কবি গোলাম মোস্তাফার কবিতা
|
ব্যথার গৌরব
কবি গোলাম মোস্তাফা
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার আশ্বিন ১৩২৯ ( অক্টোবর ১৯২২ )
সংখ্যা থেকে নেওয়া।
|| বাউলের সুর ||
আমায় তুমি ব্যথা দিলে অন্তরে,
নাইক আমার এই গরবের অন্ত রে!
দানের দিনে সবাই আসি
নিয়ে গেল হাসি-রাশি,
সুখ-সায়রে চিত্ত সবার সন্তরে---
বিতরণের ভার দিলে মোর মস্তকে,
দিলে নাকো চাইতে আমার হস্তকে!
সবার শেষে আপন জেনে
ত্যক্ত ব্যথা দিলে এনে,---
স্নেহের পরশ কর্ লে হৃদি-যন্তরে,
নাইক আমার এই গরবের অন্ত রে!
. ***************************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
কুড়ানো মাণিক
কবি গোলাম মোস্তাফা
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার অগ্রহায়ণ ১৩২৯ ( ডিসেম্বর ১৯২২ )
সংখ্যা থেকে নেওয়া।
আন্ মনে একা একা পথ চলিতে
দেখিলাম ছোট মেয়ে ছোট গলিতে---
হাসিমাখা মুখখানি, চির-আদুরী,
ঝরে-পড়া স্বরগের রূপ-মাধুরী!
ফণিনীর মত পিঠে বেণী ঝুলিছে,

পাল্কী চলে রে
কবি গোলাম মোস্তাফা
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার পৌষ ১৩২৯ ( জানুয়ারী ১৯২৩ ) সংখ্যা
থেকে নেওয়া।
|| বেহারাদের পালকি-গানের ছন্দ ||
পাল্কী চলে রে,
পাল্কী চলে রে,
ঘোমটা-ঘেরা কে
বউ ঝি টলে রে!
খোট্টা বেহারা
চোট্টা টেহারা ;
কোন গাঁ হ’তে গো
আসছে ইহারা!
জুলপি কামানো,
নেংটি নামানো,
গামছা কোমরে,
সব গা ঘামানো।
হাইচি মাউচি,
খাউচি যাউচি,
বলছে কত কি---
আউছিঃ! আউছিঃ!
খেঁককি কুকুরে,
ডাকছে ডুকুরে,
আসছে লেলিয়া
পাল্কী মুখু রে।
বৃক্ষে থাকিয়া,
গাত্র ঢাকিয়া,
ক্লান্ত কোকিলা,
উঠছে ডাকিয়া ;
মিলনসাগররে
গাইটি ছায়াতে,
বত্স কায়াতে,
জিভটি বুলায়ে,
দিচ্ছে মায়াতে ;
পত্র-অলকে,
রৌদ্র ঝলকে,
ধূম্র উড়িছে
ক্ষেত্র-ফলকে ;
তপ্ত মাঠে রে
কেউ না হাঁটে রে,
রৌদ্র-তাপেতে
বিশ্ব ফাটেরে!
মিলনসাগররে
এমনি দুপুরে
কোন্ সে কুফেরে
আন্ ল এদেরে
রাস্তার উপরে!
কার সে হেলাতে
এই অ-বেলাতে
বউ ঝি চলিল
অন্য জেলাতে!
মিলনসাগররে
সব গা ধামা রে,
পাল্ কি থামা রে,
বৃক্ষ-ছায়াতে
একটু নামা রে!
মিলনসাগররে
শুন্ ল না ত রে
করুণ কাতরে,
প্রাণ কি সবারি
তৈরী পাথরে!
মিলনসাগররে
চারটি মালেতে
নাম্ ল খালেতে,
পাল্কী চালাল
দুল্ কি তালেতে ;
মিলনসাগররে
একটু দাঁড়াল,
স্কন্ধ ভাড়াল,---
ওই যে আড়ালে
চরণ বাড়াল!
রইল ঝরিয়া
মর্ম্মে মরিয়া
সুরের রেশটি
চিত্ত ভরিয়া।
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
রবীন্দ্রনাথ
কবি গোলাম মোস্তাফা
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার ফাল্গুন ১৩২৯ ( মার্চ ১৯২৩ ) সংখ্যা
থেকে নেওয়া।
আকাশে ভুবনে বসেছে যাদুর মেলা,
নিতি নব নব খেলিতেছে যাদুকর---
রবি-শশী-তারা-ঝঞ্ঝা-অশনি-খেলা,
লুকোচুরি কত চলিছে নিরন্তর!
আমরা বসিয়া দেখিতেছি সারা বেলা,
কিছু বুঝি নাকো---বিস্মিত অন্তর ;
হাসা-কাঁদা আর ভাঙা-গড়া-হেলা-ফেলা---
সকলেরি মাঝে ভরা যাদু-মন্তর!
কবি! তুমি সেই মায়াবীর ছোট ছেলে,
পিতার ঘরের অনেক খবর জান,
কেমন করিয়া কিসে কোন্ খেলা খেলে
তুমি সেই বাণী গোপনে বহিয়া আন!
দর্শক মোরা, কিছু জানা-শুনা নাই,
যাগা বল, শুনি অবাক হইয়া তা’ই!
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
সন্ধ্যা-রাণী
কবি গোলাম মোস্তাফা
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার চৈত্র ১৩২৯ ( এপ্রিল ১৯২৩ ) সংখ্যা
থেকে নেওয়া।
. সন্ধ্যারাণী, সন্ধ্যারাণী
এই যে মোদের গোপন মিলন,---
. কেউ জানে না, ---আমরা জানি।
. পশ্চিমের ঐ গগন-কোণে
. এলে তুমি সংগোপনে
উড়িয়ে দিয়ে মৃদুল বায়ে রেশমী মেঘের আঁচলখানি।
আত্ম-সমর্পণ
কবি গোলাম মোস্তাফা
রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত প্রবাসী পত্রিকার জৈষ্ঠ ১৩৩০ ( জুন ১৯২৩ ) সংখ্যা থেকে
নেওয়া।
ওগো দুঃখ, ওগো আমার বিজয়ী সম্রাট,
আত্ম-দানের লিপিখানি এনেছি আজ ব’য়ে---
. নম্রশিরে করব তাহা পাঠ।
বিরাম-বিহীন সুখের মোহে মগ্ন ছিল প্রাণ,
তোমারে যে আমি করেছি রূপসী---কবির দৃষ্টি দিয়া!
কবি গোলাম মোস্তাফা
প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত “প্রেম যুগে যুগে” (১৯৪৫) কাব্য সংকলন থেকে নেওয়া।
হে মের মানসী প্রিয়া!
. তোমারে যে আমি করেছি রূপসী
. কবির দৃষ্টি দিয়া।
এত সুন্দর ছিলে নাকো তুমি আমার দেখার আগে,
. ছিলে বনফুল পাতায় ঢাকা---সে জানি,
সহসা দেদিন হেরিনু তোমারে নবপ্রেম-অনুরাগে
. সেই দিন হ’তে হ’লে তুমি ফুলরাণী।
আমি করিলাম তোমার নয়নে নূতন আলোক-পাত
. ধরিলাম তুলে সকলের সম্মুখে,
আমি কহিলাম : “তুমি সুন্দর!” --- তাইতে অকস্মাৎ
. হেরিল জগৎ নবরূপ তব মুখে।
তুমি সুগন্ধ হেনার গন্ধ অন্ধ কুঁড়ির মাঝে
ভোরেরবেলার গান
কবি গোলাম মোস্তফা
উত্থানপদ বিজলী সম্পাদিত “ছোটদের আবৃত্তির ছড়া ও কবিতা” কাব্যসংকলন থেকে
নেওয়া।
আঁধার দূরে পালিয়ে গেল, রাত হল ওই ভোর
ওমা, এখন বাইরে যাব, দাও খুলে মোর দোর।
ডাকছে মোরগ বারে বারে গাইছে পাখি গান
ফুল ফুটেছে বনে বনে দুলছে মাঠে ধান।
পুব আকাশে সোনার রবি উঠচো হেসে ওই---
এমন সময় আমরা কেন ঘরের কোনায় রই?
খুকুমণি, জাগো এখন, বাইরে চলো যাই---
ফুলের মতো ফুটে উঠি, পাখির মতো গাই।
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
ক্রন্দসী কবি গোলাম মোস্তফা শ্যামলকান্তি দাশ ও বিমল গুহ সম্পাদিত “হাজার কবির হাজার কবিতা” ( ২০০৪ ) কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া।
আমার মনের মাঝে এ কোন ক্রন্দসী নিশিদিন বসি’ কাঁদিতেছে অবিশ্রাম? কোন বেদনায় থেকে থেকে হিয়া তার মুরছিয়া যায়? প্রকৃতির আঙ্গিনায় প্রতিদিন বাজে আগমনী ভেসে আসে জীবনের জয়-যাত্রা উত্সবের ধ্বনি, তারি মাঝে হায় সে শুধুই বিদায়ের অশ্রুগীতি হায়!
|
আনন্দময়ী
কবি গোলাম মোস্তফা
রাধারাণী দেবী ও নরেন্দ্র দেব সম্পাদিত “কাব্য-দীপালি” কাব্যসংকলন (১৯৩১) থেকে
নেওয়া।
. ওগো আমার ছোট্ট কচি প্রিয়া!
চিত্ত-ভরা বিত্ত তোমার---স্নিগ্ধ-মধুর হিয়া।
. মূর্ত্তিমতী স্ফূর্ত্তি তুমি
. আনন্দ যায় চরণ চুমি’
তোমায় আমি চিনিনি ক’ আঁখির আলো দিয়া
সাধন-পথের পথিক আমি, চলেছি পথ বেয়ে
চিত্ত মম শুদ্ধ করি আলোক-ধারায় নেয়ে।
. শুনি কত গভীর বাণী,