মূল্য বদল
কবি অমিয় চক্রবর্তী
বিষ্ণু দে সম্পাদিত “এ কালের কবিতা”, মাঘ ১৩৬৯ (জানুয়ারী ১৯৬৩) কাব্য-সংকলন
থেকে নেওয়া।
“খুলে পড়বে কানের সোনা শুনে বাঁশির সুর”।
মিথ্যের ধন হারালি প্রাণ, ছুঁলো যেই মধুর
নতুন কালের ভাঙন-লাগা ভরন্ত রোদ্দুর।
প্রাচীন গানের চাহন কাঁদায়, রই চেয়ে যদ্দূর।
আলাল ঘরের দুলাল যত গঙ্গাদারের কুঠি,
উনোন-ধারের বুক-ফাটা বুক, শাড়ি কুটোকুটি,---
দীর্ণ যুগের প্রাণ ভ’রে তাও পদ্ম ছিল ফুটি’।
এক গোঙানির চাকায় বাঁধা গোরুরগাড়ি উঠি,
গেলো কোথায় যাত্রী কা’রা শুনে বাঁশীর সুর॥
. ২
নতুন কাল কি সোনার বেশি, কালের ঝাঁঝর রোদে
রাই-পরানী হারা সোনায় আজো কি চোখ মোদে---
সামনে পথের কানাই যতই পেছনে দ্বার রোধে।
দুই মিলিয়ে প্রাচীন অচিন নাও নবযুগ বোধে।
পাঁজরা-ওঠা বাংলা গেলো ধ’সে জলের ধার

সার্কাস
কবি অমিয় চক্রবর্তী
বিষ্ণু দে সম্পাদিত “এ কালের কবিতা”, মাঘ ১৩৬৯ (জানুয়ারী ১৯৬৩) কাব্য-সংকলন
থেকে নেওয়া।
রং মাখা সং আমি রঙিন দড়িতে
. ঝলে পড়ি, এলোমেলো দশ গজ ফিতে
দুই কানে বার করি, লাল নীল গাল
. গাধা টুপি সাদা নাকে ঠেকেছে কপাল।
. বত্রিশ বছর নখে শূন্য আঁচড়িয়ে,
. হেঁটেছি চৌতলা উঁচু সরু তার দিয়ে,
. শুনি ঝড়ো তালি,
“সার্কাস সাবাস ক্লাউন, শখের বাঙালি”---
উপরে ট্রাপিজে দুই রুপোলি মেয়েরা
ঝাঁপায় বিজুলি লাফে, স্বপ্নে চোখ-চেরা---
সবাই, ক্ষুদে কি বড়ো, পরীরাজ্যে ডোবা
ঝাপসা চোখে দেখে ঘোড়-সোয়ারির শোভা :
. চার চার রাজপুত্র থিয়েটারি সাজে
. মখমল পাগড়িতে হীরে, সস্তা ব্যাণ্ড বাজে।
কেন হেন ব্যবসা বাঁধি, উদ্দেশ্য, প্রমাণ
. প্রকাণ্ড বালুক, বাঘ, দুটো হনুমান।
. হল্ দে পাখি চাও?
নতুনের চোখে দেখবে হঠাৎ উধাও।
. মস্ত হাতি হালকা নাচে উল্টে ধরে আলা
. পোষমানা শুঁড়ে তোলে পিরিচ পেয়ালা---
. মাহুত চেয়ারে হাসে, সপাং সপাং
চাবুক আওয়াজ মিথ্যে, বিনা জাদু ভাং
. আসল সার্কাস ;
কোথাও পালানো নয়, ভিড়ে-চড়া বাস্
. একবারে সামনে আনে : এ কাজে অবশ্য
পপভ্, চ্যাপলিন, ডিসনি সবার নমস্য---
. ঝলমল প্রাণ থেকে ছলছল বুকে
. আশ্চর্যের নানা ভঙ্গি কত কী কৌতুকে ;
তুমি আমি আসবো যাবো, তাঁবুর নিশান
. উড়বে আজ আসানসোলে, কাল বর্ধমান॥
. ************************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর