অনেক রক্তের বিনিময়ে, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান থেকে নেওয়া রচনা -- আগষ্ট, ১৯৯৪
অনেক রক্তের বিনিময়ে, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে . পেয়েছি আমরা স্বাধীনতা প্রায় পঞ্চাশ বছর তবু ঘুচলো না তার অধীনতা || খাদ্য সবার কথা ছিল কর্ম সবার কথা ছিল শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থানের সুরাহা হবার কথা ছিল পড়লো না ভাত কেন সবার পেটে, জুটলো না কাজ কেন সবার হাতে . গৃহহীন, শীর্ণ, নিরক্ষরতা || স্বনির্ভরতার কথা ছিল সম্পদশালিনীর কথা ছিল নৈতিকতার কথা ছিল অধিকার সুবিচার কথা ছিল . আজও কেন ভিখ্ মাগি ধনীর দ্বারে . আমাদের ধন কেন পরের ঘরে . নীতিহীন অনাচার পাশবিকতা || রক্ষক কেন ভক্ষক হ’ল, শাসন ত্রাসে দেশ শ্মশান হল দেশপ্রেম আর দেশসেবা আজ শুধু রইল মুখের কথা | . পুণ্যবস্তু পণ্য হল ভ্রষ্ট কর্ম নিয়ম হ’ল . খুন রাহাজানি পেল আইন ছায়া || ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ হবার কথা ছিল ধনধান্য পুষ্পভরা সুজলা সুফলা কথা ছিল . কোটি মেহমতি ঘরে বেকারী ক্ষুধা . ঋণের বোঝায় দেশ নত মাথা . অগ্রগতি মুখের কথা || শপথ নিলাম ওগো ভারতমাতা করবো না নত আর মোদের মাথা ভুলিনি আমরা রক্ত ত্যাগের দান ঘুচাবো আমরা অধীনতা ||
চটকদারী বিজ্ঞাপনে স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান থেকে নেওয়া রচনা--৩১শে জানুয়ারী , ১৯৯৪
চটকদারী বিজ্ঞাপনে . হরেক কথা ভুলো না মিঠে কথা রঙের খেলায় . দাবীর কথা ভুলো না এ যে রঙ মাখানো ছলচাতুরী . মন ঘোরানোর ছলনা ||
টিভিতে দেখো নাচে ললনা . কতই তাদের ছলাকলা মিথ্যে কথা ষোলআনা . গেলে পুত্র কন্যা ভাবে ঘর বাপ মা আমার কেন . এমন হল না হিরো হিরোইন মতো . মনে হয় না ভারতীয় অঙ্গভঙ্গী আর নৃত্য . ভাদ্র মাসের কুকুর মতো || রোষের আগুন নিভায় . জাগায় ভোগের কামনা . ছেলে মেয়ের পড়াশুনা . ব্যাঘাত করার এক ছলা . পরিবারের গল্প গুজব . বন্ধ করার এক কলা ভাবের মিলন না হলে ভাই . ঘরের ঐক্য হবে না ||
. পড়লে বই করলে চিন্তা . বাড়লে মোদের চেতনা . বাড়লে মনের চেতনা তা . দেশের মালিক চাইবে না চায় যে নদীর পথ ঘোরাতে . এটা কি বোঝ না ||
. অন্যভাবে বাঁচতে চাওয়া . এটা মোদের অধিকার . যেটুকু ভাই পেয়েছি তা . নয়রে দয়া দানের ভার তাই রোষ দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র . ভেঙো না ||
. দেশের মালিক যা করে বলে . চোখ বুজে তা মেনো না . “কেন” প্রশ্ন রেখো মনে . দুহাত তুলে দিও না || কষ্টিপাথর না ঘষে ভাই . কাউকে মাথায় তুলো না . ছবি বাক্সে যা কিছু করে . হাঁ করে তাই গিলো না . কঠোর শাসন করো মনেরে . টুপি মাথায় পরো না বাঁচার লড়াই প্রতিদিনই . এটা ভুলো না
এসেছে সময় আবার হাঁকো স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান থেকে নেওয়া
এসেছে সময় আবার হাঁকো . ভারত ছাড়ো ভারত ছাড়ো নতুন রূপে বিদেশী শাসন আবার এলো || এই ডাকেতে একদিন ছিল ভারত উত্তাল শহীদ রক্তে ভারত ভূমি হয়েছিল লালে লাল | বৃটিশ শাসন দণ্ড ভারতে কেঁপেছিল থরো থরো . ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো || দুই শ বছর বৃটিশ শাসনে আমরা সয়েছি কত পরাধীনতার লাঞ্ছনা আর অপমান কতশত জেনেছি আমরা প্রাণের চেয়েও স্বাধীনতা দামী বড়ো || . ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো || স্বাধীনতা রক্ষার ভার নিল যারা ভাই কাঁধে আপন স্বার্থে গাটছড়া বাধে বিদেশী শোষক সাথে খাল কেটে তারা আনছে কুমীর করতে শোষণ আরো . ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো || ইংরেজ গেল মার্কিন এলো গ্রাস করে দুনিয়ারে সাহায্য নামে গরীব দেশের সম্পদ লুঠ করে মুক্তিকামী মানুষ মারতে অস্ত্র করে সে জড়ো . ভারত ছাড়ো, ভারত ছাড়ো || যতই দেখাক অস্ত্র ডলার হারে জনতার কাছে চীন আর ইন্দোচীনের শিক্ষা দুনিয়ার মনে আছে ৪২-কে স্মরণ করে আবার সে হাঁক ছাড়ো ||
ওমা ও তুই আর কান্দিস না স্বপন দাসাধিকারী সম্পাদিত যুদ্ধ জয়ের গান থেকে নেওয়া
ওমা ও তুই আর কান্দিস না . তোর কান্না আমার আর যে সয় না || চোখের জল চোখে শুকায় মেঘ তো না . কঠিন আকাশ, কঠিন মাটি, ধূলির কণা || রত্নগর্ভা তুই ছিলি মা, অঙ্গভরা হীরা পান্না . সন্তান ছিল আমোদ সুখে দুখ অচেনা . এখন তাদের ভাষায় আছে ভরপুর কান্না || মাঠে বইতো সবুজ বন্যা গতর চিকন কালোসোনা, . সকাল সাঁঝে কলের বাঁশির মধুর বাজনা সব যে হল ধূসর নীরব মৃত্যুর ধরণা !!
( তোর ) স্নিগ্ধ চোখে আগুন জ্বাল মা . বাজা মা তোর রণের শিঙা . কোটি কড়া হাতে অস্ত্র তুলে না . রক্তধারার পিছে আসবে সুখের বন্যা ||