কবি বসুদেব দাস বাসুদেব দাস বৈষ্ণব পদাবলী
*
কবি বসুদেব দাস/বাসুদেব দাসের পরিচিতির পাতায় . . .
অহে নবজলধর
বাসুদেব দাস
১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সম্পাদিত, সাহিত্য অকাদেমি প্রকাশিত, “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, ৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অহে নবজলধর
বরিষ হরিষ হড় মনে।
শ্যামের মিলন মোর সনে॥
বরিষ মন্দ-ঝিমানি।
আজু সুখে বঞ্চিব রজনী॥
গগনে সঘনে গরজনা।
দাদুরী দুন্দুভি বাজনা॥
শিখরে শিখণ্ডিনী রোল।
বঞ্চিব সুরনাথ কোল॥
দোহার পিরীতিরস আশে।
ডুবল বাসুদেব দাসে॥

****************








*
দণ্ডে শতবার খায় যাহা দেখে তাহা চায়
ভণিতা বসুদেব দাস / বাসুদেব দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”, সংকলনে, ১৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে ভণিতা “বসুদেব দাস” দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দণ্ডে শতবার খায় যাহা দেখে তাহা চায় ছেনা
দধি এক্ষীর নবনী। রাখিহ আপন কাছে ভোকছানি লাগে
পাছে আমার সোণার যাদুমণি॥ শুন বাপু হলধর এক নিবে-
দন মোর এই গোপাল মায়ের পরাণ। যাইতে তোমার
সনে সাধ করিয়াছে মনে আপনি হইও সাবধান। দামালিয়া
যাদু মোর না জানে আপন পর ভাল মন্দ নাহিক গেয়ান॥
দারুণ কংসের চর তারা ফিরে নিরম্তর আপনি হইও সাবধান।
বাম করে হলধর দক্ষিণ করে গিরিধর শুন বলাই নিবেদন
বাণী। বসুদেব দাসে বলে তিতিল নয়ানের জলে মুরছিয়া
পড়িল ধরণী॥

******************

ই পদটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত, চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দণ্ডে শতবার খায়, যাহা দেখে তাহা চায়, ছানা দধি এ ক্ষীর নবনী।
রাখিও আপন কাছে, ভোক্ছানি লাগে পাছে, আমার সোণার যাদুমণি॥ শুন
বাপু হলধর, এক নিবেদন মোর, এই গোপাল মায়ের পরাণ। যাইতে তোমার
সনে, সাধ করিয়াছে মনে, আপনি হইও সাবধান॥ দামালিয়া যাদু মোর, না জানে
আপন পর, ভাল মন্দ নাহিক গেয়ান। দারুণ কংসের চর, তারা ফিরে নিরম্তর.
আপনি হইও সাবধান॥ বাম করে হলধর, দক্ষিণ করে গিরিধর, শুন বলাই
নিবেদন বাণী। বাসুদেব দাস বলে, তিতিল নয়নের জলে, মুরছিয়া পড়িল
ধরণী॥

******************

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নন্দরাণীর উক্তি
॥ কড়খাধ নশী - ছুটা॥

দণ্ডে শতবার খায়,     যাহা দেখে তাহা চায়,
ছেনা দধি এ ক্ষীর নবনী।
রাখিও আপন কাছে,     ভুখ জানি লাগে পাছে
আমার সোনার যাদুমণি॥
শুন বাপ হলধর,     ক নিবেদন মোর,
এই গোপাল মায়ের পরাণ।
যাইতে তোমার সনে,     সাধ করিয়াছে মনে,
আপনি হইও সাবধান॥
দামালিয়া যাদু মোর     না মানে আপন পর
ভাল মন্দ নাহিক গেয়ান।
দারুণ কংসের চর,     তারা ফিরে নিরম্তর
তুমি বড়ই হবে সাবধান।
বাম করে হলধর,     দক্ষিণ করে গিরিধর
সমর্পণ করি নন্দরাণী।
বাসুদেব দাস বলে,     তিতিল নয়ন জলে
মুখ হেরি রহে নন্দরাণী।

******************
ই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সম্পাদিত, সাহিত্য অকাদেমি প্রকাশিত, “বৈষ্ণব পদাবলী” সংকলন, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এখানে ভণিতা “বাসুদেবদাস” দেওয়া রয়েছে।

উদ্দেগব্যাকুল যশোদা

দণ্ডে শতবার খায়     যাহা দেখে তাহা চায়
ছাণা দধি এ ক্ষীর নবনী।
রাখিহ আপন কাছে     ভোকছানি লাগে পাছে
আমার সোনার যাদুমণি॥
শুন বাপু হলধর     এক নিবেদন মোর
এই গোপাল মায়ের পরাণ।
যাইতে তোমার সনে     সাধ করিয়াছে মনে
আপনি হইয় সাবধান।
দামালিয়া যাদু মোর     না মানে আপন-পর
ভালমন্দ নাহিক গেয়ান।
দারুণ কংসের চর     তারা ফিরে নিরম্তর
আপনি হইয়া সাবধান।
বাম করে হলধর      দক্ষিণ করে গিরিধর
শুন বলাই নিবেদন-বাণী।
বাসুদেবদাস বলে     তিতিল নয়নজলে
মুরছিয়া পড়িল ধরণী।

******************