কবি জর্জ মীর্জাফর গোস্বামীর গান ও কবিতা
*
টেষ্ট-টিউব বেবী
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী

টেষ্ট-টিউবে শিশুর হাসি
.        হচ্ছে কত রটনা
টেষ্ট-টিউবে বাচ্চা  গজায়
.         এটা কিন্তু ঘটনা ।
*          *         *
ইংরেজরা লুটলো ভারত
.           হাতে নিয়ে অস্ত্র
কাড়ল তাঁরা মুখের খাবার
.             কাঁড়ল ভিটে বস্ত্র ।
রুখতে তাদের এই ডাকাতি
.            কৃষক ধরে কাস্তে
জীবন দিয়ে লড়াই করে
.            নতুনভাবে বাঁচতে ।
সাদা শোষক মুচকি হেসে
.             ধরেন নতুন কায়দা
টেষ্ট-টিউবেই  দিলেন কিছু
.          দোআঁশলা সেই পয়দা
মাতা কালা-জমিদারী
.        পিতা সাদা-বানিয়া
টেষ্ট-টিউবের পয়দা নাচে
.     গোদা গোদা পা নিয়া ।
পিতা মাতার ভজন করে
.        মোহন কিম্বা সাগরে
জমিদারী উছলে ওঠে
.           পিরীত ছড়ায় নাগরে ।
রাম-রহিমে দাঙ্গা বাঁধায়.
.     সেই বাঁকা চাঁদ আদরে
অহিংসাতে হিংসা ঢাকে
.           নেংটি পরা বাঁদরে ।
পিতা-মাতার বাধ্য ছেলে
.          টেষ্ট-টিউবের পয়দা
দেশটা কেটে দু’ভাগ হ’ল
.      সাদা বাবার ফয়দা ।
টেষ্ট-টিউবের পয়দারা সব
.   ঘুরছে আজও বাজারে
রুশ-মার্কিন বাবার পোলা
.           মন্ত্রীসভার মাঝারে ।
পয়দারা সব আইন করে
.   বাবার শাসন মানতে
কাস্তে আজও আইন ভাঙ্গে
.      নতুন সকাল আনতে ।            [ ১৯৭৮]

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শিক্ষা-দীক্ষা
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী



বিদ্যার্জন কঠিন ব্যাপার
যদিও কাটবে ঘোড়ার ঘাস
একটু বেঠিক বেচাল হলেই
শিক্ষাদানের সর্বনাশ ;
এগারো বাতিল, হোকনা বারো,
উঁহু--- সেই দশটা ক্লাস
সিলেবাসের তলায় খোকা
খাচ্ছে খাবি, উঠছে শ্বাস ।               [ ১৯৭৪ ]



[ সংবাদে প্রকাশ ফল প্রকাশের আগেই পরীক্ষার
খাতা বাজারে ঠোঙা হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে । ]

সরস্বতীর বরপুত্তুর সেই বাড়ীটির কর্ণধার
আমলা গড়ার কারখানাটি দেখতে বড়ই চমত্কার
ছাত্রনামের ভেড়ার পালের টিকির সাথে বাঁধা মাথা
শিক্ষাদানের ভেল্কী বাজী হচ্ছে ঠোঙা খাতার পাতা ।              [ ১৯৭৮]



ইংরাজীটা বুর্জোয়াদের ভাষা ;
বামপন্থী দাদা দিলেন ফর্মূলাটা খাসা !
উচ্চশিক্ষা নেবেন যারা উচ্চকোটির পোলা
আমলা হবেন শামলা এঁটে গণ্ডযুগল ফোলা ।
বাংলা ?  সে তো জনগণের ভাষা !
তাইতো দাদার বাংলা নিয়ে অন্যরকম আশা ;
ছাপোষা সব মানুষেরা বি.এ. তে ফেল মেরে
কষবে হিসেব, পিষবে কলম সারা জীবন ধরে ।
বেকারগুলো কুড়িয়ে ভাতা বলবে জীয়ো জীয়ো
মেকলেদার বোতল থেকে দাদা তুমি পিও ।                        [ ১৯৭৯ ]

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আন্তর্জাতিক শিশু-বর্ষ
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী

চলছেই চলবেই এই শিশু বচ্ছর
ভিকিরীর ছেলেগুলো অতিশয় খচ্চর
কারো পেট ডিগডিগে কারো কফ পড়ছে
খাই খাই ক’রে শুধু জিভে লালা ঝরছে ।
এঁটো পাতা চেটে খায় বাপরে কি হ্যাংলা
এতো খায় তবু কেন শরীরটা ক্যাংলা !
রীতি নেই, নীতি নেই, নেই কোন শিক্ষা
স্বভাবটা ভারী বদ সারা দিন ভিক্কা
“ব্যাপারটা কমপ্লেক্স” বলে মিস খান্না
সমাজ সেবিকা তিনি কোনো বোঝা চাননা
মাঝে মাঝে ক’রে তাই শিশু এগজিবিশান
নাম ডাক কিনেছেন, পেয়েছেন কমিশন ।
এই শিশু-বচ্ছরে অতিশয় ব্যস্ত
ভয়ানক দায়িত্ব তাঁর ঘাড়ে ন্যস্ত
বেওয়ারিশ ছেলেদের কি বিশাল লিষ্টি
ফুলটুল দিতে হবে, দিতে হবে মিষ্টি ;
হোকনা খাটনি বড় মিস আজ হর্ষে
মোটা কিছু মিলবেই এই শিশু বর্ষে ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মার্কসবাদীর নির্বীজ করণ
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ রাজ্যের “স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামনারায়ণ বাবুর কৃতিত্বে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের কাছ
থেকে এক কোটি টাকার একটি পুরস্কার পেয়েছে । এক বছরের তাঁর দফতর এ
রাজ্যের ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ১০ জন নারী-পুরুষকে নির্বীজ করণ করিয়ে এই পুরস্কার
পেয়েছেন । সারা ভারতে ভেসেকটমি বা টিউবেকটমির ক্ষেত্রে রামনারায়ণবাবুর
পশ্চিমবঙ্গ এখন দ্বিতীয়” ! ]


মার্কসের ক্যাপিটালে যেই কথা নাইরে
সেই কথা শিখে নিতে ম্যালথাস চাইরে ।
বামফ্রন্ট বিপ্লবী ! এতে আর ভুল কি ?
‘বিপ্লবী সাফল্য ।’ এতে আর গুল কি !
জনগণ গ’ড়ে নেব বিপ্লবী ধরণে,
হও সবে তৈয়ার নির্বীজ করণে !
নির্বীজ জনগণ, করো নাসবন্দী,
লাল ফ্ল্যাগ ত্রিকোণের লালে লাল সন্ধি !
নির্বীজ করণেই শান্তির গন্ধ
এই পথে সমাধান যত শ্রেণী দ্বন্দ্ব !
নির্বীজ জনগণ খেতে কেন চাই বে ?
‘রাম নাম সৎ হ্যায় ।’  রামধুন গাইবে ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাজার বাসনা
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ মাননীয় ঘনশ্যাম দাস বিড়লা মহাশয় বলেছেন, নকশালপন্থীরা হিংসার
পথ ত্যাগ করলে তিনি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন । ]


চৈতন্যের দেশে,
পুঁজিপতি ঠিক ব’লে যান
মানব প্রেমিক শেষে ।
বলেন মধুর হেসে,--
‘নকশালদের ঘুষ দেব ভাই,
দেবই ভালোবেসে !’

পাত্র মিত্র অমাত্যরা তুল্ লো ঢেঁকুর হেসে ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাজার মৃত্যুতে
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ শ্রীযুক্ত ঘনশ্যামদাস বিড়লার  মৃত্যুর পর মার্কসবাদী
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভস্মাধারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন । ]


বিড়লার মরণে                              তাঁর ছিরি চরণে
মালা দেন কমরেড জ্যোতি বোস,
মুনাফার শেয়ারে                         বাঁধা তিনি পেয়ারে
মালা দেন তাতে আর কিবা দোষ ?
বাম বাম ঢঙেতে                          আর লাল রঙেতে
গদীটাই জীবনের সত্য !
কার্ল মার্কস বুড়ো ভাম,                মার্কেটে কিবা দাম ?
বেঁচে থাক গাঁধীজীর তত্ত্ব !

.             ***************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সল্টলেক সার্কাস
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী


ক্রিড়া অঙ্গনে বাজিল সানাই
সে দিন প্রভাত বেলা,
কত রকমারী গাড়ী আর দাড়ি
সবহারাদের মেলা ।
বৃদ্ধ যাহারা গেঁটে বাত লয়ে
বসিলেন গদী চেয়ারে---
কমরেডী গণ মন উচাটন
বিপ্লবী ছাঁটা ‘
hair-এ’
যুবক যাহারা পেশী ফুলাইয়া
তাল ঠোকে মহানন্দে—
বাংলার মাটি লালে লাল ঘাঁটি
খাঁটি মার্কসীয় ছন্দে ।
‘শুনিতে কি পাও আসে বিপ্লব ।’
কহিলেন নেতা সরবে,---
টাটা ডালমিয়া ফোলা গাল নিয়া
হাসিলেন মৃদু গরবে ।

.             ***************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মার্কসিষ্ট
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ যোগ্য পুঁজি সংগ্রহের
উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন । ]


পিকিং থেকে কমরেডদা এবার গেলেন মার্কিনে
রঙ্গ ক’রে বঙ্গ পিতা অঙ্গ ঢাকেন জ্যার্কিনে
মুলুক খুঁজি মিলবে পুঁজি
মন্ত্রী মালিক বাড়বে রুজি
রাঘব বোয়াল সাধেন তিনি, মজুর মারা চার কিনে !

.             ***************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কমরেড মিঠুন ও ‘হোপ ৮৬’
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ জনযুগ’  ডিসেম্বর, ১৯৮৬ ]


শুনিলাম রব লবণহ্রদেতে বাজে ৮৬’র আশা
বিপ্লবীগণ মন উচাটন বুক ভরা ভালোবাসা ।
শুকাইয়া যাবে বন্যার জল হাভাত পাইবে ভাত
বোম্বাই হিরো জড়াইয়া ধরে বিপ্লবীদের হাত ।
যুবা এ বয়সে বোম্বেবাসীর দর্পভঙ্গ করি
বাংলার ছেলে ঘরে আসি নাচে যশের মুকুট পরি ।
ডিস্কোনৃত্যে মাতাইছে দেশ, মিঠুন তাহার নাম—
সুন্দরী কন ‘ওগো প্রিয় মোর !’  বিপ্লবী কন—‘বাম !
টাকার গায়ে কি কভু লেখা থাকে ‘গরীব’, ‘শিল্পপতি’ ?
ডিস্কো নৃত্যে নাচিবেক টাকা, কী-ই বা তাহাতে ক্ষতি ?
নিন্দুকে কন ‘অপ-কালচার, ডিস্কো গানের রেশ’
‘অপ নহে ইহা, বাম কৌশল, ভাসিবে বঙ্গদেশ’ !
চক্ষের জল বন্যায় মেশে, ডিস্কোর সুরে ত্রাণ,
‘নির্বাচনের পূর্বে গাহিব সর্বহারার গান !
আপাতত নাচি ডিস্কোনৃত্য নাচিতে বড়ই খাসা—
প্রতি বত্সর আসুক বন্যা, এই ৮৬’র আশা ।

.             ***************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আল্লাদী
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সুকুমার রায় অবলম্বনে ]

হাসছি আহা হাসছি কেমন হাসছি সবাই আল্লাদী
দামড়া গুঁফো জটলা করে দাঁত কেলানোর পাল্লাদি ।
বিড়লা কেমন নাদুস-নুদুস এতেও হাসি স’ন্দ কি,
বেকার কেমন মারছে লাইন পাচ্ছ হাসির গন্ধ কি ?
বিশটি দফা অর্থনীতি, গরীব কেমন ঘাবরেছে,
মন্ত্রী কেমন অট্টহাসে চামচাগুলোও দাবড়েছে ।
শোলে’র হিরো হাসছে কেমন বুক পকেটে ফুল গুঁজে,
বামপন্থী হাসছে আহা ভোটার গুলোয় ভুল খুঁজে ।
ভূপালেতে লোক মরেছে নাচ্ছে ভুড়ি নাচ্ছে তাই,
এই তো সেদিন দাঙ্গা হ’ল, এতেও হাসি পাচ্ছে ভাই !
মানুষ কেমন রক্ত ব্যাচে হাসছি তাদের ঢঙ দেখে,
মোল্লা উড়ে খোট্টা হাসি সংহতির রঙ মেখে ।
প্রেমের হাসি, ত্যাগের হাসি ; সহজ তো নয় শেষ করা ;
যুবরাজে হাসেন কত হাসতে হাসতে দেশ গড়া ।

.             ***************              
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর