কবি হাছন রাজার (হাসন রাজা) গান
*
আমি না লইলাম আল্লাজির নাম
কবি হাছন রাজা


আমি না লইলাম আল্লাজির নাম |
না কইলাম তার কাম |
বৃথা কাজে হাছন রাজায় দিন গুয়াইলাম ||
ভবের কাজে মত্ত হইয়া দিন গেল গইয়া |
আপন কার্য না করিলাম, রহিলাম ভুলিয়া ||
নাম লইব নাম লইব করিয়া আয়ু হইল শেষ |
এখনও না করিলাম প্রাণ বন্ধের উদ্দেশ ||
আশয় বিষয় পাইয়া হাছন (তুমি) কর জমিদারি |
চিরকাল থাকিবেনি হাছনরাজা লক্ষ্মণছিরি ||
কান্দে কান্দে হাছন রাজা, কী হবে উপায় |
হাসরের দিন যখন পুছিবে খোদায় ||
ছাড় ছাড় হাছন রাজা, এই ভবের আশ |
(কেবল) এক মনে চিন্তা কর, হইতাম বন্ধের দাস ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
*
*
*
*
*
আমি তোমার কাঙ্গালী গো সুন্দরী রাধা
কবি হাছন রাজা


আমি তোমার কাঙ্গালী গো সুন্দরী রাধা,
আমি তোমার কাঙ্গালী গো |
তোমার লাগিয়া কন্দিয়া ফিরে,
হাছন রাজা কাঙ্গালী গো ||
তোমার প্রেমে হাছন রাজার, মনে হুতাশন |
একবার আসি হৃদকমলে, করয়ে আসন ||
আইস আউস প্রাণ প্রিয়সী ধরি তোমার পায় |
তোমায় না দেখিলে আমার, জ্বলিয়ে প্রাণ যায় ||
ছট্ ফট্ করে হাছন, তোমার কারণ |
ত্বরা করি না আসিলে হইব মরণ ||
কান্দে কান্দে হাছন রাজা পড়ে আছাড় খাইয়া |
শীঘ্র করি প্রাণ প্রিয়সী, কোলে লও উঠাইয়া ||
কোলে ঠান্ডা হইব, হাছন রাজার হিয়া |
সব দুঃখ পাসরিব, চান্দ মুখ দেখিয়া ||
হিন্দুয়ে বলে তোমায় রাধা, আমি বলি খোদা |
রাধা বলিয়া ডাকিলে, মুল্লা মুন্সিয়ে দেয় বাধা ||
হাছন রাজা বলে আমি, না রাখিব যুদা |
মুল্লা মুন্সির কথা যত সকলই বেহুদা ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
আল্লা ভব সমুদ্ রে
কবি হাছন রাজা


আল্লা ভব সমুদ্ রে  আল্লা ভব সমুদ্ রে  তরাইয়া লও মোরে |
তরান বরান চাই না আমি কেবল চাই তোরে ||
তরাই মার যাই কর এর লাগি কে ঝুরে |
হাছন রাজার মনের সাধ দেখিত তোমারে ||
চিত্তে কেন তোমার লাগি সদায় ধড়ফড় করে |
হাছন রাজার মনে কেবল থাকত তোর হুজুরে ||
না চাই ধন, না চাই জন, না চাই জমিদারি |
হাছন রাজার মনোবাঞ্ছা থাকত চরণ ধরি ||
পূর্ণ কর আকাঙ্খা প্রভু, ভক্তি করি তোরে |
পদতলে রাখ আশিক হাছন রাজারে ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
আমি মরিয়া পাই যদি, শ্যামের রাঙ্গা চরণ
কবি হাছন রাজা


আমি মরিয়া পাই যদি, শ্যামের রাঙ্গা চরণ |
(আরে) তবে সে রঙ্গিনী রাধার সাফল্য জীবন ||
মরিয়া মরিয়া যদি, শ্যামের লাগাল পাই |
রাঙ্গা চরণে ধরি জনম গোওয়াই ||
ছাড়াইলে না ছাড়িমু, ধরিমু চরণ |
যাহা করে জগন্নাথ, জগত্ মোহন ||
হাছন রাজায় বলে জান যাইবে যখন |
সে সময় দেখতে চাই যুগল চরণ ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
এগো মইলা, তোমার লাগিয়ে হাছন রাজা বাউলা
কবি হাছন রাজা


এগো মইলা, তোমার লাগিয়ে হাছন রাজা বাউলা |
ভাবতে ভাবতে হাছন রাজা হইল এমন আউলা ||
দিনে রাইতে উঠে মনে, প্রেমানলের শওলা |
আর কত সহিব প্রাণে, তুই বন্ধের জ্বালা ||
সোনার রং অঙ্গ আমার, হইয়াছে রে কালা |
অন্তরে বাহিরে আমার জ্বলিয়ে রহিল কয়লা ||
লোকে বলে হাছন রাজা হইল রে আজুলা |
হাতে তলি দিয়া গিল্লা, করেরে কট মুল্লা ||
আজুলা হইয়া হাছন রাজায় বলে আল্লা |
বারে বারে বলে, লাইলাহা ইল্লাল্লা |
নাচে নাচে হাছন রাজা হইয়া ফানা ফিল্লা ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
ওমা কালী ! কালী গো ! এতনি ভঙ্গিমা জান
কবি হাছন রাজা


ওমা কালী ! কালী গো ! এতনি ভঙ্গিমা জান |
কত রঙ্গ ঢঙ্গ কর যা ইচ্ছা হয় মন ||
মাগো স্বামীর বুকে পা দেও মা ক্রোধ হইলে রণ |
কৃষ্ণরূপে প্রেমভাবে, মামীর বসন টান ||
আদ্যাশক্তি হইয়া মাগো ! পুত্রে রইলায় বর |
শতবার মারিয়া মাগো ; কর পুত্রের ঘর ||
কখন কালী, কখন রাধা, কখন গো তারিণী |
জ্ঞান চক্ষে চাইয়া দেখি, মা মোর পরাণী ||
কালীরূপ ধরিয়া মাগো ! অসুর কইলায় নাশ |
রামরূপে রাক্ষসগণ করিলায় বিনাশ ||
তুমি বাড়ি, তুমি ঘর মা ! তুমিই সংসার |
তুমি বিনে অন্যজনা কেহই নাই আর ||
নানা সময় নানা রূপে, অবতার হইয়া |
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ কর দুষ্টকে মারিয়া ||
হাছন রাজা কালী ভক্ত, কালী পদ সার |
কে বুঝিতে পারে মায়ের, অনন্ত ব্যাপার ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
কতদিন আর খেলবে হাছন, ভবেরই খেলা
কবি হাছন রাজা


কতদিন আর খেলবে হাছন, ভবেরই খেলা |
খেলতে খেলতে হাছন রাজার না লাগে ভালা ||
এই যে দেখ ভবের বাজার, কেবল এক জ্বালা |
স্ত্রী পুত্র কেহ নয় তোর, যাইতে একলা ||
হাছন জানে, হাছন রাজায় মাইল এক ঠেলা |
চল চল শিঘ্র করিয়ে, চল শালার শালা ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পিরীত করিয়ে, পিরীত করিয়ে মোর মন উদাসী
কবি হাছন রাজা


পিরীত করিয়ে, পিরীত করিয়ে মোর মন উদাসী |
প্রাণ গেল প্রাণ গেল,বন্ধুরে ভালবাসি ||
কথা কয় প্রাণ বন্ধে, যখন হাসি হাসি |
দেখিয়ে তাঁর রূপের বাহার, আইসে মোর বেহুশী ||
পিরীত আজব চিজ্ জগতের প্রধান ||
পিরীতকর প্রেমিকেরা, ছাড়িয়ে কুল মান |
পিরীত রত্ন কর যত্ন, পিরীতি জানিয়া সার ||
পিরীত ভাবে পাইবায়, বন্ধুয়ার দিদার |
হাছন রাজায় পিরীত করিয়া বন্ধুয়ারে পাইয়া |
এই কথা হাছন রাজা, ফিরে গাইয়া গাইয়া ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রঙ্গিয়া রঙ্গে আমি মজিয়াছি রে
কবি হাছন রাজা


রঙ্গিয়া রঙ্গে আমি মজিয়াছি রে |
মজিয়াছি রে, আমি ডুবিয়াছি রে ||
আরশি পড়শী যাই চল, যাইমু বন্ধের সনে রে |
কিবা ক্ষণে গিয়াছিলাম সুর্মা নদীর গাঙ্গে ||
বন্ধে মোরে ভুলাইল, রঙ্গে আর ঢঙ্গে রে ||
হাটিয়া যাইতে খসিয়া যায় বন্ধে অঙ্গে, অঙ্গে |
ধনকড়ি তোর কিছু চায় না, যৌবন কেবল মাঙ্গে রে |
হাছন রাজায় নাচন করে প্রেমেরি তরঙ্গে |
পাইলে কখন ছাড়িবে না, এই মনে পাঙ্গে রে ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মরণ জীয়ন নাইরে আমার ভাবিয়া দেখ ভাই |
ঘর ভাঙ্গিয়া ঘর বানানি এই দেখিতে পাই ||
পাগল হইয়া হাছন রাজা কিসেতে কি কয় |
মরব মরব দেশের লোক মোর কথা যদি লয় ||
জিহ্বায় বানাইয়া আছে মিঠা আর তিতা |
জীবের মরণ নাই রে দেখ সর্বদাই জীতা ||
আপন চিনিলে দেখ খোদা চিনা যায় |
হাছন রাজায় আপন চিনিয়ে এই গান গায় ||

.             ***********      
.                                                                                 
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
বিচার করি চাইয়া দেখি সকলেই আমি
কবি হাছন রাজা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানটিতে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর "শ্যামলী" কাব্যেগ্রন্থের "আমি"
কবিতাটি --" আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে... " রচনা
করেছিলেন।