কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতা
*
শুধু হেঁটে আসা হল   
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী
১৯৮৭, শারদীয়া দেশ

যেহেতু সামান্য-কিছু পুঁজিপাটা ছিল, তাই পথে
ঘুমোতে পারিনি |
দেখিনি পথের পাশে কী-কী ছিল, অথবা কিছুই
ছিল কি না |
গ্রাম ছিল ? চালাঘর, দালান, খড়ের গাদা ছিল ?
দিঘি ছিল ? দিঘিতে মেঘের ছায়া ছিল ?
নারী ও পুরুষ ছিল ? ছেলেপুলে ছিল ? কিংবা ফুটন্ত ভাতের
গন্ধ কি ছড়িয়েছিল কখনও হাওয়ায় ?
টুকরো-টুকরো দুটো-চারটে সাংসারিক কথাও বাতাসে
ভেসে আসে |
তেমন কথা কি কিছু কানে এসেছিল ?

পথ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে | কিন্তু পথে
কী দেখেছি, কী শুনেছি, অথবা কিছুই
দেখেছি-শুনেছি কি না, মনে নেই, কিছু মনে নেই |
যেহেতু সামান্য-কিছু পুঁজিপাটা ছিল, তাই পথে
ঘুমোতে পারিনি |
চোখ খোলা ছিল, তবু দুই চক্ষু কিছুই দেখল না |
কান খোলা ছিল, তবু কোনো
শব্দ, কোনো কথা, কোনো গান
মরমে ঢোকেনি |
পাইনি পুষ্পের কিংবা ভাতের সৌরভ |
দুই হাতে ছুঁয়েও দেখিনি কোনো-কিছু |
যেহেতু সামান্য ছিল পুঁজিপাটা, তাই
ওড়ানো গেল না তাও | শুধু
অনেক দূরের থেকে হেঁটে চলে আসা হল, আর
কিছুই হল না |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
স্বপ্ন –কোরক
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

তবু সে হয়নি শান্ত |  দীর্ঘ অমাবস্যার শিয়রে
যে-রাত্রে নিঃশব্দে ঝরে পড়ে
মলিনলাবণ্য-স্নিগ্ধ জ্যোত্স্নার মমতা,
যে-রাত্রে সমস্ত তুচ্ছ অর্থহীন কথা
গানের মূর্ছনা হয়ে ওঠে
শোক শান্ত হয়, দুঃখ নিভে আসে, যে-রাত্রে শীতার্ত মনে ফোটে
কল্পনার সুন্দর কুসুম, নামে সান্ত্বনার জল
চিন্তার আগুনে, আর আকন্যাকুমারীহিমাচল
কপালে জ্যোত্স্নার পঙ্ক মেখে
জেগে ওঠে অতলান্ত অন্ধকার সমুদ্রের থেকে---
তখনো দেখলাম তাকে, কী এক অশান্ত আশা নিয়ে
সে খোঁজে রাত্রির পারাপার,
দুই চোখে তার
স্বপ্নের উজ্জ্বলশিখা প্রদীপ জ্বালিয়ে |
সে এক পরম শিল্পী |  সংশয়-দ্বিধার অন্ধকারে
সে-ই বারে বারে
আলোকবর্তিকা জ্বালে, দুঃখ তার পায়ে মাথা কোটে,
তারই তো চুম্বনে ফুল ফোটে,
সে-ই তো প্রাণের বন্যা ঢালে
দামোদরে, গঙ্গার কি ভাকরা-নাঙালে |
সে-এক আশ্চর্য কবি, পাথরের গায়
সে-ই ব্রহ্মকমল ফোটায় |

কী যে নাম, মনে নেই তা’ তো---  
আবদুল রহিম কিংবা শঙ্কর মাহাতো,
অথবা অর্জুন সিং |  মাঠে মাঠে প্রদীপ জ্বালিয়ে
সে জাগে সমস্ত রাত স্বপ্নের কোরক হাতে নিয়ে |
আমার সমস্ত সুখ, সকল দুঃখের কাছাকাছি
সে আছে, আমিও তাই আছি ||

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
প্রিয়তমাসু
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

তুমি বলেছিলে, ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই |
অথচ ক্ষমাই আছে |
প্রসন্ন হাতে কে ঢালে জীবন শীতের শীর্ণ গাছে ;
অন্তরে তার কোনো ক্ষোভ জমা নেই |

তুমি বলেছিলে, তমিস্রা জয়ী হবে |
তমিস্রা জয়ী হল না |
দিনের দেবতা ছিন্ন করেছে অমারাত্রির ছলনা ;
ভরেছে হৃদয় শিশিরের সৌরভে |

তুমি বলেছিলে, বিচ্ছেদই শেষ কথা |
শেষ কথা কেউ জানে ?
কথা যে ছড়িয়ে আছে হৃদয়ের সব গানে, সবখানে ;
তারও পরে আছে বাঙ্ময় নীরবতা |

এবং তুষারমৌলি পাহাড়ে কুয়াশা গিয়েছে টুটে,
এবং নীলাভ রৌদ্রকিরণে ঝরে প্রশান্ত ক্ষমা,
এবং পৃথিবী রৌদ্রকে ধরে প্রশন্ন করপুটে |
দ্যাখো, কোনখানে কোনো বিচ্ছেদ নেই ;
আছে অনন্ত মিলনে অমেয় আনন্দ, প্রিয়তমা |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
পথ চিনতে না–পেরে
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

চেনা ছবিগুলি ক্রমেই এখন অচেনা হয়ে যাচ্ছে, আর
তার জায়গায়
একটু-একটু করে স্পষ্ট হয়ে উঠছে
অচেনা সব ছবি |
অচেনা মানুষ, অচেনা ঘরবাড়ি, অচেনা নদী,
অচেনা গাছ আর অচেনা ফুল |

রোজকার মতো
আজ সকালেও ঘুম ভাঙবার পরে আমি
বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলুম |
তখন যে আকাশটা আমার
চোখে পড়েছিল,
ঠিক তেমন আকাশ এর আগে আর
কোনোদিনই আমি দেখিনি |
মেঘে-মেঘে যে-সব রঙের খেলা দেখলুম, তার
একটাও আমার চেনা নয় |

এইসব মানুষ, নদী, ঘরবাড়ি, গাছ, ফুল
আকাশ আর মেঘ সাধারণত
স্বপ্নের মধ্যেই দেখা যায় |
কে জানে,
আমাদের স্বপ্ন যেখানে
বাস্তব হয়ে ওঠে,
ঠিকমতো পথ চিনতে না-পেরে হয়তো
সেইদিকেই আমি আমার পা বাড়িয়ে দিয়েছি |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
অমলকান্তি
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম |
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসত, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকত যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের |

আমরা কেউ মাস্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল |
অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি |
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল |
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
জাম আর জামরুলের পাতায়
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে |

আমরা কেউ মাস্টার হয়েছি, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল |
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি |
সে এখন অন্ধার একটা ছাপাখানায় কাজ করে |
মাঝে-মাঝে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে ;
চা খায়, এটা-ওটা গল্প করে, তারপর বলে, ‘উঠি তা হলে |’
আমি ওকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসি |

আমাদের মধ্যে যে এখন মাস্টারি করে,
অনায়াসে সে ডাক্তার হতে পারত ;
যে ডাক্তার হতে চেয়েছিল ,
উকিল হলে তার এমন কিছু ক্ষতি হত না |
অথচ, সকলেরই ইচ্ছেপূরণ হল, এক অমলকান্তি ছাড়া |
অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি |
সেই অমলকান্তি--- রোদ্দুরের কথা ভাবতে-ভাবতে
ভাবতে-ভাবতে
যে একদিন রোদ্দুর হয়ে যেতে চেয়েছিল |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
তারাও রয়েছে
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

যে আমার পক্ষে নেই, সে আমার বিপক্ষ-শিবিরে
ঢুকেছে নির্ঘাত |
যে আমার বন্ধু নয়, সে আমার শত্রুতাসাধনে
অবশ্যই বদ্ধপরিকর |
আসলে নির্দল কিংবা নিরপেক্ষ বলে কিছু নেই,
কোনোখানে ছিল না কখনো |

কথাটা এখন খুব শুনছ বটে, তবে এটা কোনো
আনকোরা নতুন কথা নয় |
নেহেরুর নিরপেক্ষ নির্জোট নীতিকে ঠেস দিয়ে
বিগত শতকে
মার্কিন মুল্লুকে জন ফস্টার ডালেস
এমনই বলতেন, মনে পড়ে |

এ বড় নির্বোধ কথা, সর্বদেশে গ্রামে ও শহরে
রয়েছে নির্দল বহু লোক |
যারা কোনো দলে নেই, পক্ষে নেই, যারা
যুধ্যমান দলগুলির কার্যাকার্য দেখে
যা সিদ্ধান্ত করার, নির্ভুল তা-ই করে |
তেমনি লোক এ-দেশেও অবশ্য রয়েছে লাখে-লাখে |

একটা কথা বলি এই ফাঁকে :
ও দলভুক্তেরা, তোমরা সব্বাই এককাট্টা হয়ে গিয়ে
এ-দেশের সবটা যেন দখল কোরো না |
দলে ঢুকতে চায়নি যারা কস্মিনকালেও,
তাদের জন্যেও
অন্তত খানিকটা যেন জায়গাজমি থাকে |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
এইরকমই হয়ে থাকে
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

এইরকমই হয়ে থাকে, এইরকমই হয় |
বারে বারে ঘুরেঘুরে হয় |
মাঝখানে কয়েকটা বর্ষ বা যুগ কেটে যায় বলে
তোমরা তা বোঝো না |
কিংবা বুঝতে পারলেও সে-কথা
প্রকাশ্যে বলো না |
তোমরা বলো ; ইতিহাস একই রাস্তা ধরে চিরকাল
হাঁটে না বলেই তার ঘটনাক্রমের
কক্ষনো পুনরাবৃত্তি ঘটতে আমরা দেখি না কোথাও |
আমি বলি : এইরকমই একটা প্রবচন
ইংরেজি ভাষায় আছে বটে ;
কিন্তু সেটা সত্য নয়, স্থানকালপাত্রপাত্রী পালটায় যদিও,
বিস্তর ঘটনা
ইতিহাসে ঘুরে ঘুরে নিরন্তর ঘটে |
তোমরা সেটা মানো বা না-মানো,
এই সত্যটাই কিন্তু ধরা আছে বিশ্ব-ইতিহাসে |
বারে বারে ঘুরে ঘুরে আসে,
সত্যি-সত্যি নির্ভুল পথ চিনে ফিরে আসে
যা অতীতে ঘটেছিল সেই সমস্ত ঘটনা আবার---
প্রায় ঋতুচক্রের মতন |
এতে নেই সন্দেহ সংশয় এক তিলও |
বঙ্গোপসাগর থেকে যেমন আয়লা এসেছিল
দিন কয়েক আগে |
কিন্তু সেও নতুন ঘটনা নাকি ? ভিন্ন ভিন্ন নামে
ইতিপূর্বে এই ঝড় এসেছে বহুবার |
তবে কিনা
শুধু ঝড়ঝঞ্ঝা নয়, ইতিহাসে একই প্রকৃতির
অন্যান্য ঘটনা---
যুদ্ধ দাঙ্গা উপপ্লব শত্রুতা ও সন্ধি আর উত্থান-পতনও---
বারে বারে ঘটে |
তোমরা বলো, ইতিহাসে কক্ষনো পুনরাবৃত্তি কোথাও ঘটে না |
তোমরা ভুল বলো |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
কলকাতার যিশু
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

লাল বাতির নিষেধ ছিল না,
তবুও ঝড়ের-বেগে-ধাবমান কলকাতা শহর
অতর্কিতে থেমে গেল ;
ভয়ঙ্কর ভাবে টাল সামলে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল
ট্যাকসি ও প্রাইভেট, টেম্ পো, বাঘমার্কা ডবলডেকার |
‘গেল গেল’ আর্তনাদে রাস্তায় দু-দিক থেকে যারা
ছুটে এসেছিল ---
ঝাঁকামুটে, ফিরিওয়ালা, দোকানি ও খরিদ্দার ---
এখন তারাও যেন স্থিরচিত্রটির মতো শিল্পীর ইজেলে
লগ্ন হয়ে আছে |
স্তব্ধ হয়ে সবাই দেখছে,
টালমাটাল পায়ে
রাস্তার এক পার থেকে অন্য-পারে হেঁটে চলে যায়
সম্পূর্ণ উলঙ্গ একটি শিশু |

খানিক আগেই বৃষ্টি হয়ে গেছে চৌরঙ্গিপাড়ায় |
এখন রোদ্দুর ফের অতিদীর্ঘ বল্লমের মতো
মেঘের হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে
নেমে আসছে :
মায়াবী আলোয় ভাসছে কলকাতা শহর |

স্টেটবাসের জানালায় মুখ রেখে
একবার আকাশ দেখি, একবার তোমাকে |
ভিখারি-মায়ের শিশু,
কলকাতার যিশু,
সমস্ত ট্রাফিক তুমি মন্ত্রবলে থামিয়ে দিয়েছ |
জনতার আর্তনাদ, অসহিষ্ণু ড্রাইভারের দাঁতের ঘষটানি,
কিছুতেই ভ্রূক্ষেপ নেই ;
দু-দিকে উদ্যত মৃত্যু, তুমি তার মাঝখান দিয়ে
টলতে টলতে হেঁটে যাও |
যেন মূর্ত মানবতা, সদ্য হাঁটতে শেখার আনন্দে
সমগ্র বিশ্বকে তুমি পেতে চাও
হাতের মুঠোয় | যেন তাই
টালমাটাল পায়ে তুমি
পৃথিবীর এক-কিনার থেকে অন্য-কিনারে চলেছ |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
অমানুষ
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

শিম্পাঞ্জি, তোমাকে আজ বড় বেশী বিমর্ষ দেখলুম
চিড়িয়াখানায়, তুমি ঝিলের কিনারে
দারুণ দুঃখিতভাবে বসেছিলে | তুমি
একবারও উঠলে না এসে লোহার দোলনায় ;
চাঁপাকলা, বাদাম, কাবলি-ছোলা--- সবকিছু
উপেক্ষিত ছড়ানো রইল | তুমি ফিরেও দেখলে না |
দুঃখী মানুষের মত হাঁটুর ভিতরে মাথা গুঁজে
ঝিলের কিনারে শুধু বসে রইলে | একা

শিম্পাঞ্জি, তোমাকে কেন এত বেশী বিমর্ষ দেখলুম ?
কি দুঃখ তোমার ? তুমি মানুষের মতো
হতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ বছরের সিঁড়ি
ভেঙে এসেছিলে, তবু মাত্রই কয়েকটা সিঁড়ি টপকাবার ভুলে
মানুষ হওনি | এই দুঃখে তুমি ঝিলের কিনারে
বসে ছিলে নাকি ?

শিম্পাঞ্জি, তোমাকে আজ বড় বেশী দুঃখিত দেখলুম |
প্রায় হয়েছিলে, তবু সম্পূর্ণ মানুষ
হওনি, হয়তো সেই দুঃখে তুমি আজ
দোলনায় উঠলে না ; তুমি ছেলেবুড়ো দর্শক মজিয়ে
অর্ধমানবের মতো নানাবিধ কায়দা দেখালে না,
হয়তো দেখনি তুমি, কিংবা দেখেছিলে,
দর্শকেরা পুরোপুরি বাঁদুরে কায়দায়
তোমাকে টিটকিরি দিয়ে বাঘের খাঁচার দিকে চলে গেল |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর   
*
ঘুম
কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী

অনেক রাত্রি হল, এখানে এখন ঘুম
নামবে, এখানে ঘুম
থামবে | ক্লান্ত, তবু সারি-সারি নিঝ্ ঝুম
গাছের খোকারা বুঝি
জেগে আছে, তারা বুঝি
ঘুমোইনি ? সক্কলে ঘুমিয়েছে, সব্বাই
চুপচাপ | এরা শুধু এখনো জাগ্ নো, তাই
আবছা-আবছা দূর পাহাড়ের ধার দিয়ে
এখানে এখন ঘুম নামবে, এখানে ঘুম থামবে,
.              এখন ঘুম নামবে |

অনেক রাত্রি হল, এখানে এখন ঘুম
নামবে, এখানে ঘুম
দুষ্টু খোকারা বুঝি
জেগে আছে, তারা বুঝি
ঘুমায়নি ? গাছপালা মাঠঘাট সব্বাই
ঘুমিয়েছে ? এরা শুধু এখনো জাগ্ নো তাই
গাছের খোকারা দুই চোখ থেকে ঘুম নিয়ে
আবছায়া স্বপ্নের লাল কুমকুম নিয়ে
এখানে এখন ঘুম নামবে, এখানে ঘুম থামবে
.             এখন ঘুম নামবে |

.           *************************      
.                                                                               
সূচিতে . . .     



মিলনসাগর