কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর পরিচিতির পাতায় . . .
মানিনী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

কুঞ্জভবনে সাজিয়া মানিনী
বসিয়াছে আজ রাধা বিনোদিনী---
নীল-নিচোলে ঢাকিয়া মু'খানি
       বসিয়াছে মানভরে,

প্রাণ-প্রিয়তম দাঁড়ায়ে সমুখে,
বাঁশীখানি তার রহিয়াছে মুখে,---
দাঁড়াইয়ে হরি হেরে কৌতুকে---
       রাধা নাম নাহি করে!

নীরব ভ্রমর গুঞ্জন রব,
থমকিয়া যেন দাঁড়াইরে সব---
বহেনা সমীর---ছোটেনা সুরভি---
       ফুটি ফুটি নাহি ফোটে

কুসুম-কুঞ্জে কুসুম-কলিকা,
শিহরি না উঠে একটী লতিকা,
নীরব যমুনা---নাচিয়া নাচিয়া
       গান গেয়ে নাহি ছোটে!

রাই-পদতলে বকুলের হার
পড়িয়া রয়েছে---গন্ধ তাহার
নিদ্রিত যেন,---সুগন্ধ দীপ
       জ্বলি জ্বলি নাহি জলে---

ঝরি ঝরি ঝরি না ঝরে জোছনা---
ডাকে ডাকে পাখী---মূক সে রসনা,
নীরব কোকিল, নীরব পাপিয়া
       নীরবে প্রকৃতি চলে।

কৃত্রিম কোপে---আনন ঝাঁপিয়া
নীরবে কিশোরী রয়েছে বসিয়া---
সহসা চতুর রাধা-বিনোদিয়া
       প্রিয়ারে ধরিল হাসি

দুই বাহু দিয়া,---চুমিল আনন,
উঠিল গাজিয়া নূপুর কাঁকণ,
গলিত হইল কটির বসন,---
       আবার ডাকিল বাঁশী---

রাধা রাধা! নামে ঘুরিয়া ফিরিয়া,
আবার যমুনা চলিল নাচিয়া,
ভ্রমর ভ্রমরী উঠিল গাহিয়া---
       মুখরিত দশদিক্‌!

কুসুম আবার উঠে শিহরিয়া,
ছুটিল পবন সুরভি লুটিয়া,
কুঞ্জ-কুটীর কম্পিত করি---
       ফুকারি' উঠিল পিক!

রাই-পদতলে বকুলের হার
উঠিল শিহরি---গন্ধ তাহার
মাগিল শরণ মিলন-মুখর---
       নুপুর-চরণ-তলে.

কক্ষের দীপ উঠে উজলিয়া,
নিঃশেষে যেন পড়িল ঝরিয়া
শুভ্র জোছনা,---বিশ্ব আকুলি'
       বাঁশী “বাধা রাধা” বলে।

****************************








*
যমুনা-তটে
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

একদিন জ্যোত্স্না-শুভ্র-বাসন্তী-নিশায়---
সারা বৃন্দাবন যবে সুষুপ্ত নিদ্রায়
নীরব নিস্তব্ধ যেন আঁকা চিত্রপটে---
এসেছিল বনমালী যমুনার তটে।
যমুনা তুলিতেছিল আনন্দ-নিক্কণ,
ধরণী হেরিতেছিল জোছনা-স্বপন ;
কোকিল ডাকিতেছিল থাকিয়া থাকিয়া,
পবন ফুলের গন্ধ আনিছে বহিয়া!
দাঁড়ায়ে মুরলীধারী সুর-বেদনায়
কেবলি ডাকিতেছিল---“আয় রাধা আয়!”
মুখরিয়া চারিদিক্‌ রাধার শ্রবণে
পশিল প্রেমের ডাক--- উদ্ভ্রান্ত চরণে
আলু থালু বেশে রাধা হইলা বাহির---
তার কুল মান সব যমুনার তীর!

****************************








*
দ্বিপ্রহরে
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

এস প্রিয়ে কুঞ্জ-গেহে, চন্দন শীতল
লয়ে তব দেহখানি! নূপুর চঞ্চল
দূরে রাখি', পরি' অঙ্গে শুভ্র চীনবাস!---
গোচারণ-শ্রান্ত আমি!--- মধ্যাহ্ন-আকাশ
বৈশাখের---ছড়াইছে অনল-কিরণ,
চক্ষু মুদি' গাভীকুল করে রোমন্থন
তরুর ছায়ায়!---কভু ক্ষীণ কঠস্বর
চাতকের---করিতেছে দিগন্ত মুখর!
পদ্মপত্রে শয্যা রচি' নিভৃতে দুজনে
জুড়াব গ্রীষ্মের তাপ---কূজনে গুঞ্জনে
হাস্য-আলাপনে!---পড়িয়া আসিলে বেলা
তূমি চলে যাবে গেহে! ভেঙ্গে দিয়ে খেলা
আমি ও ফিরিব গেহে লয়ে মোর ধেনু---
রাধা রাধা রাধা ব'লে বাজাইয়ে বেণু!

****************************








*
মধ্যাহ্নে
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।


জলকেলি পরিশ্রান্তা রাধিকা সুন্দরী
কম্প্রবক্ষে, স্মিতনেত্রে, নূপুর গুঞ্জরি'
যমুনার জল হ'তে উঠিলা যখন---
তখন মধ্যাহ্নকাল---নীরব নির্জ্জন!
---সৈকতে দাঁড়াল আসি! ক্ষরে জলধার
আর্দ্র বস্ত্রপ্রান্ত হ'তে---আর্দ্র কেশজাল
ছাইয়া দিয়াছে পৃষ্ঠ, নিতম্ব বিশাল!---
শুভ্র ক্ষৌম সাটী খানি গৌর অঙ্গে তার
মিশিয়া গিয়াছে যেন!---
          দাঁড়াইয়া একা
নগ্ন সৌন্দর্যের মূর্ত্তি! মধ্যাহ্ন আকাশ
লাবণ্যময়ীরে যেন ঘিরি' চারিপাশ---
আগুলিছে---ছড়াইয়ে দীপ্ত রশ্মি-রেখা
তীব্র শর সম!
       ক্ষণপরে ধীরে ধীরে
লীলাঞ্চিত পাদক্ষেপে চাহি' ফিরে ফিরে
চলিতে লাগিলা লীলাময়ী---গৃহমুখে!---

সহসা দাড়াল আসি' সহাস্য-কৌতুকে
গোচারণ অবসরে ব্রজের রাখাল
পথ আওলিয়া তার---ঘর্ম্ম-পৃক্ত-তনু!
থমকি দাঁড়াল রাধা, কুটিল ভ্রুধনু
হানিলা কটাক্ষ শর! শ্লথ দেহলতা
প্রাণেশের অঙ্কে শেষে পড়িল ঢলিয়া!
অমনি ভেদিয়া সেই স্তব্ধ নীরবতা
কোথা হ'তে “বউ কথা” উঠিল গাহিয়া!
ইতঃপূর্ব্বে রৌদ্রতেজ লইয়াছে হরি'
একখণ্ড মেঘ আসি!---সর্ব্ব অঙ্গ ভরি'
আর্দ্র আলিঙ্গনে রাধা দিল বিনোদিয়া
প্রাণেশের গোচারণ-শ্রম-শ্রান্ত-হিয়া!

****************************








*
কেন দিদি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

বাঁশী ডাকে “রাধা রাধা”, রাধা বলে "যাই, যাই”,---
এ বাঁশী হৃদয়ে বাজে, বাহিরে শবদ্ নাই!
ননদিনী বলে---“রাধা, নাই তোর কোন বোধ,
সারা দুপুরটা শুধু এই বৈশাখের রোদ্,---
জন প্রাণী পথে ঘাটে করে নাই বিচরণ
যে যার আপন নীড়ে আছে সুপ্তি-নিমগন ;
তুই শুধু ছুটে যাবি যমুনার তীর আশে,
ভরিয়া আনিবি কুম্ভ---আলু থালু কেশপাশে,
অথবা গাহন করি' ফিরিয়া আসিবি ঘরে
ছড়াইয়ে জলধারা তৃষিতা ধরণী 'পরে1---
শেষে ক্লান্ত শ্রান্ত হ'য়ে এলাইয়ে দেহখানি
বসিয়া পড়িবি তুই! বল্‌ দেখি, কেন রাণি,
সারা দুপুরটা ভোর তোর চ'খে ঘুম নাই?”---
রাধা বলে--“কেন দিদি, আমি ও ত ভাবি তাই!”

****************************








*
চিরদাসী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

ডুবে যাই, ডুবে যাই, নাহি ভাহে ক্ষতি!---
কলঙ্ক-সাগরে চির করিব বসতি
তোমার লাগিয়া প্রিয়, প্রভু, নাথ, মোর,
বাজাও বাজাও তবে ওগো চিত্ত-চোর
মোহন বাঁশরী তব গাহি' রাধানাম---
পশুক্ পশুক্ মম কর্ণে অবিরাম
অই তব সুধাগীতি! লাঞ্ছনা সরম
সকলি সকলি মম---ধরম করম
তব পদে দিনু ডারি,---হে আমার হরি,
এস তবে, বাঁধ মোরে, দাও আশু ভরি'
আমার সর্ব্বাঙ্গ তব অমৃত-পরশে!---
নাহি চাই গৃহধর্ম্ম ; মনের হরষে
বঞ্চিব দু'জনে!---তুমি বাজাইবে বাঁশী---
আমি র'ব সাথে সাথে হ'য়ে চিরদাসী

****************************








*
বাসক-সজ্জা
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

ফুলের বিছানা পাতি', জ্বালায়ে সুরভি দীপ,
ফুলের গহনা পরি, সেজেছিনু ফুলরাণী---
ফুলের পরাগ দিয়া কপালে পরিনু টিপ,
ফুলের মতন বাসে ঢাকিনু এ দেহখানি।
বসি' বাতায়ন পার্শ্বে লয়ে ফুলমালা করে
ছিনু প্রতীক্ষায় শুধু চেয়ে বনপথপানে :---
কোকিল গাহিতেছিল কুহু কুহু কুহু তানে,
জোছনা ঝরিতেছিল নীরবে ধরণী 'পরে।
ম্লান হ'য়ে এল মালা, ম্লান হ'য়ে এল' দীপ,
কোকিলের কুহুতান হ'য়ে এল মৃদুতর ;
বহিছে উষার বায়ু, মুছিয়া গিয়াছে টিপ,
আলুথালু বেশবাস!--- এসেছিল প্রাণেশ্বর
শ্যাম গুণনিধি মম!---রেখে গেছে অভিজ্ঞান---
ক্ষণিক মিলন,---তবু ভরিয়া রয়েছে প্রাণ।

****************************








*
বিরহী শ্যাম
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

পাতিয়া রেখেছি বুক ;---গুরুজন নাহি মানি'
চলে' এস প্রিয়া মোর! --- হয় হ'ক কানাকানি!
তব নাম জপি' জপি' নিশি মোর হয় ভোর---
তব নাম গাহি' গাহি' বহে মোর আঁখিলোর!

ফেলিয়া দিয়াছি দূরে---ধূলায় রয়েছে পড়ি'
পাগল বাঁশীটা মোর,---থাকুক্‌ মরমে মরি!---
ও কেন রাধার নাম গাহে শুধু দিবানিশি?
আমারে পাগল করে?---ভ্রমি তাই দিশিদিশি
রাধা রাধা রাধা ব'লে---ব'লে রাধা---রাধারাণী---
কলঙ্কের ভয়ে আর ভীত নহে এ পরাণী!

চল---বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরাতে চলে যাই,
প'ড়ে থাক্‌ গোষ্ঠগৃহ---গোচাবণ নাহি চাই!
কিন্বা যমুনার জলে এসো দোঁহে ডুবে মরি---
রাধাকৃষ্ণ-প্রেমকথা থাকুক ভুবন ভরি'!

****************************








*
লিপি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

রাধা ছিল এতদিন মরমে মরিয়া---
প্রাণনাথ, আজ তারে করেছ স্মরণ!
যেদিন এ বৃন্দাবন গিয়াছ ছাড়িয়া---
সে দিন হইতে রাধা মুদেনি নয়ন!
কার মুখ দেখে আমি উঠেছিনু আজ?
আজ মোর সুপ্রভাত---নবীন জীবন ;
আজি স্তব্ধ দ্বিপ্রহরে সারি' গৃহকাজ
বসিয়াছিলাম যবে---সজল নয়ন!---
অদূরে ডাকিতেছিল “বউ কথা৷ কও”----
শ্রবণে পশিতেছিল মৃদু গুঞ্জরণ---
পাইনু তোমার লিপি---একি এ স্বপন?
---তুমিত রাধার প্রতি কভু বাম নও!---
---সুধায়েছ অভাগীর কুশল বারতা
প্রিয়তম--- প্রাণেশ্বর--- হৃদয়-দেবতা!

****************************








*
উপহার
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

এ সংসার বৃন্দাবন---কহে সুধীজন,
মানব রাখালবেশে করে গোচারণ!
হেখাও যমুনা বহে কলকল স্বরে,
হেথাও পিরিতি লোক সংগোপনে করে!
হেথাও আলাপে বাঁশী গাহি পিয়ানাম---
“আর পিয়া, আয় পিয়া”---ডাকে অবিরাম
প্রণয়ী রাধারে তার---মিলন-ব্যাকুল
দাঁড়ায়ে সঙ্কেত স্থানে! বিসর্জ্জিয়া কুল
রাধা তার ছুটে আসে নৈশ-অভিসারে---
কলঙ্ক তাহারে কভু রোধিতে না পারে!
তাই এ কবির চিত্ত উঠিয়াছে ভরি'
রাধানামে, রাধাপ্রেমে,---হে আমার হরি,
স্মরিয়া তোমারে তাই এ গান আমার
রাধার চরণপদ্মে দিনু উপহার!

****************************