কবি জর্জ মীর্জাফর গোস্বামীর গান ও কবিতা
*
ক্যারেকটার সার্টিফিকেট
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ বিশিষ্ট শিল্পপতি স্বরাজ পাল মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর শিল্পনীতিকে
“গঠন মূলক ও বাস্তববাদী” বলে বর্ণনা করেছেন ! তিনি বলেছেন বসুর একটা
“প্রোগোসিভ আউটলুক আছে ! ” ]


সংগ্রাম সেরে টেরে আজ তিনি বৃদ্ধ
সপ্তাহে তিন দিন নিরামিষ সিদ্ধ ;
কমুনিশ বলে তারে কংগ্রেসী নিন্দুক
শালারা কি জানে তার কত বড় সিন্দুক ?
লাঠি গুলি প্রশাসন কি দারুণ চলছে,
তবু হায় কি কপাল, কমুনিশ বলছে ।
কচু চেনে বরাহতে, রতনটা রত্নে
স্বরাজকে তেল দেন আহা কত যত্নে ।
পালবাবু তারে ক’ন বাস্তব বাদীরে,
এসো ভাই দুইজনে হেঁড়ে গলা সাধিরে,
তোমার আউটলুক প্রগতির পক্ষে
গদী আর পুঁজি তাই বাঁধা এক লক্ষ্যে ।
কমুনিশ নও তুমি, মালিকের মিত্র
লিখে দিই তোমাদের চরিতের চিত্র ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হক্ কথা
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী


গোঁসাইয়ের বড় সাধ
রচিবেক পদ্য
হইল কিতাব ফের
রেডিমেড সদ্য !

দুপুরে বা সাঁঝরাতে
চাই এই বইটা
সই সাথে বই পড়ে
বাঁধে হৈচৈ-টা !

মীরজাফরের দিল্
সে যে সদানন্দ
কিতাবটা প’ড়ে দ্যাখো,
মোটে নয় মন্দ !

চারনন্বরী এই,
জর্জ মীরজাফরী,
বুশ কেন রেগে যায়
এই বই না-পড়ি ?

ওনাদের পেটে পেটে
জিলিপির প্যাঁচটা—
গোঁসাইয়ের সে কলম
চলে ঘ্যাঁচা ঘ্যাঁচ্ টা !

বাম হও, ডান হও—
কী-বা কোনো মন্ত্রী
মোল্লা বা আদবানী
‘বাম’ ষড়যন্ত্রী ।

ছড়া পড়ে কড়া ক’রে
এক কাপ চায়ে রে,
মামা পড়ে, মাসী পড়ে
শহর আর গাঁয়ে রে ।

নেই নেই বই এই
হাসিখুশি ! শেষ তো !
বুড়োধাড়ী কচি খোকা
হেসে কয়, বেশ তো ।

সব্বার ভালো লাগে—
জর্জের বই রে !
তোমরা উঠলে গাছে
কেড়ে নেবো মই রে !!

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বঙ্গদেশের ছড়া
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী

॥ ১ ॥

বুদ্ধুবাবুর বঙ্গদেশ
শুভ্র কেশে কাশেন বেশ ।
কেউ যদি গায় অন্য গান
কোটাল এসে ধরেন কান ।
‘কমরেড’ স্যার, বিচার কর
নীলডাউন-এ নামতা পড় ।
নামতা পাঠায় বুশের ছা
বুদ্ধু তাঁহার ধরেন পা ।
তাহার পরে নাড়েন লেজ
বঙ্গভূমে হইল
SEZ
শিল্প তাহার ভবিষ্যৎ
জন্ তা বেবাক মরণবৎ ।
মার্কিণী বাপ বুশের গোঁ ।
দিল্লীপতির সানাই পোঁ ।
শিল্প বুদ্ধু গড়বেন-ই
বুশের ঝুলি ভরবেন-ই ।
তাই তো গানা শুনলে রাগ
পশ্চাতে তাঁর গদির দাগ ।
মুদ্দি আলি লালবাতি
বুশদা ধরেন লাল ছাতি ।
পার্টি তাঁহার ‘ডার্টি’ বেশ
মীরজাফরের কাব্য শেষ ।


॥ ২ ॥

সমবেত বন্ধুগণ
হইবে খুশ্ তোমার মন ।
কালকে রেতে বন্ধ ‘ফ্যান’
‘মেয়র’ মশার প্যানর প্যান ।
গোয়েঙ্কাজীর জবাব নাই ।
মন্ত্রী খায়েন ভেটকি ফ্রাই ।
সঙ্গে চারেক চম্ চমা ।
পাসেই থাকি দমদমা ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বুদ্ধং শরণং
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী

শুনহ গরিব ভাই
বিদেশীর পায়ে মাথা মুড়াইয়া
স্বদেশীর গান গাই ।
চাষাভুষাদের গঙ্গাযাত্রা
সালিম আসিলো তাই—
ধানক্ষেতে ওড়ে প্রগতির ধোঁয়া
লাভের বখরা পাই ।
উন্নয়নের কেতনটি ওড়ে
বঙ্গের বুকে আজ,
মোদের রাজ্যে দেশের কাজ যে
সবহারাদের রাজ ।
নিন্দুকে কয় স্থির নিশ্চয়
সালিমটি কাটে গাঁট—
গড়িবে নগরী বলো বলো হরি
কেওড়াতলার ঘাট ।
শুভ্র কেশেতে উদাস বেশেতে
বুদ্ধের জুড়ি নাই
পড়িলো ধন্য মানগণ্য
( মোরা উজবুক তাই ! )

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গোবরবাবুর সাধ
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ : মাননীয় মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী হরিদাস পাল ছত্রধর মাহাতো
সম্বন্ধে বলেন, ‘আমি হলে ওকে আছাড় মেরে জেলে পুরে দিতাম – ’  ]


সুভাষ দাদা সুভাষ দাদা
করছো তুমি কী ?
এই দ্যাখো না ছত্রধরে
         আছাড় মেরেছি !
কেমন ক’রে মারলে আছাড়
.          বলবে নাকি দাদা—
আমরা নেহাৎ বেকুব বোকা
.          হাঁদা এবং গাধা !
ছত্রধরের মাতব্বরী
.           চলছে কেন আজ !
পরো দেখি সুভাষ দাদা
.           গোবরবাবুর সাজ !
জানো তো কে গোবর বাবু—
.           বিরাট কুস্তীগীর !
আমরা জানি তুমি দাদা
.           তাহার মতোই বীর !
ভয় নেই কো ডর নেই কো
.           বাক্যের ফুলঝুরি—
কে পরালো টুপির বাহার
.            কে বানালো ভুঁড়ি ?
হাত কাটা সেই দিলীপ ছিল
.            নাক কাটা সেই বুধু
দু’কান কাটা বিনয় কোনার
.            শিল্পায়নের মধু !
সবাই তোমার হাতের ধুলো
.             কুলোর বাতাস নয়—
যখন তখন মধ্যরাতে
.             নয়-কে করো ছয় !
ছত্রধরের হম্বিতম্বি
.              আল্লাদে আটখানা--- !
ওই ব্যাটা তো টেররবাদী
.               গোঁসাই ধরে গানা ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কলির গাভাস্কার
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ ক্রিকেট ব্যাট হাতে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ]


“কুমড়ো দিয়ে ক্রিকেট খেলেন
.        বুদ্ধ বাবুর পিসি”
বুদ্ধবাবু ক্রিকেট খেলেন
.        পোষাক-আশাক দিশী ।

ছক্কা মারেন চারও মারেন
.        কলি’র গাভাস্কার
মাথায় পরেন মাঙ্কি টুপি
.        বিরাট আবিস্কার ।

বল্ লো গুপী, পরায় টুপি
.        সালিম দাদার দান
‘অর্জুন’ আর ন্যানো মোটর
.        বিশ্বায়নের গান ।

ক্রিকেট খেলেন বুদ্ধ বাবু
.        সাবাড় ক’রে গ্রাম
‘ছাড়পত্র’-এর কবি যিনি—
.        কী যেন তাঁর নাম ?

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিমানবাবুর  জেলের পরে
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী
[ সংবাদে প্রকাশ : মাননীয় জননেতা বিমানবসু মহাশয় বলেছেন,
মানুষের জন্য জেলে যেতে তিনি ভয় পান না ]


জেলে গেলে মাখন-রুটি—
কাজু বাদাম একটি-দু’টি
সকাল বেলায় গুটিগুটি—
হাঁটবো আমি ভাই ;
ক্যাপিটালে যতেক লেখা
লগ্নি পুঁজির অঙ্ক শেখা—
আমার প্রিয়ার সিঁথির রেখা
থাকুক না লাল তাই ।
বিচারপতি সেই সে লালা
বউয়ের ভ্রাতা, তাই তো শালা
শালা হ’লেও নয়তো কালা
শ্লোগান শোনে তাই ।

আমরা যতেক বিপ্লবীগণ,
ভুঁড়ির ওজন বাড়ছে যখন,
ডিম্ব খেয়ে হাফ্ সে ডজন
স্বাস্থ্য রাখি ভাই ।
বিপ্লবটা করবো যখন
এটাই মোদের প্রতিজ্ঞা পণ
গোয়েঙ্কা আর আম্বানীগণ
সহায় আছে তাই ।
জেলে গেলে ইমেজখানি—
বিপ্লবী এক, সে খানদানী
হিসেব মানি ফয়দা জানি
তুলনা মোর নাই ।

থাকলো লেখা ইতিহাসে,
অগণনের অট্টহাসে
কালবৈশাখ ঝঞ্ঝা আসে
নৈঋতে মেঘ তাই ।

কোথায় বিমান ? কোথায় লালা?
দিগ্বিদিকে আগুন জ্বালা
ধরলো অসি অগ্নিবালা
জুটলো লাখো ভাই ।
রাস্তা জুড়ে হাঁটলো যারা
নেংটি পরা সর্বহারা
যাচ্ছে মিছিল পাগল-পারা
লাল লালে রোশনাই ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মেরা নাম জোকার !
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী


সার্কাসটার্কাস করি না পছন্দ—
.        হুমহাম গম্ভীর বলিলেন নন্দ—
নন্দরা বাঁচিবেই দেশসেবা করিয়া
.        রাজ্য ঠ্যাকাইতেই সাতিশয় মরীয়া ।
ট্যাঁ বা ফোঁ-টি চলবে না
.        গলবে না আইনে
তিন কোটি পাঁচ সিকা
.        হলো তার মাইনে ।
বেশি দেন মার্কিন, কমটাই ‘লাল’ চীন
.        পদ্য লেখেন তিনি শান্তির ওই দিন ।
হাতে লাল ঝাণ্ডায় দাঁড়কাক হাগিছে—
.লেনিনের চুল নাই ; টাক তাই মাগিছে ।
বিরোধীরা দলনেতা নয় ব্যাটা ক্লান্ত
.        ক্ষীর সর ভাগ চায়—কে যে দাদা ভ্রান্ত ।
পোষা আর পেট মোটা, রোগা কোনো পুলিশে
.        পাকড়ায় ক্যাঁক্ ক’রে, যারা
unrully সে ।
সার্কাস হবে নাকো বলে রামগড়ুরে
.          
enchore ! enchore ! বলে বাম গরু রে ।
জোকারের হাতে ওঠে কেন আজ হান্টার ।
জর্জের মায়া বড় পৈত্রিক প্রাণটার—
সার্কাস কে দেখায় বলো দেখি অদ্য ?
গোস্বামী রচিলেন পদ্যটি সদ্য !

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সিঙ্গুর
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী


সিঙ্গুর মানে উদ্ধত সেই
অত্যাচারীর লোভ ।
সিঙ্গুর মানে জমতে থাকা
অনেক দিনের ক্ষোভ !
সিঙ্গুর মানে নিরন্ন সেই
কৃষকবালার মন
স্বঘর গেল, স্বজন গেল
জুটলো অগণন !

গণের দাবি কল্লোলিত
ঘুম ভাঙানো সুর—
সিঙ্গুর মানে রক্ত পথে
ক্রান্তি লগন, দূর—
সিঙ্গুর দিলো দু’চোখ জুড়ে
স্বপ্ন দেখার সাধ—
স্রোতস্বিনী, প্লাবন যেন
ভাঙলো এবার বাঁধ !
পলির মাটি জন্ম দিলো
ফসল কাটা বীর ।
উদ্ধত সেই অত্যাচারীর
ভূলুন্ঠিত শির ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তোর পতাকাও আমার হলো
কবি জর্জ মীরজাফর গোস্বামী


সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের রক্ত দিনহাটাতে ঝরে
আকাশ রাঙা ক্রুদ্ধ পবন আসন্ন এক ঝড়ে ।
আমার মাটি কাঁপছে রোষে রক্তেতে ফের স্নাত
অস্তমিত অত্যাচারী আসন্ন শাশ্বত !
বিষণ্ণতা আজ হারালো বজ্রকঠিন পণ—
তোর পতাকাও আমার হলো, তুইও আপনজন !
মিত্রকে চেন্, শত্রু বধে ধরবো অসি সাথে
সমগ্র দেশ দিনহাটা আজ, আমার রক্তপাতে ।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের রক্ত দিনহাটাতে ঝরে
সহস্র বীর ধনুঃশরে ফের ইতিহাস গড়ে ।

.             ***************  
.                                                                                
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর