.
সতীনাথ ভাদুড়ীর শিক্ষীজীবন - ^^ উপরে ফেরত
কবির শিক্ষীজীবন শুরু হয় পূর্ণিয়া জেলা স্কুলে। ১৯২৪ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ১ম ডিভিশনে পাশ করে, পাটনার সায়েন্স কলেজ থেকে আই.এস.সি. পাস করেন। এর পর তিনি ১৯২৮ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক হয়ে ১৯৩০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী প্রাপ্ত হন। পরের বছর ১৯৩১ সালে তিনি পাটনা ল কলেজ থেকে বি.এল. পাস করেন এবং পূর্ণিয়া জেলা আদালতে পিতার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে প্র্যাক্টিস শুরু করেন। .
সতীনাথ ভাদুড়ীর কর্মজীবন ও সমাজ সেবা - ^^ উপরে ফেরত
১৯৩৯ সাল পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পূর্ণিয়া আদালতে ওকালতি করেন। এই সময় তিনি বলিপ্রথা রদ ও মদের দোকানে পিকেটিং আন্দোলনের মতো বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে ষুক্ত হয়েছিলেন।
সেই সময়ে তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে বই সংগ্রহ করে পূর্ণিয়া গ্রন্থাগার স্থাপনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরে সেই গ্রন্থাগারটির নাম তাঁর পিতার নামে “ইন্দুভূষণ পাবলিক লাইব্রেরি” রাখা হয়। প্রায় একক প্রচেষ্টায় তিনি পূর্ণিয়ায়, বাংলা পত্রিকা ক্লাব গঠন করেন এবং সাহিত্য পাঠ, স্মরণশক্তি প্রতিযোগিতা, সাহিত্যিকদের আড্ডা প্রভৃতির প্রচলন ঘটান। সেই সূত্রেই তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করেন, যিনি আজ থেকে শতাধিক বর্ষ পূর্বে কাশীতে গঙ্গার দূষণ নিয়ে চিন্তিত হয়ে “মা গঙ্গার নাভিশ্বাস” নামক কবিতা লিখেছিলেন তাঁর “কাশীর কিঞ্চিৎ” কাব্যগ্রন্থে। .
স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীনাথ ভাদুড়ী - ^^ উপরে ফেরত
তিনি মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে জাতীয় কংগ্রেস দলে যোগদান করে সক্রিয়ভাবে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন। এই সময় তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে গভীর রাতে বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে স্বাধীনতা আন্দোলনের বার্তা পৌঁছে দিতেন। ১৯৪০ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি প্রথমবার কারারুদ্ধ হন। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি দ্বিতীয়বারের কারাবাসকালে জেল ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাই তাঁকে ভাগলপুরের সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। জেলের ভেতরেই তিনি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস জাগরী রচনা করেন। ১৯৪৪ সালে তৃতীয়বার জেলে বন্দী অবস্থায় তাঁর সঙ্গী ছিলেন হিন্দী সাহিত্যিক ফণীশ্বরনাথ রেণু, অনাথবন্ধু বসু, ফণীগোপাল সেন, জয়প্রকাশ নারায়ণ, শ্রীকৃষ্ণ সিংহ, অনুগ্রহ নারায়ণ সিংহ প্রমুখেরা।
দেশ স্বাধীন হওয়া অবধি, সতীনাথ ভাদুড়ী পূর্ণিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দলাদলিতে অতিষ্ঠ হয়ে ১৯৪৭ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসেন। স্বাধীনতার পরে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে “সোসিয়ালিস্ট পার্টি” প্রতিষ্ঠা করেন যা ১৯৫২ সালেই “কিসান মজদুর প্রজা পার্টি”-র সাথে মিলে গিয়ে “প্রজা সোসিয়ালিস্ট পার্টি” হয়ে যায়। তাঁর জীবদ্দশাতেই “সোসিয়ালিস্ট পার্টি” পার্টি একাধিকবার অন্য দলের সঙ্গে মিশেছে ও আলাদা হয়ে বেরিয়ে এসেছে!
এক পার্টিকর্মীর কাছে কংগ্রেস ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন যে, কংগ্রেসের কাজ ছিল স্বাধীনতা অর্জন করা। সেই কাজ শেষ হয়েছে। এখন “রাজকার্য” ছাড়া আর কংগ্রেসের কোনও কাজ নেই।
.
সতীনাথ ভাদুড়ীর সাহিত্য - ^^ উপরে ফেরত
শিশিরকুমার দাশ, তাঁর “সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী”-তে সতীনাথ ভাদুড়ি সম্বন্ধে লিখেছেন...
“সতীনাথ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক। অভিজ্ঞতার অভিনবত্ব, চরিত্রায়ণের গভীরতা, মানব জীবন সম্বন্ধে অন্তর্দৃষ্টি এবং তাঁর তীক্ষ্ণ সংবেদনশীল কথনভঙ্গি তাঁকে বিশিষ্টতা দিয়েছে।”
তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে অগাস্ট আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত ১ম উপন্যাস “জাগরী” (১৯৪৫), ২য় উপন্যাস “ঢোঁড়াই চরিত মানস” (১ম খণ্ড ১৯৪৯, ২য় খণ্ড ১৯৫১)। অন্যান্য লেখার মধ্যে রয়েছে “অচিন রাগিনী” (১৯৫৪), “সংকট” (১৯৫৭), “দিগ্ ভ্রান্ত” (১৯৬৬), “চকাচকী” (১৯৫৪), “গণনায়ক”, ফ্র্যান্স ভ্রমণের উপর “সত্যভ্রমণ কাহিণী” (১৯৫১) প্রভৃতি।
কবির প্রাপ্ত সম্মাননার মধ্যে রয়েছে ১৯৫০ সালে “জাগরী“ উপন্যাসের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের “রবীন্দ্র পুরস্কার“। তাঁর বাল্যকালের বন্ধু বিশিষ্ট হিন্দি সাহিত্যিক ফণীশ্বরনাথ রেণু তাঁর জীবনীমূলক স্মৃতিকথা “ভাদুড়ীজী“ রচনা করেন, যা হিন্দি সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট গ্রন্থ। তাঁর জাগরী বইটি ১৯৬৫ সালে ইউনেস্কো প্রতিনিধিত্বমূলক সাহিত্যকর্মের সংকলনের অংশ হিসেবে ইংরেজিতে অনূদিতও হয়।
.
সতীনাথ ভাদুড়ীর কবিতা - ^^ উপরে ফেরত
তিনি কবি হিসেবে তেমনভাবে আত্মপ্রকাশ না করলেও আমরা তাঁর দুটি কবিতা পেয়েছি। একটি তাঁর “চিত্রগুপ্ত” ছদ্মনামে, সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত “শনিবারের চিঠি” পত্রিকায়। এই কবিতাটি হিরোশিমা-নাগাসাকিতে অ্যাটম বোমা বিষ্ফোরণের পরে লেখা। বাংলা কবিতায় অ্যাটম বোমার বিস্ফোরণ!
অন্যটি তাঁর “জাগরী” উপন্যাসের শেষ অধ্যায় থেকে নেওয়া। সতীনাথ ভাদুড়ী তাঁর “রাজকবি” গল্পেও দু-চার লাইনের কয়েকটি ছড়া লিখেছেন। কিন্তু তা আমরা এখানে আর দিচ্ছি না।
আমরা মিলনসাগরে কবি সতীনাথ ভাদুড়ীর কবিতা ও তাঁর জীবন ও কর্মযজ্ঞ আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা। এই পাতা এই স্বাধীনতা সংগ্রামী, সাহিত্যিক ও কবির প্রতি মিলনসাগরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বাঙালীদের বহু বদনাম আছে। তাঁরা অলস, তাঁরা আড্ডাবাজ, ফাঁকিবাজ, আরও অনেক কিছু। কিন্তু বাঙালীর যে ভাল গুণগুলি আছে, তার মধ্যে একটা হলো কবিতা লেখা! প্রায় সব বাঙালীই জীবনে দু-এক লাইন কবিতা লেখেন বা লিখেছেন। মিলনসাগরে আমাদের চেষ্টা সেই কবিতার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক বাঙালীদের মিলনসাগরের কবিদের সভায় ধরা। মিলনসাগরের বাংলা কবিতার কালানুক্রমিক সূচী আসলে বাঙালীর ইতিহাস হয়ে উঠছে, কবিদের জীবনীর মধ্য দিয়ে।
কবি সতীনাথ ভাদুড়ীর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল : srimilansengupta@yahoo.co.in
হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১ ৯৮৩০৬৮১০১৭
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ১৯.১০.২০২৫
উৎস ---
- শিশিরকুমার দাশ, “সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী”, ২০০৩।
- উইকিপিডিয়া, সতীনাথ ভাদুড়ী
- Manab Mondal's Post ফেসবুক