কবি অনির্বাণ রায়ের কবিতা
রক্তের রং কালো
কবি অনির্বাণ রায়
“এবং স্রোত” পত্রিকার দ্বিতীয় বর্ষ, পড়ন্ত বিকেল সংখ্যা, ১৪২১ তে প্রকাশিত।


আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরা
আঁচড় অথবা দাঁতের দাগ,
ইস! কি বিশ্রী গন্ধ
না না! এতো শরীর!
যে শরীর খুঁজতে খুঁজতে পুলিশ
ঘুমিয়ে পড়ে রাষ্ট্রের পায়ের নখে।
যে শরীরের ছবি হাহাকার করে
বিজ্ঞাপনের ঝলকে
অথবা ইস্কুল ব্যাগে লুকানো
মোবাইলের ফোল্ডারে!
নাকি এই সেই শরীর
যাকে ফেলে গেছে
ক্লান্ত ধর্ষক পুরুষ!
শরীর যে মানুষেরই হোক
এখন তো
কেবল মাংস
আর
সকালের কাগজের খবর।

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
শূন্য অঙ্ক
কবি অনির্বাণ রায়
“এবং স্রোত” পত্রিকার দ্বিতীয় বর্ষ, পড়ন্ত বিকেল সংখ্যা, ১৪২১ তে প্রকাশিত।


সুমন যেমন সোচ্চারে বলে থাকেন
আমার গলায় সেই সাহসটা নেই
তবুও লিখি আলতো কালির প্রেম
আমার দুঃখ একলা আমিই সই
আমার ইছে আঁকড়ে ধরি জোর
পালানোর পথ বন্ধ চতুর্দিক
তোর স্বপ্নটা জাগিয়ে রাখে ভোর
আরেকটিবার হাসিস যদি ফিক
আবার দেখা, আবার ফাঁকি কাজে
একটু হাসি, কান্না আজকে রাখো
গলায় আমার সুধীন্দ্রনাথ বাজে
তোমার গলায় খেলবেন শ্রীজাত
বিকেল ফুরোয় শহর জোড়া ভিড়ে
রাস্তা পেরোই দুইজনাতে দেখো
স্মৃতির শহরে ছড়িয়ে মানিক হীরে
দু এক নুড়ি একটু কুড়িয়ে রেখো
আবার তবে বছর কুড়ি পরে
চল দেখা করব আরেকবার
এবার হয়তো নন্দন চত্বরে
আরেকটিবার রাস্তা পারাপার
নতুন গল্প শুরু করতেই পারতি
তবুও কেন শূন্য অঙ্কে শেষটা
চোখের কোণা করলে আবার চিকচিক
মুছিয়ে দেব আবার একটা ফোঁটা

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
প্রথমবার
কবি অনির্বাণ রায়
এই কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।


ছেলেটা আজ প্রথম বুলেট দেখল
প্রথমবার।
প্রথম চুম্বনের মতই বুক পেতে নিল
তার প্রথম ও শেষতম বুলেট।
মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম চুম্বন
আর প্রথম বুলেটের স্বাদ।
শহরে ঢেউ
শহরে মিছিল
শহরে ঝড়
ছেলে টা আজ
প্রথম বুলেট দেখল।

.       ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
ভালোবাসি
কবি অনির্বাণ রায়
এই কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।


পুড়ে যাওয়ার আগে
অন্তত একবার
তোমার ঠোঁটদুটোর স্পর্শ পেতে চাই।
আমার চোখ ঝলসে যাওয়ার আগে
অন্তত একবার দেখে যেতে চাই
তোমাকে।
যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে
গনগনে আগুনের মাধুর্যের মধ্যে
একবার চিতকার করে বলব
"তোমাকেই..."
বাকিটা তো জানোই..
বহুবার বহুভাবে বলা শব্দগুচ্ছ।
ক্ষণে ক্ষণে যা মনে না করালে
তোমার সুখস্বপ্ন থাকত বন্ধ।
আজ আমার চামড়া পুড়ে যাচ্ছে
মড়মড় করে ভেঙে যাচ্ছে
হাড় আর পাঁজরগুলো
আমার মাংসের পোড়া গন্ধ
মাতাল করছে চরাচর
চিতার উত্তাপের আলিঙ্গনে
বারবার মনে পড়ছে সেই শব্দটা
"... ভালোবাসি..."

.       ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
ক্যাফেইন ও প্রেমহীন
কবি অনির্বাণ রায়


নিষিদ্ধ পাতার ঘ্রাণ বুকে নিয়ে
টলমল করে চলেছে
দুরাশার পদক্ষেপ।
ছিন্নমূল ভালোবাসায়
নিকোটিনীয় নিশ্বাস দিয়ে চলে
বিষময় ছোবলে ছোবল।
অসংখ্য অসংখ্য মৃতদেহ
চোখের কোটর হতে
চেয়ে চেয়ে দেখে আর
নিঃশব্দ হাসি মাখে বেরং ঠোঁটের কোনে।
রাতের গাঢ় কফির থেকে
চলকে ওঠে ঠোঁট।
চুমুক মেশানো চোখে খোঁজে
আরও কোনও রাতজাগা ব্যালাড।
দীর্ঘকবিতাও ঝড়ের দাপটে মৃত।
পড়ে রয় অবশিষ্ট ছান্দসিক কাপলেট।
হতাশার সংঘবদ্ধ বিলাপ
রাত ঘুরে ঘুরে এসে
অবশেষে ঘুমায়
ঠিক যেখানে ঘুলঘুলির চিলতে বেয়ে
কুমারী রোদ নেমে এসে
শেষ হয়
ঘুমন্ত কিশোরীর মুখে।

.       ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*