.
নারায়ণচন্দ্রের শিক্ষাজীবন - ^^ উপরে ফেরত
নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্নের পাঠশালা-স্কুল-কলেজ শিক্ষা নিয়ে আমাদের কাছে বিশেষ কোনো তথ্য না থাকলেও, তিনি তাঁর পিতা বিদ্যাসাগরের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রথাগত সংস্কৃত ব্যাকরণ, সাহিত্য ও বাংলা ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর নামের সঙ্গে বিদ্যারত্ন উপাধী প্রমাণ করে যে পরবর্তী জীবনে তাঁর বিদ্যাঅর্জন মোটেই তুচ্ছ বা সাধারণ ব্যাপার ছিল না। .
নারায়ণচন্দ্রের বিধবাবিবাহ ও বিদ্যাসাগর - ^^ উপরে ফেরত
নারায়ণচন্দ্রের কথা আমরা শুনতে পাই যখন বিদ্যাসাগর তাঁর সফল বিধবা বিবাহ আন্দোলনের ফলে তদানীন্তন ইংরেজ গভর্নর জেনারেল ও প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং দ্বারা বিধবা বিবাহ আইন পাশ করানোর প্রায় চার মাস পরে প্রকৃত বিধবাবিবাহ শুরু করেন কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটে, রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে, ৭ই ডিসেম্বর ১৮৫৬ তারিখে, সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন ও বিধবা কালীমতী দেবীর বিবাহ দিয়ে।
তখন বিদ্যাসাগরের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিরোধ উঠে আসে সমাজের মাথাদের কাছ থেকে এবং অনেক তথাকথিত উদারমনাদের কাছ থেকেও। কবি ঈশ্বর গুপ্তের একাধিক ব্যাঙ্গ কবিতায় বিদ্যাসগরকে কড়া সমালোচনা করতে দেখা যায়। মিলনসাগরে সেই কবিতা পড়তে, কবি ঈশ্বর গুপ্তের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন...
তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের এক বিরাট অংশ প্রশ্ন করতেন যে বিদ্যাসাগর কেন নিজের ছেলের, বিধবার সাথে বিবাহ দিচ্ছেন না?
১১.৮.১৮৭০ তারিখে নারায়ণচন্দ্র সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, বিধবা ভবসুন্দরী দেবীকে বিবাহ ক’রে পিতার মুখ রক্ষা করেছিলেন। এই নিয়ে বিদ্যাসাগর তাঁর ভাই শম্ভুচন্দ্রকে লিখেছিলেন...
“‘ইতিপূর্ব্বে তুমি লিখিয়াছিলে, নারায়ণ বিধবাবিবাহ করিলে আমাদের কুটুম্ব মহাশয়েরা আহার-ব্যবহার পরিত্যাগ করিবেন, অতএব নারায়ণের বিবাহ নিবারণ করা আবশ্যক। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য এই যে, নারায়ণ স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া এই বিবাহ করিয়াছে; আমার ইচ্ছা বা অনুরোধে করে নাই। যখন শুনিলাম, সে বিধবাবিবাহ করা স্থির করিয়াছে, তখন সে বিষয়ে সম্মতি না দিয়া প্রতিবন্ধকতাচারণ করা আমার পক্ষে কোনও মতেই উচিত কর্ম্ম হইত না। আমি বিধবাবিবাহের প্রবর্ত্তক ; আমরা উদ্যোগ করিয়া অনেকের বিবাহ দিয়াছি। এমন স্থলে আমার পুত্র বিধবাবিবাহ না করিয়া কুমারী-বিবাহ করিলে আমি লোকের নিকট মুখ দেখাইতে পারিতাম না।...নারায়ণ স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া এই বিবাহ করিয়া আমার মুখ উজ্জ্বল করিয়াছে এবং লোকের নিকট আমার পুত্র বলিয়া পরিচয় দিতে পারিবে, তাহার পথ করিয়াছে’।” .
নারায়ণচন্দ্র ও বিদ্যাসাগরের মতভেদ - ^^ উপরে ফেরত
নারায়ণচন্দ্রের বিবাহের মাত্র ৫ বছর পর, বিদ্যাসাগর তাঁর উইলের ২৫ ধারায় “তাঁর পুত্র বলে পরিচিত নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের” সঙ্গে সংস্রব ও সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন!
এর কারণ হিসেবে অনেক পরে, শশীভূষণ সিংহকে লেখা বিদ্যাসাগরের একটি চিঠি থেকে জানা যায় যে কোন এক মধুসূদন ভট্টাচার্য্যর স্ত্রী বিন্ধ্যবাসিনী দেবীকে তাঁর স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে সমাজের কিছু লোক উদ্যোগী হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন নারায়ণচন্দ্রও। এই বিধবা বিন্ধ্যবাসিনী দেবীকে মাসহারা দিতেন বিদ্যাসাগর। তিনি চেয়েছিলেন বিন্ধ্যবাসিনী নিজের অধিকার বলেই স্বামীর সম্পত্তি পাক। এটাই সম্ভবতঃ বিদ্যাসাগরের মূল কারণ ছিল একমাত্র পুত্র নারায়ণচন্দ্রকে উইলে ত্যাজ্য করে দেবার। কিন্তু বিদ্যাসাগর তো দয়ার সাগরই ছিলেন! পুত্রবধুকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘আমি তোমাদের নিকট এ জন্মের মত বিদায় লইলাম। তোমাদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যয় নির্ব্বাহের নিমিত্ত, আপাততঃ মাসিক একশত পঞ্চাশ টাকা নির্দ্ধারিত করিয়া দিলাম’।
উইল করার ১৩ বছর পরে পুত্র নারায়ণচন্দ্র পিতার কাছে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করে চিঠি লিখেছিলেন। বিদ্যাসাগর ছেলে কে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। সম্ভবত স্ত্রী দিনময়ী দেবীরও চাপ ছিলো তাঁর উপর।
এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন - বঙ্গদর্শন ওয়েবসাইটে অনঙ্গ পাখিরার “বিদ্যাসাগর ও তাঁর বখে যাওয়া ছেলে নারায়ণচন্দ্র” এখানে ক্লিক করে . . .।
.
বিদ্যাসাগরের শেষযাত্রায় নারায়ণচন্দ্র - ^^ উপরে ফেরত
কলকাতায়, ২৯.৭.১৮৯১ তারিখের রাত ২:১৮ তে, বিদ্যাসাগর পরলোক গমন করেছিলেন। শেষকৃত্য করেছিলেন পুত্র নারায়ণচন্দ্রই। পরিবার, তাঁর দেহ নিয়ে নিমতলা মহাশ্মশানে যখন পৌঁছায় তখনও ভোরের আলো ফোটে নি। পুত্র নারায়ণচন্দ্রের অনুরোধে সবাই আলো ফোটার জন্য অপেক্ষা করলেন, বিদ্যাসাগরের শেষ একটি ছবি তোলার জন্য। ছবিটি (নীচে দেওয়া) তুলেছিলেন সেকালের বিখ্যাত ফোটোগ্রাফার শরৎচন্দ্র সেন। মরদেহকে বসিয়ে ছবি তোলা হয়। সে সময় তাঁকে ঘিরে বসেছিলেন ভাই ঈশানচন্দ্র, শম্ভুচন্দ্র, জামাতা সূর্যকুমার অধিকারী, ক্ষীরোদানাথ শাস্ত্রী এবং বিদ্যাসাগরের পা ছুঁয়ে পুত্র নারায়ণচন্দ্র। বড়বাজার থেকে নিয়ে আসা চন্দনকাঠের চিতাশয্যায় তাঁর মুখাগ্নি করেন নারায়ণচন্দ্র। দাহকার্য শেষ হতে হতে বেলা ১১টা বেজে যায়।
ছবির উপরে ক্লিক্ করলে ছবিটি বড় হয়ে ফুটে উঠবে।
.
কবি নারায়ণচন্দ্রের সাহিত্যকর্ম - ^^ উপরে ফেরত
কবি নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন তাঁর পিতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর পর ১৮৯১ সালের সেপ্টেম্বরে তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী “বিদ্যাসাগর চরিত” প্রকাশ করেন। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে ৪০৮টি শ্লোকবিশিষ্ট ভূগোল খগোল বর্ণম্ গ্রন্থটিও প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ১৮৯৫ সালে নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন সম্পাদিত, সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি হতে প্রকাশিত করেন বিদ্যাসাগরের গ্রন্থাবলী (২য় খণ্ড)।
.
কবি নারায়ণচন্দ্রের কবিতা - ^^ উপরে ফেরত
১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ “নীতিকণা”। গ্রন্থের শুরুতে “বিজ্ঞাপন”-এ তিনি লিখেছেন যে এ বিষয়ে এটি তাঁর প্রথম উদ্যম। ইংরেজী পদ্য গ্রন্থ অবলম্বনে এই কবিতাগুলি তিনি লিখেছেন। ঠিকানা দিয়েছিলেন কলিকাতা, বিদ্যাসাগর বাটী। এর পরে তিনি আর কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত করেছিলেন কি না তা জানা যায় না।
আমরা মিলনসাগরে কবি নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্নের কবিতা তুলে আগামী দিনের পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে নিজেদের ধন্য মনে করবো। এই পাতা তাঁর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।
কবি নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্নের এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৬.৫.২০২৬
উৎস ---
নারায়ণচন্দ্রের শিক্ষাজীবন - ^^ উপরে ফেরত
নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্নের পাঠশালা-স্কুল-কলেজ শিক্ষা নিয়ে আমাদের কাছে বিশেষ কোনো তথ্য না থাকলেও, তিনি তাঁর পিতা বিদ্যাসাগরের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রথাগত সংস্কৃত ব্যাকরণ, সাহিত্য ও বাংলা ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর নামের সঙ্গে বিদ্যারত্ন উপাধী প্রমাণ করে যে পরবর্তী জীবনে তাঁর বিদ্যাঅর্জন মোটেই তুচ্ছ বা সাধারণ ব্যাপার ছিল না। .
নারায়ণচন্দ্রের বিধবাবিবাহ ও বিদ্যাসাগর - ^^ উপরে ফেরত
নারায়ণচন্দ্রের কথা আমরা শুনতে পাই যখন বিদ্যাসাগর তাঁর সফল বিধবা বিবাহ আন্দোলনের ফলে তদানীন্তন ইংরেজ গভর্নর জেনারেল ও প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং দ্বারা বিধবা বিবাহ আইন পাশ করানোর প্রায় চার মাস পরে প্রকৃত বিধবাবিবাহ শুরু করেন কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটে, রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে, ৭ই ডিসেম্বর ১৮৫৬ তারিখে, সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন ও বিধবা কালীমতী দেবীর বিবাহ দিয়ে।
তখন বিদ্যাসাগরের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিরোধ উঠে আসে সমাজের মাথাদের কাছ থেকে এবং অনেক তথাকথিত উদারমনাদের কাছ থেকেও। কবি ঈশ্বর গুপ্তের একাধিক ব্যাঙ্গ কবিতায় বিদ্যাসগরকে কড়া সমালোচনা করতে দেখা যায়। মিলনসাগরে সেই কবিতা পড়তে, কবি ঈশ্বর গুপ্তের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন...
তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের এক বিরাট অংশ প্রশ্ন করতেন যে বিদ্যাসাগর কেন নিজের ছেলের, বিধবার সাথে বিবাহ দিচ্ছেন না?
১১.৮.১৮৭০ তারিখে নারায়ণচন্দ্র সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, বিধবা ভবসুন্দরী দেবীকে বিবাহ ক’রে পিতার মুখ রক্ষা করেছিলেন। এই নিয়ে বিদ্যাসাগর তাঁর ভাই শম্ভুচন্দ্রকে লিখেছিলেন...
“‘ইতিপূর্ব্বে তুমি লিখিয়াছিলে, নারায়ণ বিধবাবিবাহ করিলে আমাদের কুটুম্ব মহাশয়েরা আহার-ব্যবহার পরিত্যাগ করিবেন, অতএব নারায়ণের বিবাহ নিবারণ করা আবশ্যক। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য এই যে, নারায়ণ স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া এই বিবাহ করিয়াছে; আমার ইচ্ছা বা অনুরোধে করে নাই। যখন শুনিলাম, সে বিধবাবিবাহ করা স্থির করিয়াছে, তখন সে বিষয়ে সম্মতি না দিয়া প্রতিবন্ধকতাচারণ করা আমার পক্ষে কোনও মতেই উচিত কর্ম্ম হইত না। আমি বিধবাবিবাহের প্রবর্ত্তক ; আমরা উদ্যোগ করিয়া অনেকের বিবাহ দিয়াছি। এমন স্থলে আমার পুত্র বিধবাবিবাহ না করিয়া কুমারী-বিবাহ করিলে আমি লোকের নিকট মুখ দেখাইতে পারিতাম না।...নারায়ণ স্বতঃপ্রবৃত্ত হইয়া এই বিবাহ করিয়া আমার মুখ উজ্জ্বল করিয়াছে এবং লোকের নিকট আমার পুত্র বলিয়া পরিচয় দিতে পারিবে, তাহার পথ করিয়াছে’।” .
নারায়ণচন্দ্র ও বিদ্যাসাগরের মতভেদ - ^^ উপরে ফেরত
নারায়ণচন্দ্রের বিবাহের মাত্র ৫ বছর পর, বিদ্যাসাগর তাঁর উইলের ২৫ ধারায় “তাঁর পুত্র বলে পরিচিত নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের” সঙ্গে সংস্রব ও সম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন!
এর কারণ হিসেবে অনেক পরে, শশীভূষণ সিংহকে লেখা বিদ্যাসাগরের একটি চিঠি থেকে জানা যায় যে কোন এক মধুসূদন ভট্টাচার্য্যর স্ত্রী বিন্ধ্যবাসিনী দেবীকে তাঁর স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে সমাজের কিছু লোক উদ্যোগী হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন নারায়ণচন্দ্রও। এই বিধবা বিন্ধ্যবাসিনী দেবীকে মাসহারা দিতেন বিদ্যাসাগর। তিনি চেয়েছিলেন বিন্ধ্যবাসিনী নিজের অধিকার বলেই স্বামীর সম্পত্তি পাক। এটাই সম্ভবতঃ বিদ্যাসাগরের মূল কারণ ছিল একমাত্র পুত্র নারায়ণচন্দ্রকে উইলে ত্যাজ্য করে দেবার। কিন্তু বিদ্যাসাগর তো দয়ার সাগরই ছিলেন! পুত্রবধুকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘আমি তোমাদের নিকট এ জন্মের মত বিদায় লইলাম। তোমাদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যয় নির্ব্বাহের নিমিত্ত, আপাততঃ মাসিক একশত পঞ্চাশ টাকা নির্দ্ধারিত করিয়া দিলাম’।
উইল করার ১৩ বছর পরে পুত্র নারায়ণচন্দ্র পিতার কাছে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করে চিঠি লিখেছিলেন। বিদ্যাসাগর ছেলে কে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। সম্ভবত স্ত্রী দিনময়ী দেবীরও চাপ ছিলো তাঁর উপর।
এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন - বঙ্গদর্শন ওয়েবসাইটে অনঙ্গ পাখিরার “বিদ্যাসাগর ও তাঁর বখে যাওয়া ছেলে নারায়ণচন্দ্র” এখানে ক্লিক করে . . .।
.
বিদ্যাসাগরের শেষযাত্রায় নারায়ণচন্দ্র - ^^ উপরে ফেরত
কলকাতায়, ২৯.৭.১৮৯১ তারিখের রাত ২:১৮ তে, বিদ্যাসাগর পরলোক গমন করেছিলেন। শেষকৃত্য করেছিলেন পুত্র নারায়ণচন্দ্রই। পরিবার, তাঁর দেহ নিয়ে নিমতলা মহাশ্মশানে যখন পৌঁছায় তখনও ভোরের আলো ফোটে নি। পুত্র নারায়ণচন্দ্রের অনুরোধে সবাই আলো ফোটার জন্য অপেক্ষা করলেন, বিদ্যাসাগরের শেষ একটি ছবি তোলার জন্য। ছবিটি (নীচে দেওয়া) তুলেছিলেন সেকালের বিখ্যাত ফোটোগ্রাফার শরৎচন্দ্র সেন। মরদেহকে বসিয়ে ছবি তোলা হয়। সে সময় তাঁকে ঘিরে বসেছিলেন ভাই ঈশানচন্দ্র, শম্ভুচন্দ্র, জামাতা সূর্যকুমার অধিকারী, ক্ষীরোদানাথ শাস্ত্রী এবং বিদ্যাসাগরের পা ছুঁয়ে পুত্র নারায়ণচন্দ্র। বড়বাজার থেকে নিয়ে আসা চন্দনকাঠের চিতাশয্যায় তাঁর মুখাগ্নি করেন নারায়ণচন্দ্র। দাহকার্য শেষ হতে হতে বেলা ১১টা বেজে যায়।
ছবির উপরে ক্লিক্ করলে ছবিটি বড় হয়ে ফুটে উঠবে।
.
কবি নারায়ণচন্দ্রের সাহিত্যকর্ম - ^^ উপরে ফেরত
কবি নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন তাঁর পিতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৃত্যুর পর ১৮৯১ সালের সেপ্টেম্বরে তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী “বিদ্যাসাগর চরিত” প্রকাশ করেন। ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিলে ৪০৮টি শ্লোকবিশিষ্ট ভূগোল খগোল বর্ণম্ গ্রন্থটিও প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ১৮৯৫ সালে নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্ন সম্পাদিত, সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি হতে প্রকাশিত করেন বিদ্যাসাগরের গ্রন্থাবলী (২য় খণ্ড)।
.
কবি নারায়ণচন্দ্রের কবিতা - ^^ উপরে ফেরত
১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৬) সালে প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ “নীতিকণা”। গ্রন্থের শুরুতে “বিজ্ঞাপন”-এ তিনি লিখেছেন যে এ বিষয়ে এটি তাঁর প্রথম উদ্যম। ইংরেজী পদ্য গ্রন্থ অবলম্বনে এই কবিতাগুলি তিনি লিখেছেন। ঠিকানা দিয়েছিলেন কলিকাতা, বিদ্যাসাগর বাটী। এর পরে তিনি আর কোনো কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত করেছিলেন কি না তা জানা যায় না।
আমরা মিলনসাগরে কবি নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্নের কবিতা তুলে আগামী দিনের পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে নিজেদের ধন্য মনে করবো। এই পাতা তাঁর প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।
কবি নারায়ণচন্দ্র বিদ্যারত্নের এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৬.৫.২০২৬
উৎস ---
- বিদ্যাসাগর, চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দধারা প্রকাশন,
- ছবি ও তথ্য উইকিপিডিয়া বাংলা।
- বিদ্যাসাগর ও তাঁর বখে যাওয়া ছেলে নারায়ণচন্দ্র, অনঙ্গ পাখিরা, ২০১৭, www.bongodorshon.com।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ডঃ মোহাম্মদ আমীন, শুদ্ধ বানান চর্চা (শুবাচ)।
- সাগর ও সম্রাট, জ্যোতিভূষণ দত্ত, পুনশ্চ, punaschabooks.com।
- উইকিসংকলন।