গেলো গুরুচরণ কামার, দোকানটা তার মামার, হাতুড়ি আর হাপর ধারের ( জানা ছিল আমার ) দেহটা নিজস্ব | . রাম নাম সত্ হ্যায় গৌর বসাকের প'ড়ে রইল ভরন্ত খেত খামার | . রাম নাম সত্ হ্যায় || দু-চার পিপে জমিয়ে নস্য হঠাত্ ভোরে হ'লো অদৃশ্য--- ধরনটা তার খ্যাপারই--- হরেকৃষ্ণ ব্যাপারি | . রাম নাম সত্ হ্যায় ছাই মেখে চোখ শূণ্যে থুয়ে, পেরেকের খাট তাতে শুয়ে পলাতক সেই বিধুর স্বামী আরো অপার্থিবের গামী . রাম নাম সত্ হ্যায় রান্না রেঁধে কান্না কেঁদে, সকলের প্রাণে প্রাণে বেঁধে দিদি ঠাকরুন গেলেন চ'লে--- খিড়কি দুয়োর শূণ্যে খোলে! . রাম নাম সত্ হ্যায় আমরা কাজে রই নিযুক্ত, কেউ কেরানি কেউ অভুক্ত, লাঙল চালাই কলম ঠেলি, যখন তখন শুনে ফেলি . রাম নাম সত্ হ্যায় শুনবো না আর যখন কানে বাজবে তবু এই এখানে . রাম নাম সত্ হ্যায় ||
তার বদলে পেলে--- . সমস্ত ঐ স্তব্ ধ পুকুর . নীল-বাঁধানো স্বচ্ছ মুকুর . আলোয় ভরা জল--- . ফুলে নোয়ানো ছায়া-ডালটা . বেগনি মেঘের ওড়া পালটা . ভরলো হৃদয়তল--- . একলা বুকে সবই মেলে ||
তার বদলে পেলে--- . শাদা ভাবনা কিছুই-না-এর . খোলা রাস্তা ধুলো-পায়ের . কান্না-হারা হাওয়া--- . চেনা কণ্ঠে ডাকলো দূরে . সব-হারানো এই দুপুরে . ফিরে কেউ-না-চাওয়া | . এও কি রেখে গেলে ||
হৃত্পিণ্ডে রক্তের ধ্বনি যেখানে মনের শিরা ছিঁড়ে যাত্রী চ'লে গেল পথে কোটি ওক্লাহোমা পারে লীন, রক্ত ক্রুশে বিদ্ধ ক্ষণে গির্জে জ্বলে রাঙা সে-তিমিরে--- বিচ্ছেদের কল্পান্তরে প্রশ্ন ফিরে আসে চিরদিন || . ফিরে আসে চির দিন ||
অন্নদাতা কবি অমিয় চক্রবর্তী বঙ্কিমচন্দ্র সেন সম্পাদিত দেশ পত্রিকার ১লা আশ্বিন ১৩৫০ (১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩) সংখ্যা থেকে নেওয়া |
পাথরে মোড়ানো হৃদয় নগর জন্মে না কিছু অন্ন— এখানে তোমরা আসবে কিসের জন্য ? বেচাকেনা আর লাভের খাতায় এখানে জমানো রক্তপণ্য— যারা দান দেয় তারা মুনাফায় সাধুতার সুদ কষে তবে হয় দাতা, নয়তো তারাও রাষ্ট্রচাকায় পিষ্ট, দরদী নাগর : তাদের দেওয়ার ফলাবে না ধান শান-বাঁধা কলকাতা | আসো যদি তবে শাবল হাতুড়ি আনো ভাঙ্ বার যন্ত্র, নতুন চাষের মন্ত্র | গ্রামে যাও, গ্রামে যাও, এক লাখ হয়ে মাঠে নদী ধারে অন্ন বাঁচাও, পরে সারে সারে চাবে না অন্ন, আনবে অন্ন ভেঙে এ-দৈত্যপুরী, তোমরা অন্নদাতা | জয় করো এই শান-বাঁধা কলকাতা ||
তোমার আমার নানা সংগ্রাম, দেশের দশের সাধনা, সুনাম, ক্ষুধা ও ক্ষুধার যত পরিণাম . মেলাবেন | জীবন, জীবন-মোহ, ভাষাহারা বুকে স্বপ্নের বিদ্রোহ— . মেলাবেন, তিনি মেলাবেন |
দুপুর ছায়ায় ঢাকা, সঙ্গীহারানো পাখি উড়িয়াছে পাখা, পাখায় কেন যে নানা রঙ তার আঁকা | প্রাণ নেই, তবু জীবনেতে বেঁচে থাকা . ---- মেলাবেন |
তোমার সৃষ্টি, আমার সৃষ্টি, তাঁর সৃষ্টির মাঝে যত কিছু সুর, যা-কিছু বেসুর বাজে . মেলাবেন |
মোটর গাড়ির চাকায় ওড়ায় ধুলো, যারা সরে যায় তারা শুধু – লোকগুলো ; . কঠিন, কাতর, উদ্ধত, অসহায়, . যারা পায়, যারা সবই থেকে নাহি পায়, কেন কিছু আছে বোঝানো, বোঝা না যায়— . মেলাবেন |
দেবতা তবুও ধরেছে মলিন ঝাঁটা, স্পর্শ বাঁচিয়ে পুণ্যের পথে হাঁটা, সমাজধর্মে আছি বর্মেতে আঁটা, ঝোড়ো হাওয়া আর ঐ পোড়ো দরজাটা . মেলাবেন, তিনি মেলাবেন ||