কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর পরিচিতির পাতায় . . .
বিদায়কালে এলবার্টের প্রতি ভারতেশ্বরীর উত্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


ইন্দ্রপুরে ইন্দ্রতন্, যদুপতিমতি
ঐন্দ্রি, যথা বীর-ধ্বজা! বাধি কুতূহলে
ফিরিলা অরণ্যবাসে, তুমি হে তেমতি
যাও ফিরে সুখে এবে জর্ম্মণ-মণ্ডলে।
মনোভূমে স্নেহ-নদী তব প্রবাহিতা!---
ধন্য ভাগ্য, হে সুভগ, তব ভব-তলে!
কোন্‌ মুল্য দিয়া কিনি এমা হেন ধনে!
কোন্‌ মুল্য, হে যন্ত্রণা কিসে হে পাসরি!
কোন্‌ ধন কোন্‌ রত্ন কোন্‌ মণিহারে
এ অপূর্ব্ব দ্রব্য লাভ? কোন্‌ দেবে স্মরি
কোন্‌ যোগে, কোন্‌ যাগে কোন্‌ ধর্ম্ম ধরি?
আছে, কি এমন জন জগত মণ্ডলে,
এ দীপ লাভার্থে যারে গুরুপদে ধরি?
এ মন-ভূঙ্গ-কমল পাই সে মৃণালে?---
পশে যে প্রবাহ বহি আকুল অর্ণবে,
ফিরি কি সে আসে কভু পর্ব্বত কন্দরে?
যে বারির বিন্দু বিন্ধ্য সতৃষ্ণায় ধরে।
উঠে কি মে পুনঃ কভু পয়োধর মূলে?---
বীরভূমি পরিহরি! যাও দ্রুতে, তরি
নীলকান্ত কায় পথ অখাত সাগরে!
অচিরে রক্ষার্থে সাথে যাবেন সুন্দরী
যশঃলক্ষ্মী! যাও সতী প্রণিপাত করে!

****************************








*
অভিষেকোৎসবে ভারতেশ্বর সপ্তম এডওয়ার্ডের স্বর্গীয়া মাতৃদেবীর প্রতি উক্তি
শিব স্তোত্র

কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

কাঁদে গো সোণার চাঁদ ভাসি দুখ স্রোতে,
হের গে জননী ত্বরা স্বর্গধাম হতে।
পুত্রবৎসলা গো তুমি বিদিত ভুবনে,
অভিষেকে সিচ সুধা মধুর বচনে।
নিবার বিচ্ছেদ জ্বালা বাছা সম্বোধনে,
স্নেহধারা বহ এবে স্মৃতির আননে।
ইচ্ছে সদা চিত, তব চরণ দুখানি,
ভিখারি গো তবে ভব হারায়ে জননী।
মহামায়া-লতা, মাতা বুঝিতে যে পারে,
মায়া পাশ মিছে আশ করে তার তরে।
পীযূষ পিয়াশ আশ মিছা সিংহাসনে,
শীযূষ পূরিত ধরি যারা যোগাসনে।
তব পদরজঃ ভবে অকাল ভূষণ,
তব পদরজঃ কালে অমোঘ শাসন।
নির্ব্বাণ কি স্নেহ দীপ চিরকাল তরে,
ডুবিল কি আশা দ্বীপ তুফান সাগরে!
বহে কি কাল প্রবাহ বিস্মৃতি সলিলে!
উঠিল কি অনল কমল মৃণালে!
বহে কিগো জীর্ণ তরি অকূল পাথারে।
কাণ্ডারি বিহনে তরি হতাশা তিমিরে।
তুমি আশা তুমি আলো যদি গেল খ’সে,
কি কাজ বেগার খাটি ভবে ব’সে ব’সে।
আশু এনে আশু রেখে কোথা গো চলিলে
জনম জননী হবে মিছা গো বলিলে।

****************************








*
সাম্রাজ্ঞী এলেক্জান্দ্রিয়ার ভারতেশ্বরীর প্রতি উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


মূঢ় সে, বুধ মণ্ডলে তাহে নাহি গণি---
কহে, যে কমলা তুমি নহ গো ভারত
ধ্বজা! শতধিক তারে! ভুলে সে কি মরি
গুণহীনা দুহিতা কি, মা যার ঈশ্বরী!
বীণার ঝঙ্কারে বহে কি কুধ্বনি?
কভু মন্দ গন্ধ শ্বাস শ্বাসে ফুলেশ্বরী
পদ্মিনী? জানকীরে প্রসবিলা (গো) ধরণী।
আশু ভাবী অন্ধকারে তব দীপ জ্বলে,---
এ কুহক পাইলে গো কোন দেব-বরে?
প্রফুল্ল কমল যথা স্রোতস্বতী নীরে
তপনের জ্যোতিঃ দিয়া আঁকে স্বমূরতি
অতুল সুবর্ণ রঙে, দীনের জননি!
আঁকেছ যে ছবি তুমি এ হৃদয় স্থলে
মোছে তারে হেন কার আছে গো শকতি।
যতদিন ভ্রমি এবে ভঙ্গ ভবতলে,
সাগর মিলনে জর্ডন বহে যেমতি
চিরবাসে, বিকসিত কমলের দলে
সেইরূপে থাক তুমি! দূরে কি নিকটে
যেখানে যখন থাকি, ভজিব তোমারে,
যেখানে যখন যাই, যেখানে যা ঘটে।
দয়ার প্রতিমা তুমি, আলোক আঁধারে!
বিদ্যমান সদা তব স্মৃতি-সৃষ্ট পটে,
সতত জননী মোর সংসার মাঝারে!
হেরিনু স্বপনে তরি অপথ সাগরে!
মহামায়া দয়াময়ী যেন ভাগ্যফলে
তব রূপে সুতা দুখে ভাসি আঁখিনীরে
সুধবল আশাপাখা বিস্তারে অন্বরে!
এতদিনে প্রধাধিল সুখসিন্ধু তরী!
ফোট আশানন্দে হাসি আশার আকাশে!
তপনের তাপে তাপি পথিক যেমতি
দৌড়ে গিয়া পড়ে ত্বরা ছায়ার চরণে
তৃষাতুর জন যথা হেরি স্রোতস্বতী
অদূরে, তাহার পানে ধায় ক্ষিপ্রমনে
পিপাসা রাহুর ত্রাসে, এ দাসী তেমতি
দহে. যবে প্রাণ ভার দুঃখের জ্বলনে
ধরে রাঙ্গা পা দুখানি, ওগো ভগবতি!
মার কোলসম, মাগো এ তিন ভুবনে
আছে কি আশ্রম আর? নয়নের জলে
ভাসে শিশু যবে দুঃখে কে প্রবোধে তারে?
কে মোচে আঁখির জল অমনি আঁচলে?
কে. তার মনের আাশা, বিতরিতে পারে
সুধামাখা কথা কয়ে, স্নেহের কৌশলে?
এই ভাবি, দয়াময়ি, ভাবি গো তোমারে!

****************************








*
কবিবর টেনিসন্‌ প্রতি ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


সুমধুর বীণা, কবি, তব হৃদি-মূলে‌
রোপেছেন বীণাপাণি, বাজাও সরসে!
ধন্য, হে যশাস্বি, দেশ তোমার সুগানে
বিতর আনন্দ কণা প্রফুল্ল মুকুলে
বসন্তে! অমৃত ঝর হেরি তব কুলে ;
তাই অলিরূপে সদা মন মোর ব’সে!
হে টেনিসন্‌, জয়ী তুমি হে তব-কূপে!
পূর্ণ যবে কাল, তুমি ভাস হে.উচ্ছ্বাসে!
সংসার পাদপ মূলে তব কীর্ত্তি রবে ;
তব জন্ম-দেশ মান্য, কহিনু তেমারে!
বীণাপাণি বরপুত্র! গাও পঞ্চস্বরে!
পিকেশ্বর তুমি ভবে সুধা বরিষণে!
প্রলয় ভয়াল তুচ্ছি রবে তুমি ভবে!
বিফল হে বীণাধ্বনি কভু কি সম্ভবে!

****************************








*
বীরকেশরী ডিউক অব ওয়েলিংটনের সমাধিক্ষেত্রে ভারতেশ্বরীর শোকোচ্ছ্বাস
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

উঠ, বীর-কুল-জয়-সেতু! সাজে কিহে
এ শয্যা তোমারে? এ আচার সাজে কভু
কিহে তাহারে? ভুজবলে যার কাপিত
মেদিনী? থরথরি কাপিত বীরবৃন্দ
নেহারি যাহারে? বীর-কুল-রবি অস্ত
কি চিরকাল তরে? কোন্‌ রাজাদেশে হে
রাজভক্ত তুমি, ত্যজ হে আমারে? যার
প্রেমবশে বীর-রসে অসি তব ভাসে!
ভাসি অশ্রুনীরে সমাধি মন্দিরে তব!
নয়ন উন্মীলি দেখ, বীর-কুলোদ্ভব!
উঠ, রথি! করে তুমি বিরত সাধিতে
মম আজ্ঞা! তবে যদি কাল-ভয়-বশে
চিরনিদ্রা ব্রত তুমি ত্যজিলা সবারে!
হে বীরেশ! কহ শুনি কোন্‌ অপরাধে
অপরাধী তব কাছে অনাথা যুনানী!
হে দীন-বাহু! কেমনে ভুলিলে হে আজি
স্মৃতিসম নিত্য যারে সেবিতে আদরে!
হে বৃটিশ কূলচূড়া! অসহায় আমি
তোমা বিনা যথা গন্ধ শূন্য নাসারন্ধ্রে!
তোমার শয়নে ব্যাকুল এ বলিদল।
দুর্ব্বার সংগ্রামে তুমি? উঠ ভীমবাহু।
বোণাপার্ট বলিয়ানে কে ত্রাসে সমরে?
বীরবীর্য্যে হে অনল কে আর বিতরে?
রক্ষ রক্ষ মাতা তুমি নিজ ভুজবলে!
তোমা বিনা দেশ যশে কার প্রাণ জ্বলে!
আনন্দে অপ্সর অপূর্ব্ব নৃত্য যে করে!
তোমা হেন নাথ লভে, কোন দেববরে?

****************************








*
বিদায় উপলক্ষে বাগ্মীপ্রবর কেশবচন্দ্র সেন প্রতি ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

যাও বৎস ফিরে এবে ভারত উদ্যানে!
যাও বৎস সুখে এবে ভারত কাননে!
গাথি ফুলহার এবে মাতার কারণে!
রাখ যশ ভবে এবে পরম যতনে!
এতদিনে দেখা দিল সুখ বিভাবরী!
হাস মাতা মনানন্দে আশাসিন্ধু তরি!
কেশব রতন মিলয়ে যখন ভবে!
দুখের পতন জানিবে তখন তবে!
মোহিত জগত কেশব-অরুণ জালে!
সুতানে বাজায় বীণা বাণী তালে তালে।
এহীন সুরার স্রোত নাহি দেখি চক্ষে!
রাখ রাখ মাতা ধন চির তব বক্ষে!
বিমুখ বিধিরে এবে সদয় কি গুণে!
কেশব বৈভব মম না জানি স্বপনে!
পুত্রকুল রবি তুমি বিদিত ভুবনে!
ভুবন আঁধার মম তোমার কারণে!
জননী বলিয়ে মোরে রেখ সদা মনে।
কোহিনুর জিনি তুমি যশের গগনে!
লক্ষ লক্ষ সৈন্য মম কি করিতে পারে!
সুধামাখা ধ্বনি তব যদি সুধা ক্ষরে!
পুণ্যে রে জনম তব ভারত উদরে!
পুণ্যে রে ভারত মম জগত প্রচারে!
পুণ্যে তব বাক্য সুধা বিরাট মন্দিরে!
পুণ্যে এবে মাতৃদুখে মম হৃদি ঝরে!
পুণ্যে নিশার আশার স্বপন ভাঙ্গিল!
পুণ্যে মোর মাতৃদুখে হদয় গলিল!
যতদিন বহি এবে দুর্ব্বিষহ ভার!
মাতৃদুখে সদা বাজেরে হৃদয় তার!
স্নেহ সোণা খনি মম ভারত জননী!
জানিয়ে এ তত্ত্ব কথা কাঁপিছে পরাণী!
দয়াময়ি তুমি জানিবে গো মোর আশা!
ভববাসা শেষে গো তোমায় করি বাসা!
কেশব কেশবে জাগাই গো সব আশা!
শব সবে ভবে না জানে ভাষা সুরাসা!
কেশব কমল ফুটিল ভারত কুলে!
কেশব হৃদয় শোকের আবেগে গলে!
কেশব-বাঞ্ছা-বাঞ্ছা কেশব কি হ’ল!
শোক হলাহলে সুখসুধা কি ভাতিল!
          (ফিরে এল!)

****************************








*
পণ্ডিতপ্রবর মোক্ষমূলর প্রতি ভারতেশ্বরীর উক্তি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

মথি বারিনাথে যথা দেব দৈত্যদলে ;
লভিলা অমৃতরস, তুমি শুভক্ষণে
যশঃরূপ সুধা, বুধ, লভিলা ন্ববলে,
সংস্কৃত বিদ্যারূপ বারীশ মথনে!
বুধ-কুল-রবি তুমি অম্লান কিরণে।
কোন্‌ রাজা তব পূজা পায় এ অঞ্চলে?
সুতানে বাজায়ে বীণা বাল্মীকি আপনি
শোনায় রামের কথা তোমায় স্বপনে।
বদরিকাশ্রম ত্যজি উঠে গীতধ্বনি
বাড়ায়ে আদর তব ভীমধ্বনি করে!
স্নেহে ভাসে কালিদাস, নেহারি তোমারে।
কে জানে কি পুণ্য তব ছিল জন্মান্তরে।
পূজক বিহীন কভু হইতে কি পারে?
সুন্দর মন্দির তব! পশ আশুমতি।
ইচ্ছি গো, কল্পনারূপ খনির মাঝারে
কুড়ায়ে রতন রাজি, সাজায় তোমারে।
জগত কোবিদ শোভা বাড়াই আদরে।
কি.লাভ দীনের, কহ আশার ছলনে!
কি লাভ সঞ্চয়ি এবে অসার কাঞ্চনে!
রসাপ্রিয়! বীণাপাণি চির কার ঘরে?
যশের আকাশ হ'তে কভু কিহে খসে,
এ নক্ষত্রেশ? কোন্‌ কীট ফোটে এ স্ফাটিকে!
অধিষ্ঠান নিত্য তব মম স্মৃতি মঠে!
সতত আশ্রয় তুমি সংসার পাথারে।
এই বর হে বরদে, ভক্তজনে মাগে
জ্যোতির্ম্ময় কর, রাখি, গরব রতনে।

****************************








*
ভবধামে ভারতেশ্বরী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

এই যে হেরি গো রণী আমি।
সব আনন্দময় শঙ্কর সহচর,
সব সুধাময় নেহারি।
শৃঙ্গে উঠেছে চন্দ্রমা,    শৃঙ্গে অরুণ রবি উদিছে
শৃঙ্গে মর-মণ্ডল চলিছে,---
অপূর্ব্ব মহিমার তারকা সবে
এ মহিমার মাঝারে তুমি কেগো রাণী
আলোকে আলো আঁধারি!
আজি মলয় আকুল,    শৃঙ্গে শৃঙ্গে একি এ গীত গাহিছে
সিন্ধু কহিছে প্রাণের কাহিনী
নব রাগ রাগিণী উছাসিছে,
এ আনন্দ আজ গীত গাহে    মম হ্বদয় সব নিবারি।
তুমিই কি দেবী ভারতী,    দয়াগুণে তপ্ত আঁখি জুড়ালে,
সুধা আনিলে শোকের সাগরে,
স্নেহময়ী বলিয়ে জানাইলে?
তুমি ধন্য গো
রব চিরকাল কুমার জানি তোমারি।

****************************








*
উল্লাস
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

শুনেছ---শুনেছ কি নাম তাহার
শুনেছ---শুনেছ তাহা!
বিজয়া---বিজয়া---বিজয়া---বিজয়া---
কেমন করুণ আহা!
বিজয়া---বিজয়া---বাদিছে শ্রবণে
নাচিছে প্রাণের অতল ধাম,
কভু স্মৃতি সুখে উঠিতেছে মুখে
বিজয়া---বিজয়া---বিজয়া নাম!
স্নেহে ভারতবাসীরা তাহারে
বিজয়া বলিয়া ডাকে,
স্বদেশীরা তার বিজয়া---বিজয়া
বিজয়া---বলে গো তাকে!
বিজয়ার মত মহিমা তাহার,
বিজয়া---যাহার নাম,
করুণ - করুণ - করুণ অতি
যেমন করুণ নাম!
যেমন করুণ তেমনি অমল
তেমনি অমর ধাম
বিজয়ার মত মহিমা তাহার
বিজয়া যাহার নাম।

****************************








*
অবসান
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

এ৩ শীঘ্র ফুটিল কেন সে!
ফুটিলে পড়িতে হয় খসে ;
মুকুলের দিন থাকে তবু,
ফোটা ফুল ফোটেনাত আর!
নাহি জানি যাবে মধুমাস,
দুদিনের ফুরাবে নিশ্বাস!
বসন্ত আবার আসি জুটে,
গত কে রে নেহারে আবার!

****************************