কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর পরিচিতির পাতায় . . .
ভাষা ও সুর
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।

কত ভাষা, কত সুর
রহিয়াছে ভরপূর
       বিশ্বের আকাশে,---
মাঝে মাঝে কোথা হ'তে
ভেসে আসে কার্য্যস্রোতে
       কারণ-বাতাসে।
---অনাদি অনন্ত ধরি',
চলেছে আঘাত করি'
       পরাণের কূল ;
সেই সুর, সেই ভাষা
বিজ্ঞানের নব আশা ;
       ---দর্শনেব মূল!
জীবনেব প্রতি কাজে
সে স্থুর গোপনে বাজে---
       সে ভাষা, সে বাণী,---
তা',র দু'একটি রেশ
ফুটায়ে তুলেছি ; শেষ
       কোথা নাহি জানি!---
       যাহা জানি তাহাই বাখানি!

****************************








*
মোহিনী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

এসেছ' কি তুমি মোহিনীর রূপে,
এসেছ' কি তুমি প্রেয়সীর রূপে,
    হে হরি, বৈকুণ্ঠপতি!
আমার মানস করিয়া হরণ
এসেছ' কি সুধা করিতে বণ্টন,
রূপের আলোকে চমকি' ভুবন
    মোহন মন্থর গতি?
তাই মাগি আমি তব দরশন,
তাই মাগি আমি তব পরশন,
তাই মাগি তব সুধা-আলিঙ্গন
    ---চঞ্চল উদ্ভ্রান্ত মতি।
কালকূট আমি করিয়াছি পান,
মোর ভাগ্যে নাই অমৃত বিধান,
তোমার চরণে করি আত্মদান
    হইব কৃতার্থ অতি!
আমি চাই নাথ, সকল ত্যজিয়া,
আমি চাই নাথ, সকল ভুলিয়া
জন্ম জন্মান্তর রহিব মিশিয়া
    তোমা সনে দিবা রাতি ;
    র'ব তৰ চিরসাথী!

****************************








*
তুমি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

তুমি সখি মোর     কাব্য-কাননে
বসন্তের কুহুস্বর!
তুমি সখি মোর     যৌবন স্বপনে
প্রথম রবির কর!
তুমি সখি মোর     বর্ষা বাসরে
গরু গুরু গরজন!
তুমি প্রিয়ে মোর     নিদাঘাম্বরে
প্রাণভরা বরিষণ!
তুমি সখি মোর     হিমানী তুহিনে
তপ্ত পরশ খানি!
---আর বঙ্গের     সুখ আশ্বিনে
তুমি মোর উমারাণী!

****************************








*
অভিমানিনী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।


অভিমানিনি আমার,
যদি অপরাধ হায়, ক'রে থাকি অই পায়,
আমি কি পাবনা ক্ষমা, যোগ্য নহি তার?
তুমি স্বরগের দেবী, তোমার চরণ সেবি'
হইয়াছে ধন্য আজি জীবন আমার।
তুমি মোর চতুর্ব্বর্গ, সাজাইয়ে প্রেম-অর্ঘ্য
দিতেছি চরণে তব পূজা উপহার---
অভিমানিনি আমার!

অভিমানিনি আমার,
আজি এ সংসার' পরে আছি জ্বলে পুড়ে ম'রে,
রাবণের চিতা মোরে দহে অনিবার ;
কি বলিতে কি যে বলি, শুধু মর্ম্মে মর্ম্মে জ্বলি,
পাগল হইতে মোর বাকি কিবা আর?
তবুও তোমার ধ্যানে বাঁচিয়া রয়েছি প্রাণে,
এখনও রয়েছে মোর সাধ বাঁচিবার---
অভিমানিনি আমার!

অভিমানিনি আমার,
বুঝি নাই ধর্ম্ম কর্ম্ম, বুঝি না শাস্ত্রের মর্ম্ম,
আমি শুধু বুঝি প্রেম---প্রিয় দেবতার!---
তাই সব দূরে রাখি' তোমাতে মগন থাকি,
তুমি মোর একমাত্র ধন তপস্যার!
তোমারি সাধনা করি' চরমে পাইব হরি,
তুমি মোর মুক্তিমার্গ, ত্রিদিবের দ্বার---
অভিমানিনি আমার!

অভিমানিনি আমার,
আমি তুচ্ছ, আমি ধূলি, তবুও লয়েছ তুলি'
করুণা করিয়ে মোরে বক্ষে আপনার!
আমি নাহি বুঝি তাহা, তোমার পরাণে আহা,
দিয়েছি কতই ব্যথা,---কি বলিব আর!
কি যে তার প্রায়শ্চিত্ত ভাবিয়া আকুল চিত্ত,
ক্ষমা কর ক্ষমাময়ি ভিক্ষা অভাগার!
অভিমানিনি আমার!

অভিমানিনি আমার,
চতুর্দ্দশ বর্ষ হ'তে কেবলি ঘটনাস্রোতে
ভাসিতেছি---উঠিতেছি---পড়িতেছি আর!
অবসন্ন প্রাণ মন, অশ্রপূর্ণ দু'নয়ন,
শিথিল অবশ অঙ্গ, ক্লান্ত দেহভার!
তুমি কিন্ধু ভালবেসে অশ্রু মুছাইলে হেসে,
ভালবাসিবার প্রিয়ে, দিলে অধিকার---
অভিমানিনি আমার!

অভিঙ্গানিনি আমার,
সারাদিন, সারাবেলা কত হাসি, কত খেলা,
কবিতার পারাবারে কত যে সাঁতার!
জীবনে আছিল স্বাদ, কি পবিত্র সে আহ্লাদ,---
সহসা আকাশে মেঘ হইল সঞ্চার!
---বহিল প্রবল ঝড় হানি' বজ্র কড়কড়,
দু'জনে পড়িনু দূরে করি হাহাকার!---
সে কথায় কাজ নাই আর।

সেই দিন হ'তে---
আমি এ সংসার 'পরে আছি জ্বলে পুড়ে ম'রে,
জ্বলিয়া পুড়িয়া শেষ হয়েছি অঙ্গার!
কি বলিতে কি যে বলি, শুধু মর্ম্মে মর্ম্মে জ্বলি,
পাগল হইতে মোর বাকি কিবা আর!
তবুও তোমার ধ্যানে বাঁচিয়া রয়েছি প্রাণে,
এখনও রয়েছে মোর সাধ বাঁচিবার---
অভিমানিনি আমার!

****************************








*
বর্ষারম্ভে
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

বিরহী যক্ষের মত বিচ্ছেদ-কাতর প্রাণ
হেরিলাম হ'ল ধীরে নিদাঘের অবসান।
বসে আছি শূন্যমনে নিঃসঙ্গ একাকী আমি---
আকাশে মেঘের ঘটা, আষাঢ় এসেছে নামি'!
কে যায় বারতা ল'য়ে আমার প্রিয়ার পাশ?
কাহারে পাঠাব আজি?---ফেলিতেছি দীর্ঘশাস!
সাধিব কি মেঘে? না না,---কোথা সেই ব্যাকুলতা?
সেই আত্মহারা ভাব, কোথা সেই উন্মত্ততা?
তুমি কি গবাক্ষে বসি, ধরি' বিরহিণী বেশ
হেরি'ছ বর্ষার লীলা, এলাইয়ে রুক্ষকেশ?
শুনিলে বজ্রের ধ্বনি গভীর নিস্তব্ধ রাতে
আসে কি লো একবিন্দু অশ্রু তব আঁখি-পাতে?
কি ভাবে বরষা তব কাটিতেছে ওগো প্রিয়া,
বিরহের দিনগুলি গণি'ছ কি ফুল দিয়া!

****************************








*
সব যাক্‌
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

যাক্‌ যাক্ সব চলে' যাক্!
যাক্‌ সুখ, যাক্ আশা,   যাক ফুল, যাক্‌ পাতা,
হ'ক্‌ ধরা জ্বলে পুড়ে খাক্‌!
যাক্‌ গান, যাক্‌ হাসি,   যাক্‌ সুর, যাক্‌ বাঁশী,
যাক্‌ রূপ---কবিত্বের সার,
যাক্‌ প্রেম---অমৃত-ভাণ্ডার!

সুন্দরে কুৎসিতে মিলে অনন্ত সংগ্রাম
বাধুক্ বাধুক্ এবে,   অণু পরমাণু সবে
যোগ দিক্‌ সাথে অবিরাম!
যাই আমি, যাও তুমি, তোমারে পেনুনা আমি
এ জীবনে আর!---
বড় তৃষা, বড় তৃষা,   চারিদিকে মরুভূমি,
অনল অনল চারিধার---
ধূ ধূ ক'রে জ্বলিতেছে ; এস তবে ঝাঁপ দিই
উহার মাঝার!

যাই আমি, যাও তুমি,
যাক্ পিতা, যাক্ মাতা----
ভ্রাতা ভগ্নী---প্রাণের আরাম ;
যাক্‌ বন্ধু,---যাব সাথে অবিরাম
থেকে তবু মিটে নাই আশা---
মিটিত না প্রাণের পিপাসা!
উড়ে পুড়ে ছাই হ'য়ে   পড়ুক্‌ অনন্ত তারা
একটী একটী ক'রে খসে ;
চন্দ্র সূর্য্য গ্রহরাজি   অঙ্গার-খণ্ডের মত
পড়ুক্‌ পড়ুক্‌ দেখি ব'সে!
বসিয়া দেখিব সুখে   নির্ম্মম “নীরোর” মত
ছাদের উপরে---
গাইব ধ্বংসের গীতি ; যে গীত মিশিয়া যাবে
ধ্বংস-কোলাহলে
মোরে ল'য়ে---ক্ষণেকের পরে!

****************************








*
মৃত্যু-কামনা
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

হে মৃত্যু, তোমার কোলে ঝাঁপায়ে পড়িতে---
      আজ বড় সাধ যায় মোর ;
কীট-দষ্ট-জীর্ণ-প্রাণ পারিনা বহিতে,
      শ্লথ আজি বন্ধনের ডোর!
জীবনের উঞ্ছবৃত্তি দিয়া বিসর্জ্জন
      দীর্ঘ শান্তি, দীর্ঘ অবসর---
লভিতে ব্যাকুল হৃদি, ব্যাকুল এ মন ;
      তুমি দেব, অমৃত-আকর!
অন্তর-অন্তর হ'তে উঠিছে প্রার্থনা---
      প্রাণের এ আগ্নেয় উচ্ছ্বাস!---
মুহূর্ত্তে হরিয়া লও সমস্ত চেতনা,
      ---প'ড়ে থাক্‌ নিখিল আকাশ!

****************************








*
বিকৃতি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

প্রেমে চ'লে গেছে, আছে শুধু স্বৃতি ;
কথা প'ড়ে আছে, নাই সুর গীতি ;
কোথা সে সুন্দর মোহন আকৃতি?
      কঙ্কালের মূর্ত্তি পরিবর্ত্তে তার!

পিক-কণ্ঠে আজি কাকারব শুনি,
শালগ্রাম শিলা তুচ্ছ নুড়িগুণি,
চাঁদ হ'য়ে গেছে শুষ্ক মরুভূমি,---
      বিকট বিকৃত জগৎ সংসার!

দখিণা বাতাস আনে মহামারী,
যমুনা জাহ্নবী নহে তাপহারী,
শুকতির মাঝে পড়ি স্বাতি-বারি
      শুধু কঙ্করের করিছে সৃজন!

কাব্য শুধু আজি কথার যোজনা---
অক্ষরের মিল---নাহি গুণপণা,
জাগেনা হৃদয়ে হরষ বেদনা---
      শ্যামল নিকুঞ্জে অহীর গর্জ্জন!

প্রকৃতির একি ব্যভিচার আজ---
অসুরের মাথে দেবতার লাজ্!
ধূলায় লুটায় “মমতার তাজ্!”---
      তরু নাহি করে পান্থে ছায়াদান!

আসিছেন বঙ্গে দেবী দশভুজা,
নাহি আয়োজন, নাহি তাঁর পূজা ;
নাহি বাজে শঙ্খ মৃদঙ্গ মুরজা---
      নীরব নিস্তব্ধ ভকতের প্রাণ।

শিশুর হাসিতে গরল উথলে,
সরলতা যেন পরিপূর্ণ ছলে,
নাহি মধুরতা নয়নের জলে,
      দেবতার মাঝে স্বার্থের বিকার!

কোথা শ্রান্তি মাঝে শান্তির বিকাশ!
বিষাদের মাঝে আনন্দ আভাস!
বিরহের মাঝে মিলন উচ্ছ্বাস!
      কোথা কমলার নূপুর-ঝঙ্কার---

দারিদ্রের মাঝে দরিদ্র-ভবনে!
কোথা তুমি দেবি, এস সন্তর্পণে---
সে মধুর হাসি হাসিয়া নয়নে
      দাঁড়াও সম্মুখে---দাঁড়াও আবার!

নিয়ে এস প্রেম, নিয়ে এস প্রীতি ;
নিয়ে এস ছন্দ, কাব্য কলা গীতি,
নিয়ে এস প্রাণ, চেতনা সংস্থিতি ;---
      ঊর দেবি, ঊর হৃদয়ে আমার!

****************************








*
নারী
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

“নারী কাল ভুজঙ্গিনী”---
“গরল নারীর প্রেম”---কত লোকে কয় ;
কিন্তু সে গরল পানে      কি অমৃত আনে প্রাণে ;
গরল পিইয়া ভোলা তবু মৃত্যুঞ্জয়!

যথা অমৃতে গরল---
তেমতি অমৃত তুমি পাবে হলাহলে!
কিন্তু শুধু কবি পারে      ছানিয়া লইতে তারে ;
---রেখে যায় দেবকীর্ত্তি এ মহীমণ্ডলে।

রমণী, কবির প্রাণ---
এ, ওরে সুন্দর করে ;---ও, এরে সুন্দর!
রমণী দিতেছে ছবি,      আঁকিছে প্রেমিক কবি ;
---স্বর্গ হ'তে পুষ্পবৃষ্টি হয় নিরন্তর।

****************************








*
নারী---হরি
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
কবির ১৯১৪ সালে প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থের কবিতা। ১নং তাঁতিবাগান রোড্ হতে গ্রন্থকার কর্ত্তৃক প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩। মিলনসাগরে প্রকাশিত ৮.৫.২০২৬।

যত দূরে---দূরে যায়---প্রণয়িণী মোর
তত কাছে আস মোর প্রেমময় হরি!
ফেলি যদি একবিন্দু নয়নের লোর---
একবিন্দু---শতবিন্দু ভক্তিরূপ ধরি'
তোমার চরণ প্রান্তে ধায় অবিরত---
ক'রে দেয় নির্ব্বাপিত বাসনা অনল,
ভুলে যাই আত্মজ্ঞান, ভেদজ্ঞান হত ;---
নারীরূপ---হরিরূপ হেরি অচঞ্চল
পার্থক্য বিহীন ; ---যাহে বিশ্ব তিরপিত!
রচিয়া প্রণয়-অর্ঘ্য প্রণয়িনী নামে
দিই যবে, পৌঁছে তাহা শ্রীবৈকুণ্ঠ ধামে
হরির চরণ তলে, হইয়ে বিস্মিত
হেরি মোর প্রিয়া সদা বিরাজিছে চুপে---
প্রেমময় হরি সনে অভেদাত্মারূপে!

****************************