কবি দেবব্রত বিশ্বাসএর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি দেবব্রত বিশ্বাস এর পরিচিতির পাতায় . . .
ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না
কথা ও সুর দেবব্রত বিশ্বাস
গানটি তিনি রচনা করেন ১৯৮০ সালে। বিশ্বভারতীর মিউজির বোর্ডের সাথে তাঁর ঘোর মতবিরোধ হওয়ার পরে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত আর রেকর্ড করবেন না বলে স্থির করেন ১৯৭২ সালে। গানটি পার্থপ্রতীম চৌধুরী পরিচালিত, ১৯৮৬ এর “শুভ কেমন আছ” সিনেমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় --- ক্যাসেটে বাজানো হচ্ছে দেখানো হয়। অভিনয় করেছিলেন ধৃতিমান চ্যাটার্জী, গীতা দে, দেবিকা মুখার্জী, রণজিত মল্লিক, দিলীপ মুখার্জী, কালী ব্যানার্জী, অনিল চ্যাটার্জী, সন্তু মুখার্জী, সন্তোষ দত্ত প্রমুখরা। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩.৫.২০২৬।

গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .

ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না
আমি বুঝতাম পারলাম না
ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না
আমি বুঝতাম পারলাম না
এই কথাডা তো ব্যাবাকের আসে জানা
এই কথাডা তো ব্যাবাকের আসে জানা
জাইন্যা হুইন্যাও কেউ কিসু রাও করে না
ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না
আমি বুঝতাম পারলাম না
সুদূরের পিয়াসী হইয়া আমি কত ব্যাড়াইছি
সুদূরের পিয়াসী হইয়া আমি কত ব্যাড়াইছি
অলস মায়ায় ভাইস্যা ভাইস্যা
অলস মায়ায় ভাইস্যা ভাইস্যা
ভালবাসা কুড়াইছি
দ্যাশে দ্যাশে ঘুইরা ঘুইরা
কত গান গাইয়া গাইয়া
দ্যাশে দ্যাশে ঘুইরা ঘুইরা
কত গান গাইয়া গাইয়া
কত লুকের লগে আমার হইসে জানা হোনা
এই কথাডা তো ব্যাবাকের আসে জানা
এই কথাডা তো ব্যাবাকের আসে জানা
জাইন্যা হুইন্যাও কেউ কিসু রাও করে না
ক্যারে হেরা আমারে গাইতায় দিল না
আমি বুঝতাম পারলাম না
বুঝতাম পারলাম না
বুঝতাম পারলাম না


*********************









*
গুরুদেব গুরুদেব, তোমায় গুরু বলে জানি
কবি জর্জ দেবব্রত বিশ্বাস
তাঁর গুরুবন্দনার ১ম গান। বিশ্বভারতীর মিউজির বোর্ডের সাথে তাঁর ঘোর মতবিরোধ হওয়ার পরে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত আর রেকর্ড করবেন না বলে স্থির করেন। ১৯৭২ সালে, “গুরুবন্দনা” নামে, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত দুটি গান রচনা করে সুর দিয়ে হিন্দুস্থান রেকর্ডিং কোম্পানীতে রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তাঁরা গানদুটি প্রকাশ করেন নি, কোনো অজ্ঞাত কারণবশতঃ। এই ঘটনার পেছনে কোনো গোপন হাত কাজ করেছিল কি না তা তিনি জানতে পারেন নি বলে তাঁর আত্মজীবনী “ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত”-এ (১১২-পৃষ্ঠায়) লিখে গিয়েছেন। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩.৫.২০২৬।

গুরুদেব গুরুদেব, তোমায় গুরু বলে জানি
তোমায় নত হয়ে আমি মানি।
শিশুকালে বসে মায়ের কোলে,
মায়ের মুখে তোমার গানের মর্ম কিছুই বুঝিনি তখন
শুধু চেয়ে থাকতাম তাঁর মুখের পানে।
তুমি তো জান যে গানের পরশ লেগেছিল মোর প্রাণে,
করিনি তো হেলা, কত মন্দির ভরেছি তোমার গানে
শুনায়েছি কত মাঠে প্রান্তরে তোমার অমৃতবাণী,
তোমায় গুরু বলে আমি জানি।
তোমার গানের মন্দিরে আমি সারা জীবন ধরে
তোমার গানের মালা গেঁথেছি দিবস রাত্রি ধরে
প্রহর শেষের ঘণ্টা যখন বাজছে আমার বুকের মাঝে,
তোমার গানের মন্দির-দ্বারীর হুঙ্কারধ্বনি শুনি বাজে।
আমার প্রবেশ নিষেধ করি দুয়ার ওরা যে দেয় টানি,
ওদের কঠিন তিরস্কার অর্থহীন তা জানি জানি।
তাই বাহির দুয়ারে বসে সবারে,
শুনাই তোমার বাণী, তোমায় গুরু বলে আমি জানি॥


*********************









*
বিশ্ববীণার কলধ্বনি তোমার মনোবীণার তারে তারে
কবি জর্জ দেবব্রত বিশ্বাস
তাঁর গুরুবন্দনার ২য় গান। বিশ্বভারতীর মিউজির বোর্ডের সাথে তাঁর ঘোর মতবিরোধ হওয়ার পরে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত আর রেকর্ড করবেন না বলে স্থির করেন। ১৯৭২ সালে, “গুরুবন্দনা” নামে, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশে উৎসর্গীকৃত দুটি গান রচনা করে সুর দিয়ে হিন্দুস্থান রেকর্ডিং কোম্পানীতে রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তাঁরা গানদুটি প্রকাশ করেন নি, কোনো অজ্ঞাত কারণবশতঃ। এই ঘটনার পেছনে কোনো গোপন হাত কাজ করেছিল কি না তা তিনি জানতে পারেন নি বলে তাঁর আত্মজীবনী “ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত”-এ (১১৩-পৃষ্ঠায়) লিখে গিয়েছেন। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৩.৫.২০২৬।

বিশ্ববীণার কলধ্বনি তোমার মনোবীণার তারে তারে
জাগাল যে কতগান, তারি প্রতিধ্বনি ভেসে এসে
ঝংকারিল আমার প্রাণ, ঝংকারিল আমার প্রাণ।
মনে নানা রঙের রসে তুমি রোপিলে তোমার গানের চারা,
আজকে দেখি প্রাণের সাড়ায় ফুলেফলে রঙিন বেশে
দাঁড়ায় তারা, আহা দাঁড়ায় তারা।
তোমায় যারা ভালোবাসে
বিলাই সে ফুল তাদের কাছে,
তারা হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করে তোমারি সে দান
ঝংকারিল আমার প্রাণ।

মনে গড়ে একদিন
তোমারি অর্ঘ্য সাজানু আমি তোমারি রচিত গানে,
মনে আছে সেই দিন
স্নেহমাথা চোখে চেয়েছিলে তুমি আমার পানে।
তোমার জ্ঞানী যত প্রথার দোহাই দিয়ে
আজ রচিছে বিধান নব নব,
তোমার গানের রসের ধারা
দম্ভভরে তারা করে সারা,
কী আর কব আমি কী আর কব?
প্রাণের চেয়ে করে নিয়মকে বড়
তুমি ওদের ক্ষমা করো।
ওরা জানে না, ওরা বোঝে না
ওদের প্রাণে তো নাই কোনো গান
ব্যথায় ভরে আমার প্রাণ॥


*********************