| কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা |
| নিকষিত হেম কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় আমরা কেউ স্বার্থহীন নই। কেউ ভাবি না কাছাকাছি থেকে পাশাপাশি শুধু বসে রই। কেউ বলি না খালি হাতে এসো, কেউ বলি না হাত পেতে নেই। স্বার্থ অর্থে, যশে, যৌনতায় চায় যোগী সাজতে সকলেই। বিনিময়তা শুধু দ্বন্দ্ব করে – কে দেয়, কে নেয় হাত পেতে? কত পেলে কতখানি দেব, হিসাব চলেই অজানিতে। আমরা কেউ শর্তহীন নই। বুকে মাথা, আলোকবর্ষে স্নেহ। আমরা কেউ দ্বিধাহীন নই; স্পর্শে স্পর্শে শুধু সন্দেহ। . ************************* . সূচিতে . . . মিলনসাগর |
| পাগলি স্মরণে কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় তার কথা জানা নেই কারও হাবভাব সলকের চেনা খোঁচালেই গালাগালি আরও শোনা যাবে -পয়সা লাগে না। কী যেন পড়ার কথা বলে কে যেন পড়াবার ছলে সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল পাগোল তো – কত কিছু বলে। বাছা কাঁচা খিস্তির ঢেউ দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে কেউ। কেউ বলে মুখ ভেঙে দেবে শাড়ি খুলে নিতে চায় কেউ। সে কাঁদে ভেংচায় লোকে প্রলাপ কিছু তো কানে ঢোকে যে বাপ সেই নাকি সব ! মাকে মেরে ফেলে গেছে ওকে। মাথার ওপর নেই ছাদ লজ্জার ভেঙে গেছে বাঁধ পোড়া পেটে শুধু খিদে পায় এঁটোকাঁটা? হোক তবু খাবারের স্বাদ। স্টেশনের ধারে রাস্তায় পাগলি রাত্রে কাতরায় কুকুর ও শেয়ালের ভোজে পাগলির পেট বেড়ে যায়। জানা নেই কারও, পাপ কার? একজন নাকি জানা যাবে? প্রাণ দিতে প্রাণ পরিহার সদ্যোজাত আর কী হারাবে? . ************************* . সূচিতে . . . মিলনসাগর |
| স্পর্ধা কবি শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় চামেলির দর তুমি ঠিক করে দেবে এই অধিকার তোমার জন্মগত – অযথা অর্থব্যয়ে সুখ খুঁজে যাবে? শিকার ধরো বরং দলগত। বিনি পয়সার ভোজে সারা বিকৃতি তোমার জন্য, আমার আছে ক্ষয়। কার প্ররোচনায় প্রকৃতি আত্মঘাতী, তোমায় সৃজন করেই ডুবতে হয়। জানি না বেলা মালতীরা কোথা থেকে ক্রীতদাসত্বে বাঁচার খিদে জোটায় দরাদরি করে দামও নিয়ে নেবে তুমি বিসুখে ডুবে তোমারই সুখ ফোটায়। স্রষ্টা রয়েছে সৃস্টির হাতে বন্দি আমি তো জানি সৃজনে কী যন্ত্রণা .. ফোকটে পৃথিবী কিনবে অভিসন্ধি আকাশের কানে পাঠাচ্ছ মন্ত্রণা! . ************************* . সূচিতে . . . মিলনসাগর |