতা ভুলিলে তোমায়,
তার কাছে অন্য দুঃখ সুখে সহা যায়।
১০
কেহ যদি ঘর বাড়ী পোড়ায় আমার,
সম্মুখে স্ত্রীপুত্রগণে করয়ে সংহার,
তব পাদপদ্ম হ’তে তথাপি হৃদয়,
ক্ষণমাত্র যেন নাহি বিচলিত হয়।
১১
যে যথায় আছ আজি ওহে ব্যাধিগণ!
যত পার তত মোরে করহ পীড়ন ;
বিশ্বজনকের পদে সঁপেছি জীবন,
নহে ত আমার প্রাণ আমার এখন।
১২
যখনি পাপেতে মতি হইবে তোমার,
পিত পিত বোলে জীব! ডেকো বারবার,
ও নাম করিবামাত্র দূরে যাবে পাপ,
শীতল হইবে প্রাণ জুড়াবে সন্তাপ।
১৩
পিত পিত বলিতে বলিতে বারবার,
পড়িবে অন্তিম শ্বাস কবে রে আমার!
নাম করিলেই পিতা কোলে দিবে স্থান,
জুড়াইবে সব জ্বালা লভিব নির্ব্বাণ।
১৪
পিত গো! তুমিই মোর নয়নের তারা,
হৃদয় আকাশে মোর তুমি ধ্রুবতারা,
নয়ন মেলিয়া তোমা নিরখি যেমন,
তেমনি নিরখি তোমা মুদিয়া নয়ন।
১৫
কি বলিব তব গুণ কৃপাময় পিতা!
বলিতে না সরে বাণী হই লঙ্জালতা ;
অস্পৃশ্য চণ্ডাল পাপী যে ডাকে তোমাকে,
অমনি অভয় কোলে তুলে লও তাকে।
১৬
শিশুও যদ্যপি বাঁচে জননী বিহনে,
জলাশয় বিনা যদি বাঁচে মৎসগণে,
শস্যও যদ্যপি বাঁচে বিনা বরিষণে,
তব দয়া বিনা আমি বাঁচি না জীবনে।
১৭ তোমারে স্মরিলে ডুবি সুধার সাগরে,
ভুলিলেই পড়ি তপ্ত তৈলের ভিতরে ;
পিত গো! তোমারে আমি ভুলি বারবার,
আমা হেন হতভাগ্য কেবা আছে আর?
১৮
চূর্ণ করি চরাচর এ তিন ভুবন
বহে যদি প্রলয়ের প্রচণ্ড পবন,
মলয় পবন সম করি তাহা জ্ঞান,
তুমি যদি হৃদে মোর হও অধিষ্টান।
১৯
তুমিই প্রাণের প্রাণ সর্বস্ব আমার,
যা’ক প্রাণ ধন মান গৃহ পরিবার
ওগো পিত! তোমা হারা হইব যখনি
সর্ব্বনাশ বনবাস জানিব তখনি।
২০
শিশু যথা মার স্তনে লাগায়ে রসনা,
আর কোন মিষ্টরস করে না কামনা,
তেমনি ও পাদপদ্মে লেগে যেন রই,
দিলেও স্বর্গের সুধা যেন নাহি লই।
****************************
ওগো পিত! অন্ধ আমি দৃষ্টি মোর নাই
অন্ধকারে আমি তোমা দেখিতে না পাই,
আঁধারে মাণিক তুমি অন্ধের লোচন,
কৃপা কোরে অভাগীরে দাও দরশন।
২
শাস্ত্রজ্ঞান আছে কিন্তু ভক্তি নাহি যার,
সে নাহি শরণ পায় চরণে তোমার,
দিব্য আঁখি থাকিলেও গভীর আঁধারে,
বিনা দীপে পথ কেহ জানিতে কি পারে?
৩
বড় ইচ্ছা করে পিত! তব গুণ গাই,
মুর্খ আমি কি বলিব ভাবিয়া না পাই,
শিশুরে শিখায় কথা জননী যেমন,
আমারে তোমার কথা শিখাও তেমন।
৪
পিত গো! তোমার পদে টান তুমি যারে,
কেহই তাহারে আর রাখিতে না পারে,
শত শত মায়াময় কঠিন বন্ধন,
তৃণসম অনায়াসে সে করে ছেদন।
৫
পিত গো! আত্মার আত্মা তুমিই আমার,
তুমিই প্রাণের প্রাণ হৃদয়ের সার,
তুমিই গতির গতি এ ভবে সবার,
বলিতে পারি না তুমি কি ধন আমার।
৬
বদনে বিকট হাস্য কর প্রসারিয়া,
রবিসুত অতি রোষে আসিছে ধাইয়া,
পিত গো! কোথাও আমি না পাই অভয়,
তাই আজি তব পদে লয়েছি আশ্রয়।
৭
অধম পাতকী আমি কি বলিব আর,
পড়েছি কালের হাতে নাহিক নিস্তার,
কালভয় নিবারণ! পতিত পাবন!
অভয় চরণে আজি দাও গো শরণ।
৮
মন প্রাণ আত্মা মোর শরীর ছাড়িয়া,
সকলি তোমার কাছে গিয়াছে চলিয়া,
পিত গো! এ শূন্য দেহ রয়েছে পড়িয়া,
জানি না মরেছি কিন্বা রয়েছি বাঁচিয়া!
৯
যত দুঃখ দাও পিতা সহিব সকলি,
কেবল তোমারে যেন কভু নাহি ভুলি,
যে যাতনা হয় পিতা ভুলিলে তোমায়,
তার কাছে অন্য দুঃখ সুখে সহা যায়।
১০
কেহ যদি ঘর বাড়ী পোড়ায় আমার,
সম্মুখে স্ত্রীপুত্রগণে করয়ে সংহার,
তব পাদপদ্ম হ’তে তথাপি হৃদয়,
ক্ষণমাত্র যেন নাহি বিচলিত হয়।
১১
যে যথায় আছ আজি ওহে ব্যাধিগণ!
যত পার তত মোরে করহ পীড়ন ;
বিশ্বজনকের পদে সঁপেছি জীবন,
নহে ত আমার প্রাণ আমার এখন।
১২
যখনি পাপেতে মতি হইবে তোমার,
পিত পিত বোলে জীব! ডেকো বারবার,
ও নাম করিবামাত্র দূরে যাবে পাপ,
শীতল হইবে প্রাণ জুড়াবে সন্তাপ।
১৩
পিত পিত বলিতে বলিতে বারবার,
পড়িবে অন্তিম শ্বাস কবে রে আমার!
নাম করিলেই পিতা কোলে দিবে স্থান,
জুড়াইবে সব জ্বালা লভিব নির্ব্বাণ।
১৪
পিত গো! তুমিই মোর নয়নের তারা,
হৃদয় আকাশে মোর তুমি ধ্রুবতারা,
নয়ন মেলিয়া তোমা নিরখি যেমন,
তেমনি নিরখি তোমা মুদিয়া নয়ন।
১৫
কি বলিব তব গুণ কৃপাময় পিতা!
বলিতে না সরে বাণী হই লঙ্জালতা ;
অস্পৃশ্য চণ্ডাল পাপী যে ডাকে তোমাকে,
অমনি অভয় কোলে তুলে লও তাকে।
১৬
শিশুও যদ্যপি বাঁচে জননী বিহনে,
জলাশয় বিনা যদি বাঁচে মৎসগণে,
শস্যও যদ্যপি বাঁচে বিনা বরিষণে,
তব দয়া বিনা আমি বাঁচি না জীবনে।
১৭ তোমারে স্মরিলে ডুবি সুধার সাগরে,
ভুলিলেই পড়ি তপ্ত তৈলের ভিতরে ;
পিত গো! তোমারে আমি ভুলি বারবার,
আমা হেন হতভাগ্য কেবা আছে আর?
১৮
চূর্ণ করি চরাচর এ তিন ভুবন
বহে যদি প্রলয়ের প্রচণ্ড পবন,
মলয় পবন সম করি তাহা জ্ঞান,
তুমি যদি হৃদে মোর হও অধিষ্টান।
১৯
তুমিই প্রাণের প্রাণ সর্বস্ব আমার,
যা’ক প্রাণ ধন মান গৃহ পরিবার
ওগো পিত! তোমা হারা হইব যখনি
সর্ব্বনাশ বনবাস জানিব তখনি।
২০
শিশু যথা মার স্তনে লাগায়ে রসনা,
আর কোন মিষ্টরস করে না কামনা,
তেমনি ও পাদপদ্মে লেগে যেন রই,
দিলেও স্বর্গের সুধা যেন নাহি লই।
****************************
শিক্ষকের প্রতি ভারতেশ্বরীর উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
যশের ভাণ্ডার তুমি চিরকাল তরে।
দয়ার সাগর তুমি সেই জানে চিতে
দীন যে দীনের সখা! প্রোজ্জ্বল জগতে
হেম গিরি হেম ভাতি আম্লান কিরণে।
কিন্তু কর্ম্মফলে পেয়ে সে ধরণী ধরে
যে জন শরণ লয় সোণার চরণে,
সেই জানে কত ফল ধরে কত মতে
শৈলেশ! কি ভোগ তার এ ভঙ্গ ভবনে!
ঝরে বারি নদীরূপে অমলা কিঙ্করী।
যোগায় সুধার ফল পরম যতনে
অভ্রভেদী তরুদল, দাসরূপ ধরি।
পরিমলে ফুলকুল সর্ব্ব দুখ হরে।
তপন তাপিতে শীতলা ছায়া বনেশ্বরী।
নিশায় সুসার নিদ্রা, শ্রান্তি দূর করে।
দীনের মন্দির তুমি, পশ বিদ্যাপতি!
পুষ্পাঞ্জলি দিয়া পূজি করিয়া ভকতি।
যশ ফল মালা গলে, নয়ন নেহারে!
দেখিতে শমন তোমা না আছে শকতি।
প্রস্তরের'স্তম্ভ যবে গলি বারি হবে
বাড়িবে সৌন্দর্য্য তব মনের সংসারে।
****************************
দয়ার সাগর তুমি সেই জানে চিতে
দীন যে দীনের সখা! প্রোজ্জ্বল জগতে
হেম গিরি হেম ভাতি আম্লান কিরণে।
কিন্তু কর্ম্মফলে পেয়ে সে ধরণী ধরে
যে জন শরণ লয় সোণার চরণে,
সেই জানে কত ফল ধরে কত মতে
শৈলেশ! কি ভোগ তার এ ভঙ্গ ভবনে!
ঝরে বারি নদীরূপে অমলা কিঙ্করী।
যোগায় সুধার ফল পরম যতনে
অভ্রভেদী তরুদল, দাসরূপ ধরি।
পরিমলে ফুলকুল সর্ব্ব দুখ হরে।
তপন তাপিতে শীতলা ছায়া বনেশ্বরী।
নিশায় সুসার নিদ্রা, শ্রান্তি দূর করে।
দীনের মন্দির তুমি, পশ বিদ্যাপতি!
পুষ্পাঞ্জলি দিয়া পূজি করিয়া ভকতি।
যশ ফল মালা গলে, নয়ন নেহারে!
দেখিতে শমন তোমা না আছে শকতি।
প্রস্তরের'স্তম্ভ যবে গলি বারি হবে
বাড়িবে সৌন্দর্য্য তব মনের সংসারে।
****************************
