কবি সোমনাথ রায় এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
মহাভিনিষ্ক্রমণের পথে
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
আজ আর প্রদীপ্ত রাজপ্রাসাদে গৌতম মোহিত নয় নর্তকীর নাচে।
সারথি ছন্দক তাকে চিনিয়েছে জ্বরা ব্যাধি আর মৃত্যু শেষ পরিণতি
অহংকারে অলংকৃত শরীরের। লহরীর সুরে রূপসীরা আসে কাছে।
মোহ নেই, তৃষ্ণা নেই, অবসাদে হীন মনে হয়েছে সংসার, প্রিয় রতি।
দগ্ধ মনস্তাপে ক্লান্ত হয়ে ডুবে গিয়েছে রাজকুমার গভীর নিদ্রায়
অদ্ভুত অবহেলায় চূর্ণ হয়ে অঙ্গনে ঘুমিয়ে গ্যাছে নর্তকী-বাদক।
মধ্যরাতে ঘুম ভাঙে সিদ্ধার্থের— প্রেতপুরী ছেড়ে সে শয়নকক্ষে যায়
পালঙ্কে যশোধরার কোলে সদ্যজাত রাহুল জাগিয়ে তোলে ব্যর্থশোক।
নিস্পৃহ আর্যপুত্রের নির্দেশে শ্বেতাঙ্গ অশ্ব কন্হকের জিন হাতে নিয়ে
মহাভিনিষ্ক্রমণের রথ দাঁড় করিয়েছে অশ্রুভারে আহত ছন্দক।
রাত্রির আকাশ থেকে, ভূমি থেকে নক্ষত্র জোনাকিপুঞ্জ শুভেচ্ছা বাড়িয়ে
অনোমা নদীর তীরে নামিয়েছে— তলোয়ারে হয়েছেন মুণ্ডিত মস্তক।
একবস্ত্রে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে জীবন-প্রহেলিকার উত্তর সন্ধান
করেছেন কৃচ্ছ্রক্লেশে গয়ায় বোধিবৃক্ষের নীচে বসে বুদ্ধ ভগবান।
****************************
সারথি ছন্দক তাকে চিনিয়েছে জ্বরা ব্যাধি আর মৃত্যু শেষ পরিণতি
অহংকারে অলংকৃত শরীরের। লহরীর সুরে রূপসীরা আসে কাছে।
মোহ নেই, তৃষ্ণা নেই, অবসাদে হীন মনে হয়েছে সংসার, প্রিয় রতি।
দগ্ধ মনস্তাপে ক্লান্ত হয়ে ডুবে গিয়েছে রাজকুমার গভীর নিদ্রায়
অদ্ভুত অবহেলায় চূর্ণ হয়ে অঙ্গনে ঘুমিয়ে গ্যাছে নর্তকী-বাদক।
মধ্যরাতে ঘুম ভাঙে সিদ্ধার্থের— প্রেতপুরী ছেড়ে সে শয়নকক্ষে যায়
পালঙ্কে যশোধরার কোলে সদ্যজাত রাহুল জাগিয়ে তোলে ব্যর্থশোক।
নিস্পৃহ আর্যপুত্রের নির্দেশে শ্বেতাঙ্গ অশ্ব কন্হকের জিন হাতে নিয়ে
মহাভিনিষ্ক্রমণের রথ দাঁড় করিয়েছে অশ্রুভারে আহত ছন্দক।
রাত্রির আকাশ থেকে, ভূমি থেকে নক্ষত্র জোনাকিপুঞ্জ শুভেচ্ছা বাড়িয়ে
অনোমা নদীর তীরে নামিয়েছে— তলোয়ারে হয়েছেন মুণ্ডিত মস্তক।
একবস্ত্রে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে জীবন-প্রহেলিকার উত্তর সন্ধান
করেছেন কৃচ্ছ্রক্লেশে গয়ায় বোধিবৃক্ষের নীচে বসে বুদ্ধ ভগবান।
****************************
আরণ্যক দাবা
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
পৃথিবীর নিমন্ত্রণে এসে আজ অনাহারে ফিরে গ্যালো ওরা
খসে গ্যালো সমাজের গা থেকে নক্সাখচিত উজ্জ্বল চাদর।
অন্ধকারে বাস করে যাদের দু-চোখে ছিল স্বপ্নময় ভোর
তাদের চিরনিদ্রায় ফেলে রেখে ছুটে গ্যাছে নির্বাচিত ঘোড়া
দাবার আড়াইচালে প্রতিবার লাফ দিয়ে; কিছু বিষফোঁড়া
গোদের ওপরে থাকে, তাদের জন্যেই তার পা ভারী, আদর।
মাঝে মাঝে বিড়ম্বনা, মাঝে মাঝে সংবাদ চেঁচিয়ে বলে চোর—
মানুষ সহজে সব ভুলে যায়, জলে ফিরে যায় জলঢোঁড়া।
পোশাক দিলে না, ভাত দিলে না, যৌনতা দিলে শুধু ভগবান
অক্ষর দিলে না, জমি দিলে না, পানীয় জলে দিলে আর্সেনিক।
গুহায় ছিলাম ভালো, গুহার ভেতরে ফের নিয়ে যাও তুমি
আবার ফিরিয়ে দাও বনমানুষের দেশে বন্য অবস্থান।
দাবার চৌষট্টি ঘরে আমাদের আলো নেই, আঁধার দৈনিক
কুড়ে কুড়ে খায় আর পা থেকে হারিয়ে যায় আরণ্যক ভূমি।
****************************
খসে গ্যালো সমাজের গা থেকে নক্সাখচিত উজ্জ্বল চাদর।
অন্ধকারে বাস করে যাদের দু-চোখে ছিল স্বপ্নময় ভোর
তাদের চিরনিদ্রায় ফেলে রেখে ছুটে গ্যাছে নির্বাচিত ঘোড়া
দাবার আড়াইচালে প্রতিবার লাফ দিয়ে; কিছু বিষফোঁড়া
গোদের ওপরে থাকে, তাদের জন্যেই তার পা ভারী, আদর।
মাঝে মাঝে বিড়ম্বনা, মাঝে মাঝে সংবাদ চেঁচিয়ে বলে চোর—
মানুষ সহজে সব ভুলে যায়, জলে ফিরে যায় জলঢোঁড়া।
পোশাক দিলে না, ভাত দিলে না, যৌনতা দিলে শুধু ভগবান
অক্ষর দিলে না, জমি দিলে না, পানীয় জলে দিলে আর্সেনিক।
গুহায় ছিলাম ভালো, গুহার ভেতরে ফের নিয়ে যাও তুমি
আবার ফিরিয়ে দাও বনমানুষের দেশে বন্য অবস্থান।
দাবার চৌষট্টি ঘরে আমাদের আলো নেই, আঁধার দৈনিক
কুড়ে কুড়ে খায় আর পা থেকে হারিয়ে যায় আরণ্যক ভূমি।
****************************
বিদ্যাসাগরের মা
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
ধারণ করেছ তুমি কাঁড়ি কাঁড়ি বাঙালি সন্তান
চূড়ান্ত বাছাই পর্বে নিমাই ছাড়া কি কেউ আছে
ঈশ্বর-ব্রতের পন্থী, প্রকৃত অগ্রজ ধারে কাছে!
লালন-রামমোহন যে পথের করেছে সন্ধান
জ্ঞানবৃক্ষে চড়ে ওই ছেলে দেখে মায়ের সম্মান
অন্ধ পণ্ডিতের দল বেঁধে রাখে জঙ্গলের গাছে।
ছায়ার শৃঙ্খল ছিঁড়ে সে ছুটেছে বিদ্রোহের আঁচে
লাঞ্ছিতা বিধবা ফিরে পায় তার জীবনের গান।
#
কৃতীরা বিরোধ করে, ঠাট্টা করে সদরে অন্দরে
ও ছেলে তোয়াক্কা করে না, দুখণ্ড বর্ণপরিচয়
তোমার সন্ততিদের চোখে জ্বেলে দিয়েছে অভয়
নারীও মর্যাদা পায় জ্ঞান অন্বেষণে স্কুল ঘরে।
দ্বিশত বছর পরে কবন্ধেরা হলেও নিন্দুক
বাঙালি-মা আগলে রাখে তার প্রিয় সন্তানের মুখ।
****************************
চূড়ান্ত বাছাই পর্বে নিমাই ছাড়া কি কেউ আছে
ঈশ্বর-ব্রতের পন্থী, প্রকৃত অগ্রজ ধারে কাছে!
লালন-রামমোহন যে পথের করেছে সন্ধান
জ্ঞানবৃক্ষে চড়ে ওই ছেলে দেখে মায়ের সম্মান
অন্ধ পণ্ডিতের দল বেঁধে রাখে জঙ্গলের গাছে।
ছায়ার শৃঙ্খল ছিঁড়ে সে ছুটেছে বিদ্রোহের আঁচে
লাঞ্ছিতা বিধবা ফিরে পায় তার জীবনের গান।
#
কৃতীরা বিরোধ করে, ঠাট্টা করে সদরে অন্দরে
ও ছেলে তোয়াক্কা করে না, দুখণ্ড বর্ণপরিচয়
তোমার সন্ততিদের চোখে জ্বেলে দিয়েছে অভয়
নারীও মর্যাদা পায় জ্ঞান অন্বেষণে স্কুল ঘরে।
দ্বিশত বছর পরে কবন্ধেরা হলেও নিন্দুক
বাঙালি-মা আগলে রাখে তার প্রিয় সন্তানের মুখ।
****************************
বিলায়েৎ
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
সংগীত আসরে বসে আমার মাথায় তুমি হাত রেখেছিলে বিলায়েৎ।
সিদ্ধ করকমলের বিদ্যুৎ প্রবাহ ঝলসে দিয়েছিল আমার শরীর
পূণ্যস্নান পেয়েছিল সেদিন সন্ধ্যায় চরণসায়রে যারা জমায়েত
হয়েছিল মূর্ছনার তীরে স্তব্ধ সারিতে, পেয়েছে মানব মহানবীর
মধুক্ষরণীয় কান্তি থেকে চিরস্মরণীয় বিস্ময়ের অটুট ঝংকার
প্রলয়-প্রশান্ত ধ্যান পুরুষের অবিচল অন্বেষণে নির্বিকার দান।
লুটিয়ে দিয়েছে স্থূল যাবতীয় অহমিকা রোমাঞ্চের আবিষ্ট সেতার—
সাতধ্বনি ঘোড়া টেনেছিল রথ, রামধনু উঠে গেয়েছিল জয়গান।
কফিনে শায়িত আজ বিশ্বপুত্র, মহাসমাধির পথে ফিরেছে শহরে।
যন্ত্র ফেলে যন্ত্রী একা চলেছে নিদ্রিত সুরে মৃত্তিকার আপন আঁচলে
পিতৃ-বিছানার পাশে গুরুগৃহে চির নবিশের ভগ্ন শীতল অন্তরে।
অতৃপ্ত দীক্ষায় শান্তি-পাঠে খেদ মোচনের আলিঙ্গন বাজাবে যুগলে।
বিজন ব্রহ্মাণ্ড শ্রোতা হবে আজ পাতালপুরীতে মিলনের জলসায়
তানকারী অ্যালবামে আমাদের হৃদয়ের মাথা নত হবে নিরুপায়।
****************************
সিদ্ধ করকমলের বিদ্যুৎ প্রবাহ ঝলসে দিয়েছিল আমার শরীর
পূণ্যস্নান পেয়েছিল সেদিন সন্ধ্যায় চরণসায়রে যারা জমায়েত
হয়েছিল মূর্ছনার তীরে স্তব্ধ সারিতে, পেয়েছে মানব মহানবীর
মধুক্ষরণীয় কান্তি থেকে চিরস্মরণীয় বিস্ময়ের অটুট ঝংকার
প্রলয়-প্রশান্ত ধ্যান পুরুষের অবিচল অন্বেষণে নির্বিকার দান।
লুটিয়ে দিয়েছে স্থূল যাবতীয় অহমিকা রোমাঞ্চের আবিষ্ট সেতার—
সাতধ্বনি ঘোড়া টেনেছিল রথ, রামধনু উঠে গেয়েছিল জয়গান।
কফিনে শায়িত আজ বিশ্বপুত্র, মহাসমাধির পথে ফিরেছে শহরে।
যন্ত্র ফেলে যন্ত্রী একা চলেছে নিদ্রিত সুরে মৃত্তিকার আপন আঁচলে
পিতৃ-বিছানার পাশে গুরুগৃহে চির নবিশের ভগ্ন শীতল অন্তরে।
অতৃপ্ত দীক্ষায় শান্তি-পাঠে খেদ মোচনের আলিঙ্গন বাজাবে যুগলে।
বিজন ব্রহ্মাণ্ড শ্রোতা হবে আজ পাতালপুরীতে মিলনের জলসায়
তানকারী অ্যালবামে আমাদের হৃদয়ের মাথা নত হবে নিরুপায়।
****************************
ভারসাম্য
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
আম কাঁঠালের পাশে কদর পেলে না তুমি উপবাসী নিম
অথচ তোমার যত্নে প্রকৃতির বাতাস বিশুদ্ধ ও নির্মল
তোমাকে আগাছা ভেবে আস্তাকুঁড়ে উপড়ে ফ্যালে মনের শৃঙ্খল।
গোপনে পাচার করি, ভেষজ চাহিদা দেশ-বিদেশে অসীম—
কন্যা সন্তানের জন্ম হলে যে রকম ঘরে জ্বলে না পিদিম
পুত্র সন্তানের পাশে তার জন্য খাদ্য কম শিক্ষাও নিষ্ফল
পরীক্ষায় জানতে পারলে মোটা অর্থে হত্যা করি সেই বিষফল
নতুবা পাঠিয়ে দিই বেশ্যালয়ে ঘরে ঢোকে নোটের আফিম।
প্রতিদিন ক্ষয়ে যাচ্ছে ভারসাম্য পৃথিবীর বাতাসে মননে
এক পাল্লা শূন্য করে অপর পাল্লায় বাড়িয়ে চলেছি চাপ
চোখে জমছে অন্ধকার, হাতে বাড়ছে নখ, দাঁতে নির্ভয়ের হাসি—
প্রতিরোধ করবে কে আমাকে! আমি যতক্ষণ আত্মসচেতনে
একবার না বলি, হে-নিম, ওগো নারী, তুমি মুক্ত করো পাপ
তোমাকে রক্ষার দায় আমারও রয়েছে, তোমাকেও ভালোবাসি।
****************************
অথচ তোমার যত্নে প্রকৃতির বাতাস বিশুদ্ধ ও নির্মল
তোমাকে আগাছা ভেবে আস্তাকুঁড়ে উপড়ে ফ্যালে মনের শৃঙ্খল।
গোপনে পাচার করি, ভেষজ চাহিদা দেশ-বিদেশে অসীম—
কন্যা সন্তানের জন্ম হলে যে রকম ঘরে জ্বলে না পিদিম
পুত্র সন্তানের পাশে তার জন্য খাদ্য কম শিক্ষাও নিষ্ফল
পরীক্ষায় জানতে পারলে মোটা অর্থে হত্যা করি সেই বিষফল
নতুবা পাঠিয়ে দিই বেশ্যালয়ে ঘরে ঢোকে নোটের আফিম।
প্রতিদিন ক্ষয়ে যাচ্ছে ভারসাম্য পৃথিবীর বাতাসে মননে
এক পাল্লা শূন্য করে অপর পাল্লায় বাড়িয়ে চলেছি চাপ
চোখে জমছে অন্ধকার, হাতে বাড়ছে নখ, দাঁতে নির্ভয়ের হাসি—
প্রতিরোধ করবে কে আমাকে! আমি যতক্ষণ আত্মসচেতনে
একবার না বলি, হে-নিম, ওগো নারী, তুমি মুক্ত করো পাপ
তোমাকে রক্ষার দায় আমারও রয়েছে, তোমাকেও ভালোবাসি।
****************************
কালের সনেট
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
এখন এখানে কেউ কারও পরিণত বন্ধু নয়
জল ধর্মে নেমে আসে, উত্তাপ সম্পর্কে বাষ্পগামী।
শব কিংবা শবের বাহক রূপে তারা জড়ো হয়
লুঠ করে, দান করে ক্লান্তিকর অস্পষ্ট প্রণামী।
নারীর গোপন ক্ষতে পা নামিয়ে শিলালিপি আঁকে
নিজেকে ভ্রমর মনে করে উড়ে যায় অন্য ফুলে।
অবিশ্বাস জন্ম নেয় গাছে, বীজে, অস্তিত্বের ফাঁকে
পৃথিবীতে কারণ নির্দিষ্ট হয় সঙ্কটের মূলে।
মৃত্তিকার পরাজয় মেনে নেয় রাতের আকাশ
খোলস ফাটিয়ে ঢেলে দেয় অনিবার্য অন্ধকার
ঐতিহ্য নক্ষত্রগণ হাঁফ ছেড়ে ক্রমশ প্রকাশ
করে নিত্য সবিতাকে, দীপ্ত, বুদ্ধি, ভ্রম, নির্বিকার।
ঘুম থেকে ওঠে শিশু, পাখি এসে বসে তার কোলে
বন্ধু হয়, এমন নিশ্চয় হবে, ভালো হয় হলে।
****************************
জল ধর্মে নেমে আসে, উত্তাপ সম্পর্কে বাষ্পগামী।
শব কিংবা শবের বাহক রূপে তারা জড়ো হয়
লুঠ করে, দান করে ক্লান্তিকর অস্পষ্ট প্রণামী।
নারীর গোপন ক্ষতে পা নামিয়ে শিলালিপি আঁকে
নিজেকে ভ্রমর মনে করে উড়ে যায় অন্য ফুলে।
অবিশ্বাস জন্ম নেয় গাছে, বীজে, অস্তিত্বের ফাঁকে
পৃথিবীতে কারণ নির্দিষ্ট হয় সঙ্কটের মূলে।
মৃত্তিকার পরাজয় মেনে নেয় রাতের আকাশ
খোলস ফাটিয়ে ঢেলে দেয় অনিবার্য অন্ধকার
ঐতিহ্য নক্ষত্রগণ হাঁফ ছেড়ে ক্রমশ প্রকাশ
করে নিত্য সবিতাকে, দীপ্ত, বুদ্ধি, ভ্রম, নির্বিকার।
ঘুম থেকে ওঠে শিশু, পাখি এসে বসে তার কোলে
বন্ধু হয়, এমন নিশ্চয় হবে, ভালো হয় হলে।
****************************
ত্যাগ করি ক্রোধ
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
তুমি কি বিদ্রোহী? নাকি সাধারণ মানুষের ত্রাস?
তোমার জীবন মূল্য অগণিত নিরীহের প্রাণ
হননে, অপহরণে ভেঙে ফ্যালে স্থিত অবস্থান—
খাদ্যহীন, উন্নয়নহীন এ তো কেবল সন্ত্রাস
লুকিয়েছ মন্দিরে, মসজিদে কিংবা পুরনো গির্জায়—
এখুনি বেরিয়ে এসো ও ঘর হিংসার জন্য নয়।
জঙ্গলে পাহাড়ে আজ প্রকৃতির অসহ্য সংশয়
পাখিদের গান কেড়ে পশুদের ফেলেছে লজ্জায়।
আখের গুছোতে ব্যস্ত যারা ইতিহাসে চিরদিন
আগুন ধরিয়ে যারা নেচে ওঠে হুল্লোড়ে উল্লাসে
পদানত করে রাখে মানুষের মন ক্রীতদাসে
সন্ত্রাসের বীজ তারা বপন করেছে প্রেমহীন—
ধরো হাত, মানবিকতার সুরে গেয়ে উঠি গান
ত্যাগ করি অতীতের যত ক্রোধ ও মেশিনগান।
****************************
তোমার জীবন মূল্য অগণিত নিরীহের প্রাণ
হননে, অপহরণে ভেঙে ফ্যালে স্থিত অবস্থান—
খাদ্যহীন, উন্নয়নহীন এ তো কেবল সন্ত্রাস
লুকিয়েছ মন্দিরে, মসজিদে কিংবা পুরনো গির্জায়—
এখুনি বেরিয়ে এসো ও ঘর হিংসার জন্য নয়।
জঙ্গলে পাহাড়ে আজ প্রকৃতির অসহ্য সংশয়
পাখিদের গান কেড়ে পশুদের ফেলেছে লজ্জায়।
আখের গুছোতে ব্যস্ত যারা ইতিহাসে চিরদিন
আগুন ধরিয়ে যারা নেচে ওঠে হুল্লোড়ে উল্লাসে
পদানত করে রাখে মানুষের মন ক্রীতদাসে
সন্ত্রাসের বীজ তারা বপন করেছে প্রেমহীন—
ধরো হাত, মানবিকতার সুরে গেয়ে উঠি গান
ত্যাগ করি অতীতের যত ক্রোধ ও মেশিনগান।
****************************
কোল্ডস্টোর
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
আলু পটলের পাশে রাতের বাজারে যারা পেতেছে শরীর
তারা কবে টাটকা ছিল ভুলে গ্যাছে, তবে তারা কিন্তু বাসি নয়।
প্রতিদিন অন্ধকারে ঠাণ্ডা মেরে থাকা ঘর থেকে বের হয়
উজ্জ্বল অথচ সস্তা আভরণে মুড়ে রাখা বুকের চৌচির
ফাটল লুকিয়ে ওরা লোকাল ট্রেনের তাজা তরিতরকারির
ঝাঁকায় হেলান দিয়ে চাহনি ছড়িয়ে নামে শিয়ালদহয়।
মাঝে মাঝে ব্যাগ থেকে রুমাল চিরুনি টেনে নির্দিষ্ট আলোয়
নিজেকে গুছিয়ে নেয়, আকর্ষণে তারা থাকে ভীষণ অস্থির।
প্রতিরাতে খদ্দের জোটে না, চোখ বুলিয়ে অনেকে চলে যায়
কেউ কেউ নেড়েচেড়ে ফষ্টিনষ্টি করে আড্ডা মেরে কেটে পড়ে।
অনেকে তাদের নিয়ে পাশের হোটেলে তোলে কোনো কোনো রাতে
অভিজ্ঞতা জন্ম নেয় নতুন নতুন ঘন্টা মাপা বিছানায়।
কোনো রাতে স্পর্শহীন বুকে শূন্য মানিব্যাগ নিয়ে ট্রেন ধরে
ঠাণ্ডা ঘরখানা আরও ঠাণ্ডা হয়ে টুঁটি টিপে ধরে ঠাণ্ডা ভাতে।
****************************
তারা কবে টাটকা ছিল ভুলে গ্যাছে, তবে তারা কিন্তু বাসি নয়।
প্রতিদিন অন্ধকারে ঠাণ্ডা মেরে থাকা ঘর থেকে বের হয়
উজ্জ্বল অথচ সস্তা আভরণে মুড়ে রাখা বুকের চৌচির
ফাটল লুকিয়ে ওরা লোকাল ট্রেনের তাজা তরিতরকারির
ঝাঁকায় হেলান দিয়ে চাহনি ছড়িয়ে নামে শিয়ালদহয়।
মাঝে মাঝে ব্যাগ থেকে রুমাল চিরুনি টেনে নির্দিষ্ট আলোয়
নিজেকে গুছিয়ে নেয়, আকর্ষণে তারা থাকে ভীষণ অস্থির।
প্রতিরাতে খদ্দের জোটে না, চোখ বুলিয়ে অনেকে চলে যায়
কেউ কেউ নেড়েচেড়ে ফষ্টিনষ্টি করে আড্ডা মেরে কেটে পড়ে।
অনেকে তাদের নিয়ে পাশের হোটেলে তোলে কোনো কোনো রাতে
অভিজ্ঞতা জন্ম নেয় নতুন নতুন ঘন্টা মাপা বিছানায়।
কোনো রাতে স্পর্শহীন বুকে শূন্য মানিব্যাগ নিয়ে ট্রেন ধরে
ঠাণ্ডা ঘরখানা আরও ঠাণ্ডা হয়ে টুঁটি টিপে ধরে ঠাণ্ডা ভাতে।
****************************
কুমারী মা
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
আমার সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছে এক কুমারী মা।
প্রথমে বুঝিনি, চোখে ছিল তার অভ্যর্থনা ফুল
মুখময় হাস্যজ্যোৎস্না, মাথায় গভীর কালো চুল
বুকে ভারি স্তন, তাকে স্পষ্ট করে তোলা গেঞ্জিজামা—
কিছুটা মেমসাহেব, অনাবৃত ত্বকবর্ণ তামা।
মাতৃভাষা বাংলা, শিক্ষা-দীক্ষা সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল
স্বচ্ছল অনুবাদক বিশ্বাস করে না কোনও ভুল—
পিতৃ-পরিচয় নেই তার সন্তানের, সে শুধু মা।
জিজ্ঞাসা করেছি আমি, ‘বিয়ে হয়েছিল?’ উত্তর ‘না।’
‘কোনও যোগাযোগ আছে?’ —‘কোনও প্রয়োজন নেই তার
জঠরে পেয়েছি যাকে, আলোয় ধরেছি তুলে আমি।
পরিচয় দিয়েছি আমার, তাকে বলেছি, ‘আমি মা
গাছ হয়ে বেঁচে আছি, তুই নে গাছের অধিকার—
জানে না গাছ কে বাবা, খোঁজে না গাছ কে তার স্বামী।’
****************************
প্রথমে বুঝিনি, চোখে ছিল তার অভ্যর্থনা ফুল
মুখময় হাস্যজ্যোৎস্না, মাথায় গভীর কালো চুল
বুকে ভারি স্তন, তাকে স্পষ্ট করে তোলা গেঞ্জিজামা—
কিছুটা মেমসাহেব, অনাবৃত ত্বকবর্ণ তামা।
মাতৃভাষা বাংলা, শিক্ষা-দীক্ষা সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল
স্বচ্ছল অনুবাদক বিশ্বাস করে না কোনও ভুল—
পিতৃ-পরিচয় নেই তার সন্তানের, সে শুধু মা।
জিজ্ঞাসা করেছি আমি, ‘বিয়ে হয়েছিল?’ উত্তর ‘না।’
‘কোনও যোগাযোগ আছে?’ —‘কোনও প্রয়োজন নেই তার
জঠরে পেয়েছি যাকে, আলোয় ধরেছি তুলে আমি।
পরিচয় দিয়েছি আমার, তাকে বলেছি, ‘আমি মা
গাছ হয়ে বেঁচে আছি, তুই নে গাছের অধিকার—
জানে না গাছ কে বাবা, খোঁজে না গাছ কে তার স্বামী।’
****************************
সনেটের প্রেয়সীকে জানাই বিদায়
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
কবি সোমনাথ রায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৪.৫.২০২৬।
তরুণ বয়সে অতি সন্তর্পণে বেদনার্ত হৃদয়ে এসেছিলাম তোমার অঙ্গনে
প্রেত্রার্ক, মধুসূদন, জীবনানন্দের পথে রাম বসু জ্বালালেন সুনির্দিষ্ট আলো
মোহময় সনেটের অপূর্ব নির্যাসে আমি শব্দাস্ত্র ওজন করি ভোঁতা ও ধারালো
নির্জনে নিঃশব্দে তুমি আমাকে বিবস্ত্র করে অনুভূতি শুষে, টেনে নাও সংগোপনে
যাবতীয় কায়া ভেঙে বেপরোয়া ছায়াগুলি দংশনে পবিত্র করে প্রণয় দহনে
অঙ্গারের প্রতিবিম্ব চুবিয়েছি নিস্তরঙ্গ পরিখায়, সে আমাকে পাতাল চেনালো
গভীর যন্ত্রণাবোধে যখন ক্ষতবিক্ষত হয়েছি, তোমার স্পর্শ তখন জমকালো
সঙ্গমে, পুনরুদ্ধারে দিয়েছে তোয়াক্কাহীন সাহস, নিষ্পেষণের বিবর্ত সাধনে।
#
দুপুর গড়িয়ে গেছে অনিবার্য সূর্যাস্তের সুস্পষ্ট আহ্বানে, নেবো বিশ্রাম এবার
যেভাবে বিদায় নেয় খেলোয়াড়, গ্যালারি কাঁপানো ঘোড়া, কর্মস্থলে সুদক্ষ শ্রমিক
সেভাবেই সনেটের প্রেয়সীকে বুকের বোতাম খুলে উন্মোচনে উল্টোবো অলীক
কালের অ্যালবাম, সঙ্গ যাপনের আলো-আঁধার, অপরিসীম উৎসাহের পারাপার।
বন্ধনে মুক্তির পথ খোঁজার আগ্রহ নিয়ে সাজিয়েছি সাধ্য ছিল আমার যেটুকু
আদর-অনাদরের ভার নিও কবিতায় পরিণত, প্রাজ্ঞ, অনভিজ্ঞ খোকাখুকু।
****************************
প্রেত্রার্ক, মধুসূদন, জীবনানন্দের পথে রাম বসু জ্বালালেন সুনির্দিষ্ট আলো
মোহময় সনেটের অপূর্ব নির্যাসে আমি শব্দাস্ত্র ওজন করি ভোঁতা ও ধারালো
নির্জনে নিঃশব্দে তুমি আমাকে বিবস্ত্র করে অনুভূতি শুষে, টেনে নাও সংগোপনে
যাবতীয় কায়া ভেঙে বেপরোয়া ছায়াগুলি দংশনে পবিত্র করে প্রণয় দহনে
অঙ্গারের প্রতিবিম্ব চুবিয়েছি নিস্তরঙ্গ পরিখায়, সে আমাকে পাতাল চেনালো
গভীর যন্ত্রণাবোধে যখন ক্ষতবিক্ষত হয়েছি, তোমার স্পর্শ তখন জমকালো
সঙ্গমে, পুনরুদ্ধারে দিয়েছে তোয়াক্কাহীন সাহস, নিষ্পেষণের বিবর্ত সাধনে।
#
দুপুর গড়িয়ে গেছে অনিবার্য সূর্যাস্তের সুস্পষ্ট আহ্বানে, নেবো বিশ্রাম এবার
যেভাবে বিদায় নেয় খেলোয়াড়, গ্যালারি কাঁপানো ঘোড়া, কর্মস্থলে সুদক্ষ শ্রমিক
সেভাবেই সনেটের প্রেয়সীকে বুকের বোতাম খুলে উন্মোচনে উল্টোবো অলীক
কালের অ্যালবাম, সঙ্গ যাপনের আলো-আঁধার, অপরিসীম উৎসাহের পারাপার।
বন্ধনে মুক্তির পথ খোঁজার আগ্রহ নিয়ে সাজিয়েছি সাধ্য ছিল আমার যেটুকু
আদর-অনাদরের ভার নিও কবিতায় পরিণত, প্রাজ্ঞ, অনভিজ্ঞ খোকাখুকু।
****************************
