কবি বেনোয়ারীলাল গোস্বামীর কবিতা
*
পোলাও
১ম উচ্ছ্বাস

কবি বেণোয়ারীলাল গোস্বামী
দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায়
(এপ্রিল ১৯১৮) প্রকাশিত।

॥ ১ম উচ্ছ্বাস॥

মায়ের ডাকে কোথা হ’তে
.                বিরাগ গেল সরে,
নবীন বলে সিংহনাদে
.                প্রাণটা উঠলো ভরে।
এখনও তো হয়নি সাঙ্গ,
.                কাজ রয়েছে বাকি,
বুড়ো সেজে হাত গুটিয়ে
.                কারে দিচ্ছি ফাঁকি?
কাজের তরে হেথায় আসা,
.                ফিরে এসেও লাগবো কাজে,
অকাজগুলো হাতের গোড়ায়
.                এসে দাঁড়ায় কাজের সাজে।
নব বার্ত্তা লইয়ে ঊষা
.                ওই দিয়েছে দেখা,
স্বাস্থ্য নিজে উষার মুখে
.                আঁকছে কনক রেখা।
নূতন প্রাণে নূতন আশা
.                দবদবিয়ে জ্বলে,
তপ্ত পরাণ দড়বড়িয়ে
.                ছুট্ ছে কুতুহলে।
সাপের বাঁধন উদার রাজা
.                আপনি দেবে খুলে,
পতিতেরে যতন ক’রে
.                কোলে নেবে তুলে।
রাজার যদি ভুল না হ’ত
.                এমন দিনে তবে
ছুট্ তো নাকি লক্ষ বীর
.                প্রচণ্ড আহবে?
আপন হ’তে আমরা তো চাই        
.                   আপন বল করে কে?.        
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
.                   দারিদ্র জনে বরে কে?
শাদা বলে গরব ক’রে
.                    তোমরা জ্বাল আলো,
জান না রাত্রিকালে,
.                     সব বিড়ালই কাল।
হৃদয় পশু তোমাদের তো,
.                      বিক্রমেতে সেরা,
আমরা যেমন দুর্ব্বল ক্ষীণ,
.                       পশুগুলোও মেড়া।        
বাজিয়ে বাঁশি,  মাতিয়ে পরাণ,
.                        খুলিয়ে
horn gate,
মন্টেগু ওই এলেন ধীরে,
.                        নিয়ে মিষ্ট
bait.
ইচ্ছা ক’রে প্রাণ ধ’রে যা,
.                       দেয়নি হাতে তুলে,
কেমন ক’রে উদার প্রাণে,
.                       সাজিয়ে দেবে ফুলে?
এ গলায় ত ফুলের মালা,
.                       শোভা নাহি পায়,
ভুঁয়ের লতা বাড়লো না হায় !
.                       শুধু পায় পায়।
নায়েব তোমার নায়েবি ক’রে
.                        কোটাল কাটে মাথা,        
করুণ সুরে করুণা কাঁদে,
.                       কবির করুণ গাথা।
Cromwell ‘র’ কঠোরতার,
.                       ওই পড়ে যে ছায়া,
মাথায় মাথায় ঠোকাঠুকি
.                       দূরে ফেলে হায়া।
ব্যষ্টি তাবে স্বাতন্ত্র্যটার,
.                       বুক উঠেছে ফুলে,
ফসে ফুলে তরুর শোভা
.                       
Cankerটা মূলে।
প্রসাদ কবে পাবেন বলে,
.                       হেথায় নেতার দল,
মাথায় পগ্ গ আঁটিয়ে সবে
.                       করছেন কোলাহল।    
কেউ করছেন হ্রেষা ধ্বনি,
                    কেউ করছেন বৃংহন,
কেউ কর্ ছেন রাসভ নাদ,
.                     কেউ কর্ ছেন গর্জ্জন।
ত্যাগী বড় যোগী বড়,
.                  ভোগীর আবার বড়াই কিসে,
আপন সুখটী খুঁজে সে যে,
.                   হৃদয় তাহার পূর্ণ বিষে।
দম্ভ তাহার হস্তীনিভ,
.                   যশ পিপাসা ভয়ঙ্করা ,
চাহেন তিনি আপন পূজা,
.                কৌশলেতে হৃদয় ভরা।
চাচ্ছি যাহা পাই যদি তা,
.                 মাথায় করে ধর্ব্বে কারা,
ধর্ব্বে যারা হৃদয় তাদের,
.                 অহঙ্কারের পূর্ণ হাঁড়া।
দেশ ডুবেছে ব্যভিচারে,
.                 ফার্লো নিয়ে গেছেন নীতি,
আছে কি ভারত মাঝে
.                  পুরাকালের ধর্ম্মনীতি।
ওই Politics সর্ব্বনেশে
.                 
 Noxious ray বিক্ষেপিয়া,
বিষে বিষে জর্জ্জরিত
.                   করে ফেলেছে সবার হিয়া।
ভারত তেতো সিডেনহ্যামের,
.                   সাগর পারের গর্জ্জনে,
চম্ কে যেন উঠ্ ছে হেথা,
.                    সর্ব্ববিধ সজ্জনে।
হিম দ্বীপের বুকে বিধি,
.                     শান্তিবারি দেও ঢেলে,
উজল ভানুর সমুথ্বান,
.                   দেখুক সবে চোখ মেলে।
সিন্ধুবালায় বলি দিতে,
.                    শুকিয়ে গেল ভাঁড়ের ঘি
রুদ্র বীর্য্য তীক্ষ্ণ দন্ত,
.                    থম্ কে র’ল
C. I. D.
কলম কাঁপে হৃদয় কাঁপে,
.                   ধরফড়িয়ে উঠ্ ছে প্রাণ,
আমার দ্বারা  moot Pointটার,
.                    হবে না কো সমাধান।
Autonomy পেলে পরে
.                    রবে না তো পরবশ,
বিচার কর্ব্বো সবাই ব’সে
.                    কার্য্য বিধির এক শ দশ।
চিত্ত-চোরা চিত্ত আমার,
.                    কোষ্ঠি শুদ্ধ চক্রবাজ,
Uncrowned King সুরেন চাঁদায়
.                    দিচ্ছেন মৃদুমন্দ লাজ।
Autonomy র তালটা যখন        
,                   আস্ বে হেথা গড়িয়ে,        
গর্জ্জনশীল পালজী আমার
.                    ধর্ব্বেন তারে জড়িয়ে ;
গুপ্ত বিপিন সুপ্ত হ’য়ে,
.                    মর্ম্মবাণীর মর্ম্মে পশি,
রবিরে চান করতে এখন,
.                   অরবি বা ক্ষুণ্ণশশী।
(উপ)নিষদ গড়া ভানুর পরাণ,
.                   স্বীকার কর্ত্তে নহেক রাজি
আমরা স্বীকার কল্লে পরে,
.               হব নিশ্চয় পাজির পাজি।
সবুজ পত্রের ভায়া আমার
.         নিকেতনের অজিতনাথ,
ভানুর পক্ষে যখন তখন,
.               পাষ্ঠী ধরে ফেলেন কাত।        
কবির আঁখি  lynix  পাখীর,
.          নয়ন চুরি করা,
যে দিকে চাই বুঝতে পারি,
.          কলঙ্কেতে ভরা।
Dawn র সতীশ কজন আছে,
.                 সমাজ যাদের বন্দিবে,
নিতে পারে শিরে তুলে
.          চন্দনের রং দিয়ে।
ভূপেন আছেন সুরেন আছেন
.        চিম্ টী কাটা মতি,
ভজ্ বো কি ভাই নাম শুন্ লেই
.        শিউরে উঠে রতি ;
Roland মতি সত্যি বল্ ছি
.        সুরেন অলিভার,
বোসের চালে Bengali তে
.        উঠ্ লো হাহাকার।
রাবণের সেই চিতা বহ্নি
.        জ্বল্লো কত মাস,
Politics এ সোজা বুদ্ধি
.        ঘটায় সর্ব্বনাস।
Hydra-headed multitude
.        হ’য়ে গেছে ম্লান,
Dozen dozen leader ঘোরে
.        মুখে অভিমান।
ভিতের পত্তন বড়ই কাঁচা,
.        ইমারতটা জাঁকাল,
বালক ভাবে কলের রাজা,
.        নয়ন চোরা মাখাল ;
দেশের পানে যে দিকে তাকাই
.        নয়ন আশে ভিজে,
পোড়া কপালি মায়ের আমার
.        শেষটা হবে কি যে।
C. S, দলের চরণেতে,
.        তাঁরাই করুন অর্ঘ্য দান,
যাঁরা ভাবেন দেশের গৌরব,
.        দেশের এরা সুসন্তান।
মাসীর এঁরা পুষ্যিপুত্র,
.        মায়ের ছেলে নন,
সদাই দৃষ্টি কেমনে দেবেন
.        দীঘল ঝম্পন।
এঁরা এদের নন ওদের নন,
.        Mrs. রাণীর বর,
Style দেখে মন ভুলে যায়
.        মরি কি সুন্দর।
আমরা ভাবি স্বর্ণ কুকি,
.       
 C.S. রাজের মায়,
মনের দুখে ভাগ্যহীনা
.        কাঁদেন উভরায়।
Vitality দেও গো ফিরে,
.        
Autonomy নাহিকো চাই,
লেখনীরে স্বাধীন কর
.        অন্য বাঞ্ছা আর ত নাই।
পূর্ণ আজি আমার দেশটা
.        শত শত
Pedlar এ,
লয়ে যাও তাঁদের দেব
.        তোমাদের পর পারে।
হট্ট হাসিনী বিলাস বধূরে
.        ফিরে লয়ে যাও গেহে,
বোতল বাহিনী তোমার
creature
.        বুকে রেখে দাও স্নেহে।
খেয়াল তোমার ছুছন্দরীর
.        গলায় দিতে হার,
হে খেয়ালি দূরে ফেল,
.        
Fadটী তোমার।
এখনও এদেশে হয় সামধ্বনি
.        অনাহত বাঁশি বাজে,
এখনও রমণী পেবলতাময়ী
.        জড় জড় সদা লাজে।
মেঘের ছায়ায় রেবার বক্ষে
.        এখনও যে দেয় কাঁটা,
এখনও উদর শীতল করে,
.        আহিরিণীদের মাটা।
এখনও রমণী কোমল হৃদয়
.        সাবিত্রী ছাঁচে গড়া,
এখনও মায়ের উদার হৃদয়
.        কমল মরন্দে ভরা।


শুক বলে আমার কৃষ্ণ
.        রোজগারী ছেলে,
শারী বলে আমার রাধায়,
.        গহনা দেবে ব’লে ;        
শুক বলে আমার কৃষ্ণ
.        রাধায় করে মেম,
শারী বলে হা ধিক হা ধিক,
.        
Shame shame shame,
সকল বাঁধন ওই ছিঁড়ে যায়,
.        আস্ ছে নূতন তূর্ণ,
যাদুর সঙ্গে যেতেছে যাদ্বী,
.        বাসনা হ’তে না পূর্ণ।
Nude nude বড়ই মধুর
      যেন বসন্তের ঘর,
রূপের সাগরে ভাসিছে পদ্ম
.        মরি কিবা মনোহর ;
মন অলি আজ অধরে কপোলে
.        কভু বা বুকেতে বসি,
পদ্ম পরাগ মাখিয়া অঙ্গে
.        দেখে শরতের শশী।
Her pure and eloquent blood
.        Speaks in her cheek,
Distinctly I can pronounce
.        She is naturally meek.
অর্দ্ধ স্খলিত আদর কবরী
.        
Sweet neglect প্রকাশে,
চূর্ণ কুন্তল ভ্রমর হইয়ে,
.        উড়ে ঢুলে পড়ে বাতাসে।
ধীবর মজুর কৃষক ও চাষা,
.        ভিক্ষুক যারা আছে,
সত্যের যশ ডিপুটী বঁধূয়া,
.        তোমার ঘরের ছেলে,
ক্ষুধার তরেতে মরীচ ভুখিলে,
.        বেচারীকে দেন জেলে ;
Morally guilty তবু সুখে থাকে
.        পড়ে না law প্যাচে,
কোথায় হীরক কোথায় কাঞ্চন
.        লোক ভুলে থাকে কাঁচে,
মুখে করে চুরি কাজে করে চুরি
.        মনে প্রাণে যাঁরা চোর,
সাজিয়া গুজিয়া ভদ্র হইয়া
.        তারাই করিছে সোর।
দুয়ারে দুয়ারে ভিখারীর বেশে
.        প্রচারিতে দেও সত্য,
আমার রাজা পাবেন তখন
.        নিরাবিল আনুগত্য।
“My relation” মহারাজের
.        ওটা ভিয়ান করা,
বর্দ্ধমানের রাজবর্ত্ম
.        রক্তরজে ভরা।
রাজার হাতের ভ্রমণ আনার
.        বৃন্দে যখন দিতেন নিজে,
মধুর রসে হৃদয় তখন
.        হর্ষ রসে উঠ্ তো ভিজে।
ললিত চন্দ্র ছদ্মবেশের
.        করছেন ভালই বিশ্বেষণ,
মুক্ত কচ্ছ সাহিত্যিকীর
.        দিচ্ছেন না ত বিবরণ।
( এঁরা ) চাঁদ চুয়ান রূপ মাখান
.        চুমন প্রবণা বালায়,
নায়িকা করিয়ে কামেরই অনলে
.        বঙ্গভূমি জ্বালায়।
বসোরার সেই গোলাপ বক্তে     
.        চুমার রেখাটী টেনে,
উচ্চ হইতে অতর্কিত ভাবে
.        পাতালেতে যান নেমে।
শৃঙ্খলা ভেঙ্গেছে সংযম গেছে
.        উগ্র প্রেমেরই উচ্ছ্বাসে,
অবাধেতে প্রেমলোকে রূপরাশি
.        তীব্র মনেরই উল্লাসে।
সত্য যাহা নিত্য তাহা
.        শাশ্বাৎ বনিতারে,
সত্য কখন হয় না নমিত
.        তিক্ত প্রেমের ভারে।
হেথায় কুন্দ হোথা বিনোদিনী
.        “মর্ম্মে” “প্রভাতী” প্রেমপানা,
দয়িতা শিখিছে বিনোদার হাব
.        করে না তাহারে কেউ মানা।
প্রেম কেন বলি? শুধু ব্যভিচারে
.        জাতীয়তা গেল ধুয়ে,
সমাজের ছিল শাঁসাল কল্ জে
.        ক্রমশ পড়্ ছে নুয়ে।
রোগটা রে ভাই পার যদি তবে
.        আতুর ঘরেই কর কাৎ
একটুখানি বাড়্ লে পরেই
.        করে বস্ বে বাজিমাৎ।
Oh Would I Were dead now
.        Or upto my bed now
To cover my head now
.        And have a good cry.
চোখের জলেরে ফেলেছি পুছিয়া
.        হৃদয়ে পেয়েছি শক্তি,
মায়ের পূজার তরেতে এনেছি
.        নিরাবিল নব ভক্তি।
যতন করিয়া গড়িব চরিত
.        দীপ্ত মধুর হরষে,
জগজ্জনে লভিবে শান্তি
.        তস্য অমৃত পরশে।
পর বেদনার দ্রাক্ষা মদির
.        প্রাণে প্রাণে দেব ঢেলে,
ধনীও চাহিবে দুখীর পানেতে
.        সজল নয়ন মেলে।
ধর্ম্ম দিয়ে মান কিনিয়ে
.        ওই রহেছেন মানী,
পেশা তাহার শক্তি-পূজা
.        সে কথাটাও জানি।
দেবতা দলের জুতার ধূলা
.        ঝাড়েন রুমাল দিয়ে,
যৌতুক নেন বিধিমতে
.        ছেলের দিয়ে বিয়ে।
বিজ্ঞতাটা সকল কাজেই
.        বিষের গন্ধরা’র করে,
চলেন যাদু সেজে গুজে
.        কার্ত্তিকের রূপ ধরে।
হারিয়ে ফেলে চরিত-নিধি
.        আজ কাঙ্গালী সবে.
কাঙ্গাল হ’তে তাইতে কাঙ্গাল
.        আমরা নিখিল ভবে।
হৃদয় মাঝে বিষ্ঠা ভরা
.        নিষ্ঠা গেছে দূরে,
বাজে না গো আর হৃদয়-বেণু
.        তেমন মধুর সুরে
রাজার খেতাব কিনিছে ধূর্ত্ত
.        
Imp মূর্ত্তি লুকিয়ে,        
তাহারই আদর কর্ ছি আমরা
.        অন্তর বার জানিয়ে।
স্বদেশ-প্রেমটা ভণ্ডামীতে
.        হায় রে পরিণত,
স্বার্থ-বিষে প্রাণ থই থই
.        প্রেমটা উপরত।

.                  *************************             

.                                                                             
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর       
*
পোলাও
২য় উচ্ছ্বাস
কবি বেণোয়ারীলাল গোস্বামী
দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায়
(এপ্রিল ১৯১৮) প্রকাশিত।


॥ ২য় উচ্ছ্বাস॥


আর দিও না মুড়ির মোওয়া
.                রাঙ্গা চোশন কাটি,
হুকুম পেলে দলে দলে,
.                আমরা কোমর আঁটি।

উধার সম, আশার ভাতি,
.                হ’য়ে গেছে ফ্যাকাশে,
প্যাণ্ডোরাবে, কোথায় আছিস,
.                নবীন বর্ণ দেখাসে।

গড়েছিলে আইন কানুন
.                ন্যায়ের
cream গুলে,
বিধির বিধান মনে ক’রে
.                নিয়েছিলাম তুলে।

Bullর মিতা,   Lewis Baboon
.                সেও তো পাকা সোণা
চাইনে মোরা উগ্র
Michel
.                চাইনে তাদের দোনা।

পেরিয়ে গেছে, দেড় শ বছর
.                মিলে গুলে আছি,
বিপদ কালে আপন বোলে,
.                খুলে দেও কাছি।

উচ্চ রবে যোগ্যতা তার,
.                সত্ত্ব করে দেওয়া,
বাঁধন কেন মান্ বে সে আর
.                বৃথা ধমক্ দেওয়া।

তোমার দেশেই
Ashley ছিল,
.                তোমার দেশেই
Buxton,
তাদের
Place vacant আছে
.                কচ্ছে গুব্ রে ভন্ ভন্।

প্যাঁচের উপর প্যাঁচ শিখেছ
.                কচ্ছো
ready আমিত্তি,
কীর্ত্তিনাশার রূপ ধরিয়ে,
.                রাখ্ ছো বিশ্বে অকীর্ত্তি।

Sleeved rhyme ইচ্ছে ক’রে
.                লিখ্ তে ধল্লো বুড়ো,
ধল্লে পরে ঘাড় চুরমার
.                আস্তো মাথা গুঁড়ো।

ডোবা ডুবি নয়কো বড়,
.                সাতটা সাগর পিয়ে,
দত্ত হীরেন বা’র হয়েছেন
.                দিব্য প্রভা নিয়ে।        

মতি এখন আচ্ছা মতি,
.                আচ্ছা বাৎ বোলে
ভাষার মাঝে জিল্ জিলিয়ে,
.                লক্ষ মাণিক দোলে।

দশভূজা, দাঁড়িয়েছেন ওই,
.                মন্ত্র পড়েন হিমগিরি
ইন্ধনেতে, জ্বলছে আগুন
.                অঙ্গ করে শির শির।

ভক্তি ভরে সাম ধ্বনি
.                কচ্ছে কত সামগে,
‘মুক্তি’ ‘মুক্তি’ দৈব বাণী
.                উচ্চারিছে বরদে।

ছোট বড় ওই বিরোধিটার
.                মূল গিয়েছে কেটে,
ভাইএ ভাইএ মিলে গুলে
.                উঠি কোমর এঁটে।

Michel ফিচেল  Science ঘুঁটে
.                বাহির করুক ক্ষীর,
সিংহ পার্শ্বে ব্যাঘ্র হয়ে
.                ছিঁড়বো মিচেল শির।

অট্ট হেসে রক্ত মেখে,
.                মত্তে বড়ই সুখ,
শত্রু বধি দেখ্ বো কবে
.                রাজার হাসি মুখ।        

তরুণ জীবন মরণ বঁধু
.                শুধুই করেন দান,
মরণটারে বুকে টানে
.                উদ্যত পরাণ।

তোমার বাঁধন,  তোমার হাতেই
.                আমরা চাই খোলা,
তোমার পাশেই দাঁড়িয়ে রব,
.                ছিপের সুতার সোলা।

জীবু ভায়ার কাব্যগুলি
.                মিষ্ট যেন শর্করা,
আত্ম রসটা হারিয়ে চিনি
.                হয়েছেন কর্করা।

ঠাকুর  ভক্ত রামানন্দ
.                উড়িয়ে দিলেন জীবেনে ,
সত্য-চারু নেয়ে তাঁহার
.                আমরা জানি এ দিনে।

শান্তা লেখেন, কান্তা লেখেন
.                লেখেন ভালই ইন্দিরা,
আপন মনে পড়ছি সবই,
.                বাজিয়ে বাজিয়ে মন্দিরা।

হেলিজ্  
comet  সরযু বালার
.                সঙ্গে ছুট্ বে সাধ্য কার ,
পিছে ছুট্ তে হাঁপিয়ে প’ড়ে
.                   পাঠক করেন হাহাকার।

রাধাকমল হীরেন রবি
.               
Comet-সুধা করুন পান,
দূরে থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
,                    আমরা মধুর লচ্ছি ঘ্রাণ।

গা  থর্ থর্ বুক থর্ থর্
                  কলম কাঁপে ধীরে,
গোঁসাই কবির দুলছে লতা
.                    মলয় সনীরে।        

হোথায় পলাস, আবীর মেখে,
.                    দাঁড়িয়ে আছেন অঙ্গে,
পারুল সখী, সবার সনে,
.                    আলাপ করেন রঙ্গে।

শাখায় বসি দোয়েল রাণী,
.                   ভাঁজছে কিবা প্রভাতী !
কাষ্ঠ হাসি হাস্ ছে ক্রোটন,
.                    রঙ্গ ক’রে বিলাতী,        

অলি বঁধূর,  চুমার রেখা
.                    মল্লিকার মুখে ভায়,
পাতার মাঝে কুন্দ বেলা,
.                    লাজের কেমন ভাণ দেখায় ऑ

হেঁকে ডেকে, ভঙ্গি করে
.                    
 De Bellay এসে ছুটে,
কবির ময়ূর সিংহাসনটা
.                     এক দিনেতেই ল’ন লুটে।

বল্ ছেন---
“Sonnet লেখে Sonnet লেখে
.             
Sonnet কি কেউ লিখ্ তে জানে
Real sonnet এই দেখ না
.                      আমরইশুধু বর্ত্তমানে।”        

চুপ কল্লেন সমাজপতি
             Little learning ধল্লে ধূয়া
Flush Flush শুধু bluff
.            পানের সঙ্গে চিকি গুয়া।

Petrarch- প্রিয় প্রিয় ভায়া
.             বিদ্যার ঝুলি খুলে দিয়া,
স্পষ্ট বল্লেন কুমারী নয়
.              ( হয়েছিল )
.            
Sonnet  রাণীর ধ্রুব বিয়া।        

আঁটন সাঁটন কসাকসি
.              তার মাঝে কি ভাব জুরায়?
Octave রে সামাল দিতে,
.               কোথা দিয়ে প্রাণ পলায়।

সবুজ সবুজ ত
রুণ সবুজ
.                  তোমার লেখার লাবণ্য,
তোমার হাতেই “পাঞ্চ” দিলাম
.                 
add ক’রে লও সে “জন্য”।

ওই বঙ্কিম ওই রবীন্দ্র
.               তৃতীয় তুমি চট্টোরাজ,
‘দত্তা’ তোমার সুধার খনি
.                বোল্ তে কেন কর্ব্বো ব্যাজ।                

‘গৃহ দাহে’ সাইকলজির
.               জবাই কল্লে ভায়া
ঘুণ ধ’রে যায় কাঁচা বাঁশে
.               রোদ কেড়ে লয় ছায়া।        

শ্রীকান্তের কাহিনী নয় তো
.               কাঁঠাল ভাঙ্গা ভুতুড়ী,
সোজা কথায় এও বলা যায়
.               ঘের্ত্তো বিহীন খিচুড়ী।

দীনেশ তোমার মাথায় রাখুন
.                আমরা বুকে রাখি গো,
তোমার ভাবের সুধার ধারায়
.                সারা মনটা মাখি গো।

মাঝে মাঝে ভাবের গায়ে
.                রেড়ির তেলটা চট্ চটায়,
কল্পনার গোমুখীতে
.                 তোমার ফেল্ তে ইচ্ছা যায়।

ব্রহ্মানন্দ রামানন্দ
.               ওই লিখ্ ছেন প্রবাসী,
সাবান মাখা রুচিটা তার
.                সবাই বোলবে বিলাসী।

দশের রবি তাঁরে কেন
.                 
Sectarian  কচ্চো ভাই,
প্রতিভারে ব’ধো নাক’
.                   কোরো নাক’ ব্রাহ্ম চাঁই।        

‘মঞ্জুলিকা’  রবি ভায়ার
.                আর কিছু নয় হাঁস ভাজা,
ব্রাহ্ম জিবে লাগ্ বে ভাল
.                 ভাব্ বে সব দলখাজা।

‘মর্ম্মবাণীর’ পিঞ্জ্ রে ভাঙি
.                  বার হইয়ে যুগ্ম পাখি,
হিরামন দেশ মজাবে
.                   ময়না পড়বে থাকি থাকি।

শিক্ষা যদি নীতির রসে
.                   সিক্ত হত প্রাণে,
লুব্ধ হৃদি, মাতিত না
.                   শূন্য অভিমানে।

ওরে ছোট, ও দারিদ্র
.                  ওরে কাঙ্গাল জন,
তোদের প্রাণে কর্ বে কেরে
.                   অমৃত সিঞ্চন?

সমাজের বুকে কাল বিড়ালের
.                  হাড় রয়েছে গোঁজা,
কাকের
cawing পেচার  hooting
.                  পথে যোরে খোজা।

ক্ষুদ্রে মহৎ, করতে যে নারে
.              মহৎ সে বল কিসে,
মানের পন্নগে, জড়িত হৃদয়,
.                   নয়ন পূর্ণ বিষে।

ধনীর পদ, লেহন-করা
.             তক্ক বাগীশ খুড়ো,
তোষামদের ময়দা ছেনে,
.              হয়ে গেছেন বুড়ো।

পয়সা পেলে, করেন সুখে
.                পরাশরের কোরবাণী
মাকড়-মারা দুর্ব্বলেরে
.                 ঝারেন সদা দুর্ব্বাণী।

ভারত মাটীর কোন গহনে
.                  সত্য আছে পোঁতা,
তাই তুল্ তে সাবল হাতে
.                   ঘুরছেন কত হোতা।        

কান্না আসে কাঁদিনে আর
.              ব্যথার ব্যথী কোন খানে
কাঙ্গাল সম চেয়ে থাকি,
.               অনুগ্রহের মুখ পানে ;        

Civilisation  Civilisation,
.            ওই বিলাতী রাক্ষুসী,
মুষ্টিমেয় চাইলে চাউল
.             যুগ্ম করে দেয় ভুসী।

ময়ুখ মাখা ময়ুরী পরে
.               সরস্বতীর বিরাজ গো,
অদিনেতে চাঁদ দেখেছি
.               কলঙ্কটা কি লাজ গো।

মেরুর হৃদ দীর্ণ করি
.               গাগর ভরি প্রতিভার,
কে এনেছে বাংলা দেশে
.                বাংলা ভাষার প্রাণ জুড়ায়।

ভোঁতা অস্ত্রে গীতা খানায়
.               কচ্ছে সবে গাব থোড়া,
কেঁচোগুলো ভাব্ ছে মনে
.               হব আমরা সব ঢোঁড়া।

যৌবনের প্রেম কলঙ্ক
.               এবার যাবে কেটে,
কর ওস্তাদ, মেলে ওরা,
.               শাস্ত্র নেবে বেটে।

ফল্ গু এখন,  
Thames নদীতে,
.                হয়েছেন  
transformed,
তারই
heat এর প্রকম্পনে,
.              ভারত জোড়া
strom.                

যাচ্চে আচার, যাবে আচার,
.                 
Public এ খায় gingerate,
বড় দিনের পার্ব্বণেতে
.            পিরুর বাড়ীর আসে ভেট।

Decade আগে Fowl roastটা
.              Dainty ছিল ভারী,
হ্যামের কোপ্ তা খুব
recently
.               ভেঙ্গেছে তার জারী।        

শক্ত ভিতে প্রাচীন প্রামাস
.              তুলেছিল শির,
খস্ ছে কড়ি ফাট্ ছে মাথা,
.               সৌধ আছে স্থির।

প্রেমের তরে ছাগল কাঁদে,
.             চাঁট মেরেছে ছাগী,
Elope -করা বধূর লাগি,
.                  বঁধুনী বিরাগী।

রবির কাব্যে কামের গন্ধ,
.              প্রাচীন কালিদাসে।
ন্যাংটা মদন রতির মাঠে
.              ছুট্ ছে কি উল্লাসে।

আত্ম শক্তি, হারিয়ে ফেলে
.              সবাই আছি সং সেজে,
শিখ্ ছি এখন
philosophy
.               শিখান যাহা ইংরাজে।

যুগের পরে যুগ যেতেছে
.              পর ছিলাম পর আছি,
চাকের মধু ফুরিয়ে গেলে
.                পালিয়ে যায় মাছি।

চিনির গায়ে গাঁধি পিপী,
.               খোঁড়ার কাছে টাটু,
বাংলা ভাষার ঋত্বিক ওই
.                তার সকাশে চাটু !।

সখি টু টু টু টু        সখি টু টু টু টু
স্পষ্ট কথা বল্ তে গিয়ে
.              আমি হব কু
.              সখি টু টু টু টু।

চাঁদ থেকে ওই শশটারে
.            আন্ তে যদি পাত্তেম লুফে,
আজীবনটা থাক্ তাম ডুবে
.             চির শান্ত স্নিগ্ধ রূপে।

ধানের ক্ষেতটা নাচিয়ে দিয়ে,
.              ছুট্ ছে শীতল বায়,
তরু পরে, দুইটী ঘুঘু
.               মিলন মধু খায়।

লতার বুকে উঠ্ ছে ধীরে
.                অলি অঁধুর গুঞ্জন,
আঙিনাতে নাচছে ধীরে
.                খঞ্জনী আর খঞ্জন।

উর্ম্মি বুকে আলো মেখে
.                হেসে ছোটে জাহ্নবী,
কুঞ্জ মাঝে ফুটে আছে,
.                গরব মাখা করবী।

গোলাপ ফুলের গাউন আঁটা
.                প্রতি প্রাতে Miss ঊষা,
সেজে গুজে, পূর্ব্ব দিকে
.                 দাঁড়ান পরি বেশ ভুষা।

“মর্ম্মবাণীর”.  অন্তরালে
.                দাঁড়িয়ে হোথা দুই কবি,
কোকিল কন্ঠে গান ধরিয়ে
.                 বরণ ক’রে লয় রবি।       

বিলাস মাখা, রাজার ছেলের
.               হৃদয় জুড়ে ভাব-রাণী,
চিরস্তব্ধ ফুলের ভাষায়
.               সংযোজিয়ে দেন বাণী।

“শ্রুতি স্মৃতি” বিনয় টুকু
.              কেমন যেন হাঘোরে,
একটা যেন gawkএর মূর্ত্তি
.               সদাই আছে হা ক’রে।

রাজার হাতের দেখেছিলাম
.                মেঘদূতের বিশ্লেষণ,
ভাষার মধ্যে শুনেছিলাম
.                 মল্লারের আলাপন।

“সন্ধ্যাতারার”  দ্রাক্ষারসে
.                 মত্ত পরাণ ঊর্দ্ধে ধায়,
নীল আকাশে,
 Fancy রাণী
.                  মধুর গানে প্রাণ মাতায়।

মন্দার মধু ঢালিয়া দিয়াছ,
.                 “ অপরাজিতায়”         
দগ্ধ পরাণ স্নিগ্ধ হয় গো
.                 তব কবিতায়।

সুরেশ ভট্টো লেখেন
nevel
.               আঙ্ক আঙ্কের অভাব নাই,
Occult রসের mysticism
.               উড়িয়ে দিচ্ছে সদাই ছাই।

কলা-কৌশল নাহিক কোথায়
.                চিত্রে নাইক দীপ্তি,
ভাষায় ফোটে না ফুল্ল মল্লি
.                 মেটে না কোথায়ও তৃপ্তি।        

Mysticism !
ও হরিবোল,  Mysticism!
.             নহেক ইহা বুজ্ রুকী
কচ্ছো বোকা পাঠক দলে
.             দম্ভ ভরে বুক ঠুকি।
Mysticism? রূপ রসে সেথা,        
.             রবে না শরীর,
অধরের রাগ,  আকাশের ‘পরে,
.               ছড়াবে আবীর।
পবন বহিয়া, আনিবে হাসি,
.               রূপ নাহি ধরা দিবে,
স্বর্ণমৃগের পাছু ছুটি মন,
.               জল ভাবি তৃষা পিবে।
তীক্ষ্ম জ্বালায় দহিবে চিত্ত
.               প্রেম রবে নাহি প্রিয়া,
মানসীরে তার, খুঁজিয়া না পাবে
.               দহনে দহিবে হিয়া।
উষার যাবকে রঞ্জিত পদ,
.               অঞ্চলে তনু ঢাকি,
কোথা হতে এসে তিখিন চাহনে
.               বধে যাবে প্রাণ পাখি।
ওই
Sweet Sweeting  of Romeo
.                ফুলের গন্ধ মেখে গায়,
বাজিয়ে বাঁশী জাগিয়ে তোলে,
.                স্বপ্নময়ী কল্পনায়।
হৃদয় মাঝে
 Pansy কুসুম,
.                 আঘাত পেয়ে রং ফেরায়,
অতীত আসে উজান বেয়ে
.                 প্রাণ মাতাতে মদিরায়।
ব্যাকরণের নাসিকা কাটিয়া
.                 মেখেছ দু’ করে রক্ত
বাণীর তুমি হে ভাক্ত পুত্র,
.                 কে বলে তোমাকে ভক্ত?
ওগো মৃদুভাষি মিত্র খগেন
.                 কাব্য রসেতে রসিয়া,
দিতেছ পাঠকে সুষুমা গুচ্ছ
.                 কতই বিনয় করিয়া।
প্রভাত তারার আলোর মতন
.                  প্রতিভা তোমার স্নিগ্ধ
আদরের খনি হৃদয় তোমার
.                   অবিরত সুধা দিগ্ধ।
অনভূত-রসা কল্পনা তোমার
.                   উগারে মধুর বাণী,
ভালবাসা তব বড় চিকনিয়া
.                   সকল রাণীর রাণী।
“ষোড়ষী” প্রিয় প্রভাতকুমার
.                  শরত শত দল,
ভাব-সাগরে করেন খেলা
.                 মরি কি উজ্জ্বল।
প্রবাসীতে সখে ন্যাসীব প্রকাশে
.               কান্তি হইল ম্লান
উপবীত-পোড়া বুঝিলে কেমন
.               বুঝিলে ব্রহ্মজ্ঞান।
কবি চল দলে বাঁধিয়াছ নীড়
.                তুষ্ট ক’রেছ ‘শিবে’।
ঢেলে দেও প্রিয় মধুর প্রভাতে
.                যত মধু আছে জীবে।
রস রসিক ডিপুটী সুরেন
.                  বড়ই খেলেন মিষ্টি।
রুচির লেখায় কভু মনে হয়
.                এ যে দেখি সুধা বৃষ্টি।
কলম-অস্ত্রী সমাজপতি,
.                 বটেন ভালই জহুরী,
হীরার হারে গাঁথেন মালা
.                 লইয়ে নগদ তহুরী।
কান্না কালা এক নয়নে
.                  কাঁচ্ছে কাণি,
কলুর বলদ শিথিল ভাবে,
.                  টানছে ঘানি ;
জ্যোতি দাদার জীবন-স্মৃতি
.                লিখ্ তে হল ‘বসন্তর’
পাঁছু বসে শুন্ তে পাচ্ছি
.                পড়াচ্ছে কে সুমন্তর।
দীপ্তি-আছে শক্তি আছে
.               প্রাণ মাতান আছে প্রাণ
বসন্তর মাঝে জাগে
.                  সুধা ভরা কুহুতান।

.                  *************************             

.                                                                             
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর       
*
পোলাও
৩য় উচ্ছ্বাস
কবি বেণোয়ারীলাল গোস্বামী
দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায়
(এপ্রিল ১৯১৮) প্রকাশিত।

॥ ৩য় উচ্ছ্বাস॥

.                
মা’র নাম লেখা বিজয় নিশান
.        তুলিয়া ঊর্দ্ধে গৌরব ভরে
গাহিলা সাধক জীমুত মন্দ্রে
.        বাজিল বীষাণ ঈশান-করে !

.                
ধন্য সমাজ ! ধন্য রে তুই !
.        ছদ্মবেশীর ব্যসন ভূমি !
অর্থে দিলিরে শ্রেষ্ঠ আসন,
.        স্বার্থে নিলিরে হৃদয়ে চুমি’ !

.                
ব্রাহ্মণ কোথা সমাজ-কিরীট,
.        কোথায় তেমন মহান্ প্রাণ,
ব্রহ্মতেজের মূর্ত্ত-বিগ্রহ,
.        জনহিতে সদা আপনা দান !

.                
সত্য-ন্যায়ের জ্ঞানের দণ্ড
.        ধরিয়া পুলকে রুদ্র-করে,
বিশ্ব মাঝারে পূজিতেন যাঁরা
.        বিশ্ব-অতীত বিশ্বেশ্বরে !

.                
সংসারে সৃজি’ পূত তপোবন
.        ত্যাগের আদর্শ ছিলেন যাঁরা,
চরণে যাঁদের কত নৃপ শির
.        লুটাত হইয়ে গরব হারা !

.                
যজ্ঞসূত্রের অপমানকারী
.        ব্রাহ্মণ এরা কভু সে নয়,
দেবতা কখন নিয়েছে বিদায়
.        শূন্য দেউল দানবালয় !

.                
অন্ধ দেখায় অন্ধেরে পথ
.        দীক্ষা আহ্নিক-পূজার ছলে,
শিষ্যারে কয় “তুই রাই ধনী
.        শ্যামরায় আমি অবনীতলে !”

.                
সকলি দেখিয়া বুঝিয়া সমাজ
.        চেয়ে রয় আজ মূঢ়ের মত,
কন্ঠে ঝুলান বাঁধন-দড়ির
.        কে ভাবিত হবে মাহাত্ম্য অত !

.                
কর্ম্ম-কৌলীন্য কিছু নহে আজ
.        জন্ম-কৌলীন্য সমাজ চায়,
শিবের আসনে বানরে বসায়ে
.        অঞ্জলি দেয় তাহারি পায় !

.                 ১০
হোক্ নরাধম শত পাপাচারী
.        নাহি কোন দোষ রহিলে ‘কুল’,
ধার্ম্মিক যদি হন কুলহীন
.        তবু হেয় তিনি হায়রে ভুল !

.                ১১
কৌলীন্য কভু ছিল না এমনি
.        জন্মগতের বড়াই সার,
শাঁস দূরে ফেলি খোলস লইয়া
.        সমাজ খুলেছে পতন-দ্বার !

.                ১২
কবীর নানক পূজিত যেথায়,
.        হরিদাস যেথা মুকুটমণি,
বংশগৌরব সেথা দিলি ঠাঁই,
.        কি করিলি আজ সমাজ-শনি !

.                ১৩
মরণ-পথের যাত্রী যাহারা
.        বামপ্রস্থ যার শাস্ত্রে কয়,
‘তৃতীয়া’র প্রেম খুঁজিতে তাহারা
.        ধিক্ ! ধিক্ ! আজি কুন্ঠিত নয় !

.                ১৪
শৈশববিধবা দুহিতা নিজের
.        তার তরে যত কঠোর বিধি,
আপনার তরে রয়েছে বিলাস
.        আছে শত আর ভোগের নিধি !

.                ১৫
আদর্শ কোথা পাবে সে বালিকা
.        অধম জনক এমন যার,
মনোভুলে যদি কভু ভুল করে
.        নাই নাই ক্ষমা কখনো তার।

.                ১৬
নারী-মেধ-যাগে মত্ত সমাজ,
.        অবলা-বধের পেষণ-যাঁতা,
শত নাগপাশে বাঁধিয়ে তাহার
.        গোপন পাপের সঙ্কেতদাতা।

.                ১৭
মাতৃজাতির আঁখি ঝরে যথা
.        হৃদয়-মথিত দীর্ঘশ্বাসে,
নাই নাই সেথা কুশল কখনো
.        মৃত্যু কেবলি ঘনায়ে আসে।

.                ১৮
ভাবী শ্বশুরের গলাতে লাগায়ে
.        শিক্ষিত যুবা উপাধি-ফাঁস,
অর্থের পদে বিকে আপনার
.        শুষিয়া রক্ত মিটার আশ !

.                ১৯
উচ্চ শিক্ষার এই পরিণতি,
.        সমাজ তাহার প্রশ্রয়কারী,
কত ‘স্নেহলতা’ দগ্ধ অনলে
.        অসহ পিতার নয়নবারি !

.                ২০
কোথা পরিণয় আজিকে সমাজে,
.        “কন্ঠীবদল” মানুষ-চাষে,--
যন্ত্র বুঝে না বর-পুরোহিত
.        টিয়াপাখী যথা যা’ শ্রুত ভাবে।

.                ২১
বিবাহের মত শ্রাদ্ধেও সার
.        বাহ্য-আচার-বিধান শুধু,
অমৃত-সাগর শুকায়ে গিয়াছে
.        পড়ে আছে আজ মরুভূ  ধূ  ধূ ।

.                ২২
সমাজের বুকে বসি ধনবান্
.        যাহা খুসী তাহা করিতে পারে,
সমাজের পতি আজিকে সে জন
.        কেহ তারে বাধা দিতে যে নারে।

.                ২৩
তারপরে তার যদি থাকে টিকী,
.        যদি নামাবলী রহেগো গায়,
হরিনাম ঝুলি ঝুলায় অথবা,
.        তবে তার সীমা কে আর পায়  !

.                ২৪
সে যে সমাজের শুধু ‘পতি’ নহে,
.        সে যে সমাজের পাবন ‘গুরু’,
শত ব্যাভিচার লীলা যে তাহার
.        রামপাখী ---সে যে নিশীথে সুরু !

.                ২৫
পঞ্চ ‘ম’ কারে পরম সাধন,
.        পাষণ্ড সে, যে ইহা না বুঝে,
সমাজ-স্বর্গে নাই ঠাঁই তার,
.        জীবনে নরক নিক্ সে খুঁজে !

.                ২৬
জ্ঞানের গুণের নাই সমাদর,
.        নাই সমাদর প্রাণের আর,
অনর্থ হেতু অর্থই শুধু
.        সমাজ ভেবেছে আজিকে সার !

.                ২৭
অর্থের পুজা চলেছে অবাধে
.        দলিত মথিত অভাগা দীন,
অর্থ পিশাচ অর্থের দাস
.        সমাজ আজিকে কাণ্ডারী-হীন !

.                ২৮
শাস্ত্র আজিকে স্বার্থ-সিদ্ধির
.        শাণিত শস্ত্র সমাজ-করে,
দেশের আচার লোকের আচার
.        প্রাধান্য লভে সবার ‘পরে !

.                ২৯
দেশের রাজার জ্ঞানের সেবায়
.        যদি হতে হয় সাগর পার,
গোময়ে তাদের শুদ্ধি বিধান
.        ঘুচাইতে কোন্ পাপের ভার?

.                ৩০
ধনীর চরণ লেহন করিতে,
.        পীড়ন করিতে দীনের প্রাণ,
না হয় পাতক, পতিত সমাজ !
.        পাপ শুধু যেথা আপনা দান।

.                ৩১
ছুৎমার্গ পিষ্ট মানব-হৃদয়
.        মুক্তির তরে কাতরে কাঁদে,
কে জ্বালিবে আলো—সমাজ কেবলি
.        ভাই ভাই মাঝে প্রাচীর ফাঁদে।

.                ৩২
‘সর  সর  সর্’  ‘দূর্  দূর্  দূর্’
.        সমাজের কিবা সোহাগ-বাণী,
খসে পড়ে তাই সমাজ-অঙ্গ
.        খ্রীষ্ট-সেবকে ধরম দানি।

.                ৩৩
যে খবর হায়, রাখে না সমাজ,
.        আপন গরবে আপনি ভোর,
কে মুছাবে আজি পতিত জাতির
.        লাঞ্ছনাকুল নয়ন-লোর !

.                ৩৪
ভণ্ডামী শুধু গুণ্ডামী শুধু
.        নষ্টামী শুধু সমাজময়,
দংশিবে কারে কখন কি ভাবে
.        পন্নগ ছলে অপেখি রয়।

.                ৩৫
এমন দীনতা এমন হীনতা
.        এমন নীচতা কোথায় আর,
পলে পলে শুধু জমাট বেঁধেছে
.        ধর্ম্মের গ্লানি ব্যসন-ভার।

.                ৩৬
কবে যুগ-ঋষি লভিবে জনম
.        জঞ্জাল যত করিয়া নাশ,
কবে ভগীরথ আনিবে গঙ্গা
.        উদ্ধারি হেয় ভস্মরাশ।

.                ৩৭
কার অভিশাপ দেয় এত তাপ
.        ঘেরি ঘোর পাপ সমাজ-কায়,
সপ্ত সাগর উথলি কখন
.        ধুয়ে দিয়ে যাবে সকলি হায় !

.                ৩৮
অনল-গর্ভ অশনি কোথায়.
.        কোথায়. ঝঞ্ঝা প্রলয়োন্মাদ,
নন্দন আজি সমাধি-ভবন
.        কেন নাহি জাগে ভৈরব নাদ !

.                ৩৯
হে ত্রিশূলি !  তব বৃথায় ত্রিশূল,
.        বৃথা চক্র তব হে নারায়ণ !
অন্যায় যদি করে আস্ফালন,
.        দলিয়া সত্য-জীবন মন !

.                ৪০
সহসা থামিল ক্ষুব্ধ সাধক,
.        শুনিনু শূন্যে গরজে ঘন,
“হে ত্রিশূলি !  তব বৃথায় ত্রিশূল,
.        বৃথা চক্র তব হে নারায়ণ !”

হো হো হো
সব  
serious,  সব  serious
.             কোথায় ব’ল ব্যঙ্গ
পাঠক কেন পড়বে বল
.             না পাইলে রঙ্গ?
একটু হাসি প্রেমের গাথা
.              একটু রসের রভস,
বঁধূর বেণু দূরে বেজে
.              করবে প্রাণ অবশ।
সুরেন গাচ্ছেন,  আত্ম-কীর্ত্তি
.              মতির জ্বলে উঠ্ ছে গা,
আমরা শুন্ ছি আসছে ভেসে,
.              কোকিল বঁধূর মধুর রা।
নেতায় নেতায় লড়ালড়ি
.                চিম্ টী কাটেন “অমৃত”,
সত্য গেছেন হাওয়া খেতে
.               নৃত্য করেন অনৃত।
মনের মতন মালা গেঁথে
.               আয়রে সাজাই দুজনে,
প্রলয় বাতাস বচ্ছে দেশে
.                কাঁপছে হৃদয় সঘনে।
“নারায়ণের”  চিত্ত চোরের
.                 জিভ বেড়েছে ইঞ্চি দুই,
গাচ্ছে হুমো গাল ফুলিয়ে
.                 হুমী বল্ ছে “আমি না তুই !”
হায় মা আমার বঙ্গরাণী
.                 সব্ব দুঃখহরা,
তোর ছেলেদের হৃদয়গুলি
.                  তীক্ষ্ণ বিষে ভরা।
সোণার স্বপন ‘চিত্তে’ আমার,
.                  মদিরা দিতেছে ঢালি,
ব্যোমকেশ ঐ ত্রিশূল ছাড়িয়া
.                 দিতেছেন করতালি।
পাঁচু ভায়ার এ billingsgate এ
.                  মনের আগুন লক্ লকায়.
নির্ঘোষিয়া দম্ভ আসি
.                  চরক পূজার ঢাক বাজায়।
সূর্য্যিমামার গায়ের আগুন
.                  ওরেও বলি ঠাণ্ডা,
টাকার গরম আচ্ছি গরম
.                  দগ্ধ করে প্রাণটা।
সাহিত্যের কুঞ্জে বসি
.                  ভজছে হরি বল কে?
শক্তি থাক্ লে চিন্ বে ভায়া
.                  এক নয়নের ঝলকে।
মতিচূর আর সীতাভোগটা
.                   করিয়ে সুখে একচোটে,
কাটিয়ে দিচ্ছেন দিনগুলো সব
.                   সাহিত্যের ভাব ঘেঁটে।
গল্পগুলো গল্প তো নয়
.                   এক একটা
abortion,
Sickly, ugly full of hurly
.                Excite
করে avertion.
তোষারাণী হৃদয় খানি
.                সদাই রাখে ঘিরে,
স্বৈরিণীর হাস্যটুকু
.                মিশ্রিত মদিরে।
বিদ্যাভূষণ দূরে গেল
.                কৃষ্ণ ভাঙ্গলো বাঁশি,
বিবেক হারা হৃদয়টুকু
.                 কত না উদাসী।
ঢেঁকী হচ্ছেন রাণীর রাণী
.                 পাড় দিচ্ছেন নেকী,
সাহিত্যেতে এমন দিনেও
.                 চলছে তোড়ে মেকী।
হারাণ এখন মস্ত লেখক
.                 কৈ ভক্ষী হেম,
এতো দিনে সার বুঝিলেন
.                 সমাজপতির প্রেম।
গাধা নে’ড়ে ঘাড়ের ঝুলটা
.                 ভঙ্গি করেন কেশরীর,
চন্দ্রকলাপে মণ্ডিত কাক
.                 নৃত্য করেন ময়ূরীর।
নরম পন্থীর
conference
.                 সুরেন চন্দ্র হোতা,
হে’লে দুলে গর্জ্জনিয়া
.                বল্ ছেন সবাই ভোতা।
হোথায় ঈমাম ললামী সুঠাম
.                ধরিলেন সাম গান ,
শ্বেতদ্বীপ মাঝে ছোটে প্রতিধ্বনি
.              আলোড়িত শতপ্রাণ।
দান কর তো শয্যা পতির
.                মতন কর দান,
মন্ টেগুর ঐ মুষ্টি ভিক্ষার
.                 তুষ্ট নহে প্রাণ।
রাজার পূজায় ভারতবাসী
.                 দিচ্ছে রুধির ঢে’লে ,
ভক্ত তোমার কেমন তাই
.                  পশ্য নয়ন মে’লে।
রেখেছ শিল্প করি খঞ্জ
.                উন্নতির বরষায়,
জল থৈ থৈ পৃথ্বী জুড়ি
.                আমরা মর্ ছি পিপাসায়।
নূতন বিধি করবে প্রচার
.                   ভুল বুঝছি বলে,
( এখন কি )
বুকের পাথর বুকে ক’রে
.                ভা’সব নয়ন জলে?
শ্বেতদ্বীপের রাজার প্রজা
.                  এও গরবের কথা,
নায়েব গু’লোর অত্যাচারে
.                মর্ম্মে লাগে ব্যথা।
Burke Chatham উদার ভাবে
.                ভারত পুলকিত,
ওরে পুলকিত লীলায়িত
.                সতত গর্ব্বিত।
Magnacharta Extortion
.                তোমার কাছেই শেখা,
তোমার কীর্ত্তি ঐ রয়েছে
.                কালের বুকে লেখা।
ন্যায়পরতা তোমার দেশেই
.                ছুট্ ছে অবিরল,
তারেই সেধে বল্ ছে সবাই
.                ঘু’চাক অশ্রুজল
অশ্রু ঝ’রে নিঝর হ’য়ে
.                শ্বেতদ্বীপে ধায়,
মায়ের মত ব্যথীতেরে
.                কোলে নিবি আয়।
শক্তি আছে ভক্তি আছে
.                আছে ব্যথা বোধ,
ক’রনাক এই মিনতি
.                তাদের গতিরোধ।
প্রতিভা তার আহার খোঁজে
.                সেথায় কেন বাধা,
শ্যাম চার গো রূপের কমল
.                কমলিনীর রাধা।
শ্যাম চায় গো রূপের কমল
.                কমলিনীর রাধা।
কবিতা কবিতা রসিতা বনিতা
.                রস উগারিণী বালা,
রসিক হৃদয়ে দেও আলো ঢালি
.                আঁধারে করগো আলা।
চম্পক রঙে মণ্ডিত দেহ
.                হাসিতে মতির ভাতি,
সঙ্গীত-ঝরা বচনে তোমার
.                চিত্ত উঠে গো মাতি।
পৃথ্বীরাজের যোগেন ভায়া
.                নহেন প্রেমের কবি,
নীলবসনার চচুল হাসির
.                আঁকেন নাক ছবি।
বিরহিণীর হিয়ার মাঝে
.                কামের আগুন জ্বালি,
মৌরা মধু পান করায়ে
.                দেন না করতালি।
তাইতে তাহার আদর আজও
.                পোড়া দেশে হ’ল না,
গুপ্ত ব্যথার মর্ম্ম ফাটে
.                ও কথা আর তু’লনা।
পৃথ্বীরাজের criticism
.                
Baboon  ভাষায় লিখল কে?
লিখবেন যিনি ব’সে তিনি
.                বিরাগ ভরা বিবেকে,
.                ------- বোলপুরে
স্যমন্তকের নূতন করি
.                হাত দেখাইলেন @@,
কস্তুরী আর
Good wine
.                থাকে নাকো ঢাকা।
দ্বিজু ভায়ার ময়ূর তক্তে
.                জোর করে ঐ ব’সল কে !
মুকুর খানি প্রাণ সজনী
.                সমুখে ওর রাখিয়া দে।
গণ্ডে শোভে লেধ্ররেণু
বাজান ধীরে মুগ্ধ বেণু,
মগ্ন থাকেন ধ্যান-সাগরে
মুক্তা-বিহীন শুক্তি তরে
পাঁচ পেচীর ও ছবিখানি
.                সোণার
frame এ আঁটা,
মূর্ত্তি পূজা ক’রতে গিয়ে
.                বুকে বেঁধে কাঁটা।
তাল বোধ নাই তবু বেহারার
.                ধুর পদে দেয় গিট্ কিরী,
পঙ্কিল জল করিতে অমল
.                রাশি রাশি ঢালে ফিটকারী।
কবিতা আর নাহিক হৃদয়
রসের নাহিকো নব অভ্যুদয়
.                   নারী আর নাই হৃদয়ময়ী
.                   নারী আর নাই বিশ্বজয়ী।
মাতৃস্নেহের গোমূখী উচ্ছ্বাস
ফেনিল ঊর্ম্মির জ্বলন্ত বিকাশ
.                    দিন দিন ঐ যেতেছে সরি
.                               কোন্ খানে,
জানিস্ না তা পোড়ারমুখি
.                     রূপ-নদীর ঐ মাঝখানে।
Pruning, Pruning  মাজন ঘসন
.                     অঙ্গ করা চিক চিকি,
ব্যসন-বাসনা উঠেছে জাগিয়া
.                     পিরীতি ক’রেছে ধিক্ ধিকি।
কজ্জল কালো কুন্তল রাশি
.                      ছড়াইয়া দিয়া বরষা,
দয়িতের তরে করিছে গর্জ্জন
.                    হইয়ে কেমন বিবশা।
কবিতায় এযে প্রহেলিকা ভরা
.                       নীহারিকা ঢালে দীপ্তি,
রসের যেন বা কেমন অভাব
.                       কিছুতে হয় না তৃপ্তি।

@ --- অপাঠ্য
অক্ষর।

.                  *************************             

.                                                                             
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর       
*
পোলাও
৪র্থ উচ্ছ্বাস
কবি বেণোয়ারীলাল গোস্বামী
দেবীপ্রসন্ন রায়চৌধুরী সম্পাদিত “নব্যভারত” পত্রিকার ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায়
(এপ্রিল ১৯১৮) প্রকাশিত।


॥ ৪র্থ উচ্ছ্বাস॥        


“সাঝের বাতি” জ্বালিবে হোথা
.                “শেফালি”  ফুল তুল্ ছে কে?
Original  শীর্ষে উহার
.                সোণার তাজটা পরিয়ে দে।

সরল ভাষায় চিত্রগুলি
.                সৌরীমুখো আঁকেন বেশ,
‘নির্ঝর’ তাঁর ঝরঝরিয়ে
.                প্লাবন করে যাচ্ছে দেশ।

প্লাবন ক’রে পাবন করে
.                হাসি কান্না পাশাপাশি,
যাচ্ছে ব’য়ে ভঙ্গি করে
.                কভু কাঁদি কভু হাসি।        

ঠাকুরালির গন্ধ শুধু
.                ভাষায় যেন একটু পাই
তবু যেন মনে হয়
.                ‘সুরু’ আমার আপন ভাই।

শব্দগুলির কেউ মরা নয়
.                সবাই যেন সুস্থকায়
সবার মুখেই কুন্দ হাসি
.                সবাই দীপ্ত প্রতিভায়।

বিজয় রত্নের “অঞ্জলি” রে
.                জলধরে বেশ বলেছে,
ও সজনি ভয় কি আর
.                বাস্তু সাপে ছোঁ তুলেছে।

Aesthetic রস হচ্ছে বার
.                মেঘের বুক চিরে
দেখ্ বি যদি পোড়ার মুখি
.                বলছি আয় ফিরে।

গাবের গাছের নূতন পাতায়
.                শোভা নিয়ে কে এল,
‘সবুজ পত্রে’র আড়ালে বসি
.                অমন গান কে গেলো।        

কাণের ভিতরে পীযুষ ঢালিয়ে
.                প্রাণ মাতাইয়া ছুটিছে সুর
আনন্দে শরীর উঠেরে কাঁপিয়া
.                নয়নে লেগেছে নবীন নূর।

‘প্রমথ’ এটনা উগারিছে ওই
.                জগৎ সাহিত্যরস,
Bookful  বটে block head নন
.                কিনিতে চান না যশ।

শ্যামল বঙ্গে শ্যামল কবির
.                শ্যামল বীণার গান,
শ্যামলিত হ’য়ে ধরণী মাতা’রে
.                এখনও ছুটায়. তান।

‘কেঁদুলে’ দাঁড়া’বে ঐ কবি দেখ
.                পুরাণে নূতন করে,
চণ্ডীদাসের বীণার ঝঙ্কারে
.                এখনও অমৃত ক্ষরে।

শ্যামবঙ্গ সনে বিলাতি সবুজ
.                করিতেছে কোলাকুলি,
শ্যামলে সবুজে, সবুজে শ্যামলে
.                রচিছে মধুর বুলি।

নূতনে পুরাণে মিলিয়া গুলিয়া
.                হবে অপরূপ নূতন,
বঙ্গ ভাষার বঙ্গ মাতার
.                উজল হইবে বরন।

ধূর্জ্জটীর প্রিয় বঙ্গ নায়ক
.                নামটী তার দীনেশ,
দীন ছিলেন ভক্ত বলিয়া
.                হ’য়েছেন আজি ধনেশ।        

যেদিন ইনিই রায় গুণাকরে
.                হেসে করিলেন নির্ব্বাসন,
সেদিন হইতে বিদ্যাসুন্দর
.                কাট্ ছে বাজারে বড়ই কম।

বাঙ্গালী পাঠক স্রোতে গা ঢেলে
.                       পারে ভাসিতে,
বিজ্ঞজনের হাসিটী দেখিয়া
.                       পারে হাসিতে।

উজাতে চাহে না উজাতে জানে না
.                আগ্রহ করিয়া গ্রন্থ কেনে না,
যদি কেহ কেনে পড়ে কদাচন,
চাহে না রুচিরে করিতে মার্জ্জন,
প’ড়ে যদি কেহ বুঝিতে নারে
.                গ্রন্থকারে গালি পাড়ে।
বোকামি ভূতটা সবারি ঘাড়ে
.                না বুঝেও তারা গালি ঝাড়ে।

Tame tame  tame
.                আস্ ছে না আর ফুর ফুরিয়ে
.                নবীন আলো মেখে গায়,
.                উথ্ লে দিয়ে মলয় বার
.                গোলাপ গন্ধ ছড়িয়ে দিয়ে
.                মন মাতান কবিতা।
নির্ঝর আর গায় না গান
.                নিদের বুকের রাঙা স্বপন
.                দেখায় না আর তেমন নাচন
প্রাণ ভোমরা
.                কচ্ছে না আর কমল মধু পান
.                মান করেছেন বনিতা !

বলি “ওঠ”   “ওঠ”  চাঁদের হাসি
.                আর থেক না মান করে,
প্রাণের মাঝে ‘বউ কথা কও’
.                ডাক্ ছে শোন প্রাণ ভরে।

Tennyর কবর এই কথাটা
.           এখনও কচ্ছে
Plead
The song that nevers a nation’s
.                               
                   heart
.                  Is in itself a deed,


কবীন্দ্রের অষ্ট সখা
.                গুণ গুণিয়ে কচ্ছে গান,
তাল বোধ নেই ধুব বোধ গায়
.                জবাই ক’রে শোভার প্রাণ।

রমণী কবির বিলাসবতী
.                কবিতা মধুর নিচোলে
বাহার দেওয়া জরির ফিতে
.                শুধুই কেবল ঝল্ মলে।

পুষ্প আছে নাইকো আলো
.                রং ফুটাবে কিসে
শুষ্ক artয়ে মন গলে না
.                প্রাণ থাকে না মিশে।

Lessing ছোঁড়ার  laocoon খান
.                পড়্ লে নেহাত হয় না মন্দ,
ছত্রে ছত্রে রবিয়ানার
.                বার হয় না তীব্র গন্ধ।

হেমন্তের পাতার মত
.                রং মাখান প্রতিভার
বুড়ো রবি লিখ্ ছে
Bailad
.                একটু একটু হাসি পায়।

দেবেন সেন  
in his youth
.                Began in gladness,

লেখার মধ্যে এখন জাগ্ ছে
.                
Despondency and madness.

‘ঝরাফুল’ যেন রূপসী উর্ব্বশী
.                নিবিড় যৌবন ভরা,
পেবলতা তার অঙ্গের গুণ
.                ঠাকুর চিত্তহরা।

তালীর ছায়া বুকে ধরা
.        ( ওই ) আদর দীঘির ধারে
করুণা কার ঠাকুর কবি
.                বাঁধিল করুণারে।

‘ঝরাফুল’ ওতো মর্ম্মর ফুল
.                Art  আছে নাহি প্রাণ,
( তাই ) এতই দৃপ্ত এতই নৃত্য
.                এতই অভিমান।

মানকুমারী ভাবের রাণী
.                Utopeaর প্রজা নন,
প্রেম প্রীতি হাসি কান্নার
.                করে মন বিলোড়ন।

“ বিকাশ-মাতার”  দেখিয়াছি
.                মনোমোহিনী প্রতিভায়,
হয়েছিলাম মুগ্ধ বটে
.                কেয়াফুলের মদিরায়।

মানকুমারী মা-হারা-মা
.                আমার সোণার মেয়ে
কোনোরূপই লাগে না ভাল
.                তোমার রূপের চেয়ে।

রবির চেলা সত্যেন হারে
.                মাটী কল্লে প্রতিভায়
কবিতাটা ঢেকে রাখে
.                কেমন একটা আব্ ছায়ায়

শক্তি আছে ভক্তি আছে
.                প্রেমের স্থানটা শূন্য,
অধর যজ্ঞে সিদ্ধ হ’লে
.                অর্জ্জন কর্ তেন পুণ্য।

কি মাধুরী আছে বালা নয়নে তোমার
নির্ভয়ে লিখিয়া কবি লইল বাহার।
নন্দন বনের গন্ধে মোদিত মধুর
সে সুধা করাল পান নাথেরে প্রচুর।
কবিতাটী নবমুখী নবমুখে করে পান
একটু উজ্জ্বল রস সে মুখেতে কর দান।

“প্রবাসী” ফুলাবে ঠোঁট দুর্নীতির অপবাদ
দধিবৎ যশে তব ঘটাইবে পরমাদ।
তাই---
নেশায় পোড়ে রূপের রঙে
চুমার প্রলেপ চাও না দিতে,
প্রেমের ছবি আঁক্ লে না ভাই
সরল ভাবে জগৎ হিতে।

গীতাঞ্জলির রবিরে ভাই
.                আমরা বলি রবি নয়,
শুষ্ক গীতে নাহিকো দেখি
.                “মানসীর” অভিনয়।

‘ সোণার তরী‘ রূপের তরী
.                ভাস্ ছে প্রেমের দরিয়ায়,
প্রেমিক যে তার স্থান আছে তথি
.                প্রেমহীন কেঁদে ফিরে যায়।

চিত্রাঙ্গদা---- সুধার খনি
চিত্রাঙ্গদা --- উজল মণি
চিত্রাঙ্গদায় ব়্যাফেল দিচ্ছে উঁকি
চিত্রাঙ্গদায় প্রেমিক কবি সুখী।

কালিদাস থাক্ লে পরে
.                কত ভালবাসি,
রবির গলে আপন মালা
.                দিতেন খুলে হাসি।

প্রতি পাতে লাগিয়ে দিব
.                যতন ক’রে জলছবি,
আচ্ছা ধূমো হস্তিকায়
.                বই লিখেছে ‘দেবকবি’।

নিত্য কথার বস্তা বেঁধে
.                এত কেন গোলযোগ,
রদি মাল টানাই সার
.                লোকে বল্ বে কর্ম্ম ভোগ।

কবির জীবন কাব্যে বিকাশ
.                ইয়ার দলে নয়,
অন্তর্দৃষ্টি থাক্ লে পরে
.                বুঝ্ তে সমূদয়।

রবির কাব্যে কামের গন্ধ
.                ঈর্ষা
‘fata’ কল্লে বার
ওমনি গর্জ্জি চেলাগুলো
.                উঠ্ লো ব’লে মার মার।

বেশ লিখেছ খুব লিখেছ
.                সুধার গন্ধে ঢাক্ ছি নাক
If it has no name to be known by
.                তবে সে কথাটা চাপা থাক।

খেতেন দ্বিজু মত্স্য যখন
.                অবাক চোখে চাইত পুষি,
হরু, সরু, নরু, জ্ঞানেন
.                মনে মনে হতেন খুসী।

হায় রে কপাল কবির জীবন
.                এই ভাবে কি লিখ্ তে হয়,
দ্বিজুর জীবন ‘সাজাহানের’
.                প্রতি পৃষ্ঠে অভ্যুদয়।

সে—
আপন জীবন আপন হাতে
.                লিখে গেছে কাব্যে তার,
তুচ্ছ কথার আলোচনে
.                প্রকাশ করে ব্যভিচার।

বড়াল ভক্ত নবকৃষ্ণ
.                যা লিখেছেন সহা যায়,
ধৈর্য্য রাণী অধৈর্য্যের
.                গুহার মাঝে না পালায়।

সরল পরাণ বড়াল কবি
.                হারিয়া ফেলে প্রিয়ায়
‘এষা’ বুকে বসে আছেন
.                উচ্চ যশের আশায়।

সখ্যহীন প্রেমহীন
.                জীবনটা ত মরুময়
লক্ষ্ণীছাড়া হ’লে পরে
.                এ দুর্দ্দশা সবার হয়.।

ওরে বুড়ো আছিস্ বেঁচে
.                তবু কেন দিস্ না সাড়া
সব ফেলেছিস্ হারিয়ে কিরে
.                এমন দিনে বধুহারা
কবির সম হৃদয় ছিল
.                কবির সম মমতা,
কোথায় গেল গলাগলি
.                এমন দিনে বল তো?

‘কস্তুরী’  আর ‘চন্দনেরে’
.                মুক্তহস্তে বিলাইয়ে,
‘গোবিন’ গেল পাঁজর ভেঙ্গে
.                কাল সাগরে মিশাইয়ে।

ভিজে চোখে আজকে তোরে
.                মনে করছি ‘অকুরে’
‘গোবিন’ গেছে কাল হ’রেছে
.                বাঙ্গালা দেশের মধুরে।
আমার দেশটা আমার দেশটা
.                আমার চোখে কেমন ঠেকে

এরা
বউকে রাখে বুকের মাঝে
.                পায়ে ঠেলে বুড়ো মাকে।

তৃষ্ণা কাতর গবুর মুখে
.                দিল না কেউ জলের কণা.
বেদনাটা এমন দিনে
.                দারিদ বলে জানাল না।

বই পড়ে?  না মলাট পড়ে?
.                পড়ে্ তে জানে কয় জনায়,
পাঠক তেমন থাকলে পরে
.                বুঝ্ ত গবুর সাধনায়।

আমি ভজব না কৃষ্ণ রাধা
.                ওতে আছে অনেক বাধা
.                লক্ষ মন্ত্রে শুধুই সাধা
( এঁদের ) চোখের দৃষ্টি বয়স দোষে
.                নাহিকো বলে জগৎ ঘোষে।
আমি আপন হাতে
.                গড়্ ব শিবে ছেনে কাদা
আমি ভজ্ ব না আর
.                কৃষ্ণ  রাধা।

জটা হ’তে নেমে করুণা তটিনী
বহিয়া যেতেছে দিবস যামিনী
কত দীন জন সুকৃতি সুজন
শিবের মাহাত্ম্য করিয়া কীর্ত্তন
দারিদ্র্য বেদনা করিছে বর্জ্জন

আমি আপন হাতে
.                গড়ব শিবে ছেনে কাদা
আমি ভজ্ ব না আর
.                কৃষ্ণ রাধা।

( তিনি )
পদ্য পড়েন আঁকড়ে ধরেন
.                মোটা ভাবের মোটামি,
উপাসনায় ব্যক্ত করেন
.                ভাঁড়ামি আর জ্যাটামি।

রসের বিচার কত্তে ছোটেন
.                বুকে ধরে হর্ষ,
তিন পুরুষে করেনি যার
.                ‘মম্মট’ খান স্পর্শ।

ভাবের ভাষা হয়নিকো বা’র
.                আভাস নিয়ে খেলা,
বোঝনি যা বুঝ্ লে না তা
.                গাধার চক্ষু মেলা।

কমলবনে গুব্ রে পোকা
.        ফুলের বুকে কাঁটা,
খেয়ালি যে লেজের দিকে
.        কাট্ তে চায় পাঁটা।

কাব্য পড় বুঝ্ তে শেখ
.                কারে বলে ধ্বনি,
বুড়ো হ’লে শিখ্ বে কবে
.                ওরে যাদুমণি।

.                  *************************             

.                                                                             
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর