কবি মধুমিতা ভট্টাচার্যর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্যর পরিচিতির পাতায় . . .
কুয়াশার ডাকবাক্স
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রথম প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

ঠোঁটে ভেসলিন লাগিয়ে শীতকাল এলো

পুরোনো ব্যাডমিন্টনের র‍্যাকেট থেকে বেরিয়ে মাকড়সার কিশোর ছেলে
মশামেয়েটিকে দেখে সিটি বাজাল

আমি তোমার ভালোবাসা মাপতে
পিঠ এলিয়ে দিলাম রোদে
জ্বর নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরের গা থেকে

কুয়াশার ডাকবাক্সে জমেছে টিকটিকির ডিম

*********************









*
দ্য মেটামরফসিস
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
দিল্লী থেকে প্রকাশিত "লিপিসত্র" ই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

সুরছেঁড়া বেহালার উপর বসে একটি আরশোলা
দ্য মেটামরফোসিস পড়ছিল

মানুষ হতে হতে সে বুঝতে পারল
শিরদাঁড়ার কোনো প্রয়োজন নেই

লিকলিকে অদ্ভূত ধরণের এক জন্তু
তেলের মতো গড়িয়ে পড়ে যায় পিচ্ছিল পায়ে

এর থেকে বরং সে পতঙ্গ হবে
বার বার আগুনের কাছে যাবে কবিতার মতো

উড়তে উড়তে পুড়তে পুড়তে
পক্ষাঘাতগ্রস্থ মেরুদণ্ডে শুড়শুড়ি দেবে

*********************









*
সূর্য কিনবে ওরা
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
২০২৩, আন্তর্জাতিক আগরতলা, ত্রিপুরা বইমেলায়, "দিগন্ত প্রকাশনী" থেকে প্রকাশিত "এবং হাঁটছি" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

স্টেশনে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম ওরা
ব্যাগ ঝুলিয়ে অপেক্ষা করছিল ছুটতে..।
সূর্য কিনে আনবে,

আমিও চেয়েছিলাম — পারিনি
অল্প মূল্যে কিনতে পেরেছি সমুদ্র,
এখন লবণের চাষ করি।

পাগলটাও ছুটছিল একটা ঢিল হাতে,
যেকোনো কোথাও ছুঁড়ে মারতে পারে,
গতজন্মে নিশ্চই সে প্রেমিক ছিল-
আকাশ কিনতে চেয়েছিল - পারেনি।
এখন সে মাটির রাজা – থুতু ছিটায়
          আকাশের দিকে

*********************









*
জোনাকি
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
২০২৩, আন্তর্জাতিক আগরতলা, ত্রিপুরা বইমেলায়, "দিগন্ত প্রকাশনী" থেকে প্রকাশিত "এবং হাঁটছি" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

যে মৃত্যু আমি প্রতিদিন ছুঁয়ে দেখি
তার রঙ জোনাকির আলোর মতো,
শীতে ঘুমিয়ে পড়া গ্রামে
পথ ভুলো ঘর খুঁজে না পেলে
ঠিকানা জমা রাখে
বন্ধ দোকানের বারান্দার কাছে

*********************









*
দান
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
২০২৪ সালে "নীহারিকা প্রকাশনা", আগরতলা, ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত "প্যাপিরাসে আঁকা" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

কিছু মাটির কথা
কিছু ফসলের—
গোড়ালি ফাটা রক্তে উর্বর ইতিহাস

কস্তুরি মৃগ জানে না কোথায় সুগন্ধি কুম্ভ
নাভি খুবলে
বেড়ে ওঠে সুচারু সমাজ!

হাঁটি ছায়াপথে
আমার আখ্যান ঘুঙুরের শব্দের মতো
চামড়া খুঁড়ে পোঁতা হয়েছিল মাংসে —-

*********************









*
ভান
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
২০২৪ সালে "নীহারিকা প্রকাশনা", আগরতলা, ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত "কাচের শহরে বনমোরগ" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

বৃষ্টির মতো ঠাণ্ডা হয়ে গেছে
গরম জলে ফুলে ওঠা লোম কূপের গ্রন্থি

ডানে বাঁয়ে চোরাকারবারি নাগরিকরা
আমাকে দেখে সামনে কথা বলতে ভয় পায়
ওদের অসাধু কোমর রোজ কানা গলির চত্বরে
ব্যাল্ট ঢিলে করে
পানমশলার আড়ালে দেশি গন্ধ মুছে
অপসংস্কৃতি নিয়ে কমনরুমের টেবিল চাপড়ায়

খাটের উপর ঝিম খেয়ে রবীন্দ্র সংগীত শুনি

আমাকে যেদিন প্রথম হত্যা করা হয়েছিল
তিনমাসের নীল হাত গলার রগ লক্ষ্য করে
একবার চিৎকার করেছিল

অন্যমনস্ক চোখে জেব্রা ক্রসিং ফুরিয়ে যায়
শহরের মানুষগুলো এতো রুচিসম্মত!
পায়ে ঘেঁটে যাই প্যাডের আবিলতা
তেমন ফারাক পড়ে না
খুলে রাখি নিষিদ্ধ ছোঁয়া

খুচরো পয়সার হিসেব করি
ছেঁড়া পাতায় প্রতিদিন ঘাম জমা করে
পৃথিবীর বয়েস মাপি
সিলভিয়ার আগুন মাপতে পারিনি
আমার স্ফুটনাঙ্কের মাত্রা বেশি
কান ঘেষে কিছু ধোঁয়া তার দেশে উড়ে যায়

নীলকমলের পাপড়িতে লেগে থাকা
কুয়াশার বিন্দু এনে ঠোঁটের ভেসলিন করতে
আমারও ইচ্ছে জাগে
শব্দের রূপকথাতে বালিশ ঢাকনায়
নক্সা আঁকতে ভালো লাগে

মৃত্যুর আস্তিকতা আগুনে পুড়ে কিছু ছাই
বৃষ্টি মন্ত্র উচ্চারণ করে
আমি মেঘ হয়ে থাকার ভান করি —

*********************









*
সহোদরা
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
২০২৪ সালে "নীহারিকা প্রকাশনা", আগরতলা, ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত "কাচের শহরে বনমোরগ" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

কয়েক দফায় আমার চোখের কার্নিশ থেকে
পড়ে গিয়ে তোমার মৃত্যু ঘটেছে
অথচ তুমি বাঁকা মেরুদন্ড নিয়ে হেঁটে গেছো
ক্লিওপেটরার কবরের দিকে

ভয় আমার ঘাঁড় থেকে নামছে না
এখনো আমি
বেয়েনেট খোঁচানো ছেঁড়া স্তনে
একাত্তরের মাটিকে লাল করি
ঝুলানো শরীরের চিৎকারে মণিপুরে
দাঁড়িয়ে থাকি দেশলাই হাতে

আলপিনের জুতো পায়ে যে মেয়েটি
মাকে খোঁজে
সে জানে তার মায়ের লিভারে
সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়েছিল
ঝলসানো আঁচে সে তার মায়ের সহোদরা

আমি সেই উলঙ্গ মায়ের প্রতিনিধি
সামনে দাঁড়িয়ে আমার লজ্জিত ছেলে

তুমি সেই সমাজের রক্তবীজ
যার ধারাবাহিকতায় আমি বিবস্ত্র

*********************









*
অধিকার
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
২০১৫ সালে "বহ্নিশিখা পাবলিকেশন", ত্রিপুরা থেকে প্রকাশিত "চেতনা সূর্য" কাব্যগ্রন্থের কবিতা। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

মাছের মুড়োটা!
     বেড়াল ভাবে
রোজ খাবে।
তা তো হবে না
রোজ নিয়মে
পড়বে ভাঁটা
এবার খাবে মাছের কাঁটা পথের মোড়ে ---
বিড়াল ভোজে
নিমন্ত্রিত কাঙালেরা।

*********************









*
ঠোঁটের বামপাশে
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রথম প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

এইখানে
আমার ঠোঁটের বামপাশে
তিলগিরির শানুদেশে ঘোড়াটাকে বাঁধো
ভ্রমরের পিঠে চড়ে একটু বসো
নরম শিলালিপির পাশে

সেই প্রস্তরযুগ থেকে আমার কিছু বলার ছিল
তীক্ষ্ণ বর্শায় কথাদের বুকে রক্তপাত ঘটিয়ে ছুটে গেছে খাইবার গিরিপথ

বহুগমনের পথে কুড়িয়ে পেয়েছি যেটুকু অস্তরাগ সেই রাগিনীতে বাজেনি বীণা
লিখা হয়েছে দিগ্বিজয়ী ফলক

এখানে কোনো শুল্ক রেখো না আবৃত স্তনে
চটুল চোখে রেখো না মৌমাছি

নেমো এসো চোখের সমতলে
শ্রাবণের ইথারে জমেছে বৃষ্টি
বঞ্জর প্রেমে লাঙল চালাও

এইখানে
আমার ঠোঁটের বামপাশে
গাঢ় প্রেমের আরতি রেখে সঙ্গম সন্ধ্যায়
বীজের ভেতর সমাধি নাও

*********************









*
বদ্বীপের কাছাকাছি
কবি মধুমিতা ভট্টাচার্য
মিলনসাগরে প্রথম প্রকাশ ৪.৪.২০২৬।

জাহাজ গোনার কাজ পেয়েছি

সিন্দাবাদের জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে পড়েছে

কতবার ফগহর্ণ শুনেছি
গুছানো ব্যাগের নিচে ঘুমিয়ে পড়েছে সমুদ্র

দিনের নাম ধরে ধরে ঢেউয়ে ঢিল ছুঁড়ছি

ক্যালেন্ডারের কোনো এক তারিখে বাঁধা আছে নোঙর

একটি জাহাজের হিসেব কিছুতেই মিলছে না
তার দূরবিনে ভেসে উঠেছে ঘুমন্ত বদ্বীপ

*********************