| কবি অতীন্দ্রলাল দাশের কবিতা |
| নিত্যলীলা ( কাব্য-আলেখ্য ) কবি অতীন্দ্র লাল দাশ শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া একদিন নদীয়ায়বঙ্গ রঙ্গভূমে রূপনাথ শ্রী গৌর সুন্দর আভির্ভূত হয়ে নেচে নেচে আচণ্ডালে নামে প্রেমে মাতিয়ে দিয়ে উদ্ধারণ লীলা করেছিলেন। পতিত হেরি কান্দে থির নাহি বান্ধে করুণ নয়নে চায়। নিরুপম হেমদিনি উজোর গোরা তনু অবনি ঘন গরি যায়॥ গৌরাঙ্গের নিছনি লইয়া মরি। ওরূপ মাধুরী পিরীতি চাতুরী তিল আধ পালরিতে নারি॥ বরুণ আশ্রম কিঞ্চন-অকিঞ্চন কার কোন দোষ নাহি মানে। কমলা শিব বিহি দুলহ প্রেমনিধি দান করয়ে জগজনে॥ ঐছন সদয় হৃদয় রসময় গৌর ভেল পরকাশ। প্রেম ধনে ধনী করল অবণী বঞ্চিত গোবিন্দ দাস॥ গৌর ভূমিতে প্রবাহিত হয়ে নাম প্রেমের সুরধুনী পতিত পাবনী গঙ্গা তাঁরই তটে তটে নব বৃন্দাবন নবদ্বীপের ঘাটে ঘাটে ভক্ত ভগবানের লীলা খেলা চলে। আজিও সে নিত্য লীলা করে গোরা রায় কোন কোন ভাগ্যবান দেখিবারে পায়। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের ভববঞ্চা আস্বাদন করেছিলেন স্থিতধী যুক্তিবার ভক্ত-শিরোমণি ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন। অবিদ্যা মায়ার কুহেলিকার যবনিকা ছিন্ন করেভক্তের ভক্তিকুঞ্জে উদিত হলেন ভব নাট্যের নাট্যকার নটবর গোরাচাঁদ। শ্রীধাম নবদ্বীপের শ্রীহরি সভায় সেই অপূর্ব শ্রীরূপ আজিও সুপ্রকট। অপূর্ব সে কূপ কান্তি, নয়নে জাগায় ভ্রান্তি চিত্ত চকোর ফিরে ফিরে। হৃদয় মধুপ তায় আপনা হারায়ে যায় রূপের সাগরে ডুবে মরে। * * * * সেই অপূর্ব রূপ মাধুরীয় ছটায় ভক্তবর লোচন দাসের লোচন উদ্ভাসিত তাই তিনি মধুর কণ্ঠে গেয়েছেন ; অমিয়া মথিয়া কেবা লবণি তুলিল গো তাবাতে পড়িল গোরা দেহ। জগত ছানিয়া কেবা রস নিঙ্গাড়িল গো এক কৈল শুধুই সুলেহ॥ অখণ্ড পিযূষ ধারা কেবা আউটিল গো সোনার বরণে হৈল চিনি ; সে চিনি মারিয়া কেবা ফেণি তুলিল গো হেন বাসি গৌর অঙ্গখানি॥ অনুরাগের দধি, প্রেমার সাচনা দিয়া কে না পাতিয়াছে আঁখি দুটি। তাহাতে অধিক মহু লহু লহু কথাখানি হাসিয়া কহরে গুটি গুটি॥ বিজুরি বাটিয়া কেবী চিত্র নিরমান কৈল চাঁদে মজিল মুখখানি। লাবণ্য বাটিয়া কেবা গাখানি মজিল গো, অপরূপ রূপের বলনি॥ সকল পূর্ণিমা-চাঁদে বিকল হইয়া কান্দে কর-পদ-পদুমের গন্ধে। কুড়িটি নখের ছটায় জগত আলো কৈল গো আঁখি পাইল জনমের অন্ধে॥ এমন বিনোদ রূপ কোথাও না দেখি গো অপরূপ প্রেমার বিনোদে। পুরুষ-প্রকৃতি ভাবে কান্দিয়া আকুল গো নারী কেমনে প্রাণ বান্ধে॥ * * * * জয় রে জয় রে জয় হেন প্রেম রসালয় ভাঙ্গি বিলাইল গোরা রায়। নির্জীবে জীবন পাইল পঙ্গু গিরি ডিঙ্গাইল আনন্দো লোচন দাস গায়॥ প্রেমময় ভগবান এমন করিয়া যুগে যুগে আসেন। যদা যদা হি ধর্ম্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত অভ্যুথানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্ পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্ ধর্ম্ম সংস্থার্পনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে। শ্রী গৌর সুন্দরও বলেছেন। “পৃথিবীতে যত আছে নগরাদি গ্রাম সর্বত্র প্রচারিত হবে মম নাম।” বিচ্ছেদ কাতরা সচীমায়ে সম্বোধিয়া শ্রীমুখো বলিয়াছিল গৌর বিনোদিয়া। “আরও দুই জন্ম এই সংকীর্তনারম্ভে হইব তোমার পুত্র আমি অবিলম্বে॥ ব্যাকুল ভকতগণে আদরে আপনি বলেছিল গোরা শশী স্নেহপূর্ণ বাণী” “এই মত আরও আছে দুই অবতার কীর্ত-আনন্দ-রূপ হইবে আমার তাহাতেও তোমা সবে এই মত রঙ্গে কীর্তন করিবে মহা সুখে আনা সঙ্গে॥” আজ বন্ধু সুন্দর আওল নাগর হরি হরি সুমধুর নাচত মধুর। নাম রসে ডুবাওল হরি প্রেমে ভাসাওল মধুর মধুর হৃদি পুর। মধুর মৃদঙ্গ ধ্বনি হরল হৃদয় খানি মাতল সব চরাচর। সাথে সাথে চলত সাতদল গাওত তাল নাচ মনোহর! লীলার কিশোর জগ নাচত আগ ভাগ অপরূপ রূপ মনোচোন। ভরি যাউ পবন পরশল গগন মধু মধু পশি ঘর। নাম নামী পাবন মহা উদ্ধারণ মরি মরি বন্ধু সুধাকর। দাস অতীনে ভনে না দেখলুঁ-এ নয়নে বিফল জনম এ ছার॥ যুগ যুগ আগে প্রেমঘন অনুরাগে নাচি নাচি কেবা যায়! দু চোখে বহত ধার করুণাত পারাবার হরি নাম আবেশে বিলায়। সুরধুনী তটপর নাচত নটবর হেলি দুলি চলি গোরা রায়। মধু মধু নর্তন মধু মধু কীর্তন শিহরি শিহরি সব কায়। পতিত পাবন হরি অব নব রূপ ধরি পতিত পাবন লাগি ধরি। আচণ্ডালে প্রেম দিলা নামে প্রেমে ভাসাইলা জগাই মাধাই তরি যায়। কাঁহা মঝু গোরাচাঁদ হরি নাম পরসাদ পাপ তাপ চলি যায়। এ মতি নামক সুধা মিঠাব কি ভব ক্ষুধা দাস অতীনে কাঁদে হায়॥ . **************** . সূচিতে . . . মিলনসাগর |