কবি রমণীমোহন ঘোষের কবিতা
*
কবি
কবি রমণীমোহন ঘোষ
হেমেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষ সম্পাদিত "আর্য্যবর্ত্ত" পত্রিকার পৌষ ১৩১৮ (জানুয়ারী ১৯১২) সংখ্যা থেকে প্রাপ্ত।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।


বিপুল ধরণীতল                        ব্যাপি’ কত কোলাহল
কলরব দিবসযামিনী,
শুধু তা’র চিত্তমাঝে                      মোহিনী বীণায় বাজে
অবিচ্ছেদে মধুর রাগিণী,
ফিরে সে মলিন সাজে,                     তবুও হৃদয়ে রাজে
অপার্থিব সৌন্দর্য্যের ছবি।
সে যে এক কবি।


লোকালয়ে এক কোণে                    সে থাকে আপন মনে
উপেক্ষিত মানবসভায়।
ছুটে আসি’ সমীরণ                       করে তা’রে আলিঙ্গন,
মেঘ আসি’ মুখে তা’র চায়,
লতিকা সোহাগভরে                        নুয়ে পড়ে দেহপরে
ছড়াইয়া কুসুম সুরভি
সে যে এক কবি।


কা’র এত লাগে ভাল                       উষার সোণার আলো
জননীর স্নেহের মতন ;
সূর্য্যাস্তের বর্ণস্তরে                          কে নিত্য সৃজন করে,
স্বপ্নময় বিচিত্র ভুবন।
শান্ত সন্ধ্যা বধুবেশে                     কাছে আসে ভালবেসে,
সখা তা'র শশি তারা রবি ;
সে যে এক কবি।


হিংসা দ্বেষ কপটতা                       প্রাণে বড় দেয় ব্যথা
করুণায় আকুল অন্তর,
দুঃখে তা'র নাহি ভয়                     সে গাহে প্রেমের জয়,
প্রেমপরে অটল নির্ভর।
চাহে না ঐশ্বর্য্যপানে                         উচ্চপদ তুচ্ছ মানে,
ভাব-মুগ্ধ, দারিদ্র্য-গরবী
সে যে এক কবি।

.               ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আহ্বান
কবি রমণীমোহন ঘোষ
সরযূবালা দত্ত সম্পাদিত "ভারত-মহিলা" পত্রিকার চৈত্র ১৩১৫ (মার্চ ১৯০৯) থেকে নেওয়া প্রাপ্ত।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

আঁধার মগন                        গগনে আমার
'আন গো ঊষার আলো,
আমার ভুবনে                       আজি নির্ম্মল
কিরণের ধারা ঢালো।
নীরব কাননে যত পাখী
যেন গো আবার উঠে ডাকি’,
তোমার আলোকে হেরি’ ধরণীরে
ফিরে’ যেন বাসি ভালো।

শিশির-শীর্ণ কুঞ্জে আমার
আন গো মলয় বায়,
শুষ্ক লতিকা নব কিশলয়ে
যেন পুন ছেয়ে যায়।
শুভ্র কুসুম বন ভরে’
ফুটে’ উঠে যেন থরে থরে,
মুকুলিত তরু মর্ম্মর সুরে
সান্ত্বনা গাথা গায়।
শিশির-শীর্ণ কুঞ্জে আমার
আন বসন্ত-বায়।

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিদায়
কবি রমণীমোহন ঘোষ
নীলরতন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত "বীরভূমি" পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩১২ (মে ১৯০৫) থেকে নেওয়া প্রাপ্ত।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

কেমনে বাঁধিয়া রাখিবে আমারে
আর যে সময় নাই।
কম্পিত ক্ষীণ দীপশিখাপ্রায়
জগতের আলো বুঝি নিবে যায়,
মোহ আঁখিধারা বিদায় বিদায়
আমি যাই, তবে যাই।

কত বিনিদ্র দীর্ঘ রজনী
বিজন প্রভাত সাঁঝ
কাটায়েছ বসি শিয়রে আমার
ক্লান্ত-মলিন দেহ সুকুমার ;
শ্রান্ত হৃদয়ে আশা নিরাশার
দ্বন্দ্ব থামুক আজ।

একি সঙ্গীত কোন্‌ দূর হতে
আসিয়া পশিছে কাণে,
কে আমারে যেন ডাকে---“আয়, আয়,
অকূল শান্তি মিলিবে হেথায়।”
একি আশ্বাস নবীন আভায়
জাগিয়া উঠিছে প্রাণে।

ক্ষণিক ক্ষুদ্র আবাস ছাড়িয়া
আমি যাই,---যাই তবে।
দুদিনের এই বিচ্ছেদ শেষে
উজ্জল পূত নির্ম্মল বেশে
চির দিন তরে পুনঃ নরদেশে
নবীন মিলন হবে।

নন্দন ফুলে তোমার লাগিয়া।
গাঁথিয়া রাখিব মালা,
একদা সে হার স্বর্ণতোরণে
কণ্ঠে তোমার পরাব যতনে
সে মধু মিলন মুগ্ধ নয়নে
দেখিবে স্বরগ বালা।

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বঙ্গমঙ্গল
কবি রমণীমোহন ঘোষ
বিধুভূষণ গোস্বামী ও সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র সম্পাদিত, ঢাকা থেকে প্রকাশিত, “ঢাকা রিভিউ ও
সম্মিলন” পত্রিকার মাঘ ১৩১৮ (জানুয়ারী ১৯১২) সংখ্যায় প্রকাশিত। ১৯১১ সালের ৩০শে
ডিসেম্বর, ইংল্যাণ্ডের রাজা ৫ম জর্জ ও রাণী মেরীর কলকাতায় আগমন উপলক্ষে লেখা। এ
বিষয়ে কবির পরিচিতির পাতায় দেখুন। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

মহিষী সঙ্গে বঙ্গভবনে
.        ভারত-ভূপতি, এসগো আজ ;
গায়িছে সপ্ত কোটী নরনারী
“স্বস্তি, স্বাগত, রাজাধিরাজ।”

নাহি হেথা গত---গৌরব ছায়া---
.        স্তম্ভ, প্রাসাদ, মিনার, তাজ ;
নাহি গিরিতটে পাষাণে গঠিত
.        দুর্গ অজেয়---অরাতি লাজ।

হেধা সংগ্রামে বিক্রম-গাথা
.        কীর্ত্তিত নহে চারণমুখে,
জয়-পরাজয় হেথা অক্ষয়
.        চিহ্ন রাখেনি ধরার বুকে।

হেথায় ধরণী স্নিগ্ধ শ্যামলা,
.        নহে সে ঊষর ধূসর মরু ;
বন-উপবনে চিক্কণ ঘন
.        পল্পবে ঢাকা লতিকা তরু।

হেথা সমতল প্রান্তর যার
.        সীমান্তে নতো---নীলিমভাতি,---
সন্তানতরে জননী যেমন
.        স্নেহের আঁচল রেখেছে পাতি’!

হেথা সরোবরে প্রভাত কিরণে
.        ফুটে উঠে যত কমলদল,
প্রতিঋতু, নব ফুল সম্ভারে
.        ঢেকে দিয়ে যায় অবনীতল।

কল্লোল তালে হেথা নিরবধি
.        বহে চঞ্চল তটিনী চয়,
বিহঙ্গ-গীতে মুখরিত দিক্‌,
.        মন্দ মধুর সমীর বয়।

প্রচারিত হেথা প্রেমের ধর্ম,---
.        মুক্তির পথ---পরমা প্রীতি।
অযুত ছন্দে অগণিত কবি
.        গাহিয়াছে হেথা প্রেমের গীতি।

মঙ্গলময়ী বঙ্গ জননী---
.        স্নেহউচ্ছলা, বরদা-বেশ ;
হেথা ভারতীর কমলকুঞ্জ,
.        এযে গো শান্তি প্রীতির দেশ।

এসগো বঙ্গে মহিষী সঙ্গে,
.        হের প্রকৃতির মোহন সাজ ;
নির্ম্মল পূত প্রীতি অর্ঘ্য
.        লহ উপহার, ভারত-রাজ !

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মার্জ্জনা
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় সম্পাদিত “মানসী” পত্রিকার ফাল্গুন ১৩১৯ সংখ্যায় (ফেব্রুয়ারী ১৯১৩) প্রকাশিত।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

সে দিন যখন                   ছিলে তুমি বসি’
অলস সন্ধ্যা-পবনে
বিজন কুঞ্জভবনে,
মুগ্ধ তৃষিত                        চকোরের মত
আমার নয়ন দুটি,
তোমার ইন্দু-                       মুখ পানে শুধু
যেতে চেয়েছিল ছুটি।
দেখে দেখে নাহি মিটে সাধ !
মার্জ্জনা কর                         মধূরহাসিনি,
নয়নের সেই অপরাধ।

(২)
সে দিন যখন                      একাকিনী তুমি
বীণাথানি ল’য়ে নিভৃতে---
গান গেয়েছিলে নিশীথে,---
নীরবে দাঁড়ায়ে                       কুটীরদুয়ারে
শুনিয়াছি সেই গান ;
সঙ্গীত-সুধা-                         রসে ক্ষণতরে
ডুবে গিয়েছিল প্রাণ!
শুধু ক্ষণেকের পরমাদ,
মার্জ্জনা কর                           মঞ্জুভাষিণি
শ্রবণের সেই অপরাধ।

(৩)
পে দিন তোমার                    কবরীর মালা
বিচ্যুত তৃণশয়নে।
প’ড়েছিল মোর নয়নে।
সৌরত-ভরা                        সেই সুকোমল
মালাখানি লয়ে করে,
আগ্রহে রাখি                        বক্ষে আমার
ল'ভেছি নিমেষ তরে
তোমার পরশ পরসাদ।
মার্জ্জনা কর                        মানস-বাসিনি,
বাসনার সেই অপরাধ !

(৪)
লুকাবনা আজ                    হৃদয়ে আমার---
'আমার জীবনে স্বপনে,
যত কিছু আছে গোপনে !
দেবীসম তুমি                        থাক অবিচল
গৌরবে চিরদিন,
আমি দুরে দূরে                      ভ্রমিব ভুবনে
লাঞ্ছিত দীনহীন ;
শিরে লব শত পরিবাদ,
মার্জ্জনা কর                        হৃদিবিলাসিনি,
জীবনের যত অপরাধ!

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আশ্বাস
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় সম্পাদিত “মানসী” পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ ১৩২২ সংখ্যায় (মে ১৯১৫)
প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।


উৎসব আজি হয়ে গেছে শেষ---অতীত পূজার লগ্ন,
অতল গগন-সিন্ধুর তলে তরুণ ইন্দু মগ্ন।
অঞ্জলি ভরি’ দেবতার পদে সঁপিয়া পুষ্প অর্ঘ্য,
পুজা শেষ করে’ একে একে ফিরে’ গিয়াছে ভক্তবর্গ।
এখন নীরব শঙ্ঘের রব---প্রাঙ্গণ জনশূন্য,
এবে কোথা হ'তে মন্দির-পথে কে গো তুমি হীনপুণ্য !

.                        ২
আশ্রয়হীন অক্ষম দীন চিরাগত আমি পান্থ,
দীর্ঘ দিবস বৃথা পথে পথে ঘুরিয়াছি পথ-ভ্রান্ত।
নাহি পূজিবার কোন উপচার---নির্ম্মল ফুল গুচ্ছ,
শুধু সম্বল নয়নের জল---ব্যর্থ বাসনা তুচ্ছ।
তাই এ নীরব নিশীথে যখন আঁধারে মিশিছে বিশ্ব,
বহু দূর হতে’ মন্দির-দ্বারে আসিয়াছি আমি নিঃস্ব |

.                        ৩
“জানি, মোর তরে মন্দিরে তবু দ্বার হয় নাই বন্ধ,
ধূপের ধূম্র উঠেনা যদিও---এখনো ভাসিছে গন্ধ।
নাহি দীপাবলী, দেবালয় কোণে আছে ঘৃতদীপ দীপ্ত,
আছে দু'চারিটি শুষ্ক কুসুম---চন্দন অনুলিপ্ত।
নিদ্রিত ধরা ; আশ্বাস-হারা নভে তবু মোর চিত্ত---
নিভৃত নিশায় দেবতা আমার জাগিয়া আছেন নিত্য।”

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মেঘের প্রতি
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় সম্পাদিত “মানসী” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২২ সংখ্যায় (জুন ১৯১৫) প্রকাশিত।
মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

ওগো বরষার                        নীল নব ঘন
দূরদিগন্ত চারী
ধরণীর ধ্যান                        ধারণার ধন -
নিখিল চিত্ত হারী
নিগ্ধ শ্যামল                        মূরতি ধরিয়া
এসগো গগন ছেয়ে
আতপ-তাপিত                     এ ধরণী দেখ
আছে তব পথ চেয়ে।
শুনাও মন্দ্রে                      আশ্বাস বাণী---
যাবে গো দুঃসময়,
এত তপস্যা                          বিশ্বে কখন
বার্থ নাহিক হয়।
শান-সলিল                          ধারায় ধরার
সন্তাপ যাক ভাসি’,
ফুটিয়া উঠুক                      অধরে আবার
সুখ সোহাগের হাসি।
ওগো মেঘ, এই                      ধরণীর মত
যাহার হৃদয় তলে,
চিরদিন শুধু,                         তৃপ্তি বিহীন
তীব্র তিয়াসা জ্বলে,
কোথা আছে চির                বাঞ্ছিত তা’র---
সন্ধান নাহি জানে।
চির প্রতীক্ষা                           লইয়া বক্ষে
চাহি’ সুদূরের পানে
হেথা ধূলিতলে                       বিরহ-শয়নে
আছে নিশিদিন জাগি’,
ওহে দূরাগত,                     আশার বারতা
এনেছ কি তার লাগি?
কোন্‌ বরষার                        বরষণে তার
জুড়াবে তাপিত প্রাণ,
চির জনমের                        ব্যাকুল বিরহ
কবে হবে অবসান !

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মিলন ও বিদায়
( Goethe )
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় সম্পাদিত “মানসী” পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২২ সংখ্যায় (জুলাই
১৯১৫) প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।
Goethe, Historical Essays and Studies, London, 1907, p-352.

তখন সন্ধ্যার ছায়া ঘনতর হয়ে
.                        ঘিরেছে ধরণী ;
চলিনু কম্পিত বক্ষে---দূর গিরি হতে
.                        নামিছে রজনী॥
শত কৃষ্ণ চক্ষু মেলি’ ঘন অন্ধকার
.                        বনান্তর হ’তে
চেয়ে আছে ; তাল শ্রেণী---অটস প্রহরী
.                        দাঁড়াইয়া পথে।

মেঘের শিখর হ’তে ম্লান শশিকলা
.                        চাহে ধরাপানে,
স্তব্ধ বায়ু-বিহঙ্গের মৃদু পক্ষধ্বনি
.                        পশে যেন কাণে।
সৃজন করিছে নিশা সম্মুখে আমার
.                        শত বিভীসিকা,
কি আগ্রহ---কি উল্লাস---তবুও অন্তরে
.                        কি প্রদীপ্ত শিখা !

অতিক্রমি দীর্ঘ পথ---উত্তরিনু যবে
.                        তোমার দুয়ারে,
দৃষ্টি তব কি আনন্দ-অমৃত ধারায়
.                        সিঞ্চিল আমারে।
ছুটিল হৃদয় যেন শত বাহু মেলি
.                        বাঁধিতে তোমায়,
আমার সারাটি প্রাণ একটি নিমেষে
.                        সঁপিলাম পায়।
বসন্ত-শোভায় ঘেরা হেরি মুখখানি
.                        বিমুগ্ধ নয়নে,
একি পুণ্যফল---একি আশাতীত সুখ
.                        আমার জীবনে !

প্রভাতের বায়ু, হায়, জাগাল হৃদয়ে
.                        বিদায়ের ব্যথা,
চুম্বনে তোমার একি মদির আবেশ
.                        নেত্রে আকুলতা।
বাহিরিনু পথে---দুটি বিষাদ-আনত
.                        জলভরা চোখে
চাহিয়া রহিলে শুধু তুমি মোর পানে
.                        প্রভাত-আলোকে।

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শরৎ-লক্ষ্মী
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় সম্পাদিত “মানসী” পত্রিকার আষাঢ় ১৩২২ সংখ্যায় (জুন ১৯১৫)
প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

এস কল্যাণী শরৎ-লক্ষ্মী,
.        এস এদ অয়ি শোভনে !
বরষার বারিধারায় নাহিয়া,
স্বচ্ছ মেঘের তরণী বাহিয়া,
.        এস, নামি এস ভুবনে !
এস নির্ম্মল মুক্ত-আকাশে,
তরুণ ঊষার আলোক-বিকাশে,
.        শান্ত শীতল পবনে।

এস রঞ্জিয়া প্রান্তর-বন
.        গলিত স্বর্ণ-বরণে,
এস ফুলে-ঢাকা শেফালির মূলে,
জলে ছল-ছল সরসীর কূলে,
.        কাশের শুভ্রশয়নে।
এস প্রস্ফুট কুমুদ-কমলে,
শিশির-সিক্ত নবতৃণদলে
.        এস গো অরুণ চরণে।

এস পুষ্পিত মালতী-বিতানে
.        নিভৃত মিলন-স্বপনে,
শশ্য-শ্যামল ধরার আঁচলে,
এস পল্লব-ঘন তরুতলে,
.        ফুল কপোত-কুজনে।
এস গো রৌদ্র-ছায়ার খেলায়,
চঞ্চল চখা-চখীর মেলায়
.        নদীর পুলিনে-বিজনে।

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মিলন-স্মৃতি
কবি রমণীমোহন ঘোষ
মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় সম্পাদিত “মানসী” পত্রিকার কার্তিক ১৩২২ সংখ্যায় (অক্টোবর
১৯১৫) প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০।

.        দক্ষিণ পবন
সে দিন জাগায়েছিল চঞ্চল পরশে
.        মোর কুঞ্জবন ;
.        মুখরিত করি’ দিক্
.        গেয়ে উঠেছিল পিক,
নবীন মুকুল ঘিরি’ ছিল অনিবার
.        মধুপ-বঙ্কার,
.                হে প্রিয় আমার !

.        উদার গগন
সে দিন মোদের’ পরে দিয়েছিল ঢালি'
.        বিমল কিরণ।
.        অপূর্ব্ব পুলকভরে
.        সেদিন তোমার করে
উঠেছিল এ বীণার যতগুলি তার
.        বাজি’, শতবার ;
.                হে প্রিয় আমার !

না ফুটিতে---বৃত্ত হ'তে ধরার অঞ্চলে
.        পড়িয়াছে ঝরি’।
.        'আজি তুমি হেথা নাই,
.        শূন্য এ নিকুঞ্জে তাই
সে সৌরভ, নে সঙ্গীত---কিছু নাহি আর
.        দিতে উপহার ;
.                হে প্রিয় আদার !

.        অসীম অন্বরে
একটিও তারা নাহি বিকাশে কিরণ
.        আজি মোর তরে।
.        দূরে তুমি---তাই মোর
.        হৃদয়ে আঁধার ঘোর,
নিঃশেষিত নিখিলের বিচিত্র শোভার
.        উন্মুক্ত ভাণ্ডার ;
.                হে প্রিয় আমার !

.                  ***************                
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর