এখন অন্ধকার কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় রচনা ৯.১.১৯৮৪ তারিখে। "এখন অন্ধকার" কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।
এই মুহূর্তে-- সামনে পিছনে উত্তরে দক্ষিণে পেটে, বুকে, মাথায় অন্ধকার ! # একমাত্র অদিতির কাঁচুলি-ই দেবে মুক্তি ( দেশ-এ ছাপতে হলে ) # কোটি কোটি বিপ্লবী জনতাই আনছে মুক্তি, আনবেই ( অনীক-এ ছাপতে হলে ) # আধুনিক কবিতাই পারে শুধু ( কৃত্তিবাস- এ ছাপতে হলে ) # প্রগতিশীল নাট্য আন্দোলনই দ্যাখাবে পথ ( গ্রুপ থিয়েটার- এ ছাপতে হলে ) # আর যেখানে ছাপলে আঁধারটা দূর হলেও হতে পারে সেই পত্রিকাটা তারাই পড়বে যারা এখনো বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে নাম লেখে ! # ততোদিন --- উপরে নীচে পূবে পশ্চিমে মাটি, জল, হাওয়ায় অন্ধকার .........
লাল লন্ঠন কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় ( হেমাঙ্গ বিস্বাস-কে নিবেদিত ) রচনা ১৭.৫.১৯৮৮। কবিতাটি প্রথমে মিহির আচার্য সম্পাদিত ''লেখক সমাবেশ'' পত্রিকায় প্রকাশিত ও পরে কবির ''কোমল রেখাব'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
লন্ঠন হাতে টালমাটাল শিশুটাকে তামসী রাত পার ক'রে নিয়ে গেছো নতুন দিনের আলোয় ...... # প্রতিটি রাতের শেষে দিন আসে দিনের শেষে আবার রাত ! # এই শ্বাপদ রাতে যখন চারপাশে কালনেমীর পাতা ফাঁদ .... কোনোদিনও পথ ভুল হবে না । # যাবার আগে লন্ঠনটা হাতে দিয়ে বলেছিলে-- '' সাবধানে রাইখ্যো '' # তোমার লেখা আর গান নাগের মাথায় মণির মতো যত্নে রেখেছি ।
সলিলদা কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় রচনা ৮.১.১৯৯৬। "প্রসঙ্গ সংস্কৃতি" পত্রিকার "সলিল চৌধুরি" সংখ্যায় প্রকাশিত। "কোমল রেখাব" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
যে সুরের সুরায় মদির আমি সইতে পারি ডায়ালিসিসের ধকল, হার্টের ভেন্ট্রিকিউলার ফেইলিওরের যম-যন্ত্রণা, নির্জলা দিবস রজনীর নরক-- তার এক অংশের যোগানদার অবশ্যই তুমি ! তোমাকে আমার শ্রদ্ধা ...... # লিরিকের আঁচড়ে খুঁচিয়ে তোলো আজন্মলালিত অগ্নিসন্তানদের প্রতি দায়বদ্ধতার স্মৃতি, শপথ ; প্রকৃতির রূপ রস গন্ধের অমোঘ হাতছানি, আর, দুর্নিবার সৌন্দর্য্য-প্রেম । তোমাকে আমার ভালোবাসা ...... # মেষসুলভ ঘ্যানঘ্যানানির আবর্ত থেকে মুক্ত করে বাঙালীকে , তথা ভারতীকে দিয়েছো বাঁধভাঙ্গা যৌবনের মুক্তি গানে গানে ..... তোমাকে আমার অভিনন্দন ... # সারমেয়সুলভ লম্ফ-ঝম্পে আকন্ঠ-নিমগ্ন সাংগীতিক চেতনাকে তুমিই দিতে পারতে একটু স্নিগ্ধ ছোঁয়া , পরশ পাথর ... যদি না ভোগবাদের রোমশ হাত , ক্রমশ 'পৃথিবী' নামক "গ্রহ-গাড়ি"-টার স্টিয়ারিং সম্পুর্ণ দখল করতো । "এ-গাড়ি যাবেনা" বুঝে তুমি তাই "নেমে গেলে" "অনেক দূরের" কোনো ঠিকানার উদ্দেশ্যে ... তোমাকে আমার বিদায় .....
যেখানে মানুষ থাকে কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় রচনা ১৯৮১। "ফুটবল" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
পাড়াটা যেমনই হোক না কেন যেখানে কথারা বেরিয়ে আসে শুধু জিভ থেকে আমি সেখান থেকে বেরোতে চাই । # দালালবাবু , পুরো বেসিকটাকেই ভাড়া হিসেবে ধরে দেবো এমন পাড়ায় বাড়ী খুঁজে দিন যেখানে কথারা আসে-- অন্তত মাথা থেকে । থুথু মেশানো কথাগুলো কানের ভেতর খোল হয়ে জমে গেছে ...... # জানিনা এখনো এই দেশে এমন কোনো জায়গা আছে কি না যেখানে কথাদের উৎস --- হৃদয় বেসিকের সাথে ডি এ - টাকেও দিতে রাজি আমি সেরকম একটা পাড়ার খোঁজ করুন দয়া করে ...... # ইলেক্ট্রিক লাইন না থাকলেও চলবে যদি পড়শিদের চোখে থাকে আলো ; জলের কানেকশান না থাকলেও চলবে যদি পড়শিদের চোখে থাকে জল ; নাইট- ওয়াচম্যান না থাকলেও চলবে যদি পড়শিদের চোখে থাকে চোখ ; # দালালবাবু , সেরকম একটা পাড়া যদি খুঁজে পান পুরো মাইনেটাই ধরে দেবো .....
আদর্শ কবি অনুপ মুখোপাধ্যায় [ কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিবেদিত ] রচনা ৯.৯.১৯৯১। "লেখক সমাবেশ" পত্রিকায় প্রকাশিত। "কোমল রেখাব" কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
তোমার কথা ভাবলেই বুকের খাঁজে খাঁজে জমাট-বাঁধা অনুভূতিগুলো কবিতা হয়ে যায় ...... # তোমার কথা ভাবলেই সেইসব কবিতা থেকে জন্ম নেয় আশ্চর্য সঙ্গীত .... # মরু প্রান্তরে তিরতির বয়ে যাওয়া সেই সব গানে আছে আগুন # সে আগুনে পরিশুদ্ধ হয়ে আমাদের মতো মানুষেরা নটে-ডাঁটার মতো মেরুদণ্ডী মানুষেরা জুতোর তলায় কাদার মতো মানুষেরা হয়ে যায় সত্যিকারের মানুষ ! # তোমার কথা ভাবলেই ......