নভেম্বরের ডাক শোনো কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া |
নভেম্বরের ডাক শোনো, . কাঁধে নাও রক্ত নিশান | এ যুগেতে লেনিন জানায় . ( শোনো ) মাওয়ের গলায় আহ্বান || ভলগার স্রোতধারা রুদ্ধ. . হোয়াংহো বহে তাই উদ্দাম | যুদ্ধ বাজের ডানা স্তব্ধ, . এশিয়ায় জ্বলে ভিয়েৎনাম || লাঙলের ফলা হোক সঙ্গীন, . আমরা যে চাই আরো বাঁচতে, নিশানটা খুনে করো রঙ্গীন, . হাতিয়ার হোক আজ কাস্তে || দুষমন আসুক না ভয় কি ? . ( মোরা ) মাও সে তুংয়ের ডাকে বলীয়ান | নকশাল উঁচু করে ধরেছে . এশিয়ার বিপ্লবী সম্মান ||
আজ মে দিবস, শ্রমিকের রক্তস্নান কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া | [ শ্রী সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত ‘ধ্রুবপদ’ সংকলন গ্রন্থ ( ১৯৯৯ ) ও জলার্ক ( ত্রয়োবিংশ সংকলন ) – এর সৌজন্যে ]
আজ মে দিবস, শ্রমিকের রক্তস্নান অস্ত্রে অস্ত্রে সর্বহারার মুক্তির ঐ আহ্বান ! নকশালবাড়ি, তুমি ভারতের ভিয়েৎনাম ! নিহত স্তালিন তোমাতে পেয়েছে নতুন প্রাণ ! কমরেড মাও তোমাতে পেয়েছে নতুন নাম ! হে-বাজার, লাল সেলাম ! নকশালবাড়ি লাল সেলাম ! লেনিন, স্তালিন, মাও সে তুং, লাল সেলাম ! কারাগারে শুনি অগ্নিশাঁখ,--- শপথ নিলাম, তোমার ডাক – ‘আজকের দিন সব দিন হোক ! মে দিবস লাল সেলাম !!’
মন চল্যাঁছে শুশুনিয়া পাহাড়ে ( হঁ বটে ) কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া | [ শ্রী সুধীর চক্রবর্তী সম্পাদিত ‘ধ্রুবপদ’ সংকলন গ্রন্থ ( ১৯৯৯ )– এর সৌজন্যে ]
সুবর্ণরেখার সোনা সোনা জলে কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া | [ অনীক ( জুন ১৯৮১ ) পত্রিকার সৌজন্যে ]
মে-দিবসের গান কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া | [ অনীক ( মে, ১৯৮৮ ) পত্রিকার সৌজন্যে ]
আবার উঠুক ঝড়, দুরন্ত ঝড়! দিগন্ত জ্বলন্ত বহ্নি ঝড় ! বেদনার ধূপ জ্বেলে অগ্নি শপথ নিক – ভারতের যত গ্রাম গ্রামান্তর ! --- বহ্নি ঝড় !!
মাগো, তোমার বুকে ঝরলো যে খুন কথা ও সুর : দিলীপ বাগচী শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া | [ জলার্ক ( ত্রয়োবিংশ সংকলন ) পত্রিকার এর সৌজন্যে ]
মাগো, তোমার বুকে ঝরলো যে খুন, তাই আমার চোখে জ্বলে আগুন | ওদের করবো না ক্ষমা ( ৪ ) মোদের ক্ষেতের সোনালী ঐ ধান, ওরা চুরি করে ঢুকিয়ে দ্যাছে নোনা জলের বান | মোদের কোলের সোনার শিশু কেড়ে ওরা নেকড়ের মুখে দিয়েছে যে ছেড়ে, তাই ওদের সুখের স্বপ্নের আল ছিঁড়ে ফেলে করবো যে খান খান --- মোদের ক্ষেতের --- ওগো গ্রাম বাংলার কিষানী মা শোন ওদের সুখের ঘরে প্রদীপ দিতে রাখবো না কোন জন | গণশিল্পী মোরা ডাক দিয়ে যাই বাংলার ঘরে ঘরে পিশাচের শেষ করিতে তোমরা . শান দাও হাতিয়ারে ( ৩ ) | শান দাও হাতিয়ারে শান দাও কাস্তে হাতুড়ীটা তুলে নাও শত্রুকে চিহ্নিত করে নাও, . হাতিয়ারে শান দাও ( ৩ ) | বন্ধু তোমার ছাড়ো উদ্বেগ সুতীক্ষ্ণ করে নাও চিত্ত, বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি . বুঝে নিক দুর্বৃত্ত | আমার সোনার ধান আমার মাটি কারখানা কলে ক্ষেতে আমরা খাটি শত্রুর লক্ লকে জিভখানা টেনে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলো ( ২ ) আরবার ---- . শান দাও হাতিয়ারে --- |
গাজীর গান ( কানোরিয়া সংস্করণ ) কথা : দিলীপ বাগচী, ( প্রচলিত লোকসুর ) শংকর সান্যাল ও তাপস চক্রবর্তী সংকলিত ও সম্পাদিত এক আসাধারণ সাধারণ মানুষ দিলীপ বাগচী : জীবন ও সৃষ্টি থেকে নেওয়া | [ প্রতিবাদী চেতনা ( মে দিবস সংখ্যা, ১৯৯৪ )– এর সৌজন্যে ]
* ( ) বন্ধনীর অংশ আগের চরণের সাথে ধরতাই হ’য়ে আসবে |*
আমি সবার আগে সেই মানুষের করি যে বন্দনা, গতর দিয়ে চালান যাঁরা এই দুনিয়া খানা | ( যাঁরা না বাঁচিলে ) যান বিফলে আল্লা-ভগবান, যাঁদের ঘরে জন্মে যীশু নবী পেলেন মান || ( সেই শ্রমজীবি ) আমার নবী করি তাঁর বন্দনা, তার পরেতে গাজীর গান শুনেন সর্বজনা || ( শুনেন জনগণ ) দিয়া মন পান সুপারী হাতে --- ঘরে ঘরে সবাই কেমন আছে দুধে ভাতে | ( এই লাল বঙ্গে ) মহারঙ্গে উড়ে লাল নিশান, জল-স্থল-অন্তরীক্ষ নাদে কম্পমান || “ ( ঐ বিপ্লব আসে )” সবাই নাচে হইয়া কাছাখোলা, মরবে এবার মালিক জোতদার ঘুচবে তাদের লীলা || ( আর নাইরে দেরী ) বাজে ভেরী সাইরেন তাহার নাম, মন্ত্রী আসেন, শপথ পড়েন, মহা মহা বাম || ( তারা নানা দলের ) গ্যাঁড়াকলের মারকশবাদী নেতা, নানা মতের বিপ্লব চাইয়া খাইল কানের মাথা || ( কিন্তু একমত সবাই ) মন্ত্রীত্ব চাই যেন তেন ভাবে , লাথি ঝাঁটা খেয়েও তারা গদী কামড়ে রবে || ( তবু চিক্ষুর পারে ) রাখতে ধরে ভাবমূর্তিখানি, নইলে, ক্যাডার পালায় মারের ঠ্যালায় চক্ষে হবে পানি || ( বড়দার মস্তানীতে ) পস্তানীতে ভরে তাদের চিত্ত, তবু সব ভুলে যায় ছেলুট পাইয়া, আর পাইয়া বিত্ত || ( নেতার বিদেশ ভ্রমণ ) যখন তখন লন্ডন-চায়না-রুশে , স্বদেশ পরিণত হইল কের্ মশো বিদেশে || ( আসেন মাঝে মাঝে ) বুঝে সুঝে বলেন দু’চার কথা, দেশের জল তাঁর সয়না পেটে, ওঠে ফিকের ব্যথা || ( তখন ডাক্তারে কয় ) যান মহাশয় লন্ডন কিম্বা মস্কো, নিরাময়ের ওষুধ পাবেন, সারবেন শুনে ডিস্কো || ( দেশের হাসপাতালে ) দলে দলে শূয়োর কুকুর ঘোরে, ঔষধ পথ্য বিনে রোগী যায় যে যমের ঘরে || ( দেখে রামের লীলা ) টাটা বিড়লা আসে হেসে হেসে , বিদেশীদের পুঁজি এসে দরজায় খুক খুক কাশে || ( ছাঁটাই লক্ আউটে ) শ্রমিক মুটে দিচ্ছে গলায় দড়ি, শ্রমমন্ত্রী মজদুর রেতে যান মালিকের বাড়ি || ( আনে শর্তখানা ) কয়েকজনা ছাঁটাই মেনে নিলে, বাকীরা পাবে অর্ধবেতন তবে না মিল খোলে || ( কায়দা কত ) সে মিলাবি ঘুরে বাড়ি বাড়ি, বেকারের সংখ্যা সারা দ্যাশে পঞ্চাশ লাখ যায় ছাড়ি || ( তাইতো ফুলেশ্বরে ) সমস্বরে চটকলে মজদুর বলে, ‘দলের পোষা মজদুর নেতা’ যাক না রসাতলে || ( আমরা নিজ জোরে ) নিব গড়ে মোদের ইউনিয়ন, খালি পেটে শুনবো না আর দলের সংকীর্তন || ( করবো বাঁচার লড়াই ) কারে ডরাই ? চালাই যে মেশিন, তৈরী মাল যায় দেশ বিদেশ মার্কিন-জাপান-চীন || ( আমরা ভাঙ্গবো তালা ), মেশিন গুলা আমাদের সন্তান, মোদের হাতের ছোঁয়া পেলে গাইবে জীবন গান || ( লোকে জানবে নিশ্চয় ) কামচোরা নয়, বাংলার মজদুর যত, গতর খেটে উড়িয়ে দেব বদনাম শত শত || ( তখন কানোরিয়ায় ) চাকা ঘোরায় সকল মজদুর মিলে, ত্রাহি ! ত্রাহি ! রব উঠিল নেতাদের গোকুলে || ( তেলে জলে মিশে ) ওঠে ফুঁসে একই মঞ্চ থেকে, সুব্রত আর নীরেনবাবু একই সুরে হাঁকে || ( যত বস্তা পচা ) গালির খোঁচা, তার সাথে দেয় হুমকি, টাটকা বোঁদের সাথে জমে খাস্তা গরম নিমকি || ( নাকি, এসব পথে ), ওঁদের মতে, সমস্যা না মেটে, কোন্ পথে তা মিটবে, সেটা বলেন না কো মোটে || ( নতুন লড়াই দেখে ) অবাক চোখে তাকায় বঙ্গবাসী ছাত্র-যুবক-মধ্যবিত্ত গ্রাম গঞ্জের চাষি || ( আনেন সাধ্যমত ) অর্থ যত, গয়না-গাটি বেচে, রক্ত বেচে টাকা তোলেন, লড়াই যেন বাঁচে || ( গলায় গানের ডালি ) নিয়ে চলি শিল্পী মোরা সবে, মানুষের জয়, জীবনের জয় হবে নিশ্চয় হবে || ( নেতা বলেন রেগে ) বিদেশ থেকে দিচ্ছে অর্থ-অন্ন, আপন গন্ধে বিভোর ছুঁচো পায়না গন্ধ অন্য || ( খাঁকী বাবাজীরা ) নেতাজীরা মিলে করেন কায়দা, পাসারীরা গ্রেপ্তার হয়না, উল্ টে তোলে ফায়দা || ( যত টাকা মেরে ) জমার ঘরে দেখায় কেবল ফাঁকা, ‘কেন্দ্র দায়ী’ এই গান গেয়ে জ্যোতি বোস দেয় ধোঁকা || ( বন্ধ এক এক করে ) ধীরে ধীরে কত যে কারখানা, অনশন আর আত্মহনন গা সওয়া ঘটনা || ( বলি, তাই কানোরিয়া ) যায় লড়িয়া সকলের লড়াই, চাষি-বেকার-মধ্যবিত্ত-দোকানী সবাই--- ( সামিল হও লড়াইয়ে ) দাও ছড়ায়ে দেশে প্রতি কোণে, গলা মেলাও গাজীর সাথে কানোরিয়ার গানে || ( শেষ হোক গাজীর গান ) থাকুক তান সবার মনে মনে, তুষের আগুন ধিকি ধিকি জ্বলুক সবার প্রাণে || ( দ্যাখো মিছিল চলে ) দলে দলে রেল লাইনের বাঁধে, গ্রামে গঞ্জে চলে মিছিল ভন্নি দুপুর রোদে || ( চলে সবাই মিলে ) ঐ মিছিলে, এই গানে দাও সাড়া “জাগো, জাগো, জাগো সর্বহারা অনশন বন্দি ক্রীতদাস, শ্রমিক দিয়াছে আজ সাড়া উঠিয়াছে মুক্তির আশ্বাস |”
[ প্রয়োজনে ‘আন্তর্জাতিক’ গান শেষ পর্যন্ত গাওয়া যাবে ]