যত গাঢ় হয় দুঃসময় ছানি পড়া দুটি চোখ যেন- তীক্ষ্ন দৃষ্টি ফিরে পায় , তখন চেনা জানা সব কিছুই কেমন যেন অচেনা মনে হয় ৷ ধূর্ত মানুষগুলো সব বিবস্ত্র হয়ে ঘেঁটে চলে পুরনো কাসুন্দি , প্রেম তখন প্রেমিকের ফুটো পকেট দিয়ে খুচরো পয়সার মতো ঝন্ ঝন্ করে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে ৷
আশঙ্কায় দিন কেটে যায় নতুন প্রভাতের আশায় , সদ্যজাত শিশুর চোখে অন্ধকার পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি দেখা যায় , দিন দিন বেড়ে যায় সমান্তরাল শাশনের দৌরাত্ম , ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানুষের দল , সর্বস্ব হারিয়ে , অন্তঃসার শূন্য হয়ে- প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের মতো দমকা হাওয়ায় এদিক ওদিক ভাসতে ভাসতে নর্দমার পাঁকে গিয়ে জমা হয় ৷
কবিতা- শুধু তোমার জন্য হয়েছে আমার জন্ম , বিশাল এ পৃথিবীতে আজন্ম আমি লিখে চলেছি তোমায় , ভেবে চলেছি তোমায় ৷ তোমার ভাবনায় , চোখে নামে জল , ঠোঁটে জাগে ভাষা , আর শরীরের রক্তে জাগে শিহরন ৷ কাঁপা কাঁপা হৃদয় , আর ভাঙ্গা চোরা মন , তবুও সেখান থেকে – বের হয় শুধু তোমারই গুঞ্জন ৷ কবিতা- শুধু তোমার জন্য হয়েছে আমার জন্ম ৷
ভাবনা , চেতনা মিলেমিশে একাকার – তোমাতে , কল্পনার দুনিয়াতেও শুধু তোমার কোলেই –ভেসে থাকে মন , আরতো কিছু আসেনা আমার মাথাতে ৷ পাগলের প্রলাপ , লোকে বলে – তা বলুকনা- কিন্তু আমি তো শুধু জানি , কবিতা- শুধু তোমার জন্য হয়েছে আমার জন্ম ৷
চুম্বনের ভাষা , তাতেও তুমিই প্রকাশ , বিরহের বেদনা , তাতেও তুমিই প্রকাশ , তোমার জন্য আমি লক্ষ-কোটি বছর অভুক্ত থেকেও , চলতে পারি পথ , রাজদরবারেও আমি নেব তোমার শপথ ৷ কবিতা- শুধু তোমার জন্য হয়েছে আমার জন্ম ৷
কবিতা- শুধু তোমার জন্য দেউলিয়া হতে পারি আমি , রাজার বসন ছেড়ে , নিরাভরন দেহে রাস্তায় আমি নামতে পারি ৷
তোমার ভাষায় বক্তৃতা করে হতে পারি বিখ্যাত লোক অন্ধকারেও তোমাকে জ্বালিয়ে জ্বালাতে পারি সহস্র কোটি আলোক ৷ শত শোষিতের , লাঞ্ছিতের প্রতিবাদের ভাষা তুমি , জ্ঞানী-মূর্খের ভেদাভেদ মুছে তুমি পবিত্র করেছো আমার জন্মভূমি ৷ কবিতা- শুধু তোমার জন্য হয়েছে আমার জন্ম ৷৷
বুকের মধ্যে বদ্ধ হয়েছিল এক মাতাল করা সৌরভ , একটা একটা করে পাঁপড়ি খুলে যখন আত্মপ্রকাশ করে তখন বট , অশ্বত্থ , শাল পলাশের দল নত মস্তকে বন্ধ চোখে শ্বাস নিয়ে যায় ৷ সুগন্ধি বাতাসের ডাকে চাঁদ পৃথিবীর কাছে আসে দীর্ঘ হয় পূর্নিমা ………. শত লাঞ্ছনা অত্যাচারের গ্লানি লাল , পুরাতন রক্তের – কালসিটে দাগ ধুয়ে নিয়ে যায় ৷ এরপর যখন বারি ধারা ঝরে অঝোর ধারায় রোদে পুড়ে যাওয়া মাটি ঝলসে যাওয়া বনস্পতি প্রান ফিরে পায় , কৌলিন্য হীন নবীন ফুলকে , দুহাত তুলে করে আশির্বাদ ৷৷
সিলিং ফ্যান অবিরাম ঘুরছে হাল্কা পারফিউমের গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে , সুখ ঢাকা পড়ে যাচ্ছে , অসুখের চাদরে ৷ গভীরভাবে ভেবে চলা শব্দগুলো একে একে বেরোতে থাকে বুকের ভেতর থেকে , আর রেখে যায় ছোট ছোট অনেকগুলো ক্ষত্ ৷
মেলার আসরে , পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনায় , আলতোকরে আইসক্রিমে কামড় , আর নাগরদোলায় ঘুরতে ঘুরতে দূর থেকে ভেসে আসা বিরহের সুর শোনা ৷