কবি আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
চোখের জল আকাশে যা
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির ১৯৫৭ সালে সিনেমা ও ১৯৬১ সালে গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত “পঞ্চতপা”, উপন্যাসের কবিতা বা ছড়া। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
চোখের জল আকাশে যা,
যাগের ধোঁয়া আকাশে যা,
সেথায় গিয়ে মেঘ হ',
সূয্যি ঢেকে মেঘ হ'।
আয় রে পবন ধেয়ে,
মেঘ করেছে ছেয়ে,
পবন-মেঘে মিতালি,
মাটি হল শীতালি।
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির ১৯৫৭ সালে সিনেমা ও ১৯৬১ সালে গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত “পঞ্চতপা”, উপন্যাসের কবিতা বা ছড়া। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
চোখের জল আকাশে যা,
যাগের ধোঁয়া আকাশে যা,
সেথায় গিয়ে মেঘ হ',
সূয্যি ঢেকে মেঘ হ'।
আয় রে পবন ধেয়ে,
মেঘ করেছে ছেয়ে,
পবন-মেঘে মিতালি,
মাটি হল শীতালি।
*********************
তুমি শান্তি চাও?
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “চলো জঙ্গলে যাই“ গল্পের “আধুনিক” কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
তুমি শান্তি চাও?
বুকের তলায় ডুব দিযে দেখো বন্ধু,
দেখো সত্যি কি চাও তুমি।
শান্তি যদি চাও,
তবে অন্য পথ নাও।
এখানে শান্তি বড় চড়া দরে বিকোয়,
এখানে প্রাচুর্যের পাপে নাবায়ণ শুকোয,
তোমাব মূলধন তো কানাকড়ি।
নীতির খাপে পোরা তীক্ষ্ণ অস্ত্র নেই তোমার ঝুলিতে,
লোভের আগুন ছাই-চাপা নেই তোমার
অহিংস উদার বুলিতে,
কথার প্রলেপে তুমি, দিন কে পারো কি রাত করতে?
আর প্রসন্ন ঢেকুর চেপে, চোখ দিয়ে পারো
সমব্যথার অশ্রু ঝরাতে?
হায় রে হায়, তোমাব মূলধন যে কানাকড়ি।
তবু যদি বলো শান্তি চাই---
তাহলে আমি যা বলি শোনো তাই,
চলো বন্ধু,
চলো জঙ্গলে যাই।
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “চলো জঙ্গলে যাই“ গল্পের “আধুনিক” কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
তুমি শান্তি চাও?
বুকের তলায় ডুব দিযে দেখো বন্ধু,
দেখো সত্যি কি চাও তুমি।
শান্তি যদি চাও,
তবে অন্য পথ নাও।
এখানে শান্তি বড় চড়া দরে বিকোয়,
এখানে প্রাচুর্যের পাপে নাবায়ণ শুকোয,
তোমাব মূলধন তো কানাকড়ি।
নীতির খাপে পোরা তীক্ষ্ণ অস্ত্র নেই তোমার ঝুলিতে,
লোভের আগুন ছাই-চাপা নেই তোমার
অহিংস উদার বুলিতে,
কথার প্রলেপে তুমি, দিন কে পারো কি রাত করতে?
আর প্রসন্ন ঢেকুর চেপে, চোখ দিয়ে পারো
সমব্যথার অশ্রু ঝরাতে?
হায় রে হায়, তোমাব মূলধন যে কানাকড়ি।
তবু যদি বলো শান্তি চাই---
তাহলে আমি যা বলি শোনো তাই,
চলো বন্ধু,
চলো জঙ্গলে যাই।
*********************
তাই বলি বন্ধু, যদি সঙ্গী পাই
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “চলো জঙ্গলে যাই“ গল্পের “আধুনিক” কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
...তাই বলি বন্ধু, যদি সঙ্গী পাই
তবে খাঁটি সবুজ জঙ্গলে যাই।
যেখানে হিংসা খাঁটি,
আর সরলতাও।
যেখানে বাঘ ভালুক হায়না---
আপন মুখ মুখোশে ঢাকে না।
যেখানে হিংশ্র চকিত হুঙ্কারে
ভক্ষ্য হরিণের ঘাড়ে লাফায়,
রক্ষা কববে বলে তাকে---
বৃথা আশ্বাসে ভোলায় না।
যেখানে শ্বাপদ-হিংসা খাঁটি
আর শশকের সরলতাও।
অবণ্যে আরো ক্ষুধা নেই একথা বলি না বন্ধু,
রিপু যেখানে আদিম আর অবিকৃত
সেখানেও বনিতার খোঁজ পড়ে অবিরত।
তবু আপন-নির্ভয়ে সেথায় বনিতারে রক্ষা করা রীতি,
আর অকপট শৌর্যে তারে জয় করা নীতি।
সেখানে ক্ষুধা খাঁটি
আর বনিতার সরলতাও।
দুইই সকলে চেনে।
যেখানে অচেনা কেউ নয়, যেমন এই সভ্যতার অরণ্যে।
তাই, আমরা যারা চেনা মুখ খুঁজে বেড়াই
তারা এসো বন্ধু,
চলো, নির্ভেজাল জঙ্গলে যাই।
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “চলো জঙ্গলে যাই“ গল্পের “আধুনিক” কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
...তাই বলি বন্ধু, যদি সঙ্গী পাই
তবে খাঁটি সবুজ জঙ্গলে যাই।
যেখানে হিংসা খাঁটি,
আর সরলতাও।
যেখানে বাঘ ভালুক হায়না---
আপন মুখ মুখোশে ঢাকে না।
যেখানে হিংশ্র চকিত হুঙ্কারে
ভক্ষ্য হরিণের ঘাড়ে লাফায়,
রক্ষা কববে বলে তাকে---
বৃথা আশ্বাসে ভোলায় না।
যেখানে শ্বাপদ-হিংসা খাঁটি
আর শশকের সরলতাও।
অবণ্যে আরো ক্ষুধা নেই একথা বলি না বন্ধু,
রিপু যেখানে আদিম আর অবিকৃত
সেখানেও বনিতার খোঁজ পড়ে অবিরত।
তবু আপন-নির্ভয়ে সেথায় বনিতারে রক্ষা করা রীতি,
আর অকপট শৌর্যে তারে জয় করা নীতি।
সেখানে ক্ষুধা খাঁটি
আর বনিতার সরলতাও।
দুইই সকলে চেনে।
যেখানে অচেনা কেউ নয়, যেমন এই সভ্যতার অরণ্যে।
তাই, আমরা যারা চেনা মুখ খুঁজে বেড়াই
তারা এসো বন্ধু,
চলো, নির্ভেজাল জঙ্গলে যাই।
*********************
তবু আশা বন্ধু? এখনো আশা?
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “চলো জঙ্গলে যাই“ গল্পের “আধুনিক” কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
তবু আশা বন্ধু? এখনো আশা?
এখনে কিছু দেখতে বাকি!
এখনো ভাবো, আরো একটু থাকি!
এখনো আশা, নতুন কণ্ঠে শুনবে ভাষা?
শোনো বন্ধু, অরণ্যে দাউদাউ দাবাগ্নি জ্বলে
সেই আগুনে বস্তা পোড়ে, অরণ্যের প্রাণ পোড়ে না।
তোমাদের এই সভ্যতার আলোর তলায় মশাল জ্বলে,
এই আগুনে মানবতা পোড়ে, বস্তু পোড়ে না।
নতুন অরণ্য জাগে
ঋতুস্নাতা ধরণীর অনুরাগে।
কিন্তু তোমার নগরে নতুন মানুষ কারা?
মানবতা-পোড়া বস্তুর, সন্তান যারা?
অনেক তো দেখেছ বন্ধু,
অনেক জেনেছ,
শক্তির দম্ভ আর লোভীর হীনতা
পণ্ডিতের দর্প আর জ্ঞানীর মূঢ়তা
প্রাচীনের গর্ব আর নবীনের ক্লীবতা---
এরা কি শোনাবে বলো নতুন দিনের বারতা?
অনেক দেখেছ বন্ধু, অনেক জেনেছ।
তবু আমিও তোমারই মত কিছু আশা চাই,
তাই ডাকি বন্ধু, চলো,
এবারে অকৃপণ উদাত্ত গম্ভীর জঙ্গলে যাই।
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “চলো জঙ্গলে যাই“ গল্পের “আধুনিক” কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
তবু আশা বন্ধু? এখনো আশা?
এখনে কিছু দেখতে বাকি!
এখনো ভাবো, আরো একটু থাকি!
এখনো আশা, নতুন কণ্ঠে শুনবে ভাষা?
শোনো বন্ধু, অরণ্যে দাউদাউ দাবাগ্নি জ্বলে
সেই আগুনে বস্তা পোড়ে, অরণ্যের প্রাণ পোড়ে না।
তোমাদের এই সভ্যতার আলোর তলায় মশাল জ্বলে,
এই আগুনে মানবতা পোড়ে, বস্তু পোড়ে না।
নতুন অরণ্য জাগে
ঋতুস্নাতা ধরণীর অনুরাগে।
কিন্তু তোমার নগরে নতুন মানুষ কারা?
মানবতা-পোড়া বস্তুর, সন্তান যারা?
অনেক তো দেখেছ বন্ধু,
অনেক জেনেছ,
শক্তির দম্ভ আর লোভীর হীনতা
পণ্ডিতের দর্প আর জ্ঞানীর মূঢ়তা
প্রাচীনের গর্ব আর নবীনের ক্লীবতা---
এরা কি শোনাবে বলো নতুন দিনের বারতা?
অনেক দেখেছ বন্ধু, অনেক জেনেছ।
তবু আমিও তোমারই মত কিছু আশা চাই,
তাই ডাকি বন্ধু, চলো,
এবারে অকৃপণ উদাত্ত গম্ভীর জঙ্গলে যাই।
*********************
প্রহ্লাদ কহে, আমার অন্তর্যামী যিনি
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “সম্পাদক” গল্পের চরিত্র কনকদেবীর কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
প্রহ্লাদ কহে, আমার অন্তর্যামী যিনি
সর্বত্র বিরাজেন তিনি।
শূন্যে জলে স্থলে সমুদ্রে পর্বতে
তিনি বিনা কিছু নাই নিখিলে ভবেতে।
তারে যদি চাহ পিতা অশ্রজলে ভাসি
তোমারে দিবেন দেখা মদু মৃদু হাসি।
দর্পভবে চাহ যদি দেখিবারে তারে
দর্পহারী রূপে তিনি আসিবেন দ্বারে।
ভক্তসখা রূপে যদি নাও তারে বরি
দেখিবে সম্মুখে তোমার দাঁড়ায়ে শ্রীহরি।
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “সম্পাদক” গল্পের চরিত্র কনকদেবীর কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
প্রহ্লাদ কহে, আমার অন্তর্যামী যিনি
সর্বত্র বিরাজেন তিনি।
শূন্যে জলে স্থলে সমুদ্রে পর্বতে
তিনি বিনা কিছু নাই নিখিলে ভবেতে।
তারে যদি চাহ পিতা অশ্রজলে ভাসি
তোমারে দিবেন দেখা মদু মৃদু হাসি।
দর্পভবে চাহ যদি দেখিবারে তারে
দর্পহারী রূপে তিনি আসিবেন দ্বারে।
ভক্তসখা রূপে যদি নাও তারে বরি
দেখিবে সম্মুখে তোমার দাঁড়ায়ে শ্রীহরি।
*********************
করজোড়ে নতশিরে লভিবারে সাজা
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “সম্পাদক” গল্পের চরিত্র কনকদেবীর কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
...করজোড়ে নতশিরে লভিবারে সাজা
মুনির সমুখে আসি দাড়াইল রাজা।
পুত্রশোকে মুনি কান্দে, কান্দে মুনিজায়া
কেমনে বাঁচিবে তারা --- প্রাণ বিনা কায়া।
সহসা শোকানলে জ্বলি মুনি কহেন রাজারে
শব্দভেদী বান হানি শুধু হিংসা করিবারে
পানরত গজভ্রমে বধিলে সিন্ধুরে
রাঙাইলে সরষূর নীরে।
হাবায়ে প্রাণের ধন
এই প্রাণ মোর দিব বিসর্জন।
তোমা পরে রাজা এই অভিশাপ
তুমিও ত্যজিবে দেহ লভি পুত্রশোক-তাপ।
অবাক বিষণ্ণ রাজা কাঁপে থর-থর
নিঃসন্তানেরে একি অভিশাপ দিলা মুনিবব!
মুনি বরে অভিশাপ সত্য যদি হয়
সন্তান গেহে তবে আসিবে নিশ্চয়।
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
কবির “সম্পাদক” গল্পের চরিত্র কনকদেবীর কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
...করজোড়ে নতশিরে লভিবারে সাজা
মুনির সমুখে আসি দাড়াইল রাজা।
পুত্রশোকে মুনি কান্দে, কান্দে মুনিজায়া
কেমনে বাঁচিবে তারা --- প্রাণ বিনা কায়া।
সহসা শোকানলে জ্বলি মুনি কহেন রাজারে
শব্দভেদী বান হানি শুধু হিংসা করিবারে
পানরত গজভ্রমে বধিলে সিন্ধুরে
রাঙাইলে সরষূর নীরে।
হাবায়ে প্রাণের ধন
এই প্রাণ মোর দিব বিসর্জন।
তোমা পরে রাজা এই অভিশাপ
তুমিও ত্যজিবে দেহ লভি পুত্রশোক-তাপ।
অবাক বিষণ্ণ রাজা কাঁপে থর-থর
নিঃসন্তানেরে একি অভিশাপ দিলা মুনিবব!
মুনি বরে অভিশাপ সত্য যদি হয়
সন্তান গেহে তবে আসিবে নিশ্চয়।
*********************
ওরে তোরা লাল পাল্কির কথা বল্
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “শতরূপে দেখা” উপন্যাসের, ছিরে পাগলার কবিতা বা গান। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “শতরূপে দেখা” উপন্যাসের, ছিরে পাগলার কবিতা বা গান। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
ওরে তোরা লাল পাল্কির কথা বল্
আমার ধ্যানে লাল জ্ঞানে লাল,
সব যে রে লালে লাল,
আমারে এ কি লালের কালে খেলো বল্!
আমি আর কোনো কথা শুনব না রে,
তোরা শুধু লাল পাল্কির কথা বল্,
বল্ বল্ বল্।
সখা রে, একবার ওই লাল পাল্কির কথা বল্,
আমার কেমন করে কাটে এই দণ্ড?
এই লাল দেখে আমি যে হয়ে গেলাম রে
ক্ষ্যাপা এক ষণ্ড।
আমি পাগল ছিলাম, ভালো ছিলাম,
এখন যে ক্ষেপে গেলাম, ক্ষেপে গেলাম রে...
*********************
আমার ধ্যানে লাল জ্ঞানে লাল,
সব যে রে লালে লাল,
আমারে এ কি লালের কালে খেলো বল্!
আমি আর কোনো কথা শুনব না রে,
তোরা শুধু লাল পাল্কির কথা বল্,
বল্ বল্ বল্।
সখা রে, একবার ওই লাল পাল্কির কথা বল্,
আমার কেমন করে কাটে এই দণ্ড?
এই লাল দেখে আমি যে হয়ে গেলাম রে
ক্ষ্যাপা এক ষণ্ড।
আমি পাগল ছিলাম, ভালো ছিলাম,
এখন যে ক্ষেপে গেলাম, ক্ষেপে গেলাম রে...
*********************
কহিল যমদেব, অন্য বর মাগ বরাঙ্গনে
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “শতরূপে দেখা” উপন্যাসের, ছিরে পাগলার কবিতা বা গান। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কহিল যমদেব, অন্য বর মাগ বরাঙ্গনে,
পতি বিনা যাহা চাহ পাইবে সুলক্ষণে।
করজোড়ে কৃতান্তে নমি সাবিত্রী যাচে শতপুত্র বর,
অমনি “তথাস্ত” কহি যমরাজার হইল সঙ্কট সুন্দর।
বর লভি প্রণমিয়া বিধুমুখি কহে হৃষ্ট বচনে,
পতি বিনা শতপুত্র সতী পাইবে কেমনে?
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “শতরূপে দেখা” উপন্যাসের, ছিরে পাগলার কবিতা বা গান। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
কহিল যমদেব, অন্য বর মাগ বরাঙ্গনে,
পতি বিনা যাহা চাহ পাইবে সুলক্ষণে।
করজোড়ে কৃতান্তে নমি সাবিত্রী যাচে শতপুত্র বর,
অমনি “তথাস্ত” কহি যমরাজার হইল সঙ্কট সুন্দর।
বর লভি প্রণমিয়া বিধুমুখি কহে হৃষ্ট বচনে,
পতি বিনা শতপুত্র সতী পাইবে কেমনে?
*********************
রাজার মাথায় বজ্র পড়ে
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “শতরূপে দেখা” উপন্যাসের, করণের মানুষের ছড়া। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
রাজার মাথায় বজ্র পড়ে
দীন ঘোষালের বিভূতি ঝরে।
আর, মান বেচে ধান ভানে
দত্ত বণিক বাণিজ্য জানে॥
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “শতরূপে দেখা” উপন্যাসের, করণের মানুষের ছড়া। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
রাজার মাথায় বজ্র পড়ে
দীন ঘোষালের বিভূতি ঝরে।
আর, মান বেচে ধান ভানে
দত্ত বণিক বাণিজ্য জানে॥
*********************
এসো এসো এসো
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৯১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “একাল ওকাল” উপন্যাসের ত্রিদিবনারায়ণের প্রার্থনা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
এসো এসো এসো---
শত্রুরূপে এসো মিত্ররূপে এসো
দণ্ডরূপে এসো ত্রাতারূপে এসো
শাসনে এসো ক্ষমায় এসো
দহনে এসো দয়ায় এসো
মরণে এসো জীবনে এসো
শোকে এসো শরণে এসো
তাপে এসো তপে এসো
পাপে এসো পুণ্যে এসো
আঁধার রূপে আলোক রূপে প্রলয় রূপে প্রজ্ঞা রূপে
রুদ্র অনলে সঘন-সজলে এসো এসো এসো
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৯১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত “একাল ওকাল” উপন্যাসের ত্রিদিবনারায়ণের প্রার্থনা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
এসো এসো এসো---
শত্রুরূপে এসো মিত্ররূপে এসো
দণ্ডরূপে এসো ত্রাতারূপে এসো
শাসনে এসো ক্ষমায় এসো
দহনে এসো দয়ায় এসো
মরণে এসো জীবনে এসো
শোকে এসো শরণে এসো
তাপে এসো তপে এসো
পাপে এসো পুণ্যে এসো
আঁধার রূপে আলোক রূপে প্রলয় রূপে প্রজ্ঞা রূপে
রুদ্র অনলে সঘন-সজলে এসো এসো এসো
*********************
তুমি আমার জীবন
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত “আলো আছে” উপন্যাসের সুহাসের ডায়েরির আধুনিক কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
আরও একটু সহজ হয়ে এসো
তুমি, আমার জীবন।
প্রতিদিন দাউদাউ আগুনের মধ্যে আমার বেঁচে থাকা ;
প্রতিদিন অসম্ভব মিথ্যের বিরুদ্ধে আমার পাঞ্জা কষা ;
প্রতিদিন হেঁটমুণ্ডু উর্ধ্বপদ
আমাকে ঝুলে থাকতে হয় একটা অন্ধকার টানেলে!
আগুনের তীব্র হলকায় পুড়ে যাচ্ছে আমার পালক
তুমি আরও একটু সহজ হয়ে এসো---জীবন।
নক্ষত্র তোলপাড় আকাশের নীচে
একটা নৌকোর অবাধ ভেসে যাওয়ার মতন সহজ,
ভাইয়ের নরম গালে যুবতী দিদির আতপ্ত চুম্বনের মতন সহজ,
পরিশ্রান্ত পুরুষের সামনে শাঁখা-পরা দুই কালো হাতে
মোটা চালের ভাত সানকিতে সাজিয়ে দেওয়ার মতন সহজ
হয়ে এসো আমার জীবন.........
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত “আলো আছে” উপন্যাসের সুহাসের ডায়েরির আধুনিক কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
আরও একটু সহজ হয়ে এসো
তুমি, আমার জীবন।
প্রতিদিন দাউদাউ আগুনের মধ্যে আমার বেঁচে থাকা ;
প্রতিদিন অসম্ভব মিথ্যের বিরুদ্ধে আমার পাঞ্জা কষা ;
প্রতিদিন হেঁটমুণ্ডু উর্ধ্বপদ
আমাকে ঝুলে থাকতে হয় একটা অন্ধকার টানেলে!
আগুনের তীব্র হলকায় পুড়ে যাচ্ছে আমার পালক
তুমি আরও একটু সহজ হয়ে এসো---জীবন।
নক্ষত্র তোলপাড় আকাশের নীচে
একটা নৌকোর অবাধ ভেসে যাওয়ার মতন সহজ,
ভাইয়ের নরম গালে যুবতী দিদির আতপ্ত চুম্বনের মতন সহজ,
পরিশ্রান্ত পুরুষের সামনে শাঁখা-পরা দুই কালো হাতে
মোটা চালের ভাত সানকিতে সাজিয়ে দেওয়ার মতন সহজ
হয়ে এসো আমার জীবন.........
*********************
সমুদ্র আয়না অনন্তের
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত “আলো আছে” উপন্যাসের সুহাসের ডায়েরির আধুনিক কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
সমুদ্র আয়না অনন্তের।
আর এই যে ইতস্তত ছড়ানো ছোট ছোট দ্বীপ ;---
এখানেই আমাদের ঘর-গেরস্থালি।
এখানে আছে দিন আর রাতের যুদ্ধ,---রাতের সঙ্গে দিনের যুদ্ধ।
প্রতিদিন পাথর ভেঙে ভেঙে যাত্রাপথ করে নিতে হয় আমাদের।
আছে রক্তপাত! উদ্যমের হর্ষ! শাণিত বল্লমের ফলায়
চকচকে মাছ!
দিনের শেষে যখন শান্ত হয়ে আসে সব কোলাহল,
ঘুম নেমে আসে চোখের পাতায়।
কেবলই উঠছে আর নামছে!
শুরু হয় বাতাসের চঞ্চলতা. অস্থিরতা ও জাগরণ.....
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত “আলো আছে” উপন্যাসের সুহাসের ডায়েরির আধুনিক কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
সমুদ্র আয়না অনন্তের।
আর এই যে ইতস্তত ছড়ানো ছোট ছোট দ্বীপ ;---
এখানেই আমাদের ঘর-গেরস্থালি।
এখানে আছে দিন আর রাতের যুদ্ধ,---রাতের সঙ্গে দিনের যুদ্ধ।
প্রতিদিন পাথর ভেঙে ভেঙে যাত্রাপথ করে নিতে হয় আমাদের।
আছে রক্তপাত! উদ্যমের হর্ষ! শাণিত বল্লমের ফলায়
চকচকে মাছ!
দিনের শেষে যখন শান্ত হয়ে আসে সব কোলাহল,
ঘুম নেমে আসে চোখের পাতায়।
কেবলই উঠছে আর নামছে!
শুরু হয় বাতাসের চঞ্চলতা. অস্থিরতা ও জাগরণ.....
*********************
ছোটো বোন
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত “আলো আছে” উপন্যাসের সুহাসের ডায়েরির আধুনিক কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
আমি কি পাহারা দেব
ছোট বোন ঘুমায় যখন
দুপুরে আকাশ নীল
শরীরের, শান্ত কলরব
আমি কি ঘোমেব পাশে
ছোট বোন ঘুমায় যখন .
*********************
কবি অশুতোষ মুখোপাধ্যায় ৫ (ঔপন্যাসিক)
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত “আলো আছে” উপন্যাসের সুহাসের ডায়েরির আধুনিক কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩। ৯.৫.২০২৬।
আমি কি পাহারা দেব
ছোট বোন ঘুমায় যখন
দুপুরে আকাশ নীল
শরীরের, শান্ত কলরব
আমি কি ঘোমেব পাশে
ছোট বোন ঘুমায় যখন .
*********************
