অনির্বাণ
কবি অমিয় চক্রবর্তী
যামিনীমোহন কর সম্পাদিত মাসিক বসুমতী পত্রিকার আশ্বিন ১৩৫৩ (অক্টোবর ১৯৪৬)
সংখ্যা থেকে নেওয়া।
কত মানুষের ব্যথা পুঞ্জ হয়ে মেঘে
আকাশে ঘনায় উদ্বেগে।
গামান্তের রুদ্ধ বুকে কার কাঁদা,
মর্মান্তিক কোপা মৃত্যু-বাধা,
জনে জনে জলে ঝড়ে ডোবে নৌকা কত,
অনশন-মাঠে আর্ত লক্ষ শত,
---তাপর মেঘ উড়ে যায়,
শ্রাবণ বর্ষণ রাত যেমন পোহায়।
ফিরে রৌদ্র পড়ে মাঠে গ্রামে,
নতুন শিশুর ঘরে নব প্রাণ উদ্যত সংগ্রামে ;
কারো ধান হয়,
কারো অতিক্রান্ত শোকে মুছে যায় পুরোনো সময় ;
কর্মের কঠিন দিন ভরে,
আবার জীবন চলে ঘরে ঘরে।
তবু যেই চেয়ে দেখি ক্ষুদ্র খেয়া-ঘাটে
দূরে কে দরিদ্রা মেয়ে, ঘরণী সে, ভাগ্যের ললাটে
একদৃষ্টে কী যে খোঁজে, গাছের গুঁড়িতে হাত রেখে
কে যেন আসবে ফিরে আশাহীনা বৃথা চেয়ে দেখে---
তখন আবার ধীরে চলন্ত এ তরী থেকে ভাবি
চিরন্তন ব্যথা সে তো দীপ জ্বালে অন্ধকারে নাবি।
মহাসূর্য বিশ্বের গগনে
স্রোতে-ভাসা সৃষ্টিলোকে ব্যথিতা কে একাকী লগনে॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
ভ্রমণা
কবি অমিয় চক্রবর্তী
যামিনীমোহন কর সম্পাদিত মাসিক বসুমতী পত্রিকার চৈত্র ১৩৫২ (এপ্রিল ১৯৪৬) সংখ্যা
থেকে নেওয়া।
উঁচু ডাঙা, পরিচ্ছন্ন, লাল মাটি, প্রানেত নীল রেখা
ছোট পাহাড়ের ধারে অজানা ও কাছের সংসার
লতায় দেয়াল ঢাকা, পরিতৃপ্ত দুটো চারটে বাড়ি,
ঐখানে এসো আজ একটি ঘর বাঁধি দুজনার।
আমার বুকের ইচ্ছা তোমাকে তো আনবেই টেনে
অগণ্য মাইল থেকে স্বপ্নে এসে মিলবে সেখেনে ;
কত সুখ তার পর দুজনার রোজ কত কাজে,
বিরল মাঠের ধারে গোরু-চরা ওটুকু সমাজে।
ব্যাকুল বিরহী মন ঘিরে ধরে তোমাকে কোথায়
সুন্দর ইচ্ছার বেগ স্বচ্ছ দিনে সব ফিরে চায়।
মানে না কোনই বাধা, জানে বাধা নেই প্রাণলোকে,
তোমার আমার ধ্যান শুভ্র হবে সকলের চোখে।
এই দূর মাঠে বাটে নির্মল আকাশতলে, প্রাণ,
অমৃত ক্ষুধার তুমি দেবে না কি কল্পাতীত দান?
. ট্রেন চলে যায়,
স্বপ্নের কুটীর ঐ রাঙা সন্ধ্যা আলোয় মিসায়॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
শিল্পিত
কবি অমিয় চক্রবর্তী
যামিনীমোহন কর সম্পাদিত মাসিক বসুমতী পত্রিকার পৌষ ১৩৫২ (জানুয়ারী ১৯৪৬)
সংখ্যা থেকে নেওয়া।
অস্তদূরের মধ্যে কে আছ,
. আছ অন্তরে তবু ;
তোমার নাগাল সহজ নয়তো কভু---
কল্পবিহীন সৃজনব্যথায় শিল্পীকে শুধু যাচ॥
কোটি হাতুড়ির পিটনিতে তাই
. তোমার ধ্যানকে বানাই---
. ইচ্ছায় রাখি আগুন।
হলে তুমি রাঙা তপ্ত সোণায়
. গন্ গনে বহু গুণ
কী মূর্তি শেষে আনাই।
বার বার জাগে প্রশ্ন কাকে যে বানাই॥
রোদের দ্রাক্ষা নিঙাড়ি’ সানাই
. দুপুরের নেশা জাগায় সদ্য,
বাজে ফোঁটা ফোঁটা দ্রব ঝঙ্কারী মদ্য।
. রন্ধ্রে রন্ধ্রে মানসের কোষে
তারি ধারা পশে’
. ধাতুর ধ্বনিত নতুন সাহানা সৃষ্টি---
. সূর্যসবুজী বৃষ্টি।
গান বেঁধে কার সুরের বেদনা জানাই॥
যেখানে যা পাই নানাখানা ভাব
. নয়নের ভাঁড় ভরানো, তিয়াষ-হরানো,
. সাজানো তা দিয়ে কাব্যের আসবাব।
. আখর ঐ তো ধূলো-পথে ছোটে,
. ঘসে জেগে ওঠে,
. সারি গাছে ঝোলে গুচ্ছ গুচ্ছ ডাব।
জুড়ানো চান্দ্র হাল্কা জরির রাতে
. তারাভরা শাল গাঁথে ;
. ভোরের আঁধার ছিল কী পুণ্যে
. ময়ূরকণ্ঠী নীল দিন ওড়ে শূন্যে,
. ছন্দ জড়ানো তাতে।
যা আছে যা নাই কবিতার বশ মানাই॥
এই তো রূপের হাতুড়ি॥
. ছবির গগনে রংলাগা মনে
রেখা আঁকাবাঁকা ফুলঝুরি কারো ঘুড়ি
. উজ্জ্বল ছায়া ছড়ায় স্বপ্নে কার যে।
. পাথরী শুভ্রতার যে
মর্ম কঠিন ভেঙে প্রাণ ঢালি’
. গড়নের কাছে চলেছে বাটালি ;
. ইঁটের স্তবকে প্রাথনা দেশে দেশে
. ওঠে কোম্ উদ্দেশে॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
উপহার
কবি অমিয় চক্রবর্তী
যামিনীমোহন কর সম্পাদিত মাসিক বসুমতী পত্রিকার মাঘ ১৩৫২ (ফেব্রুয়ারী ১৯৪৬)
সংখ্যা থেকে নেওয়া।
তোমাকে দেবো না বেশি কিছু ভার
. আমার ভালবাসার।
শুধু গান, শুধু বনপথে যেতে
ফুল তুলে দেবো চারু অলকেতে,
চঞ্চল মায়া কল্পনে গেঁথে
. সাজাবো বাণীর হার।
নিয়ো তুমি যাহা সহজে কুলায়,
মাধুরার রঙে ভাবনা দুলায়,
যা-কিছু তোমাকে ক্ষণিকে ভুলায়
. রাখে না বেদন তা’র।
যাতে খুসী হও, শুধু তাই লও
. এই খেলা দু’জনার॥
প্রাণে যদি মোর কিছু বেশি রয়
. রেখো না তাহার ভয়।
গভীর আগুনে যদি রাখি জ্বেলে
ঘুমহারা প্রাণে শিখা দেয় মেলে,
ধ্যানের সে দাহ তোমা কাছে গেলে
. হবে জেনো আলোময়।
এ জীবন ভ’রে যে-মিলন খুঁজি,
যে মানসে-প্রিয়ে, তোরে প্রাণে পূজি’,
হারানোর পারে যে-পাওয়াকে বুঝি,
. তারি এই পরিচয়---
ভোরের আকাশে আলোর প্রকাশে
. জাগরণ-বিনিময়।
মোর ভালোবাসা দেবে না বোধনে
. কোনো ভার জেনো মনে।
দিনের শান্তি স্থির সন্ধ্যায়
তিমিরে তারায় যবে মিলে যায়,
দাঁড়াবো একাকী তব দরজায়
. মিলনের সে লগনে।
চক্ষের জল---সে ভরা বুকের,
নয় নয় তাহা মর্ত্য দুখের,
চরম তিয়াষে মৌন মুখের
. বাণী সে সুখের ধনে।
রবে তারি ভাতি চিরপথ-সাথী
. দু’জনার এ জীবনে॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি কথা
কবি অমিয় চক্রবর্তী
যামিনীমোহন কর সম্পাদিত মাসিক বসুমতী পত্রিকার ফাল্গুন ১৩৫২ (মার্চ ১৯৪৬) সংখ্যা
থেকে নেওয়া।
আলোয় মিলন বারেবার
. এই খেলা, প্রিয়ে দুজনার।
আবেগ সমুদ্র দুঃখ রাতে
. পার হব আপনার সাথে
তরঙ্গে যুঝিয়া দুর্নিবার।
জয়ের কুঁড়িটি হাতে নিয়ে
হাসিমখে ভোরে গিয়ে
. পুনরায়
দাঁড়াব তোমার দরজায়॥
তুমি জেনো সহজে আমারে,
কী কাজ ভিতরে দেখিবারে।
. তুমি নিয়ো যদি ভালো লাগে
. যে-গান হঠাৎ কণ্ঠে জাগে
. বেদনার দীপ্তির ঝলকে।
. বিপুল ভাবনা খনি
. নিয়ো তার শ্রেষেঠ মণি
. লীলাভরে দুলায়ো অলকে।
ভুলে যেয়ো আর কিছু---
আমি মাথা ক’রে নীচু
. ফিরে যাবো একা প্রাণলোকে
. তোমার ধেয়ান নিয়ে চোখে॥
এই হোক, তোমার লাগিয়া
একা আমি রহিব জাগিয়া।
রৌদ্ররেখা দীর্ঘপথ
মোর সারা ভবিষ্যৎ---
. সেই পথে করি আনাগোণা।
. খুসি যা প্রেমের মধুভরে
. স্বপনে আপনি রূপ ধরে
. তাই দিয়ে তোমার সাধনা।
. প্রতিদানে মাগি লব
. চমকিত দৃষ্টি তব
. সোনা হবে আমার কল্পনা।
তার পরে মৌন বুকে
অজানিত মোর সুখে দুখে
. গোপনে যা কিছু রয় ধন
. তাই দিয়ে, এলে সুলগন,
. আঁকিব বিশেবোর এক ছবি,---
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
দিনাভরণ
কবি অমিয় চক্রবর্তী
প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত “প্রেম যুগে যুগে”, ১৩৫২ (১৯৪৬) কাব্য-সংকলন থেকে নেওয়া।
কাকে চাই তা জানি যখন দেখি তোমার মুখ,
যখন তোমার গলার আওয়াজ শুনি
. ---তোমাকে চাই।
ভরে যখন তোমায় ছুঁয়ে সমস্ত বুক,
কানায় কানায় হাওয়ায় লাগে বাসন্তী ফাল্গুনী---
. তোমাকে পাই॥
কাকে চাই তা জানি যখন তুমি চাও
আমাকে এই আলো হাওয়ার দুপুরে পাও---
. দুজনে চাই।
ময়ূরকুঞ্জে ময়ূর ডাকে
বাতাবি-ফুল সাদা সৌরভ ফুট্য়ে রাখে---
. লেক্-এর জলটা ঝিলি-মিলিয়ে পাগল বাণী।
. কাকে চাই তা দুজন জানি॥
কাকে চাই তা চাওয়ান্ তিনি সৃষ্টি দিয়ে,
জানান্ হঠাৎ রোদের বেলায় বৃষ্টি দিয়ে।
. বোবা দুজনে ঝাপসা বুকে কান্না-মেশা,
. কোথায় খুঁজি আরো চাওয়ার অকূল নেশা---
. জন্ম মৃত্যু দূরের দিকে রইল পড়ে,
দুজনকে পাই স্বর্গ বানাই ধূলোর ঘরে॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
বিয়াত্রিচে
কবি অমিয় চক্রবর্তী
প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত “প্রেম যুগে যুগে”, ১৩৫২ (১৯৪৬) কাব্য-সংকলন থেকে নেওয়া।
বিয়াত্রিচে
ধন্য তুমি।
পেয়েছিলে যার ভালোবাসা
সেই স্বর্গপথ-যাত্রী কবি মর্তলোকে
তোমারই চোখের দীপে আলো দেখে একা
. সিঁড়ি দিয়ে যেতে ধাপে ধাপে,
সারা জীবনের ঊর্ধ্ব দীর্ঘ পথে অনির্বাণ
. জেনেছিল তোমাকেই ধ্যানে---
. ধন্য বিয়াত্রিচে॥
সংসারে তুমিই তার বুকে
কী ধরালে জ্বালা, যার দাহে
আলোকের শেষে সিঁড়ি উঠে, দেখা যায়
. ঐ কাছে
দরজা আলোয় আলো আরো বিভান্বিত
প্রেম সূর্যনিকেতনে, আলো সেথা
সর্বদাহমুক্তবহ্নি, যার স্বাদ তুমি
পৃথিবী নারীর প্রেমে দিয়েছ, তৃষায় তষাহারা,
শুধু ইতালীতে নয়, দেশে দেশে।
তোমারই মাধুরী জপি অন্য নামে আজো ঘরে ঘরে,
তোমাকেই পেয়ে বুকে চিনেছি আপন প্রেয়সিকে,
. ধন্য বিয়াত্রিচে॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর


উদয়ন
কবি অমিয় চক্রবর্তী
বিষ্ণু দে সম্পাদিত “এ কালের কবিতা”, মাঘ ১৩৬৯ (জানুয়ারী ১৯৬৩) কাব্য-সংকলন
থেকে নেওয়া।
ঐ সোনা রোদের আঙুল
কোন্ নীল দূর থেকে ছোঁয় মোর চুল ;
রাঙা ভোর, গোলাপের ডালে
. লাল হয়ে উঠেছে সকালে ;
. মশারি সরিয়ে চেয়ে থাকি,
স্বর্গসুখী বাসনার আঁখি।
. শান্তিনিকেতনে
স্ফটিক আকাশ রোজ প্রভাতী ছড়ায় দেহে মনে ;
. সুগন্ধি বেলায়
নীলান্ত দিকে দিকেখুলে যায় ;
. শালবীথিকায় বৈতালিক
চলন্ত সুরের মন্ত্র ঘরে ঘরে দেয় প্রাথমিক,
. রবীন্দ্রনাথের গানে আনন্দের ভাষা
তাই দিয়ে শুরু হয় সমস্ত দিনের যাওয়া আসা।
মনে হয় আলো-ভরা এই সুরে
শ্যামলী পাড়ার হাওয়া স্নিগ্ধতায় আছে পূরে ;
. সোনাঝুরি, হিমঝুরি, নীলমণিলতা
নাম যাঁর দেওয়া তাঁরি আলোয় ছুঁয়েছে দিব্যতা ;
. কাঁকড় পথের ছায়া মুগ্ধ রোদে পড়ে থাকে,
গোলকচাঁপার ডালে ভোরে পাখি ডাকে॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
মানুষের ঈশ্বর
কবি অমিয় চক্রবর্তী
বিষ্ণু দে সম্পাদিত “এ কালের কবিতা”, মাঘ ১৩৬৯ (জানুয়ারী ১৯৬৩) কাব্য-সংকলন
থেকে নেওয়া।
ঈশ্বর, মুখে দিয়ে দামী সিগারেট
বসে বসে দেখছেন স্বর্গে।
. নতুন জুতো-পরা পা দুটো রেলিঙে
. উঠিয়ে, আরাম ক’রে, ভালো খেয়ে দেয়ে,
. মাটির পৃথিবীটাকে কৌতুকে করুণায়
. ঈশ্বর দেখছেন স্বর্গ থেকে।

মাটি
কবি অমিয় চক্রবর্তী
বিষ্ণু দে সম্পাদিত “এ কালের কবিতা”, মাঘ ১৩৬৯ (জানুয়ারী ১৯৬৩) কাব্য-সংকলন
থেকে নেওয়া।
ধান করো, ধান হবে, ধূলোর সংসারে এই মাটি
. তাতে যে যেমন ইচ্ছে খাটি।
বসে যদি থাকো তবু আগাছায় ভরে বিন্দু ফুল
হসদে-নীল তারি মধ্যে, রূক্ষ মাটি তবু নয় ভুল---
ভুল থেকে সরে সরে অন্য কোনো নিয়মের চলা,
কিছু না-কিছুর খেলা, থেমে নেই হওয়ার শৃঙ্খলা,
সৃষ্টি মাটি এই মতো।
. তাইতে আরোই বেশি ভাবি
ফলাবো না কেন তবে আশ্চর্যের জীবনীর দাবি।
. কচি বৃন্তে গুচ্ছ অন্নধান
সোনা মাঠে ছেয়ে দেবে শ্রমের সম্মান।
তারি জন্য সূর্য তাপী, বাহুর শক্তির অধিকার,
মানুষের জন্ম নিয়ে প্রাণের সংকল্প বাঁচাবার।
. বৃষ্টি ঝরে চৈতন্যের বোধে
. আবার আকাশ ভরে রোদে।
. তারি জন্যে শিশু আঙিনায়
দৌড়ে খেলে, হাট বসে, গৌরীপুরে জমে ব্যবসায়।
গাছ চাই, গাছ হবে, ছায়া দেবে, বাড়িতে বাগানে
শহরে শিল্পের সৌধে প্রাণ জাগে প্রাণে।
যা হয় তারই সে হওয়া আরোই উজ্জ্বল ক’রে তুলি
কঠিন লাবণ্যে ছুঁই মনের অঙ্গুলি।
বীজ আনি, জল আনি, ভাগ্যজয়ী খেলা তারো বেশি---
যে রহস্য সর্বাতীত তারি সঙ্গে হোক রেশারেশি
. অচিন্ত্য বিস্ময় খুলে যাই---
কিছু হয়, হয় না বা, এরি মাটি চষি এসো ভাই॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর