| কবি রমণীমোহন ঘোষের কবিতা |
| আশ্বিনে কবি রমণীমোহন ঘোষ মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায়ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “মানসী ও মর্ম্মবাণী” পত্রিকার আশ্বিন ১৩৩০ সংখ্যায় (সেপ্টেম্বর ১৯২৩) প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। ১ সেই তো আশ্বিন নব এসেছে আবার ভরি লয়ে তরণী সোণার। তেমনি বরষ পরে আনিয়াছে ঘরে ঘরে অপরূপ সুষমা-সম্ভার। ধরণীর শ্যামাঞ্চল রবিকরে ঝলমল, নীলাকাশ কোলে শুভ্র মেঘের বিস্তার। ২ তেমনি শেফালিগন্ধ ভেসে আসে ধীরে শিশিরার্দ্র প্রভাত সমীরে। দোয়েল আপনা ভুলে গাহে গান নদীকূলে কলহংস আসিয়াছে ফিরে। জলে স্থলে সুনির্ম্মল ফুটেছে কুসুমদল, আসিছে আনন্দময়ী বিশ্বের মন্দিরে। ৩ হে আশ্বিন! আগে যবে হৃদি দ্বারে এসে। দাঁড়াইতে অতিথির বেশে--- কত শৈশবের প্রীতি, কত যৌবনের গীতি জাগিত সে একটি নিমেষে। শুনিয়া উৎসব বাঁশী হৃদয় যাইত ভাসি' কোন্ দূর নিরুদ্দেশ স্বপনের দেশে। ৪ হের আজি রুদ্ধ সেই অন্তর আমার--- তোমা তরে খুলিবে না আর। পুরাণো সে সুরে আজি আর উঠিবেনা বাজি সেই মোর বীণা---ছিন্নতার। আজি সে মন্দিরে চাই--- কই, সেথা দেবী নাই ! ব্যর্থ পূজা আয়োজন---পত্রপুষ্পভার। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কবির অধিকার ( Schiller ) কবি রমণীমোহন ঘোষ মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “মানসী ও মর্ম্মবাণী” পত্রিকার পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৩ সংখ্যায় (অগাস্ট ১৯১৬) প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। “লহ এই ধরা”--- স্বর্গ হইতে কহিলেন ভগবান্ ডাকিয়া মানবে--- “লহ এ ধরণী, আমার স্নেহের দান। 'এই বসুমতী তোমাদের তরে র’বে চিরদিন ধরি’, ভাই ভাই মিলি ভোগ করিবারে লহ বণ্টন করি’।” শুনি’ সেই বাণী, যে ছিল যেথায় ছুটিয়া আসিল ত্বরা, বালক বৃদ্ধ সকলে মিলিয়া বাঁটিয়া লইতে ধরা। লইল কৃষক ধরা-জাত যত বিবিধ শষ্যফল ; শিকারী লভিল মৃগয়ায়র তরে আরণ্য মৃগদল ; পণ্য আহরি’ করিল বণিক্ পূর্ণ বিপণি তার ; ঘোষিল নৃপতি সবার অংশে রাজকর অধিকার। বণ্টন যবে হয়ে গেল সারা, বাকি আর কিছু নাই--- বছ দূর হ'তে সকলের শেষে আসে কবি সেই ঠাঁই। ধাতার চরণে লুঠি কহে কৰি কাঁদিয়া---“বিশ্বরাজ, শুধু এ ভক্ত- সন্তান তব বঞ্চিত হ'ল আজ !” কহিলা বিধাতা "কোথা ছিলে তুমি--- কোন্ স্বপনের পুরে, সবাই যখন ধরা-ভাগে রত, কেন তুমি ছিলে দূরে?” “নয়ন আমার ছিল অনিমেষে চাহি, তব মুখ পানে, শ্রবণ আমার আছিল মুগ্ধ তোর-ৰীণার তানে। তোমারি আলোকে মত্ত এ প্রাণ ভুলে ছিল ধরাভূমি, ছিলাম তোমারি কাছে”---কছে কবি--- “ক্ষমা কর মোরে তুমি।” “কি দিব তোমায়?” ---কহিলা বিধাতা করুণা-কোমল আঁখি,--- “ভুমি, অরণ্য, পণ্য, আপণ কিছু হেথা নাহি বাকি। এস পাশে মোর--- পার্থিব কিছু লহ নাই তুমি মাগি", রহিবে মুক্ত মম গৃহ দ্বার সতত তোমার লাগি’।” . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বর্ষা উত্সব কবি রমণীমোহন ঘোষ মহারাজ জগদিন্দ্রনাথ রায় ও প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “মানসী ও মর্ম্মবাণী” পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৩ সংখ্যায় (অগাস্ট ১৯১৬) প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। ১ বরষা দিয়াছে মাখি' মেঘের অঞ্জন নীল নভস্তলে, ঢাকিয়া দিয়াছে তপ্ত ধরণীর দেহ শ্যামল অঞ্চলে। স্নিগ্ধ ঘন সুচিক্কণ পল্লব-ভূষণে মণ্ডিত কানন, বিকশিত কদম্বের মদির-সৌরভে অধীর পবন। তটিনী কল্লোল তুলি' ছুটিছে গরবে যৌবন-চঞ্চল, গুরু গুরু ডাকে মেঘ---ঝর ঝর ধারা ঝরে অবিরল। ২ চারি ধারে বরষার ঘোর ঘন-ঘটা ; ওগো প্রিয়তম, রহিবে কি এ হৃদয় শুধু, নিদাঘের শুষ্ক মরু সম ! নাহি দিবসের আলো, ঘেরা দশদিশি সঘন আঁধারে, জনহীন বনপথে হে চির-বাঞ্ছিত, এস অভিসারে। নিবিড় বরষা ধারা আন এ জীবনে, জীবন-বল্লভ, নিভৃত কুটীরে মোর পূর্ণ হোক আজি বরষা-উৎসব। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আহ্বান (দেশাত্মবোধক) কবি রমণীমোহন ঘোষ ১৯৬০ সালে প্রকাশিত, হেমেন্দ্র ভট্টাচার্য্য সংকলিত ও সম্পাদিত “মাতৃবন্দনা” দেশাত্মবোধক সঙ্গীত ও কবিতার সঙ্কলন থেকে নেওয়া। মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। ওই শোন্ 'ওই শোন্ সকরুণ মায়ের আহ্বান ; আয় ছুটে আয়, আছিস্ কোথায় অযুত সন্তান! কে এখনো বসি' করে ছেলেখেলা, আলসে বিলাসে কে কাটায় বেলা, বিবাদে বিষাদে লাজে অপমানে কে বা ম্রিয়মাণ ওই শোন্ ওই শোন্ মায়ের আহ্বান! জননীর দুখে কাঁদে নাকি আজ কাহারো পরাণ? কে মুছাবে মা'র নয়নের জল, কে মায়ের মুখ করিবে উজ্জ্বল, কে সাধিতে চাহে প্রাপপণ করি মায়ের কল্যাণ ! ওই শোন্ ওই শোন্ মায়ের আহ্বান। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |