আবার তাঁর “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ থেকে তাঁর ঠিকানা পাওয়া যায় - আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা, জেলা বীরভূম।
কবির পিতা নীলমণি মুখোপাধ্যায় এবং মাতা স্বর্ণময়ী দেবী।
.
পাঁচ জন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় - ^^ উপরে ফেরত
১। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩। ইনি ১৮৭১ সালে প্রমোদকামিনী কাব্য লিখেছিলেন। ইনিই ১৮৬৪ সালের প্রথম পি.আর.এস. (প্রেমচাঁদ রয়চাঁদ স্কলার) কি না তা আমরা বলতে পারছি না।
২। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-২ স্যার (২৯. ০৬. ১৮৬৪ ~ ২৫. ০৫. ১৯২৪)। অর্থাৎ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
৩। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩ (১৮৭১ - ১৯২২)। তাঁর এই জীবনকাল দেওয়া থাকলেও আমারা তা জোর দিয়ে বলতে পারছি না। কারণ তার পরেও বেশ কিছু পত্রিকায় এই নামের কবির কবিতা বেরিয়েছিল। অধ্যাপক সুকুমার সেনের মতানুযায়ী তিনিই প্রথম বাংলার ছড়ার সংকলক।
৪। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৪ কবিগুণাকর (প্রকাশকাল ১৯২২ - ১৯৩১) এই কালের মধ্যে বহু নামকরা পত্রিকায় এই নামে যে কবিতা বেরিয়েছিল, তা সম্ভবত কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩-এরই। কিন্তু তবুও এই কবিতাগুলিকে আমরা আলাদা করে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪ কবিগুণাকর এর পাতায় তুলেছি।
৫। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৫ ঔপন্যাসিক (৭.৯.১৯২০ - ৪.৫.১৯৮৯)।
মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩ এবং কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৪ এর একই ব্যক্তি হবার সম্ভাবনা প্রবল।
এঁদের ছাড়াও একজন “রায় সাহেব আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বি.এল.” এর “গায়ত্রী পরিচয়” নামের একটি গ্রন্থ পাওয়া গিয়েছে যার ১ম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৩২ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৪ই মে ১৯২৫ নাগাদ প্রকাশিত হয়েছিল, মাধিপুরা, জিলা ভাগলপুর থেকে। এঁর কোনো কবিতা পাওয়া যায়নি তাই মিলনসাগরে এনার কোনো কবিতার পাতা করা হয় নি। “গায়ত্রী পরিচয়” গ্রন্থটি Published by the Author, 132, Dharmatala St, Calcutta এবং ছাপানো হয় তারা প্রেস থেকে। প্রিন্টার – শ্রীশশধর ঘোষ। ৫৬ নং সীতারাম ঘোষ স্ট্রীট্, কলিকাতা।
.
প্রথম বাংলা ছড়ার সংকলক - ^^ উপরে ফেরত
সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান থেকে জানতে পারছি যে অধ্যাপক সুকুমার সেনের মতানুযায়ী ইনিই প্রথম বাংলা ছড়ার সংকলক। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি.এ. নাম রয়েছে।
বাংলার প্রথম রূপকথা / ছড়ার গ্রন্থ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় - ছেলে ভুলান ছড়া (১৮৯৯)। রূপকথার গ্রন্থ “ভুত পেত্নী” (১৯০২) ও তার পরে “রাক্ষস খোক্ষস” (১৯০৩)।
.
ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী - ^^ উপরে ফেরত
তাঁর ইং ১৯১৩ সালে প্রকাশিত “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ থেকে তাঁর ঠিকানা বা আবাস পাওয়া যায় - আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা, জেলা বীরভূম। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতা থেকে বোঝা যায় যে তাঁর ইংল্যাণ্ডের রাজ পরিবারের ইতিহাসের উপর কতটা দখল ছিল। এই গ্রন্থ থেকে আমরা ৪৩টি কবিতা মিলনসাগরে তুলেছি।
এই কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন যে রাণী ভিক্টোরিয়ার বন্দনামূলক এই কাব্য তিনি লিখেছেন এই আশায় যে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ বিদ্যালয়ের ছাত্রবৃন্দের পাঠ্য হিসেবে নির্দ্দিষ্ট হবে! কবির ইচ্ছা পূরণ হয়েছিল কি না তা আমাদের জানা নেই। তবে তাঁর “প্রাচীন কীর্ত্তি বা পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য্য” গ্রন্থটিতে আমরা পাই “Approved by the Calcutta Central Text-book Committee for prize and Library book”।
.
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর রচনাবলী - ^^ উপরে ফেরত
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে ১৯১৩ সালে প্রকাশিত “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ ছাড়া অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ১৯১৪ এ প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থ। অনবদ্য সব কবিতায় ভরা এই গ্রন্থের বিশেষ আকর্ষণ হলে গ্রন্থের শেষে রাধা-কৃষ্ণ প্রেমের উপরে তাঁর “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতাগুলি। আমরা এই অধ্যায়ের সব ক’টি কবিতা সহ, এই গ্রন্থ থেকে মোট ৪২টি কবিতা তুলেছি।
রয়েছে “কালিকা মাহাত্ম” (১৯১৭), “সেতুবন্ধ যাত্রা” (১৯১০), “নিত্য-পূজা-পদ্ধতি”, “ছেলে ও ছবি”, “ছেলে ভুলান ছড়া” (১৮৯৯), বাংলার প্রথম রূপকথার গ্রন্থ “ভুত পেত্নী” (১৯০২), “রাক্ষস খোক্ষস” (১৯০৩), “খেলা ধুলা”, “বিবাহের প্রীতি উপহার”, “প্রণয় পত্রিকা”, “ঠকানে প্রশ্ন”।
রয়েছে “বিশ্ব-বৈচিত্র বা জগতের অদ্ভুত দৃশ্যাবলী” (১৯০৭)। কবির পিতাকে উৎসর্গ করা এই গ্রন্থ থেকে আমরা কবির পিতার নাম ও পিতার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি পাচ্ছি। এই ছবিটি দেখে বলা যাচ্ছে যে এই কবিই “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা, কারণ এই গ্রন্থের ছবিতে কবিকে চেনা যাচ্ছে।
রয়েছে তাঁর মাতৃদেবী স্বর্ণময়ী দেবীকে উৎসর্গ করা “মেয়েদের ব্রতকথা” (১৯১৪) - একই নামের গ্রন্থ আশুতোষ মজুমদার প্রণিত বলে দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত পাওয়া যাচ্ছে।
রয়েছে তাঁর বাল্যবন্ধু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সি.আই.ই. কে উৎসর্গ করা "প্রাচীন-কীর্ত্তি বা পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্য্য" (১৯১৭)।
রয়েছে তাঁর “চিত্তরঞ্জন উপন্যাস” (১৯০৬, কলকাতা) যা কি না হিন্দুস্তানী “ফসারহ্-ই-অজাইব”-এর অনুবাদ, এখানে লেখকের ঠিকানা “কলকাতা” দেওয়া রয়েছে।
ইংরেজীতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর Clerk’s Guide, Complete Correspondence, Dictionary of Letter Writing, Dictionary of Proverbs, Leisure Hours, Gita (Sanskrit & English) প্রভৃতি।
তাঁর বহু গ্রন্থ, বাংলা এবং ইংরেজি, কলকাতার S.C.Auddy & Co. Calcutta থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি প্রকাশক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। নিখিলনাথ রায়ের “কবিকথা” (একাধিক খণ্ডে) গ্রন্থের তিনি প্রকাশক ছিলেন ১৯১৯ সালে।
.
মিলনসাগরে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতার সংখ্যা - ^^ উপরে ফেরত
এই কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর আমরা মোট ৮৫টি কবিতা তুলেছি। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ থেকে ৪৩টি আর “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থ থেকে ৪২টি।
.
কবির প্রতি মিলনসাগর - ^^ উপরে ফেরত
কিছুটা হতাশার সঙ্গে কবি তাঁর “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্যের “রাধা” কবিতায় বলেছেন...
গাহিতে গাহিতে যবে আসিবে মরণ---
আমার কবিত্ব গান যাইবে ডুবিয়া
আমিও যাইব কোন্ রহস্যে ভাসিয়া ;---
না না কবি! আপনার কবিতা ভেসে ডুবে যায়নি। তা আজও বাংলার কবিতা প্রেমীদের সমান আনন্দ দান করে চলেছে।
আমরা কবিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে তাঁর কবিতা এখন হাতে হাতে মানুষের মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে সারা বিশ্বে।
.
কবি আশুতোষ ৪ ও ৩ কি একই ব্যক্তি? - ^^ উপরে ফেরত
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতার কবি, মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৪ (কবিগুণাকর) এবং “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” ও “ভাষা ও সুর” কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৩ কি একই ব্যক্তি হতে পারেন?
এর প্রবল সম্ভাবনা মনে হলেও কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৪ এর নারী বা নারীত্বের প্রতি মনোভাবের চেয়ে, কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৩ এর নারী বা নারীত্বের প্রতি মনোভাব অনেক উদার। এটা তাঁদের নারী বা নারীত্ব নিয়ে রচিত কবিতা পড়লে বোঝা যায়।
এমন হওয়া আশ্চর্যের নয় যে একই কবি বিভিন্ন সময়ের মানসিক অবস্থায় কবিতা লিখেছেন কখনও প্রেম-ভালবাসা-শ্রদ্ধার সঙ্গে খুশির আবেশে, কখনও রাগ করে।
এই দুই কবি সম্বন্ধে, তথ্য-প্রমাণ সহকারে, যদি কারও কাছ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানতে পাই, তাহলে আমরা তা এখানে তুলে দেব তথ্য সরবরাহকারীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে।
আমরা মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা তুলে আগামি প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
উৎস ---
কবির পিতা নীলমণি মুখোপাধ্যায় এবং মাতা স্বর্ণময়ী দেবী।
.
পাঁচ জন আশুতোষ মুখোপাধ্যায় - ^^ উপরে ফেরত
১। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩। ইনি ১৮৭১ সালে প্রমোদকামিনী কাব্য লিখেছিলেন। ইনিই ১৮৬৪ সালের প্রথম পি.আর.এস. (প্রেমচাঁদ রয়চাঁদ স্কলার) কি না তা আমরা বলতে পারছি না।
২। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-২ স্যার (২৯. ০৬. ১৮৬৪ ~ ২৫. ০৫. ১৯২৪)। অর্থাৎ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।
৩। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩ (১৮৭১ - ১৯২২)। তাঁর এই জীবনকাল দেওয়া থাকলেও আমারা তা জোর দিয়ে বলতে পারছি না। কারণ তার পরেও বেশ কিছু পত্রিকায় এই নামের কবির কবিতা বেরিয়েছিল। অধ্যাপক সুকুমার সেনের মতানুযায়ী তিনিই প্রথম বাংলার ছড়ার সংকলক।
৪। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৪ কবিগুণাকর (প্রকাশকাল ১৯২২ - ১৯৩১) এই কালের মধ্যে বহু নামকরা পত্রিকায় এই নামে যে কবিতা বেরিয়েছিল, তা সম্ভবত কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩-এরই। কিন্তু তবুও এই কবিতাগুলিকে আমরা আলাদা করে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪ কবিগুণাকর এর পাতায় তুলেছি।
৫। কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৫ ঔপন্যাসিক (৭.৯.১৯২০ - ৪.৫.১৯৮৯)।
মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৩ এবং কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-৪ এর একই ব্যক্তি হবার সম্ভাবনা প্রবল।
এঁদের ছাড়াও একজন “রায় সাহেব আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বি.এল.” এর “গায়ত্রী পরিচয়” নামের একটি গ্রন্থ পাওয়া গিয়েছে যার ১ম সংস্করণ বৈশাখ ১৩৩২ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৪ই মে ১৯২৫ নাগাদ প্রকাশিত হয়েছিল, মাধিপুরা, জিলা ভাগলপুর থেকে। এঁর কোনো কবিতা পাওয়া যায়নি তাই মিলনসাগরে এনার কোনো কবিতার পাতা করা হয় নি। “গায়ত্রী পরিচয়” গ্রন্থটি Published by the Author, 132, Dharmatala St, Calcutta এবং ছাপানো হয় তারা প্রেস থেকে। প্রিন্টার – শ্রীশশধর ঘোষ। ৫৬ নং সীতারাম ঘোষ স্ট্রীট্, কলিকাতা।
.
প্রথম বাংলা ছড়ার সংকলক - ^^ উপরে ফেরত
সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান থেকে জানতে পারছি যে অধ্যাপক সুকুমার সেনের মতানুযায়ী ইনিই প্রথম বাংলা ছড়ার সংকলক। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি.এ. নাম রয়েছে।
বাংলার প্রথম রূপকথা / ছড়ার গ্রন্থ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় - ছেলে ভুলান ছড়া (১৮৯৯)। রূপকথার গ্রন্থ “ভুত পেত্নী” (১৯০২) ও তার পরে “রাক্ষস খোক্ষস” (১৯০৩)।
.
ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী - ^^ উপরে ফেরত
তাঁর ইং ১৯১৩ সালে প্রকাশিত “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ থেকে তাঁর ঠিকানা বা আবাস পাওয়া যায় - আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা, জেলা বীরভূম। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতা থেকে বোঝা যায় যে তাঁর ইংল্যাণ্ডের রাজ পরিবারের ইতিহাসের উপর কতটা দখল ছিল। এই গ্রন্থ থেকে আমরা ৪৩টি কবিতা মিলনসাগরে তুলেছি।
এই কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন যে রাণী ভিক্টোরিয়ার বন্দনামূলক এই কাব্য তিনি লিখেছেন এই আশায় যে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ বিদ্যালয়ের ছাত্রবৃন্দের পাঠ্য হিসেবে নির্দ্দিষ্ট হবে! কবির ইচ্ছা পূরণ হয়েছিল কি না তা আমাদের জানা নেই। তবে তাঁর “প্রাচীন কীর্ত্তি বা পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য্য” গ্রন্থটিতে আমরা পাই “Approved by the Calcutta Central Text-book Committee for prize and Library book”।
.
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর রচনাবলী - ^^ উপরে ফেরত
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে ১৯১৩ সালে প্রকাশিত “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ ছাড়া অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ১৯১৪ এ প্রকাশিত “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থ। অনবদ্য সব কবিতায় ভরা এই গ্রন্থের বিশেষ আকর্ষণ হলে গ্রন্থের শেষে রাধা-কৃষ্ণ প্রেমের উপরে তাঁর “রাধা ও বাঁশী” অধ্যায়ের কবিতাগুলি। আমরা এই অধ্যায়ের সব ক’টি কবিতা সহ, এই গ্রন্থ থেকে মোট ৪২টি কবিতা তুলেছি।
রয়েছে “কালিকা মাহাত্ম” (১৯১৭), “সেতুবন্ধ যাত্রা” (১৯১০), “নিত্য-পূজা-পদ্ধতি”, “ছেলে ও ছবি”, “ছেলে ভুলান ছড়া” (১৮৯৯), বাংলার প্রথম রূপকথার গ্রন্থ “ভুত পেত্নী” (১৯০২), “রাক্ষস খোক্ষস” (১৯০৩), “খেলা ধুলা”, “বিবাহের প্রীতি উপহার”, “প্রণয় পত্রিকা”, “ঠকানে প্রশ্ন”।
রয়েছে “বিশ্ব-বৈচিত্র বা জগতের অদ্ভুত দৃশ্যাবলী” (১৯০৭)। কবির পিতাকে উৎসর্গ করা এই গ্রন্থ থেকে আমরা কবির পিতার নাম ও পিতার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি পাচ্ছি। এই ছবিটি দেখে বলা যাচ্ছে যে এই কবিই “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা, কারণ এই গ্রন্থের ছবিতে কবিকে চেনা যাচ্ছে।
রয়েছে তাঁর মাতৃদেবী স্বর্ণময়ী দেবীকে উৎসর্গ করা “মেয়েদের ব্রতকথা” (১৯১৪) - একই নামের গ্রন্থ আশুতোষ মজুমদার প্রণিত বলে দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত পাওয়া যাচ্ছে।
রয়েছে তাঁর বাল্যবন্ধু অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সি.আই.ই. কে উৎসর্গ করা "প্রাচীন-কীর্ত্তি বা পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্য্য" (১৯১৭)।
রয়েছে তাঁর “চিত্তরঞ্জন উপন্যাস” (১৯০৬, কলকাতা) যা কি না হিন্দুস্তানী “ফসারহ্-ই-অজাইব”-এর অনুবাদ, এখানে লেখকের ঠিকানা “কলকাতা” দেওয়া রয়েছে।
ইংরেজীতে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর Clerk’s Guide, Complete Correspondence, Dictionary of Letter Writing, Dictionary of Proverbs, Leisure Hours, Gita (Sanskrit & English) প্রভৃতি।
তাঁর বহু গ্রন্থ, বাংলা এবং ইংরেজি, কলকাতার S.C.Auddy & Co. Calcutta থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি প্রকাশক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। নিখিলনাথ রায়ের “কবিকথা” (একাধিক খণ্ডে) গ্রন্থের তিনি প্রকাশক ছিলেন ১৯১৯ সালে।
.
মিলনসাগরে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতার সংখ্যা - ^^ উপরে ফেরত
এই কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর আমরা মোট ৮৫টি কবিতা তুলেছি। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” কাব্যগ্রন্থ থেকে ৪৩টি আর “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্য গ্রন্থ থেকে ৪২টি।
.
কবির প্রতি মিলনসাগর - ^^ উপরে ফেরত
কিছুটা হতাশার সঙ্গে কবি তাঁর “ভাষা ও সুর” গীতিকাব্যের “রাধা” কবিতায় বলেছেন...
গাহিতে গাহিতে যবে আসিবে মরণ---
আমার কবিত্ব গান যাইবে ডুবিয়া
আমিও যাইব কোন্ রহস্যে ভাসিয়া ;---
না না কবি! আপনার কবিতা ভেসে ডুবে যায়নি। তা আজও বাংলার কবিতা প্রেমীদের সমান আনন্দ দান করে চলেছে।
আমরা কবিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে তাঁর কবিতা এখন হাতে হাতে মানুষের মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে সারা বিশ্বে।
.
কবি আশুতোষ ৪ ও ৩ কি একই ব্যক্তি? - ^^ উপরে ফেরত
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতার কবি, মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৪ (কবিগুণাকর) এবং “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” ও “ভাষা ও সুর” কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৩ কি একই ব্যক্তি হতে পারেন?
এর প্রবল সম্ভাবনা মনে হলেও কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৪ এর নারী বা নারীত্বের প্রতি মনোভাবের চেয়ে, কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যয় ৩ এর নারী বা নারীত্বের প্রতি মনোভাব অনেক উদার। এটা তাঁদের নারী বা নারীত্ব নিয়ে রচিত কবিতা পড়লে বোঝা যায়।
এমন হওয়া আশ্চর্যের নয় যে একই কবি বিভিন্ন সময়ের মানসিক অবস্থায় কবিতা লিখেছেন কখনও প্রেম-ভালবাসা-শ্রদ্ধার সঙ্গে খুশির আবেশে, কখনও রাগ করে।
এই দুই কবি সম্বন্ধে, তথ্য-প্রমাণ সহকারে, যদি কারও কাছ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানতে পাই, তাহলে আমরা তা এখানে তুলে দেব তথ্য সরবরাহকারীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে।
আমরা মিলনসাগরে কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর কবিতা তুলে আগামি প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৩ এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
উৎস ---
- আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী” গ্রন্থ, ১৯১৩।
- শিশিরকুমার দাশ, সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী, ২০০৩।
- সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান ১ম খণ্ড, ২০১০।