কবি তন্ময় চট্টোপাধ্যায় এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
কবি তন্ময় চট্টোপাধ্যায় এর পরিচিতির পাতায় . . .
বর্তমান বাংলা-১
কবিচন্দ্র
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

এ বুকের উঠোনে উর্বশী মাঠ-গোলা
মাঝখানে থেকে থেকে যুব-শুনা মরু
উথলে যাচ্ছে ওই দ্যাখো শুক্লাগায়
তার পাশে জমে জমে অজানা তরু
খোটা দেয় আধো আধো শিশুকলতান
অজানা তোমার মনে সাজানো বাগান
আজও হয়তো দেখিনি চাঁদবৌমুখ
আলোর কলায় পানা পৌষি অসুখ
কিন্তু যতই দেখি তত কাঁচা উন্মুখ
ততই জীবনানন্দ, ততই রবীন্দ্র সুখ
সুখ খোঁজো রোশনায়, অথৈ জলসায়
জীবন উথলায়, তোমার পর্দায়
আজও দেখি তাই, সুখের জলসায়
সুখ কি খুঁজে পাই, সুখ যে মরে যায়!!

*********************









*
এ সময়
কবিচন্দ্র
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

জীবন এখন শঙ্কুচূড়া
বন্দি প্রেমের কন্টদেয়াল
নগ্নফ্রেমের সুপ্তছায়া
ঘুরছে বিদিক গ্রন্থমাতাল-!!

কারাগ্রহে আঁটকে রবি
আলোর কূপে যন্ত্রনাগ্ন
উগ্রব্যোমে ধামসে আকাল-
বহ্নিরঙ্গে মন্ত্রমগ্ন।

কোথায় সেসব দিনের স্মৃতি
বস্তাচাপা কান্নাগাছে-
লুকিয়ে কুপি কারনামা হয়
নামবাজি সব গুছিয়ে আছে।

ভদ্র তারা? সভ্য সভায়?
কাটমানি নেয়, গুমনামি কোন
গলায় শোলার পৈতে ঝোলা
ব্রহ্মজাতির সম্মানি মন।

তারাও আছে নেতার পাশে
চাষাভূষা হোক সঙ্গে আছে
আকর্ণে তার দুলছে কুঁড়ির
ভ্রমরকর্ম প্রজন্মযুগ।

ঘুরছে কাব্য, ঘুরছে ছবি
হবির সঙ্গে জলঘোলা মুখ
রঙমিলান্তি ডুব দিয়ে যায়
বছর দূরের সেইসব রূপ-!!

রূপ আছে তবু চুল খোলা নেই
চুলের মধ্যে বদ্ধজগৎ
হাউই পুড়ছে বিথারে বেতার
কাঁচের প্লেটে রম্যমগজ!!

দেখছ তুমি দেখবে নাকি
তোমার জঠরে পৃথিবী বিলীন
বেহুলা, অপালা সুখ বেজামিন
দস্যু স্রোতের উলম্বে লীন

চাপাকাথামালা কাঁথা শৈশব
আঁকিবুকি মেঘ, পান্ডুর রব
ঘনজনকালো গুচ্ছ নিথর
স্তব্দতা ছড়া ঘর কোন্দল

মায়াভরা তার পুড়ছে দুচোখ
ভদ্রাবতীর ছায়াভরা লোক
গুন্ঠনীলিমা চেয়ে শোকে জোঁক
জাঁকিয়ে ধুকছে মস্ত দ্যুলোক!!

মাথা ছিঁড়ে যায় বাজ-বিদ্যুতে
ছিঁড়ে খুড়ে খায় কাক-চীল-কুন-
ধ্বমনি নাভীতে খোটা দেয় কেউ
পিলুতে চমকা অঘোরি বেলুন

তুমি শোন কি সেইসব ধ্বনি
মেরুজলে আঁকা নম্র সেলুনি
ডাকনামি তার বাঁকা নধমূলে
বিঁধে পাক খায় যন্ত্র বেলুনি!!

ঘোরে না বেলনা,ঘোরে না চাকি
তবু মুখে তার গাদা ধকধকি
এ জমানায় যারা নত হয়
তারা পেল নাই জীবনের দাম!!

শুধু খেটে যাও মুখে কথা নাই
রাশ টেনে যাও-টেনে যাও রাশ
অদূরদর্শী ওই দেখো পেল
কত সম্মান, উপঢৌকন

তবু কথা চেপে রয়ে গেল যারা
তাদিকে দেখবে ভগবান-মা'রা
উদ্বাস্তুর বুক জুড়ে তারা
লিখে গেল কথা অভিমান

কি পেল তারা-কোথা যাবে তারা
বুকে উজাগরে আকালিয়া বান
ক্ষত নেমে যায়, ধ্বস নামে, চোরা
বান ডেকে যায় বিঁধে যাওয়া বাণ-

দূরে ভেসে যায় সূর্য্য অস্তগামী

দূরে ভেসে যায় চন্দ্রমন্দ্রকাঁটা

কাঁটা লাগলেও সে কাঁটা বিঁধবে মুখেই

নত অভিমুখে জীবন জীর্ণ, ভোঁতা....!!

*********************









*
অমরকাব্য
কবিচন্দ্র
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

মাথার উপরে ঘুর্ণী শাবক
ভোমরা অবশ বিষের মতো
অমরকাব্য লিখব বলেই
পাতায় কাঁপন, রিলের গুতো
ছন্দমালায় গাঁথছি বেণী
লাবন্যে যাঁর গলছে কায়া
সেই কায়াকেই লিখব কালিন
কালি হয়ে ওঠে ঋনের ছায়া-
দস্তখতে উঠছে ধোঁয়া
ফল্গু মতন জীবনযাপন
শীতলছোবল উথলে ওঠে
রাত হয়ে যায় আস্তরণ-!!
দস্যু কবি কোথায় তুমি
কোথায় তোমার কন্ডোলেন্স
দুলছে ঘড়ির হৃদপিন্ডে
বায়োগ্রাফিস্ক সাসপেন্স!!

*********************









*
কাকের মতো সকাল হলে ভাল হতো
কবি তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

একটা গাছ পাথর হতে চাইল
আমি বললাম: কংক্রিটে শিকড় গোজাও?
আকাশ থেকে ঝরে পড়ল তারকাগুচ্ছ
মাটিকে ফুটো করে তারাও গাছ হতে চাইছে
          সত্যিকারের গাছ।
আমি বললাম: "তারা আবার গাছ হয় নাকি?"
কিছুক্ষণ পরে সজোরে বান এসে
চারদিক শুনসান হয়ে গেলে
হৃদপিন্ড থেকে দুফোঁটা প্রাণ
খিলখিল হেসে মাটিতে গড়াগড়ি দিল
          বাতাসের হামি খেল:
কিন্তু কই? পাথর না গাছ? কেউই
কিছুই হতে পারল না,শেষে একটা তীক্ষ্ণবাণ
নেচে নেচে তাদেরকে জড়িয়ে জড়িয়ে
          কি যে বিড়বিড় করে গেল
কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না-কি জানি
অসংশয়ের অসংকেতে বুকের মধ্যে গাছ-
মনের মধ্যে পাথর-গেঁথে উঠে বলল:
"কাকের মতো সকাল আমার চাই
একটিবার, কাকের মতো উজ্জ্বল একটি কাল!!"

*********************









*
পাত্তিপত্রেভার্যা (চর্যাপদ)
কবি তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

পাকঅ পাত্তিনা পঅতন পাত্তি॥
পাত্রত পাত্তিনা পতরেতে পাত্তি॥
নানানন ভোজন মোজন ভার্যা॥
জ্ঞাত্তন গত্তিন মোত্তন মোজ্জা॥
চুচির চোক্কর চুচিলা চোক্কা॥
চাঁচর চোঁচ্ছেরে চাঁছছি ছক্কা॥
গাঁথথি গাঁথত গানহিয়া জান্অ॥
মানদ মান্নদ মানথিয়া মান্অ॥
পুরপিল পুরচাকা পুরত্রি পুলে॥
মাফপি মাফপ মানহিয়া ফুলে॥

*********************









*
ঘ্যাম
কবি তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

রেলিং টানো,কিপটে পায়ে ফস করে ধরিয়ে দাও ঘ্যাম
ঘ্যাম ধরছে চলতি ফুলের টবে,ঘ্যাম ধরছে শেকল ভাঙা ঘরে
সে যাই হোক ঋজু নদীর পাশে তুমি তো আর রোশনাই জালাচ্ছ না
সে যে বিদ্যুৎ নয়;আগুনচুম্বি ফ্যানা ফ্যানা ডোরাকাটা রয়েল
টুবড়ি গাছের মতো আকাশের ছাদে
ঝরে পড়ছে আর এক অন্য পৃথিবী
দাড়িয়ে যে দেখছে তোমায়;সেও
তোমার মত ফটোকলের ছিপ
ছড়িয়ে দিচ্ছে ফাৎনাআঁটা মাছে;রাজমুখোশ
আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি
সোনার পর্দা,ঝাঁঝতরঙ্গে হ্যালো মাইক সরস্বতী
দুরন্ত ফ্যানেলের নীচে রাত মুজে বসে থাকা বাবুহাটা
কিঞ্চিৎ মধ্যমের সেরেস্তা;পঞ্চমজির হরবোলা কোকিল
গা-রব-পাঞ্চজন্যের চিলের উপর দিয়ে ধরতে চাইছি উর্দ্ধখোরপোশ-দিদির
রা শূন্য বাঁশি হয়ে হয়ে যেন তামাকু চেবাচ্ছে দাঁতের আগায়
ফিসফিস লাজমি বুকের খোরাজলচুষে উঠছি সমূদ্র বরকৎ
আরও কত গভীর কালকন্টকীর মেজাজী ব্ল্যাক
হিংস্র গন্ধর্ব প্রদেশের উপর যম-কূপ-প্রেতগয়ার সন্ধান এনে বলছে:
রেলিং টানো,কিপটে পায়ে এখনো অনেক ঘ্যাম ধরার বাকি.......

*********************









*
ছেলেখেলা
কবি তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

ধোঁয়ায় ভরে আছে মেঘ
সস্তায় বিক্রি হয় শ্রাবণ
জুলপিতে টান দিলে সেও অমা-
ঝাপসা চোখের নীচে একটু কার্বন!!

যদি বলো জোনাক-মৎসবিদ্যুৎ
তামার পাতার মত জ্বলন্ত অছিলা
ঘুরি ঝরা-ঝিনুকখসা বেলার মত
আকাশ ডেকে ওঠার মত
আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা উঠে আসার মত
প্রান্তক্ষন জুড়ে ধুন্দুমার ছেলেখেলা!!

এখন তো চোরা হীমন্ত-
হিম মেখে বসে আছে নিধূবোনা-
চিরুনি দিয়ে চেরাই করা ধানে
মুঠোময় রূপালী হরিণা !!

দুরে জুড়িয়ে যাচ্ছে এক আদলা পুকুর
পুকুরে চরৈবেতির হংসচঞ্চু...
চরাচর জুড়ে ওই একটা মুকুর
হা-হা-ধূধূ-শুধু দিব্য সমুদ্দুর!!

*********************









*
সিংহভূত
কবিচন্দ্র
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

খ্যাঁচেংতাড়া দাঁড়িয়ে আছে সিংহভূত---
রোডের ধারে, কালো মানুষের ভিড়ে
সে নামহীন এক প্রাণী। তবুও সে সাধারণ নয়
সহস্রাধিক মন্বন্তর বয়সে সে দন্ডায়মান আশ্চর্য্য!!
পৃথিবীকে লক্ষ্য করে সে ছুঁড়ে দেয় সাবধানবাণী:
ওই পাঁচবছরের শিশুটির কাছে সে বড়ই যোগ্য, একরোখা
সে চেয়ে চেয়ে দেখছে গৃহবন্দী টানাপোড়েনের জানলাগুলি
ওই ভাঙা ইঁটের ফোকরগুলি, তাদের আবভাব, চালচলন
আরও কত কি-- সে ঘুর্ণায়মান দুনিয়ার কাছে বড়ই বেমানান
তার সাবলীল, প্রাঞ্জল, সরল গোলগোল চোখগুলি
দেখছে কিভাবে বদলে যাচ্ছে এই আজব গ্রামের রাস্তাঘাট, ড্রেন,
আধুনিক পোশাকআশাক
সে সেগুলি তাঁর তরঙ্গায়িত দীর্ঘ আগুনথাবায়
বশ করতে চাইছে, লপ করে লুফে নিতে চাইছে স্বমহিমায়
সে প্রকাট্য জলসাময় প্রকৃতির বুক থেকে তুলে নিতে চাইছে সেইসব
প্রাচীন দিনের আলোময় সুন্দরতা!!
সে চাইছে তোমাকে, আমাকে, আমাদের দীর্ঘ প্রয়োজন
আর যা যা পায় না সকলে এই জনঘনমোহনীয় মারণ উৎসবের
মেলায় সে উজাড় করে দিতে চাইছে কালো, ন্যুব্জ, অপ্রাপ্য
অন্ধকারমুক্ত দিনগুলি এক লহমায়....

*********************









*
সে প্রীতির একটা সাধারণ নিজস্বতা আছে
কবিচন্দ্র
মিলনসাগরে প্রকাশ ১৫.১২.২০২৫।

শঙ্কাসুর নিমগ্ন নিশিথে শিয়াল ডেকে ওঠে:
প্রেতের আগুন রক্তবাহী দৃষ্টি হতে ভেসে ওঠে হিয়া
বলে ওঠে: 'কলঙ্কের চেয়েও দামি আমার সুখ'-সে মিছা স্বপ্ন নয়
সে শুধু গহন-দহনের মরিচীকা;অনন্য সংস্কারের বদ্ধ চিত্র
সে চিত্র হতে জেগে ওঠে প্রহসন,দাঙ্গা।কি বিচিত্রতা বলো
বলো অন্ধ কূহকের রাজধানী, বলো সিয়াচেন,বলো গোমুখ
তবুও নিমখ নাম্নী প্রীতি ভেজানো উৎসব,তুমি দেখো
তুমি দেখো সামান্য পুকুরে ইঁট ডোবা তরঙ্গের প্রসার.....
আমি হতে পারি ছোট,হেও,কিন্তু সে নীচতার একটা নিজস্বতা আছে!!
তুমি যাই বলো না কেন.... সে প্রীতির একটা সাধারণ নিজস্বতা...!!

*********************