কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪ কবিগুণাকরের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪ কবিগুণাকর এর পরিচিতির পাতায় . . .
কে বড়?
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায় কবিগুণাকর
বিজয়চন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত “বঙ্গবাণী” পত্রিকার কার্তিক ১৩২৯সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯২২) প্রকাশিত কবিতা। ইনি মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

ধর্ম্ম বলে---এ জগতে আমিই প্রধান,
কর্ম্ম বলে---আমা লাগি তোমার সম্মান!
প্রজ্ঞা দাঁড়াইল আসি---নীরব গম্ভীর---
সন্ত্রমে উভয়ে তবে নোয়াইল শির!

ভুল বোঝা

দুখ বলে---আমি কেন না হইনু সুখ!
কবি বলে---অইটুকু বুঝিবার চুক্!

প্রকৃত মহত্ত্ব

রূপ বলে---আমি বড়, আর সব মিছে,
s গুণ বলে---আমি ভাই সকলের নীচে!

****************************








*
সন্ধ্যায়
(মীরাবাই)

কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায়
বিজয়চন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত “বঙ্গবাণী” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩৩১ সংখ্যায় (ফেব্রুয়ারী ১৯২৫) প্রকাশিত কবিতা। ইনি মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

এস এস শ্যাম চির অভিরাম
সন্ধ্যা আসিছে নামি---
তব সমাগমে অন্তর মম
নন্দিত কর ওগো প্রিয়তম,
সঞ্চিত মম সকল কামনা
পূর্ণ করহে স্বামি!

তোমাতে আমাতে অন্তর নাহি
তোমা পানে চির রহিয়াছি চাহি---
তুমি যে আমার সূর্য্য হে প্রভু
ধরিত্রী তব আমি!

****************************








*
অভাবে
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায়
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “মানসী ও মর্ম্মবাণী” মাসিক পত্রিকার ফাল্গুন ১৩৩০ (ফেব্রুয়ারী ১৯২৪) সংখ্যায় প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

অভাবে হায় পড়বে যত
     ততই তুমি যাবে নেমে,
হৃদয়ের সুর উচ্চ গ্রামে
     বাজবে না আর---আসবে থেমে।
পিশাচ এসে নামিয়ে দেবে
     তেমার প্রাণের ইষ্টদেবে---
থাকবে না আর উদায় নীতি,
     কিংবা প্রীতি বিশ্বপ্রেমে।

বারেক মাথা করলে নীচু
     ক্রমেই তাহা পড়বে নুয়ে---
ওঠাতে আর পারবেনাক
     শেষে এসে ঠেক্‌ বে ভুঁয়ে!
মান অপমান থাকবে না বোধ
     তুচ্ছ নিয়ে করবে বিরোধ
হায় রে, মনুষ্যত্ব তোমার
     কোথা উড়ে যাবে ফুঁয়ে!

তোমার প্রাণের পাপড়িগুলি
     ফুটবে না আর সুবাতাসে---
হৃদয়ের সদ্বৃত্তিগুলি
     পুড়ে যাবে হা হুতাশে!
শুকিয়ে যাবে বক্ষখানি,
     নির্ভয়ে না সরবে বাণী,
দেখলে পরের রক্ত আঁখি
     কুঁচে হয়ে কাঁপবে ত্রাসে।

বিবেক রবে মূকের মত
     কইবে না সে কোন কথা---
গুম্‌রে মরাই সার হবে তার
     লয়ে অসীম ব্যাকুলতা!
মনটি তোমার একটু হয়ে
     আসবে ক্রমে সয়ে সয়ে
হবে পাষাণ--- থাকবে না তার
     একটুখানি কোমলতা।

ভাববে তখন দানব দানার
     রচনা এ বিশ্বভূমি---
---অধর্ম্মেরি জয়পতাকা
     উড়চে কেবল আকাশ চুমি!
মনের আঁধার ঘনিয়ে এসে
     দেবদ্বেষী করবে শেষে---
ইহকাল ত কেঁদেই গেল,
     পরকালেও কাঁদবে তুমি।

****************************








*
শিশু
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায়
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “মানসী ও মর্ম্মবাণী” মাসিক পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৩২ (জুলাই ১৯২৫) সংখ্যায় প্রকাশিত। ইনি মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

তুই বুঝি হ’বি শিশু স্বরগের সুধা,
পড়েছিস্‌ একবিন্দু ভুলে ধরাতলে---
মিটাইতে আমাদের বিশ্ব-গ্রাসী ক্ষুধা!
আমরা পেয়েছি তোরে বহু পুণ্য-ফলে।

তুই বুঝি শিশু, কল্প-কুসুম কোরক
বাতাসে ছিঁড়িয়া তোরে ফেলেছে হেথায়---
যাহা চাই দিস্‌ তাহা---রে দাতা-তিলক,
কচি দুটি মুঠি ভরি অপূর্ব্ব প্রথায়!

তুই বুঝি স্বরগের শিশু-কামধেনু
এসেছিস পলাইয়া---বন্দে তোকে কবি---
উড়াইয়া পায়ে পায়ে পূত স্বর্ণ রেণু---
আত্মত্যাগ মহাযজ্ঞে যোগাইতে হবি।

তুই বুঝি বিধাতার অনুগ্রহ কণা
মূর্ত্তিমান হয়ে মর্ত্তে করিস্‌ বিহার!
দুঃখে-ক্লেশে আমাদের মহতী সান্ত্বনা---
ভুলে যাই ক্ষুধা তৃষ্ণা নিখিল সংসার!

****************************








*
নারীত্ব
কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বি-এ
সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় / সত্যেন্দ্রকুমার বসু / যামিনীমোহন কর সম্পাদিত “মাসিক বসুমতী” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩৩৮ সংখ্যায় (মে ১৯৩১) প্রকাশিত কবিতা। ইনি মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

যে নারীর অঙ্কে কম কমল-কলিকা
নাহি শোভা পায়---তার ব্যর্থ এ জনম
হ'ক সে সাম্রাজ্ঞী---সর্ব্ব ঐশ্বর্য্য-মণ্ডিতা।
দীনা, ভিখারিণী চেয়ে সে যে গো অধম।

যে নারীর অঙ্গ শিশু-মলমুত্র-রসে
নাহি হয় অভিযিক্ত দিবস-রজনী---
হলেও সে নিষ্ঠাবতী, চন্দন-চর্চ্চিতা---
অস্পৃশ্যার মধ্যে আমি তারে চির গণি।

ইষ্ট-দেবতার পদ পূজিবার লাগি
তীর্থে তীর্থে ঘুরিবার নাহি প্রয়োজন---
ওগো হিন্দুনারি! এস গৃহতীর্থে বসি
পাল গৃহস্থের ধর্ম্ম---সন্তান-রতন

গড়ি তোল নিজগাতে---যার যশোভাতি
দেশের দশের পথে জ্বালাইবে বাতি।

****************************








*
আনন্দ কর্
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায় কবিগুণাকর বি-এ
আশুতোষেশ্বর শিবমন্দির, কুণ্ডলা --- জেলা বীরভূম। “ভূতপূর্ব্বা ভারতেশ্বরী ভিক্টোরিয়া ভারতী (কাব্য)” গ্রন্থের কবিতা। কলিকাতা, বাগবাজার, ২নং আনন্দ চট্টোপাধ্যায়ের লেন, পত্রিকা প্রেসে শ্রীকেশবলাল রায় দ্বারা মুদ্রিত। ১৯১৩। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

আনন্দ কর্ আানন্দ কর্‌
এ যে আনন্দ ধাম,
দুঃখ দৈন্য ভুলে যারে সব---
নিস্‌ নে দুঃখের নাম।

এ যে আানন্দময়ীর ভবন,
হেথা মাহি থাকে অভাব বেদন---
কোথায় এমন প্রেমের বাঁধন
স্বভাবের শোভা শ্যাম?

একবার যদি শুধু ‘মা’ ‘মা’ ব’লে,
ডাকিস্‌---বিপদ কোথা যাবে চলে’
পাবি নব বল, শেষে তাঁরি কোলে
পাবি স্থান---কি আরাম!

****************************








*
কন্যাশোকে
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায় কবিগুণাকর বি-এ
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায় কবিগুণাকর বি-এ অক্ষয়কুমার নন্দী ও সুরবালা দত্ত সম্পাদিত “মাতৃ-মন্দির” পত্রিকার অগ্রহায়ণ ১৩৩১ সংখ্যায় (নভেম্বর ১৯২৪ ) প্রকাশিত কবিতা। ইনি মিলনসাগরের কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৪। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

কবির কন্যা তণিমা দেবী, মাত্র ১১ বছর বয়সে মারা গেলে তিনি এই কবিতা লেখেন। স্যার আশুতোষের কন্যা কমলা দেবীও মারা যান স্যার আশুতোষের পরলোক গমনের ১ বছর আগে ২০২৩ সালে। কিন্তু কমলাদেবী যুবতী ছিলেন যখন তিনি মারা যান, তাঁর দ্বিতীয় বিবাহের ১৩ বছর পর।

তাঁই এই কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কবিগুণাকর বি-এ, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় নন বলেই মনে করা হচ্ছে।

তণি, তোরে চিতায় দেবার আগে
     ওরে আমার স্নেহের নিধি,
কেন নাহি গেলাম আমি,
     হায় কি কঠোর ভাগ্যবিধি!
ওরে আমার মাতৃহারা
     কোথা আজ্ তোর বিয়ে দিয়ে
জগৎ-আলো করা জামাই
     আনব ঘরে সাজাইয়ে।
তোদের যুগল মূর্ত্তি হেরে,
     কতই সুখ না পাব মনে,
হায় রে এরূপ কতই আশা
     পুষেছিলাম সংগোরপনে!
আজকে সকল আশা ছিন্ন
     সকল সাধে পড়ল ছাই,
নে’মা আমায় সঙ্গে করে
     আর না হেথা থাকতে চাই।
সকাল থেকে রাত্রি ন’টা
     শরীরটাকে জীর্ণ করে’
খেটে খেটে হ'তাম সারা
     তোর তরেই মা বেঁচে মরে!
তোরই মুখের পানে চেয়ে
     সকল কষ্ট যেতেম ভুলি,
পেতাম যেন নবীন দেহ
     শুনে মা তোর মিষ্টি বুলি।
ছিলি গরীব বাপের মেয়ে
     আমার সাধ্যমত তবু
খাওয়া পরার দিইনি কষ্ট
     করি নাইক ত্রুটী কভু।

তবে অনেক সময় মা গো
     ঠিকৃ টি আমার মনের মত
পারি নাইক দিতে থুতে---
     আজ্ তা’ ভেবে জ্বলছি কত!
কারণ মা ত জানিস্ সবি
     এ সংসারের সকল ভারই
আমাকেই হায় বইতে হতো
     ---আর আর সবাই অবতারই!
হায়রে এখন সে সব কথা
     জাগছে কেবল মনের কোণে,
মারব কারে? মরব কি আজ্?
     ---বেঁচে আছি পাগল বনে'।
তুই যে মা গো উবে যাবি
     এক নিমিষে এমনি করে’
আগে যদি জানতেম কভু
     বক্ তেম কি মা ভুলেও তোরে?
বলব কি আর নাইক উপায়
     এখন মরণ হলে বাঁচি,
তোরে ছেড়ে এ কটা দিন
     কেমন করে বেঁচে আছি!
আজকে আমার মেরুদণ্ড
     ভেঙ্গে গিয়ে গেচিস্ দলে!
খেটে খাবার শক্তিটুকু---
     সে টুকুও গেচিস্‌ দলে!
আজকে আমি জড়ের মত
     একেবারেই কাজের বা'রে---
তোরই স্নেহের মঞ্জুষায় মা
     এ প্রাণটুকু ছিল---হা-রে!

ঁতণিমা দেবী---বয়স ১১ বৎসর, কালাজ্বরে মৃত্যু---১৯শে সেপ্টেম্বর, ১৯২৪ শুক্রবার রাত্রি প্রায় ২টা। কাব্য-সাহিত্যে বিশেষ অনুরাগিণী ছিল---এই বয়সেই বেশ সুন্দর সুন্দর কবিতা লিখিতে পারিত।

****************************








*
জীবন-যাত্রা
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায়
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সম্পাদিত “নারায়ণ” পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৭ সংখ্যায় (অগাস্ট ১৯২০) প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

আজি চলিতে হইবে ছেড়ে---
জীবনের যত গম্ভীর ব্যথা
আকুল কাঁদুনী শত কাতরতা
মায়ার নিরাশা মুক্তির আশা
     তাজিতে হইবে যে রে
আছি চলিতে হইবে ছেড়ে---
যার যাহা কিছু বলিবার আছে
     তাহারে বলিতে দেরে,
তোর নব জীবনের নূতন প্রভাত
     আবার আসিবে ফিরে।
তোর কাঁদিতে হবে না আর ;
জীবণের ভয়, প্রাণের ভাবনা,
দিশাহারা তোর শতেক কামনা,
অলসে অবশে টুটিবে রে তোর
     জীবনের শত ভার।
ওরে তোর কাঁদিতে হবে না আর!
পদে দলিবার বাসনা যাহার
     তাহারে দলিতে দেরে ;
তোর নব জীবনের নূতন প্রভাত---
     আবার আসিছে ফিরে।
তর সময় বহিয়া যায়।
সুবাতাসে ঐ খুলে দেনা তরী,
প্রাণ-যমুনায় উঠেছে লহরী,
ওপার হইতে বাজিছে বাঁশরী---
     ত্বরা করি আয় নায় ;
তোর সময় বহিয়া যায়।
সে হাটের মূলে তোর ভরা বুক
এ হাটে হাটুরে যা বলে বলুক
     (তাহে) কিবা আসে, কিবা যায়।
ত্বরা করি আয় নায়।

এবার যাত্রী যায়।
লক্ষ তরণী সোণার কাছিতে---
     বাঁধা যে রে এ-উহার।
একই নেয়ে যেরে সকল তরীতে
     এ অকুলে কুল দেয়।
বাহিতে বাহিতে আয়ু হ’বে তোর
বিকাবে ও হাটে সরবস্ব তোর
মরিতে মরিতে বাচিবি জীবন
     সে মৃদঙ্গ স্বরময়।

ডাক তবে তোর মগন তুফানে
জীবন নৃত্যে তরনী যে টানে
     ---দিবানিশি তোর বন্ধু,
এ তিন ভুবনে সেই কর্ণধার
প্রলয় প্লাবনে রঙ্গ বাহার
     তারিতে এ ভবসিন্ধু।

****************************








*
রামীর প্রতি
কবি শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায়
কোচবিহারের রাণী নিরুপমা দেবী সম্পাদিত “পরিচারিকা” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩২৫ সংখ্যায় (১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ) প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

কোন্‌ নব বৃন্দাবনে, কালিন্দীর তটে---
লইয়া কলসী কক্ষে আসি এককিনী
দাঁড়াইলে, হে সুন্দরি, রামী রজকিনি!---
কি চিত্র আঁকিলে তুমি কবি চিত্র-পটে!

সেদিন কি জেগেছিল ফাল্গুণের দিন?
পুলকি উঠিয়াছিল সারা বিশ্বখানি?
কোকিল ঝুলিতেছিল বিশ্ব প্রেম বাণী!
শিহরি উঠিতেছিল কানন বিপিন!

অথবা নামিয়াছিল আষাঢ় নবীন?
মেঘে মেঘে হেরেছিল সমস্ত আকাশ?
অদূরে মাধবী কুঞ্জে কেকাকল-বীণ্---
শ্বসিয়া শ্বসিয়া ওঠে আর্দ্র বাতাস!

নিমেষে পড়িল ধরা চণ্ডীদাস কবি---
হেরিল তোমার রূপে রাধিকার ছবি।

****************************








*
তোমারি ফোঁপানি
কবিগুণাকর শ্রীআশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বি এ
শিশিরকুমার মিত্র সম্পাদিত “সচিত্র শিশির” পত্রিকার ২১ অগ্রহায়ণ ১৩৩১ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯২৪) প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ । ৯.৫.২০২৬।

[ সুর---তোমারি রাগিনী জীবন কুঞ্জে ইত্যাদি ]

তোমারি “ফোঁপানি"   শ্রবণ যুগ্মে
পশে যেন সদা পশে গো।
তোমারি শাসন     সোদর বর্গে
চষে যেন সদা চষে গো!

তব ক্রন্দন---     মন্দ মন্দ্রিত
শুনি কণ্টক শয়নে।
তব পদরেণু     মাখি লয়ে তনু
রসে যেন সদা রসে গো!

গৃহ বিচ্ছেদ     আসে যেন ত্বরা
তব বিদেষ মন্ত্রে
তারাসে শ্বাশুড়ী   আলয়ে বাহিরে
তব রাঙা পদ বন্দে!

তব নির্ম্মল      নীরব হাস্যে
ওঠে অন্তর কাঁপিয়া---
তব হুঙ্কারে      অস্থি চর্ম্ম---
খসে যেন সদা খসে গো।

****************************