অতুলের পূর্বরাগ ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী কবি অতীন্দ্র লাল দাশ রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
আড়া অঞ্চলেতে এক উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক তার অতুল যে হয়! হঠাৎ এসেছে সেথা মাতুল শ্বশুর তাঁর ছাত্র সম এক কিশোর মধুর | পূর্বে তার দেখা শুনা ঙইয়াছে কত, যত তারে দেখিয়াছে আড়াআড়ি তত | আজি তাঁর জীবনের নূতন উষায়, নব রূপে সে কিশোর আসিয়াছে হায় | কিবা রূপ কিবা কান্তি আঁখি ঢলঢল, নিমেষে দেখিয়া যেন জীবন জুড়াল | অপলকে চেয়ে রয় হৃদয় বিহ্বল, দলে দলে বিকশিত বন্ধু শতদল! জীবনের মহালগ্নে বন্ধু সুধাকর, আবির্ভূত হইয়াছে আলোকি অম্বর! অকুল জলধি জলে জাগিল জোয়ার, উদ্বেলিত মহাসিন্ধু মত্ত পারাবার |
কে তুমি ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩৮৩, আড়ামেস বাড়ী কবি অতীন্দ্র লাল দাশ রচনা – ২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
প্রধান শিক্ষক আজি অতুল চম্পটি কি যেন হইল তার প্রাণ মনটি | নব জীবনের ঊষা হইল প্রভাত নবারূণ পূর্বাচলে আর নাহি রাত | বিদগ্ধ মনের তার শাশ্বত জিজ্ঞাসা, “কে তুমি অরুণাচলে মোহঘুম নাশা ? তুমি কি ব্রজের কানু নবঘন শ্যাম ? গোকুলে চরাতে ধেনু কিশোর সুঠাম ? বাজাতে মোহন ধেনু যমুনার কূলে, ত্রিভঙ্গ দাঁড়াতে বুঝি বংশী বটমূলে ? তুমি কি নদের গোরা সুরধুনী তীরে, প্রেমে নাচ প্রেমে গাও ভাস আঁখি নীরে ? তোমারে চিনেছি ওগো নবীন কিশোর, হৃদয়ে ধরিব তোমা বন্ধু মনোচোর |”
ভাবান্তর ২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৮৪, আড়ামেস বাড়ী কবি অতীন্দ্র লাল দাশ রচনা –২২ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
অতুলের হইয়াছে মহা ভাবান্তর বন্ধু সঙ্গ লাভে সদা ব্যাকুল অন্তর বিদ্যালয়ে যদি যায় বন্ধুরে না হেরে ক্ষণিকের অদেখা সে সহিবে কি করে | বিদ্যালয়ে যাবে না সে এই ভাবি মনে কাটায় সময় বৃথা এখানে ওখানে ! বীণা বিনিন্দিত কন্ঠে বন্ধু ডেকে বলে বেলা হল বিদ্যালয়ে যাও তুমি চলে | চাল ডাল সিদ্ধ তবে দিয়া যাও মোরে | এত শুনি চম্পটি স্কুলেতে গেল বন্ধু হরি তার তরে মেসেতে কাটায় | ক্ষণপরে শ্রীঅতুল ফিরিয়া আসিল | আনমনে কত কিছু ভাবিতে লাগিল |
চাঁদ ও চকোর ২য় খণ্ড, পৃঃ ৫৮৫, আড়ামেস বাড়ী কবি অতীন্দ্র লাল দাশ রচনা – ২৩ / ০৯ / ১৯৫৯, উদয়পুর শ্রীমতী মাধুরীকণা দাশ প্রকাশিত “পঙ্কজ” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া
বন্ধু চাঁদ উঠিয়াছে অতুল বিভায়, অতুল চকোর যেন ধরিতে না পায় | উতলা হৃদয় নিয়ে মিছে ঘুরে মরে, কেমনে ধরিবে তারে বুঝিতে না পারে | এত শিক্ষা এত জ্ঞান সব যায় ভেসে জীবনের বন্ধু তার এল অবশেষে | জীবন দেবতা আজি তুলিযাছে তান হৃদয় যমুনা তাই বহিছে উজান | নবঘন জলধর ঘিরেছে গগন উষর মানস ক্ষেত্রে হয় বরিষণ | শ্রেয় প্রেয় একাধারে শ্রীবন্ধু মাতুল জগতের বন্ধু হরি পেয়েছে অতুল | ধর্মাধর্ম পাপ পুণ্য সকল বন্ধন নিমেষে ঘুচায়ে দেয় ও রাঙ্গা চরণ |