চিরদিন কবি অমিয় চক্রবর্তী দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপক রায় সম্পাদিত “বাংলা আধুনিক কবিতা” ১ থেকে নেওয়া |
আমি যেন বলি, আর তুমি যেন শোনো জীবনে জীবনে তার শেষ নেই কোনো | দিনের কাহিনী কত, রাত চন্দ্রাবলী মেঘ হয়, আলো হয়, কথা যাই বলি | ঘাস ফোটে, ধান ওঠে, তারা জ্বলে রাতে, গ্রাম থেকে পাড়ি ভাঙে নদীর আঘাতে | দুঃখের আবর্তে নৌকো ডোবে, ঝড় নামে, নূতন প্রাণের বার্তা জাগে গ্রামে গ্রামে— নীলান্ত আকাশে শেষ পাই নি কখনও আমি যেন বলি, আর তুমি যেন শোনো ||
বৃষ্টি কবি অমিয় চক্রবর্তী দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপক রায় সম্পাদিত “বাংলা আধুনিক কবিতা” ১ থেকে নেওয়া |
কেঁদেও পাবে না তাকে বর্ষার অজস্র জলধারে |
ফাল্গুন বিকেলে বৃষ্টি নামে | শহরের পথে দ্রুত অন্ধকার | লুটোয় পাথরে জল, হাওয়া তমস্বিনী ; আকাশে বিদ্যুত্জ্বলা বর্শা হানে ইন্দ্রমেঘ ; কালো দিন গলির রাস্তায় | কেঁদেও পারে না তাকে অজস্র বর্ষার জলধারে |
নিবিষ্ট ক্রান্তির স্বর ঝরঝর বুকে অবারিত | চকিত গলির প্রান্তে লাল আভা দুরন্ত সিঁদুরে পরায় মুহূর্ত টিপ, নিভে যায় চোখে কম্পিত নগরশীর্ষে বাড়ির জটিল বোবা রেখা | বিরামস্তম্ভিত লগ্ন ভেঙে আবার ঘনায় জল | বলে নাম, বলে নাম, অবিশ্রান্ত ঘুরে ঘুরে হাওয়া খুঁজেও পাবে না যাকে বর্ষার অজস্র জলধারে |
আদিম বর্ষণ জল, হাওয়া, পৃথিবীর | মত্ত দিন, মুগ্ধ ক্ষণ, প্রথম ঝঙ্কার অবিরহ, সেই সৃষ্টিক্ষণ স্রোতঃস্বনা মৃত্তিকার সত্তা স্মৃতিহীনা প্রশস্ত প্রাচীন নামে নিবিড় সন্ধ্যায়, এক আর্দ্র চৈতন্যের স্তব্ধ তটে |
ভেসে মুছে ধুয়ে ঢাকা সৃষ্টির আকাশে দৃষ্টিলোক | কী বিহ্বল মাটি গাছ, দাঁড়ানো মানুষ দরজায় গুহার আঁধারে চিত্র, ঝড়ে উতরোল বারে-বারে পাওয়া, হওয়া, হারানো নিরন্ত ফিরে ফিরে— ঘনমেঘলীন কেঁদেও পাবে না যাকে বর্ষার অজস্র জলধারে |
. সাটোরি জন্মনীল চোখে দেখা কালোর কাজল কচি ছায়া চোখে দেখা শুধু তাই— শুধু অবাকের দেখা শুধু ঝুঁকে থাকা দেখা কাঠ খড় বেড়াল বা জল— যেখানেই দেখা, ---দ্যাখে ; যেখানেই ছোঁয়—সব ছোঁয়, তাই এত খুশি | একেবারে ||
অ্যান আর্বার কবি অমিয় চক্রবর্তী দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপক রায় সম্পাদিত “বাংলা আধুনিক কবিতা” ১ থেকে নেওয়া |
পৌঁছুতে আজ তো বেশি লাগে নি সময় ? এই তো এখনও হাতে রয়েছে সে বন্ধ-করা চিঠি, দুপুরের লম্বা ট্রেন এখন চলেছে জানলা পারে, ঐ দোলা ডাল থেকে দু-দন্ড উড়েছে শূন্যে পাখি, এই তো চোখের মগ্ন ছবির অগাধ থেকে ওঠা জ্বলজ্বল বোঁটা এই মুহূর্তের ঝরঝর ধোয়া দিন সম্পূর্ণ আবার ভরে আসে— সাক্ষী সব কিছু— যেখানে রওনা শুধু তার থেকে ঘড়ি বলে, শুধু মিনিটখানিকও নয় ; দাঁড়িয়েছি একাকিনী তবু বয়েছি পায়ের কাছে |
উত্সব কবি অমিয় চক্রবর্তী দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপক রায় সম্পাদিত “বাংলা আধুনিক কবিতা” ১ থেকে নেওয়া |
কখনও ভেবেছ ? দূর দেশে ক্ষুদ্র গ্রামে যেতে-আসতে মহনীয় ছায়া নেমে আসবে দোকানের কাঁচে, ফুটপাথে লুটোবে কান্নার মন্ত্র, বিশ্ববিজয়িনী বাজবে শঙ্খ | পুষ্পবৃষ্টি ঝরবে গলিতে— অগণ্য যাত্রীর মধ্যে প্রবাসী একজনে শুনবে স্তব্ধ বিশ্বে তার মৃদু কন্ঠধ্বনি এই দিনে ||