জীবন চলছে এক স্রোতের টানে---! এক সোজা রাস্তা ধরে কোন এক মোড়ে! এক উঁচু ছাদ থেকে দেখা জনকোলাহলের ভীড়ে! ধর্মীয় আন্দোলনের উত্তাপে!- জীবন চলছে কোনো সুন্দর সংসারের বাঁধন-লিপিতে! কপালে লাল টিপ,সিন্দুরে রাংগানো সিঁথি আর পাঞ্জাবি পরা আর ধুতিপরা পৌরুষত্তের মাথা নত করা স্বামী স্ত্রীর বাসরে! জীবন চলছে,ঘড়ির কাঁটার টিকটিক ডাকে! চলে যাওয়া ষময় আর অতীতকে লাথি মেরে নতুনত্তকে আঁকড়ে ধরতে!!
বুকটা হু হু করে উঠবে, চারিদিকটা ঝাপসা হয়ে যাবে, ঝরা পাতার সেঁদোগন্ধটা বারবার মনে করিয়ে দেবে!!-- আপন জনের শুকনো মুখের কাকুতি!। সাঁঝের বেলায় জোনাকিরা যেন কিছু বলতে চাইছে!- কোকিলের কু কু ডাকের মিস্টতা যেন কানের মধ্যে বিষময় বলে মনে হচ্ছে! জীবনের পদ্মপাতা থেকে আত্মা জল যেন কেউ ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে!- মরার সময় সবাই বাঁচাতে চায়,-হাঁটতে হাঁটতে মোড়ের বাঁক পেরিয়ে অনেক দূর চলে এসেছে!--- এখন সে একটু শান্তি চায়!- বারেবারে মূর্চ্ছা যাওয়া,ভগবানের নামের সাথে ছেলের হাতের জল, কান্নার চিৎকার! বজ্রসম প্রাণ হঠাৎ চলে যাবে এ দেহ থেকে- ছেলের মুখে আগুন পেয়ে আর আপন জনের কান্নার আওআজ শুনে শান্তির মরন হয় কজনার!!!!
এই যে ছেলে! রেশন দোকানে গগলেস পরে দাঁড়িয়ে!!!!? প্রাইমারীর ফর্ম তোলার লাইনে তে দাঁড়িয়ে ঘাম মুচছো সুন্দর রুমালে!!????? সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কফি শপে আড্ডার পরে দীর্ঘ নিশ্বাসে বাড়ির পথে!?? বাপের গালি আর ধিক্কারে কুকুরের মত বেচে কতদিন বাইরে বডি স্প্রে উড়িয়ে গার্লফ্রেন্ড আর পরের বউ ঘোরাবে!?? আমরা কি স্বাধীন!???? বেকার জীবনের অভিশপ্ত পাপ নিয়ে রাস্তা ঘাটের গ্যাটার আর ম্যানহোলের মত আর কতদিন পড়ে থাকবো!? তুমি কি জানো পার্ল্যামেন্টের ললিত মোদি ইস্যু কি!? টেবিল চাপড়ে চাপড়ে বিল পাশ করালে ঠিক কতখানি ঠিক কতখানি পপুলারিটি হয়!? একটা মন্ত্রীর বেতন ঠিক কতখানি!?? মোবাইলের দোকানে গিয়ে ১০০০ এমবি নেট আর হোয়াট্ স আপ তে ভিডিও দেখে মেয়ে পটিয়ে, স্টার দের পিকতে লাইক, কমেন্ট করে আর কতদিন!!?? রেলের, ব্যাঙ্কের, এসেসসির, লাইনে তে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আর যোগ্যতার তুলারদাঁড়ির দরকষাকষিতে কি আমাদের ক্ষুদিরামের যুবসমাজ কি তলিয়ে যাচ্ছে!???
কবিতা মানে নতুন বছরের নতুনভাবে বাঁচার আশা! প্রথম প্রেমের নবযৌবনের চোখের ভাষা! মনের দুর্বলতা!! বিশ্রামের সময় অতীতের স্মৃতির রোমন্থনতা!! কবিতা হচ্ছে পদ্মপত্রে জলের অবস্থান! কানে বেজে চারিদিকে স্মৃতি হিসেবে ভাসার যোগান! মনের পবিত্র স্থান-!! একমাত্র চিরশান্তির স্থান!!- আত্মা, পরমাত্মার মিলন ঘটিয়ে সম্পন্ন করে মানবিক মুল্যায়ন! কবিতা কিশোরকুমারের পাগলকরা বিরহের সুরের টান! সন্ধার সুরে মনের আঙ্গিনায় রবীন্দ্রসংগীতের গান! কোন ধার্মিক গানে মাথা নাড়ানো আর স্বস্তির আশা! কোন রোমান্টিক জুটির প্রেমের হাহাকারের যন্ত্রনা! প্রেমের ছোঁয়া কাছে পেয়ে স্মৃতিতে গাঢ় আলিঙ্গনের স্বাদ অনুগ্রহের এ যেন অনাবিল এক নিশ্বাস সান্ত্বনা!!
বিদেশী মশলায় দেশী রান্না! আমাদের আধুনিক রমনীদের যতসব প্যাকনা!ওই দেখো, ভিখারী রমনীদের ছেড়া কাপড়ে কলশি হাতে, দুঃখের আর লাঞ্ছনার স্বীকার! লাথি আর ঝাটা পড়ে উপহার তাঁর খাওয়ার পাতে! আর একশ্রেণীর দাম্ভিক রমনীদের কাজ নগ্নতার বাহারের সমূদ্রে নিমজ্জিত করে উল্লসিত নয়নে চেয়ে থাকে, কখন দৈনিক সংবাদপত্রের পৃস্ঠাতে তাদের ছবি ভেসে উঠবে! আধুনিকা শিক্ষিতা নারীগন অহংকারে বাউল গানের সরলতাকে ডিসগাস্টিং বলে খুসি তে ফেটে পড়ে ! অজানা অভ্যাসগত টিপ্পনির সংস্কারে! নগ্ন শামুকের শক্ত খোলশ ভাঙবে কে? চোখের আঙুল দিয়ে ঐশ্বর্য কাঙালি মহিলাদের বাংলার সংস্কৃতির উজ্জ্বল রূপ দেখাবে কে? শাড়ি পরেও নারী মাথা তুলে বাঁচতে পারে! কয়লার আগুনে রান্না করে হাত পুড়িয়ে হাসতেও পারে!!! বাংলার বুকে মাতঙ্গিনীর মত ও মেয়েরা জন্মাতে পারে! সেটা বোঝাবে কে!????
কালো পাথরের খোসা ছাড়িয়ে হঠাৎ করে খনিজ তেলের আশায় ডুব দিলে! তুমি ভেবেছিলে, পেট্রোলের কালো রুপের তেজে নিজেকে নিয়ে লং ড্রাইভের তেজে হারিয়ে যাবে! কোনো বলিউডি ম্যাগাজিনের ফার্স্ট পেজের দামী মডেলের কামুক চাউনি আবার মনে করিয়ে দেবে তোমার সেই প্রথম প্রেমের বিদগ্ধ যন্ত্রনার কাহিনী! ম্যাটিনি শো এর প্রথম প্রেমিকার স্পর্শে রজনীগন্ধার পাপড়ির আদুরে ইঙ্গিতে নিজেকে প্রথম তরুন হিসেবে আবিস্কার করার কথা! সে সৌন্দোর্যের অহং তে মদগামিনী হস্তিনীর মতো তোমাকে গ্রাস করছিলো! তুমি যৌবন সুরাপানে আক্রান্ত হয়ে অত্যাচারের সব লুডোর গুটি গুলো হজম করছিলে! আর বেসামাল মাতালের মত মাতলামি করছিলে মদের ঠেকে! একটু সুরা পানের জন্য!
আর কতদিন পৃথিবীটা ধিক্কারের যন্ত্রনাতে শুকনো পলাশের পাপড়ির মত থিতিয়ে থাকবে! মনের রঙ্গিন আয়নাতে বিধবারা গাঁথতে পারবে না তাঁর রঙ্গিন স্বপ্ন! পাশবিক অত্যাচারের স্বীকার হয়ে লুটিয়ে পড়বে দেবী দশভুজা নারীশক্তি! আর কতদিন উপহাসের বাক্যবান দিয়ে জর্জরিত করবে! ট্রেন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর শূণ্য প্লাটফর্ম-জীবন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে ভিখারীদের দাবী! আর কতদিন রজনীগন্ধার গন্ধ নিয়ে ছেলেখেলা করবে! শূণ্য মাঠের এদিক ওদিক সরলতার নিস্পাপতা ফিরিয়ে আনতে চিৎকার করবে!