| কবি রমণীমোহন ঘোষের কবিতা |
| মেঘদূত কবি রমণীমোহন ঘোষ কাব্যানুধাদ। শ্রীযুক্ত বরদাচরণ মিত্র কৃত। ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত কবির “মুকুর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। বানান যথা দৃষ্টং তথা লিখিতং! মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। কবে রামগিরি হ’তে কোন্ নির্ব্বাসিত বিরহ-তাপিত হত ভাগ্য যক্ষ কোন্ প্রথম বর্ষায়, তরুণী কান্তায় জানাতে মরম ব্যথা, আকুল আবেগে সেধেছিল মেঘে ! উজ্জয়িনী-রাজকবি মোহি' বিশ্বলোকে মেঘমন্দ্র শ্লোকে বিশ্বের ব্যাকুল যত বিরহীর বাণী মায়ামন্ত্রে আনি' রেখেছে অমর করি' অমৃত ভাষায় সে প্রেম-ব্যথায়। আজি বহু বর্ষ পরে,---একান্ত সুদূরে বঙ্গ-অন্তঃপুরে অবরুদ্ধা বঙ্গবধূ, কান্তবিরহিনী পড়ি' সে কাহিনী প্রবাসী পতির তীব্র বিরহু বেদনে ভাবে মনে মনে। মনে ভাবে--নবমেঘ আসে বুঝি ভেসে তাহারি উদ্দেশে, মেঘ সনে পাঠায়েছে হৃদয়ের ভার বুঝি প্রিয় তা'র ! চেয়ে থাকে---মুগ্ধহিয়া, বসি বাতায়নে, সঘন গগনে। আজি বরষার দিনে তাই দুর্ব্বিষহ প্রিয়ের বিরহ ; যক্ষের বিরহগাথা ধ্বনিত অন্তরে আজি শূন্য ঘরে নব-বিরাহিণী মগ্ন মিলন-স্বপনে সজল নয়নে। . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিরহ কবি রমণীমোহন ঘোষ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত কবির “মুকুর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। বানান যথা দৃষ্টং তথা লিখিতং! মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। তুমি এস, আজি এস, চিরদিন তরে কর আসি' মোর অসহ বিরহ শেষ। তেমনি কুসুম ফুটেছে কাননে, হাসিছে ইন্দু তেমনি গগনে, শুধু নাহি দেখ, হেথা মোর মনে তেমন সুখের লেশ। মনে হয়, যেন শত যুগ তোমা' ছাড়ি' আছি, হৃদয়েশ ! আজ তাই আমি অতি দীনহীন, কত না দুঃখ সহি নিশি দিন ; দেখ আসি' আজি শ্রীহীন মলিন জীর্ণ আমার বেশ। কত সুখস্মৃতি আনিয়াছে আজি দুখের চাঁদিনী নিশা ! নাহি বুঝি কোথা এত ভালবাসা, কেহ নাহি জানে এত প্রেমভাষা, কারো প্রাণে বুঝি নাহি এত আশা আকুল প্রণয়-তৃষা ! আজ কিগো তব পশে না শ্রবণে আমি হেথা যত কাঁদি ! দেখ আসি', লয়ে অশ্রু-সজল হৃদয় মাধুরী চির উজ্জ্বল, আছি পথ তব চাহিয়া কেবল আশায় পরাণ বাঁধি ! বুঝি আমি মোরে পারিনি বুঝাতে আজ দেখ আসি' ফিরে',--- কারো নাই এত মত্ত বাসনা কোথাও পাবে না এত সান্ত্বনা ; ধুয়ে দিব তব সর্ব্ব বেদনা বিমল অশ্রুনীরে। ঘুচাতে তীব্র বিরহ-যাতনা তুমি এস, এস ফিরে॥ . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বসন্ত কবি রমণীমোহন ঘোষ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে (১৮৯৯খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত কবির “মুকুর” কাব্যগ্রন্থের কবিতা। বানান যথা দৃষ্টং তথা লিখিতং! মিলনসাগরে প্রকাশ - ৮.৮.২০২০। হিমে জর জর ধরণীর জরা ঘুচায়ে সযতনে তার শিশির-অশ্রু মুছায়ে শীকর শীতল মন্দ মলয় পবনে আসে বসন্ত ভূবনে। সঞ্চার করি’ সুকোমল কর পরশে 'নবীন জীবন নব যৌবন হরষে স্থলে জলে বন-ভবনে, নব গৌরবে বসন্ত আসে ভুবনে। অন্বরে নীল উজ্জ্বল শোভা অমলা পাদপ জড়িত পুষ্পিত লতা শ্যামলা, মুগ্ধ নয়ন স্নিগ্ধ হরিত বরণে নিখিল পূরিত কিরণে। তটিনীর কুল ঢাকা নব তৃণ দুকুলে, আম্র কানন আবারিত নব মুকুলে নব পল্লবাভরণে ! শোভিত ভুবন কিরণে শ্যামল বরণে। উদ্দাম বায়ু বনে উপবনে বিহরে মর্ম্মর রবে ঘন তরুরাজি শিহরে। স্বচ্ছ সলিলা চিরচঞ্চল-চরণা বহে ঝর্ঝর ঝরণা। পরিমলভরা ফুল্লকুসুম-অধরে মত্ত মধুপ চুম্বন করে আদরে ! উপল-ব্যথিত-সরণা বনপনে সদা বহে ঝর্ঝর ঝরণা। সহুকার-শাখে পঞ্চম তানে কূহরি’ দিকে দিকে পিক সঞ্চারে সুধালহরী ; অটবীতে শত বিহগকণ্ঠ-কাকলি, গীতময় আজি সকলি। দোয়েল পাপিয়া গাহে প্রাণ খুলে’ মধুরে, বৌ কথা-কও অনুনয় করে বধুরে বিরহি-চিত্ত বিকলি’। উঠে অটবীতে শতবিহঙ্গ-কাকলি। আজিকে এসেছে মধুর মাধবী রজনী, জাগ ত্বরা, চল মঞ্জু কুঞ্জে, স্বজনি ; নব সাধভরে কর কুরঙ্গ-লোচনা বাসরসজ্জা রচনা। নব বসন্তে এস নব অনুরাগিনী, স্বর্ণবীণায় বাজাও মদির রাগিনী, অমিয়সিক্ত-বচনা, বাসরসজ্জা ফুলদলে কর রচনা। আন চম্পক, অশোক, টগর, করবী, নবমল্লিকা, বকুল, পাটল সুরভি, সারা বন ফিরি' যতনে চয়ন করিয়া আন অঞ্চল ভরিয়া। এসেছে যামিনী মধুর ইন্দুশালিনী, বকুলকুঞ্জে এসগো বকুলমালিনী বাসন্তী বাস পরিয়া। বন হ'তে ফুল আন অঞ্চল ভরিয়া। চকোর চকোরী চাঁদের শুভ্র আলোকে সুধাপান করি’ খেল করে উড়ি’ পুলকে। আজিকে মিলন সুমধুর এই বিজনে মধুর মলয়-বীজনে। চথা আর চখী ব্যাকুল বেদনে জাগিয়া, কাঁদে আজ রাতে প্রিয়-সমাগম লাগিয়া নদীর দুপারে দুজনে। আজিকে বিরহ দুঃসহ হেন বিজনে। কে আছে তরুণী জাগিয়া শূন্য শয়নে আজি বসন্তে অশ্রুআকুল নয়নে ! হেন মধুরাতে প্রাণ-বল্লভ বিহনে কে দহে বিরহ-দহনে ! সে কি পারে আজি থাকিতে প্রিয়ায় পাসরি’, ওই শোন ঝুঝি বেজে উঠে তা’র বাঁশরী অদূরে গহনে গহনে ! আজি মধুরাতে কে দহে বিরহদহনে ! . *************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |