কবি বাদল সরকার - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার বিডন স্ট্রীটে এক বাঙালী খ্রীষ্টান পরিবারে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যব্যক্তিত্ব, “থার্ড থিয়েটার” বা "তৃতীয় থিয়েটার"-নাটকের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিতের পিতৃদত্ত নাম সুধীন্দ্রনাথ সরকার। পিতা মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মাতা সরলা মোনা সরকার। কবি বাদল সরকারের স্ত্রী বিশাখা রায় সু-অভিনেত্রী, নাট্য সংগঠক, একদা নকশাল আন্দোলনের অতি সক্রিয় কর্মী। তাঁদের পুত্র অভিজিৎ সরকার এবং কন্যা ভারতী চট্টোপাধ্যায়।

.


কবি বাদল সরকার - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার বিডন স্ট্রীটে এক বাঙালী খ্রীষ্টান পরিবারে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যব্যক্তিত্ব, “থার্ড থিয়েটার” বা "তৃতীয় থিয়েটার"-নাটকের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিতের পিতৃদত্ত নাম সুধীন্দ্রনাথ সরকার। পিতা মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মাতা সরলা মোনা সরকার। কবি বাদল সরকারের স্ত্রী বিশাখা রায় সু-অভিনেত্রী, নাট্য সংগঠক, একদা নকশাল আন্দোলনের অতি সক্রিয় কর্মী। তাঁদের পুত্র অভিজিৎ সরকার এবং কন্যা ভারতী চট্টোপাধ্যায়।
.
বাদল সরকারের শিক্ষা জীবন -    ^^ উপরে ফেরত
তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল থেকে স্কুল জীবন শেষ করে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক হন। এর পর তিনি ভর্তি হন শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তার অন্যতম সহপাঠী ছিলেন সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যাল। সাহিত্য ও নাটকের প্রতি আগ্রহের জন্য তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পারেটিভ লিটারেচার ক্লাসে ভর্তি হয়ে, ১৯৯২ সালে, ৬৭বছর বয়সে, এই বিষয়ে এম.এ পাশ করেন! .


বাদল সরকারের কর্ম জীবন -     ^^ উপরে ফেরত
পেশাগত দিক থেকে ছিলেন টাউন প্ল্যানার। শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পাশ করে, শুরুতে তিনি কাজ করেন একটি বেসরকারী সংস্থায়। ১৯৫৩ সালে যোগ দেন দামোদর ভ্যালি করপোরেশনে। ১৯৫৭ সালে কর্মসূত্রে এবং আরও উন্নত ট্রেনিংলাভের জন্য চলে যান ইংল্যাণ্ডে। সেখান থেকে ১৯৬৩ সালে ফ্রান্সে কিছুদিন কাজ করে চলে যান নাইজেরিয়ায়। সেখানেই তিনি রচনা করেন তাঁর যুগান্তকারী নাটক “এবং ইন্দ্রজিৎ”। ১৯৬৭ সালে ফিরে আসেন কলকাতায় এবং যোগ দেন কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কলকাতা মেট্রোপলিটান প্ল্যানিং অর্গানাইজেশনে। সেখান থেকে ১৯৭৭ সালে (১৯৭৫?), ৫২ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করে পুরোপুরি থার্ড থিয়েটার নামক ভিন্ন ধারার নাটক নিয়ে মেতে থাকেন জীবনের শেষ পর্যন্ত। .


বাদল সরকারের নাট্যজীবন -   ^^ উপরে ফেরত
১৯৫১ তে তাঁর নাট্যজীবন শুরু হয় তাঁর নিজের রচিত “বড় তৃষ্ণা” নাটকে অভিনয় দিয়ে “চক্র” থিয়েটার গোষ্ঠিতে। প্রথম জীবনে শৌখিন থিয়েটারে অভিনয়ের পর তিনি ‘শতাব্দী’ নামে নতুন একটি নাট্যগোষ্ঠী তৈরি করেন ১৯৬৭ সালে। বিদেশি ছবি মাঙ্কি বিজনেস আবলম্বনে “সলিউশন এক্স” নামে একটি নাটক লিখেছেন যেটি ১৯৫৮ সালে “খাপছাড়া” পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৬১ সালে তাঁর প্রথম কৌতুকনাটক “বড় পিসিমা” প্রকাশিত হয়। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় “রাম-শ্যাম-যদু”।

৭০ দশকের নকশাল আন্দোলনের সময় প্রতিষ্ঠান বিরোধী নাটক রচনার জন্যে তিনি পরিচিত হন। তাঁর স্ত্রী বিশাখা রায় ছিলেন সু-অভিনেত্রী ও একদা নকশাল আন্দোলনের অতি সক্রিয় কর্মী। মঞ্চের বাইরে, থিয়েটার হলের বাইরে, সাধারণ মানুষের ভেতর নাটককে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ বাদল সরকারের, যাকে তিনি “থার্ড থিয়েটার” হিসেবে চিহ্নিত করেন।

নাইজেরিয়াতে কর্মরত অবস্থাতেই তিনি তাঁর যুগান্তকারী নাটক “এবং ইন্দ্রজিৎ” রচনা করেন ১৯৬৩ সালে, যা ১৯৬৫ সালে প্রথম প্রকাশিত ও অভিনীত হয়, যা তাঁকে রাতারাতি সুখ্যাতি এনে দেয়, কারণ এই নাটকে তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী শহুরে তরুণদের নিঃসঙ্গতাকে নির্ভুলতার সাথে তুলে ধরেছিলেন। এরপর তিনি একে একে রচনা করতে থাকেন বাকি ইতিহাস (১৯৬৫), প্রলাপ (১৯৬৬), ত্রিংশ শতাব্দী (১৯৬৬), পাগলা ঘোড়া (১৯৬৭), শেষ নাই (১৯৬৯) প্রভৃতি সব নাটকই শম্ভু মিত্র-তৃপ্তি মিত্রর “বহুরূপী” নাট্যগোষ্ঠী দ্বারা অভিনীত হয়।

১৯৬৭ সালে ‘শতাব্দী’ নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে প্রথম নাটক “এবং ইন্দ্রজিৎ” পরিবেশিত হয় তাঁর পরিচালনায়। প্রতিষ্ঠার পরবর্তী পাঁচ বছরে নাট্যদলটি তাঁর বেশ কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ করে এবং সমসাময়িক নাট্যজগতের উপর এক গভীর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের পর থেকে, যখন তারা মঞ্চে এবং সরাসরি মানুষের মাঝে নাটক পরিবেশন করা শুরু করেন এবং গ্রামীণ নাট্যধারা ও যাত্রার প্রত্যক্ষ যোগাযোগের কৌশল দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে অঙ্গন মঞ্চের (উঠোন মঞ্চ) বিকাশ ঘটায়, যা অবশেষে প্রচলিত বাণিজ্যিক নাট্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদস্বরূপ তাঁর "তৃতীয় থিয়েটার"-এ পরিণত হয়।

ভাড়া করা থিয়েটার হলের পরিবর্তে প্রায়শই সহজলভ্য জায়গায়, জাঁকজমকপূর্ণ আলো, পোশাক বা মেকআপ ছাড়াই মঞ্চস্থ হওয়ায়, যেখানে দর্শক শুধু নিষ্ক্রিয় দর্শক না থেকে অংশগ্রহণকারী হয়ে উঠত, তা সমসাময়িক নাট্যরচনায় এক নতুন বাস্তবতা যোগ করেছিল এবং একই সাথে সামাজিক দায়বদ্ধতাসম্পন্ন নাটকের বিষয়গত পরিশীলনও বজায় রেখেছিল, আর এভাবেই ভারতীয় নাট্যজগতে পরীক্ষামূলক নাটকের এক নতুন ধারার সূচনা করেন বাদল সরকার।

১৯৭৬ সালে তাঁর 'শতাব্দী' নাট্যদল, কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ পার্কে যা তখনও কার্জন পার্ক ছিল, সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠান করা শুরু করে। খোলা আকাশের নিচে, বিনামূল্যের নাটক পরিবেশনার ফলে তাঁর দলটি কাছের গ্রামগুলিতে গিয়ে নাটক পরিবেশনা করতে থাকে। ন্যূনতম সরঞ্জাম ও তাৎক্ষণিক সংলাপ ব্যবহার করাতে, তাঁরা দর্শকদের নাটক পরিবেশনার সাথে তাঁদের নাটকের ভিতরে নিয়ে আসার কাজ করতেন। তাঁর ভোমা, সাহিনা মাহাতো, মিছিল, বাসি খবর, হাওয়ার্ড ইস্টের ঐতিহাসিক স্পার্টাকাস নভেলর উপর তাঁর রচিত নাটক, পরিবেশন করা হয়েছিল খোলা জায়গায়, পার্কে, কোনো রাস্তার মোড়ে, গ্রামে গঞ্জে।

৭০ এর দশকে, নকশাল আন্দোলনের সময় তিনি তাঁর ক্রোধপূর্ণ ও প্রতিষ্ঠানবিরোধী নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যজগতে এক বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর নাটকে সমাজে প্রচলিত নৃশংসতা ও ক্ষয়িষ্ণু শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা যেতো।

তাঁর অন্যান্য নাটকের মধ্যে রয়েছে “এবং ইন্দ্রজিৎ”, “শেষ নেই”, “সারারাত্তির”, “যদি আর একবার”, “শেষ নেই”, “কবি কাহিনী”, “আবু হোসেন”, “মিছিল”, “উদ্যোগপর্ব”, “বাসি খবর”, “স্পার্টাকুস”, “বাকি ইতিহাস”, “প্রলাপ”, “ত্রিংশ শতাব্দী”, “পাগলা ঘোড়া”, “রাম শ্যাম যদু”, “প্রস্তাব”, “ভোমা”, “সলিউশন এক্স”, “বড় পিসিমা”, “মানুষে মানুষে”, “হট্টমুলার ওপারে”, “বল্লভপুরের রূপকথা”, “সুখপাঠ্য ভারতের ইতিহাস”, “গণ্ডী”, “নদীতে ডুবিয়ে দাও”, “সিঁড়ি”, “বাঘ”, “ক চ ট ট প”, “বাংলা চরিত মানস”, “ওরে বিহঙ্গ”, “জন্মভূমি আজ”, “চড়ুইভাতি” সহ আরও অনেক।


.


কন্যার জবানীতে বাদল সরকারের ব্যক্তিগত জীবন -   ^^ উপরে ফেরত
Rediff.com এ ৩০শে মে ২০১১ তারিখে প্রকাশিত ইন্দ্রানী রায় মিত্রর নেওয়া, কবিকন্যা ভারতী চ্যাটার্জীর একটি সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর পিতার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বলেন...

কবিকন্যা ভারতী চ্যাটার্জীর ঠাকুরদা বা বাদল সরকারের পিতা মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন একজন “চার্চ এল্ডার” অর্থাৎ যিনি গির্জার একজন সম্মানিত প্রবীণ আধ্যাত্মিক নেতা, যিনি গির্জার ফাদারের সাথে মিলে গির্জার পরিচালনা, আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা রক্ষা, ঈশ্বর-বাক্য শিক্ষা এবং সদস্যদের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। এরকম একজন নিবেদিত খ্রিস্টানের পুত্র হয়েও বাদল সরকার ধর্মের ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন ছিলেন। তিনি নিজে কখনো খ্রিস্টধর্ম পালন করেননি, কিংবা তাঁর পুত্র ও কন্যার উপরে কোনো কঠোর বিধিনিষেধও আরোপ করেননি। তিনি তাঁদের যা খুশি তা করার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।

কবিকন্যা যখন একজন হিন্দুর সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন, তখনও পিতা বাদল সরকার কোনো রকম আপত্তি করেন নি। এমনকি তাঁর শ্বশুরবাড়ির শর্ত অনুযায়ী তাঁকে এবং তাঁর স্বামীকে যখন নাটকে অভিনয় ছাড়তে হয়, তখনও পিতা বাদল সরকার কোনো আপত্তি করেন নি। তাঁরা দুজনই ছিলেন বাদল সরকারের প্রথম শিষ্যযুগল!

কন্যার চোখে তিনি ছিলেন একজন আইকনোক্লাস্ট বা সংস্কারবিরোধী মানুষ।

তিনি আরও জানান যে তাঁর পিতা বাদল সরকার একেবারে আদর্শ পিতা না হলেও একজন আদর্শ পতি ছিলেন! তাঁর পিতা তাঁর মায়ের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাঁরা যেন একেবারে “মেড ফর ইচ আদার” ছিলেন! তিনি ও তাঁর দাদা, কোনো দিন তাঁর বাবা-মার মধ্যে কোনো কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া দেখেননি।

কিন্তু সম্পাদক ব্রাত্য বসুর “ব্রাত্যজন নাট্যপত্র” পত্রিকার এপ্রিল ২০২৫ সংখ্যায়, বাদল সরকারের স্ত্রী বিশাখা রায়ের যে সাক্ষাৎকার ছেপেছেন, তাতে একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে ।

কিন্তু সম্পাদক ব্রাত্য বসুর “ব্রাত্যজন নাট্যপত্র” পত্রিকার এপ্রিল ২০২৫ সংখ্যায়, বাদল সরকারের স্ত্রী বিশাখা রায়ের সাক্ষাৎকার ছেপেছেন তা নিয়ে আজকাল পত্রিকায় প্রচেত গুপ্তর একটি লেখা থেকে আমরা একটি বিচিত্র ঘটনার কথা জানতে পারছি! একবার বাদল সরকার তাঁকে না জানিয়ে, তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করে তিনদিনের একটা গ্রাম পরিক্রমায় চলে গিয়েছিল। তাই তিনি নাকি অভিমানে ঘুমের পিল খেয়ে নিয়েছিলেন!

ব্রাত্যবসুর নেওয়া বিশাখা রায়ের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রচেত গুপ্তর লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন...

ইন্দ্রানী রায় মিত্রর নেওয়া, কবিকন্যা ভারতী চ্যাটার্জীর সাক্ষাৎকারটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন...

.


বাদল সরকারের প্রাপ্ত সম্মাননা -        ^^ উপরে ফেরত
১৯৬৮ সালে তিনি সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ লাভ করেন এবং পারফর্মিং আর্টসে সর্বোচ্চ সম্মান সংগীত নাটক আকাদেমি ফেলোশিপ— ‘রত্ন সদস্য’ পেয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি জওহরলাল নেহরু ফেলোশিপ পান। ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননায় ভূষিত করেন। ১৯৯৭ সালে সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি ফেলোশীপ থেকে ভারত সরকারের সর্ব্বোচ্চ পুরষ্কার “রত্ন সদস্য” পদকে তাকে সন্মানিত করা হয়। বাদল সরকারকে নিয়ে দুটি তথ্যচিত্র তৈরি হয়। একটি তথ্যচিত্রের পরিচালক ছিলেন আমশন কুমার এবং অপরটির পরিচালক ছিলেন সুদেব সিনহা।

২০১০ সালে কেরালা সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি তাঁরে আম্মান্নুর পুরস্কারম পুরস্কারে ভূষিত করেন তাঁর থিয়েটারে সারাজীবনের অবদানের জন্য।

২০১০ই সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মবিভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তাঁর মতে তখন তিনি একজন লেখক হিসেবে সাহিত্য অ্যকাডেমির ফেলো ছিলেন, যা তাঁর মতে যেকোনো লেখকের জন্য সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।
.


বাদল সরকারকে নিয়ে ভিডিও ও গান -     ^^ উপরে ফেরত
বাদল সরকারের “মিছিল” নাটক ও একটি সাক্ষাৎকার এবং রাস্তায় তাঁর নাটকের অংশ যেখানে তাঁকেও দেখা যাচ্ছে অভিনয় করতে, দেখার জন্য শুভঙ্কর দের ফেসবুক পোস্টে যেতে এখানে ক্লিক করুন...

বাদল সরকারের নাটক অবলম্বনে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের পরিচালনায় বড়পর্দায় হাস্য ভৌতিক সিনেমা 'বল্লভপুরের রূপকথা'। এই সিনেমা থেকেই দেবরাজ ভট্টাচার্য, শুভদীপ গুহর সুরে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের লেখা 'বাদল সরকারের গান', গেয়েছেন দেবরাজ ভট্টাচার্য, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, শুভদীপ গুহ আর জিজো। এই ভিডিোটি দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন...
.


বাদল সরকারের গল্প ও কিশোর সাহিত্য -     ^^ উপরে ফেরত
বাদল সরকারের নাট্যজীবন অংশে আমরা তাঁর নাটক রচনা নিয়ে কিছু লিখেছি। শুধু নাটক নয়, অনেক বিদেশি গল্প অনুসরণে তিনি বহু বাংলা গল্পও লিখেছিলেন। রয়েছে তাঁর কিছু অনবদ্য ছোটগল্প, রূপকথা এবং কিশোর সাহিত্যও। “ছবির খেলা” ছোটদের জন্য লেখা তাঁর একটি অনবদ্য বই যেখানে ছড়া ও রেখাচিত্রের মাধ্যমে এক অনন্য খেলার জগৎ তৈরি করেছিলেন তিনি। সর্বোপরি রয়েছে লীলা মজুমদারের সঙ্গে যৌথভাবে ছোটদের গল্প ও নাট্যধর্মী বিখ্যাত বই “হট্টমেলার দেশে”। মিলনসাগরে লীলা মজুমদারের কবিতা ও ছড়ার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন...
.


কবি সুশীল সাহার কলমে কবি বাদল সরকার -     ^^ উপরে ফেরত
প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক, সম্পাদক সুশীল সাহা pratidhwanibd.com ওয়েবসাইটে “বাদল সরকারের কবিতার তুলনা ও প্রতি তুলনা” প্রবন্ধে বাদল সরকারের কবিতা নিয়ে খুব সুন্দর করে লিখেছেন...

... “ বাদল সরকারের কবিত্ব শক্তির যে পরিচয় আমরা পাই তা সত্যি অভূতপূর্ব। আক্ষেপ হয়, তিনি কেন কবিতার জগতে সেইভাবে এলেন না! তবে এটা ঠিকই যে তাঁর এই ক্ষমতা তাঁকে একজন অন্যরকম নাট্যকার তৈরি করেছে। বাংলায় মোহিত চট্টোপাধ্যায় ছাড়া আর কারো ভিতর এমনটা সেইভাবে দেখা যায়নি। ১৯৮৭-তে লেখা তাঁর তাতে কার কি নামাঙ্কিত একটি কবিতার কথা এখানে বলতেই হবে। এই অসামান্য কবিতাটিতে সুরারোপ করে সংগীতে রূপান্তর করেছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়।‘এদিকে এলতলা বেলতলা’–এই গানটি শুনলে বোঝা যাবে কবিতা হিসেবে কী উচ্চতা এর! গানের প্রিলিউডে মাটির বেহালার সুরের মূর্ছনা এনে আমাদের অবাক করে দিয়েছিলেন প্রতুলবাবু।...
... এই হল কবি বাদল সরকার। সারাজীবন কবিতা নিয়ে ভেবেছেন, অথচ কবি হিসেবে আলাদা কোনও দাবি তাঁর ছিল না। সেই অর্থে কবি হতেই হয়ত চান নি। কবিতা এসেছে তাঁর মনের মধ্যে ঘুরপাক খাওয়া ভাবনাগুলোকে রূপ দেবার জন্যে। তাই তাঁর নাটকগুলোর সংলাপে সংলাপে কবিতার অনুভব। এমনকি আলাদাভাবে কবিতার ব্যবহার করেছেন নাট্কের মুহূর্তগুলোকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্যে। তাই তো তাঁর নাটক অন্যদের থেকে একেবারেই আলাদা। ”

সুশীল সাহার “বাদল সরকারের কবিতার তুলনা ও প্রতি তুলনা” প্রবন্ধটি পুরো পড়তে এখানে ক্লিক করুন...
মিলনসাগরে নাট্যকার কবি মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন...
মিলনসাগরে কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কবিতার পাতায় যেতে এখানে ক্লিক্ করুন...
.


মিলনসাগরে বাদল সরকারের কবিতা -     ^^ উপরে ফেরত
কবি হিসেবে বাদল সরকার নাম না করে থাকলেও, তাঁর অনেক নাটকের বিভিন্ন চরিত্রদের মুখ দিয়ে তিনি কবিতা বলিয়েছেন বা সরাসরি আবৃত্তি করিয়েছেন এবং তা আধুনিক বা ছন্দবদ্ধ যে কবিতাই হোক, তা অতি উচ্চ মানের। তাঁর কবিতা পড়লেই বোঝা যায় যে যদি বাদল সরকার শুধু কবি হিসেবে পাঠকের দরবারে আসতেন তবে কবি হিসেবেও তিনি এমনই সম্মান অর্জন করতেন যা তিনি নাটকের জগতে অর্জন করেছিলেন।

বাদল সরকারের কৌতুকনাটক “আবু হোসেন” যাকে তিনি নাটকের শেষে বলেছেন কৌতুকপুর্ণ গীতিনাট্য, সত্যিই একটি গীতিনাট্য। নাটক জুড়ে গান তো রয়েইছে এবং সেগুলো কোন প্রচলিত হিন্দী গানের সুরে গাইতে হবে তাও দিয়েছেন লিখে! নাটকে অনেকাংশে বিভিন্ন চরিত্র সংলাপ বলছেন একে অপরের সংলাপের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে। নাটকটির প্রথম অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কটি পুরোটাই ছন্দে সাজানো হয়েছে! আমরা এখান থেকে কেবল কয়েকটি গীত তুলে দিয়েছি।

আমরা তাঁর ৪০ টি কবিতা মিলনসাগরে তুলেছি “এবং ইন্দ্রজিৎ”, “শেষ নেই”, “সারারাত্তির”, “যদি আর একবার”, “শেষ নেই”, “কবি কাহিনী”, “আবু হোসেন”, “মিছিল”, “উদ্যোগপর্ব” প্রভৃতি নাটক এবং তাঁর ১৯৮৮’র নভেম্বরে প্রকাশিত “নানামুখ” গ্রন্থ থেকে।

তাঁর ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত “লক্ষ্মীছাড়ার পাঁচালী" কবিগান বা গীতিনাট্যটি পুরোটাই কবিতা। তাই আমরা তা সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছি, কবির মুখবন্ধ সহ, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ দ্বারা প্রকাশিত বাদল সরকারের “নাটক সমগ্র” ৩য় খণ্ড-এ থেকে।

আমরা মিলনসাগরে নাট্যকার কবি বাদল সরকারের কবিতা ও তাঁর জীবন ও কর্মযজ্ঞ আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা কবি বাদল সরকারের প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।



নাট্যকার কবি বাদল সরকারের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল
: srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ
: +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭



এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৩০.৫.২০২৬।


উৎস ---
^^ উপরে ফেরত