কবি এইচ আই হামজার কবিতা
আগামীর আহ্বান
কবি এইচ আই হামজা


হে নবাগত হে তন্দ্রাচ্ছন্ন জাতির আগামীর নেতা   
তোমাকে অভিবাদন
সস্নেহে শুভাশিস
হেমন্তের গোধূলি বেলায় আরক্তিম শুভেচ্ছা
.
বৈকালে নীড় ফেরা পাখির গুঞ্জন শুনেছি
শিশিরের ফোঁটায় অব্যক্ত অশ্রুজলে
মর্ম বেদনার যে আর্তনাদ আমি দেখেছি
রাত জাগা ডাহুকের সকরুণ চিৎকারে
যে প্রকৃতির আহ্বান আমি শুনেছি
তবে কি সেই তুমি? নব যুগের মুক্তির দিশারী
যার জন্য শত অন্ধকার রাতেও আলোর প্রতীক্ষায়
যার শূন্যতায় শাঁকিনী ডাকিনীর একছত্র আধিপত্য
.
হে পুষ্পিত কোমল; হে নবীন তুমি কি জানো
তন্দ্রাচ্ছন্ন কালের যুগাবতার
নচ্ছার বাণীতে সহস্র বছর করেছে পাড়?
তুমি কি জানো কলিযুগের হয়েছে অবসান
তবুও  পৌঁছায়নি এখানে উদিত সূর্যের মুক্তির স্লোগান
এই বাঙলার হৃদয় জমিনের পত্রশোভিত তরুপল্লবে
তোমার মুষ্টিবদ্ধ হাত হোক উদার মানবিকতায় অঙ্কিত পবিত্র মানচিত্র
তোমার প্রত্যয়ী চিৎকার হোক সম্মিলিত সৌহার্দর গান
.
এসো আমরা প্রস্তুত হই
নব আহ্বানের ডাক এসেছে
এসো নবপ্রভাতের সকল সৈনিক মিলি কুচকাওয়াজে
.
হে অগ্রসেনানী তুমি লও কাঁধে তীরে ভিড়ানোর ভার
তোল পাল ধর হাল হোক শুরু নব-অভিযান
হয় হার নয় জিত এই হোক আহ্বান
পুড়নো দৈন্য ঘুচে পুষ্প সমুদ্রস্নানে
আমরা আবার পবিত্রতার সোপানে
. এসো এসো লক্ষকোটি তরুণ
সমবেত কণ্ঠে গাই সত্য-সুন্দর-মানবতার জয়গান

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
স্বর্গময়তা
কবি এইচ আই হামজা


ঘুমিয়ে অথবা জাগ্রত
স্বপ্ন কি বাস্তব
তোমার কপাল হতে নিতম্ব অনলবর্ষ চুম্বন
অতঃপর ত্রাতা হয়ে বর্ষিত আঠালো পদার্থ
কল্পিত রোমাঞ্চকর রাতান্তে
মনের কোণে আবেশি সুপ্ত হাসি
আমাকে জানিয় দেয়
বসন্ত এসেছে এই পৌষের তীব্রতায়
এ বসন্ত আঠারোর
এ বসন্ত প্রতি রাতে নিঃসঙ্গতার অনুভবে
এ বসন্ত ছুঁতে চায় বাঁকানো ঠোঁট
বুকের খাঁজ,থাইয়ের কোমল অঙ্গের উত্তাপ
কি দুঃসহ এ কাতরতা
এ বসন্ত গোলাপের পাপড়িতে মুগ্ধতা খোঁজে অবিরল
শাড়ির আবরণে খোঁজে সপ্ত সুখের স্বর্গময়তা!

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
অ-প্রেমিক
কবি এইচ আই হামজা


শেষ বিকেলের শুভ্রতায় তোমাকে দেখি
দক্ষিনের হাওয়ায় উড়ন্ত কাশফুলে
তোমাকে দেখি
রৌদ্রে ঝলমল পলাশের আগুন বনে
তোমাকে দেখি
দেখি কামনার অনুভবে জাগ্রত তুমি
বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলো পেখম মেলে সুদূর আকাশে
ভাবনার রাজ্যে কেবলই তুমি
হলদে প্রজাপতির ডানায় কল্পতরু করে খেলা
বিচিত্র আকাশের বুক চিড়ে কালো মেঘে অন্ধকার
হেঁয়ালি জগতে এলোমেলো শব্দে গুচ্ছ কথামালা
চতুর রঙে ভাবনার কোলজুড়ে কবিতার আস্তরণ
কল্পনার চিত্রপটে কবিতার কবি হয় প্রেমিক
আর প্রেমিক হয় কবি।
অথচ আমার সর্বাঙ্গ তোমার প্রতিচ্ছবি
সকালের সোনালি রোদ্দুরে তোমাকে দেখি
তোমাকে দেখি মহুয়ার পাগল পাড়া নৃত্যে
দিনশেষে আমি এক ব্যর্থ প্রেমিক কবি

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
লুণ্ঠিত স্বাধীনতা
কবি এইচ আই হামজা


তোমরা এখনও কেউ জানো না
জানার মত বোধ তোমাদের হয়ে উঠেনি
নির্বাক গাছ যেমন জানতে চায় না
ঝরাপাতার কথা
বিশাল আকাশ জানতে চায় না
মেঘের আড়ে লুকিয়ে থাকা চাদের কথা
তেজদীপ্ত দিন জানতে চায় না কেন
সূর্য ঘুরে আবার রাত ফিরে আসে
মানুষও জানে না তার স্বপ্ন লুটের কথা
কবি,বুদ্ধিজীবী এবং কি অধ্যাপকও
মুক্তবাজারে মানুষের স্বপ্ন বিক্রি করে
কেউ কেউ প্রাসাদ গড়ে
কিশোরীর স্বপ্ন লুট হয়
বালকের প্রেম লুট হয়
কৃষকের শ্রম লুট হয়
শ্রমিকের ঘাম লুট হয়
এখানে প্রতিনিয়ত লুট হয় মানুষের অগনিত স্বপ্ন
ওরা লুট করে স্বাধীনতা মুক্তির সাধ
লুট করে ইতিহাস,মানচিত্র সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা
লুট করে ফুলের গন্ধ জোনাকির নিঃস্বার্থ আলো
শকুনেরা বারবার ফিরে আসে
শক্ত নখরে আঘাত করে
সবুজ কমল জমিনে
তবুও নগণ্য কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখে
সবুজ জমিনে হাতুড়ি কাস্তে খচিত একটি পতাকার
তবুও কিছু মানুষ এখানে স্বপ্ন দেখে সমতার সমাজ গড়ার

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
স্বপ্ন ভাঙ্গার আক্ষেপ
কবি এইচ আই হামজা


বিমূর্ত রাতে কল্পনার স্কেচে
নিয়ন আলোয় দেখা তোমার প্রতিরূপ
কবিতা তুমি অর্ধাঙ্গিনী আমার
শরীর থমকে দাঁড়ায়
ধ্বনিত উপশিরায় বাজে সঙ্গমের মাদুল
কেয়াফুল হাসে লজ্জাবতী লাজে
প্রহরী রাতের প্রতিটি তারা প্রতিটি ক্ষণ
আধো ঘুম টুটে শরত প্রহরে
দেখি এ যেন এক আশ্চর্য কবিতা
সূর্য কিরণের দেমাগি অহংকারে পশ্চিম দিগন্ত হাসে
কল্পনার রঙ ফিকে হয়ে আসে বাস্তবতা
এ কবিতা নয় প্রতিবিম্ব রাতের দর্পণ
কবিতারা সবুজ পাহাড়ে মেঘ হয়ে ভাসে
হিমালয় হয়ে দক্ষিণের বসন্ত ডাকে
ঋতুরাজ সাজে নব সাজে
এলো চুল তার আকাশে উড়ে
ব্যথাতুর ছলনার চতুর খেলায়
স্বপ্ন ভেঙে যাবে তুমি হারিয়ে যাবে
রয়ে যাবে শুধু স্বপ্ন ভাঙার আক্ষেপ

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
উচ্ছিষ্ট পুঁজিবাদ
কবি এইচ আই হামজা
রচনা ২২.০৮.২০১৫, দুপুর ১ থেকে বিকাল ৪,৩০ মিনিট, ঢাকা


তুমি অভিশাপ দাও আমাদের
তোমার অভিশাপে পুড়ে অঙ্গার হয়
নিন্দুকের অহর্নিশ চপেটাঘাতে পিষে ফেলি বিবেকবোধ
আমরা আমাদের নিস্তেজ করে দেয় ক্রমাগত
রুদ্ধ করি বিবেকের জানালা কপাট
শহরের মস্ত রেস্টুরেন্টের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টের আমিও ভাগীদার
তোমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি চাওয়া মানে
আমার বিলাসিতা আমার লোভ
এর চেয়ে ভালো তোমার শেভ করার নামি বিদেশি ব্রান্ডের দামি ক্ষুরে
কেটে দাও আমার লোভাতুর জিভ
কৃত্রিম পারফিউমে নষ্ট করে দাও আমার ঘ্রাণইন্দ্রিয়
অস্তিত্ব বিনাশের হিংস্র সভ্যতায় নিঃশেষ করে দাও ভবিষ্যৎ
কান পেতে শুনো ফেলে আসা সুদূর অতীতের
বিমূর্ত আত্মচিৎকারে প্রকম্পিত আকাশ বাতাস
চৈত্রের দহনে ফসলের মাঠে কৃষকের মূর্ত হাহাকার
সাগরে ভাসমান উদ্ধাস্ত শরণার্থী
মাইন টর্পেডোর রণ সমরের রাজ্যতে
অসহায় গোলাপের নিভৃত কান্নায় অঝোর বর্ষণে প্লাবিত স্বপ্ন
ক্ষুধার পৃথিবীতে প্রাকৃত শস্যদানারা উপেক্ষিত পরিপুষ্ট পুঁজিবাদে

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
ছায়াঢাকা সুনিবিড়
কবি এইচ আই হামজা


এ পথ হবে না কখনো শেষ
পথের প্রান্তে হাসিমাখা স্বপ্ন আঁকা
জীবনের গল্প এ পথকে করেছে নিঃশেষ
বন্ধু এ পথ হবে না তবু শেষ
কৃষ্ণচূড়ায় সেজেছে বন
আকাশ ছেয়েছে কালো মেঘে
পথের দ্বারে স্বপ্ন মিতালীর রঙিন আবেশে
প্রাণহীন কাকতাড়ুয়া করে খেলা
মিছে এ জীবন বৃথা এ প্রাণ
তবুও উড়ে জীবনের ঘুড়ি
প্রকৃতি আর প্রাণ ভালোবাসার মিশ্র ঐকতান
এসো এসো জড়াজড়ি করি
এ পৃথিবী করেছে আপন
কেউ কেউ করেছে পর
আপন পরের দ্বৈত খেলায়
পথের দ্বারেই বেঁধেছি নীড়
এই আমার হাসিমাখা গ্রাম ছায়াঢাকা সুনিবিড়

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
রূপালী মেয়ে
কবি এইচ আই হামজা
রচনা ১০.০১.১৬


মেয়ে তোমার কাইতন খুলে দাও
পেটিকোটের আবরণে ঢেউ তোলা তোমার রূপ দেখতে চাই
মেয়ে তোমার পাহাড়সম বুক হতে সরিয়ে নাও রূপালী হাত
আমি সমুদ্র দেখতে চাই
বিশ্বাস করো তোমার দেহের উক্তাপে
ফলকে ফলকে স্থলিত হয় কামরস
তোমার আগুনে যৌবন আমাকে শিহরিত করে
মধ্য রাতে উলঙ্গ শরীরে পৌষের তীব্রতা আমাকে যন্ত্রণা দেয় না
যতটুকু যন্ত্রণা দেয় তোমার ঐ টলটলে যৌবনরাঙা ঠোঁট
তোমার ঐ কাজল মাখা হরিণীর মত চোখ

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
নিঃসঙ্গ রাত
কবি এইচ আই হামজা
রচনা ২০.১১.২০১৫


ভাঙ্গনের গানে বাজে বিমূর্ত সুর
পুরাতত্ত্বের দাবানল ছড়িয়ে অপেক্ষায় মুহূর্তকাল
চেতনার ছড়ি ঘুরিয়ে ফিরে আসে নিস্তব্ধতা
ছদ্ধবেশি সুঘ্রাণে প্রতারিত শ্রমিকের ঘাম
নির্জলা হাসির প্রত্যাগত সমাজ দিগন্তে দাড়িয়ে অনাগত
চাক্কুস প্রতারণার বদ্ধ দুয়ারে অতিক্রান্ত ভবিষ্যৎ
তামাশার পরিপূর্ণ জালে উচ্চবিত্ত
তবুও নিঃসঙ্গ রাত ভোরের অপেক্ষায়
আজন্ম নক্ষত্রের পতনে দ্বিখণ্ডিত ভূমি
সত্যের চেয়ে ধর্ম যেখানে উত্তম আশ্রয়
মিথ্যের ভাঁজে লুকায়িত শ্বাপদ ডাকিনী
শকুনের হিংস্র লালায় ঝড়ে যায় ডালিয়া
তবুও কলিরা হাসে উচ্ছ্বাসে মাতে
খেলে তপস্যার জলরঙ খেলা
যদিও নিঃসঙ্গ রাত একটি ভোরের অপেক্ষায়

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*
কিছু লোকের স্বভাব
কবি এইচ আই হামজা
মিলনসাগরে প্রকাশ ৩০.১১.২০১৮


বাজার নামের এই হাটে মূল্য ভীষণ চড়া।
কার আগে কে পাবে,এক পায়ে সব খারা,
হাতি ঘোড়া স্বর্ণ বাদ যাচ্ছে না তাও!
খাচ্ছে সবাই পারছে যতো,ইচ্ছেমত খাও।
বলছি যতোই একটু দাঁড়া-
মানবতা কি দেয় না সারা?
হাসছে রাজা মনের সুখে,কাঁদছে প্রজা দুঃখে।
শত কষ্ট মনে প্রজার তবুও কেউ বলছে না মুখে,
তবুও রাজা,মন্ত্রী,পেয়াদা বলছে সবাই বেশ
আরে বাবা এ যে দেখছি,হীরক রাজার দেশ!
রাজ্য আছে রাজা আছে নীতির বড় অভাব
নীতি বেঁচে ভাত খাওয়া কিছু লোকের স্বভাব!

.              ********************

.                                                                           
সূচীতে . . .     


মিলনসাগর
*