কবি গণসঙ্গীতকার হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান
*
জন ব্রাউনের দেহ শুয়ে সমাধী তলে
কবি হেমাঙ্গ মিশ্বাস

জন ব্রাউনের দেহ শুয়ে সমাধী তলে
তাঁর আত্মা বহ্নিমান
শহিদের জয় জয় গান
তাঁর আত্মা বহ্নিমান
মিত্র মুক্তি করে জন ব্রাউনের আর্তনাদ
তাঁর আত্মা বহ্নিমান

শহিদের জয় জয় গান
তাঁর আত্মা বহ্নিমান
মহাকাশে তারকারা প্রহরারত
যেথা জন ব্রাউনের দেহ শায়িত
শহিদের জয় জয় গান
তাঁর আত্মা বহ্নিমান
আমেরিকার গণমনে জাগে অপলক
জন ব্রাউনের সমাধী-ফলক
শহিদের জয় জয় গান
তাঁর আত্মা বহ্নিমান

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমি যে দেখেছি সেই দেশ
কবি হেমাঙ্গ মিশ্বাস

আমি যে দেখেছি সেই দেশ, উজ্জ্বল সূর্য-রঙিন
আমি যে দেখেছি ‘শত ফুল বাগিচায়’
‘পুবালী বাতাসে’ কী সুবাস ছড়ায়
ভ্রমরের গুঞ্জনে শুনেছি প্রচার
.        ‘বিষাক্ত আগাছা’  হয়েছে বিলীন
.        উজ্জ্বল সূর্য-রঙিন ||

আমি যে দেখেছি আহা রূপালী নদী
‘আনসানে’ ‘উহানে’ বয় নিরবধি
ফারনেসে ফারনেসে ইস্পাতী মন
নতুন প্রাচীর গড়ে অজেয় কঠিন |
.                   উজ্জ্বল সূর্য-রঙিন ||

দেখেছি অশ্রুমতী হোয়াংহোর জল
হাসির তরঙ্গ রঙ্গে হয়েছে নির্মল
সেতুবন্ধ ইয়াংসীর শুনেছি কল্লোল
চিরতরে ঘুচে গেছে বন্যার দিন |
.                 উজ্জ্বল সূর্য-রঙিন ||

দেখেছি ‘ড্রাগনবাহী’ কোটি শ্রমবীর
‘পাহাড়ের চূড়া ভাঙে, ‘বাঁক ফেরায় নদীর’
বিস্ময়ে দেখেছি ‘কমিউনে কমিউনে’
নতুন মানুষ গড়ে ‘তাচাই, তাচিং’
.                উজ্জ্বল সূর্য-রঙিন ||

আমি যে দেখেছি তাঁরে, ‘থিয়েন আন মানে’
রেশমী লন্ঠন আভায়রাঙা কুংতানে
সেই দেশের রূপকার মহাকারিগর
দু’চোখে বিশ্বের আলো----শঙ্কাবিহীন |
.            উজ্জ্বল সূর্য-রঙিন ||

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বাজে ক্ষুব্ধ ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ
( উত্পল দত্তের ‘কল্লোল’ নাটকের প্রস্তাবনা গীত )
কবি হেমাঙ্গ মিশ্বাস

বাজে ক্ষুদ্র  ঈশানী ঝড়ে রুদ্র বিষাণ
ইনক্লাব আহ্বান----
নিথর জলধিজলে      জাগে উতরোল
বিষ-মন্থনে ওঠে জীবন হিল্লোল
ক্রুর বন্ধন ভেঙে ভেঙে তরঙ্গ রঙ্গে ওঠে
সমুদ্র কল্লোল, উঠিল সমুদ্র কল্লোল ||  ২

বিদ্রোহী জাহাজ জঠরে
বয়লারে বয়লারে জ্বলন্ত অঙ্গারে
আগুনের ফুল্ কিতে নাবিকের প্রাণে প্রাণে
জ্বলিল মশাল
প্রাণে প্রাণে জ্বলিল মশাল || ২

সেদিন ছেচল্লিশের শীতের কুয়াশা
ভেদি গোলামীর ঘোর অমানিশা
চূর্ণ করি কংসের কারাগার
সচকিত সাইরেনে নব অঙ্গীকার
আরব সাগরবাহী অতলান্তজয়ী
বোম্বাই বন্দরে বিদ্রোহী ‘খাইবার’
ভিড়িল বিদ্রোহী ‘খাইবার’ ||  ৩

হাঁকে শার্দুল সিং গফুর
বীর শার্দূল সিং গফুর
কে আছ বাহাদুর
কামান গর্জনে
কামগার ময়দানে
রাজপথে ব্যারিকেডে সশস্ত্র মজদুর
দাঁড়ালো সশস্ত্র মজদুর ||

দরিয়ার ডাকে দিল সাড়া মহাভারতের জনতা
উত্তাল ঢেউ-এ  ঢেউ-এ কল্লোলিত মহানগর কলকাতা
.        কল্লোলিত মহানগর কলকাতা || ৩

নীল সমুদ্র লাল করে গেল
নাবিকের রক্তধারা |
তোমরা কি শুধিবে রক্তের ঋণ
অলক্ষ্যে শুধায় তারা ||

দরিয়ার ডাকে দিল সাড়া মহাভারতের জনতা
উত্তাল ঢেউ-এ  ঢেউ-এ কল্লোলিত মহানগর কলকাতা
.        কল্লোলিত মহানগর কলকাতা ||                       

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জন হেনরি, জন হেনরি
কবি হেমাঙ্গ মিশ্বাস

জন হেনরি, জন হেনরি
নাম তাঁর ছিল জন হেনরি
ছিল যেন জীবন্ত ইঙ্গিত
হাতুড়ির তালে তালে শিল্পী
খুশিমনে কাজ করে রাত দিন
হো হো হো হো
খুশিমনে কাজ করে রাত দিন

কালো পাথরে খোদাই জন হেনরি
জানাইছে গড়া পেশী ঝলমল
হাতুড়ীর ঘায়ে ঘায়ে পাথরে আগুন ধরে
হাতুড়ী চালানো তাঁর সম্বল
হো হো হো হো
হাতুড়ী চালানো তাঁর সম্বল

পশ্চিম ভার্জিনিয়ার রেলের সুরঙ্গে
পাথুরে পাহার কেটে কেটে
রেল লাইন পাতা হবে হেনরির হাতুড়ীর
ঘায়ে ঘায়ে, রাত যায় কেটে
হো হো হো হো
ঘায়ে ঘায়ে, রাত যায় কেটে

জন হেমরির চির প্রিয়-সঙ্গিনী
নাম তাঁর মেরি মেগডেলিন
সুরঙ্গের কাছে যেত কান পেতে শুনতে
হেনরির হাতুড়ীর ধিন
হো হো হো হো
হেনরির হাতুড়ীর ধিন

সাদা সর্দার কাজ চায় আরও
স্টীম-ড্রিল করে আমদানি
আশংকা হেনরির মেশিনের কাছে বুঝি
পেশী নেবে পরাজয় মানি
হো হো হো হো
পেশী নেবে পরাজয় মানি

আমি মেশিনের হব প্রতিদ্বন্দ্বী
জন হেনরি বলে বুক ঠুকে
স্টীম-ড্রিলের সাথে চলে হাতুড়ীর পাল্লা
কে আর বল তাকে রোখে
হো হো হো হো
কে আর বল তাকে রোখে

সাদা সর্দার বলে হেসে হেসে
কালো নিগারের দেখ দুঃসাহস
তোর যদি জয় হয় হবে না সূর্যোদয়
দুনিয়াটা হবে তোর বশ
হো হো হো হো
দুনিয়াটা হবে তোর বশ

জন হেনরির হাতুড়ীর ঝলকে
চমকায় বিজুলীর গতি
মানুষের সৃষ্টি দুরন্ত স্টীম-ড্রিল
মানুষের কাছে মানে নতি
হো হো হো হো
মানুষের কাছে মানে নতি

অগ্নিগিরির হলো উত্থান
থেমে গেল হাতুড়ীর শব্দ
হেনরির জয়গান চারিদিকে ওঠে জাঁকে
হৃৎপিণ্ড তার স্তব্ধ
হায় হায় হায় হায়
হৃৎপিণ্ড তার স্তব্ধ

জন হেনরির কচি ফুল মেয়েটি
পাথরের বুকে যেন ঝর্না
মার কোল থেকে সে পথ চেয়ে আছে তার
বাবা তার আসবে না, আর না
হায় হায় হায় হায়
বাবা তার আসবে না, আর না

পাখীর কাকলি ভরা ভোরে
পূবালী আকাশ যবে রঙীন
হেনরির বীরগাথা বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে
চিঠি দিয়ে চলে যায় ইঞ্জিন
হো হো হো হো
চিঠি দিয়ে চলে যায় ইঞ্জিন

প্রতি মে দিবসে গানে গানে
নীল আকাশের তলে দূর
শ্রমিকের জনগণ কান পেতে শোনো ওই
হেনরির হাতুড়ীর সুর
হো হো হো হো
হেনরির হাতুড়ীর সুর

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
*
সুদূর সমুদ্দুর প্রশান্তের বুকে

সুদূর সমুদ্দুর    প্রশান্তের বুকে
হিরোশিমা দ্বীপের আমি শঙ্খচিল
আমার দু’ডানায় ঢেউয়ের দোলা
আমার দু’চোখে নীল      শুধু নীল ;
সাগরের জলে সিনানের শেষে প্রবালের সিঁড়ি বেয়ে
মত্স্যগন্ধা মেয়ে
ঝিনুক নূপুরে রুণু ঝুনু ঝুনু
যেতো সে সাগরিকা
ঝিলিক মিলিক নাচিয়ে গলায় মুক্তার মালিকা |


.                পূর্বাচলের প্রাঙ্গনে
.                সাগরিকার অঙ্গনে
.                দিগবধুরা খেলেরে-----
.                সমুদ্রহিল্লোলে তার দোলে হৃদয় দোলে
.                শঙ্খচিলের সঙ্গীতে তার স্বপন দুয়ার খোলে
.                দারুচিনি বনের পাখায় সোহাগ চামর দোলে
.                দোলে হৃদয় দোলে---- |


হঠাৎ সেদিন শুভ্রশরৎ সকালে
মাযাবী রোদের রূপালী ঝালর ছিন্নভিন্ন করে
কোন বিষাক্ত বাসুকীর ফণা দিগন্ত দিল ঢেকে |
প্রলয়ংকর নিঃশ্বাসে তার ধ্বংস ছড়াল দিক্ বিদিক
আণবিক সে, দানবিক সে মৃত্যু-নৃত্য নেচে
ধ্বংস-নৃত্য নেচে |
দারুণ আগুন দহনজ্বালায় দগ্ধ ভস্মিভূতা----
প্রশান্তদুহিতা |


প্রশান্তদুহিতা, মরমিয়া মিতা কোথা সাগরিকা গো
বাতাসে ঝুরিছে বাদল ঝিরঝির আকাশে ঝুরিছে তারা
দিগবধূরা গুমরি গুমরি কাঁদিছে সঙ্গীহারা
বেলাভূমি বুকে আছড়ি ঢেউ কাঁদে, কোথা সাগরিকা গো |
আমার অঙ্গীকার, আমার এ আঙ্গীকার
আক্রান্ত প্রশান্তের অশান্তবিহঙ্গ দুরন্তদুর্নিবার |
ঝড়ের নিশানা আমার দু’ডানা চিরউড্ডীন, অক্লান্ত
প্রশান্ত হতে অতলান্ত
প্রতিরোধ, প্রতিশোধ, চিরক্ষমাহীন চিরক্ষমাহীন |
আমার শান্তিগানে বিদ্রোহবাণ আনে
আফ্রোএশিয়া আমেরিকায়
আমার ডানায় তোলে আঁধিয়া আকাশতলে
ঝনন ঝনন মরুঝঞ্ঝা সাহারায়,
নদনদী প্রান্তরে অরণ্য অন্তরে-----পাহাড় গহ্বরে
রক্তে আদায় করি রক্তের ঋণ
আমি ভিয়েতমিন আমিই ভিয়েতমিন আমি ভিয়েতমিন |

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আজাদী হয়নি আজও তোর

আজাদী হয়নি আজও তোর
নব-বন্ধন শৃংখল ডোর
দুঃখ রাত্রি হয়নি ভোর
আগে কদম কদম চল জোর ||

শত শহীদের আত্মদান
একি তারই প্রতিদান
দেশদ্রোহীর এ বিধান
চূর্ণ কর কর অবসান ||

সাম্রাজ্যশাহীর পাতা ফাঁদ
খুনি ধনীকের এ বনিয়াদ
ভাঙরে ভাঙ শোষণের বাঁধ
শোন তেলেঙ্গানার সংবাদ ||

ওরে ও কিষাণ মজদুর
আর মনজিল নয় নয় দূর
ওরে তবু তো পথ বন্ধুর
ডাকে উত্তাল জলসমুদ্দুর |

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তেলেঙ্গানা তেলেঙ্গানা
চিন্তন পাহাড়ের অগ্নিশিখা
দিয়েছে হানা

তেলেঙ্গানা তেলেঙ্গানা
বুকে আছে হিম্মত
পেটে নেই দানা

তেলেঙ্গানা তেলেঙ্গানা
হাতে হাতে রাইফেল
আছে নিশানা

তেলেঙ্গানা তেলেঙ্গানা

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কাস্তেটারে দিও জোরে শান

তোমার কাস্তেটারে দিও জোরে শান
.                     কিষাণ ভাই রে,
কাস্তেটারে দিও জোরে শান ||

ফসল কাটার সময় হলে কাটবে সোনার ধান
দস্যু যদি লুটতে আসে কাটবে তাহার জান-----রে ||

শান দিও, জোরসে দিও, দিও বারে বার
হুশিয়ার ভাই, কভু তাহার, যায় না ধার -----------রে ||

ও কিষাণ তোর ঘরে আগুন,  বাইরে যে তুফান
বিদেশী সরকার ঘরে দুয়ারে জাপান---------রে ||

একতায় ভাই চীনের মানুষ হইল বলীয়ান
ছয়টি বছর জাপানীরে করলো যে হয়রান-----রে ||


এক হয়ে আজ দাঁড়াও দেখি মজুর কিষাণ
এক নিমেষে আসবে স্বরাজ, ঘুচবে অপমান------রে |

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মাউন্টব্যাটেন মঙ্গল কাব্য

মাউন্টব্যাটেন সাহেব ও
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে
.        থুইয়া গেলায় ও
তোমার সোনার পুরী আন্ধার কইরা ও ব্যাটন সাহেব
.        তুমি কই চলিলায়,
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও |

সর্দার কান্দে, পন্ডিত কান্দে, কান্দে মৌলানায়
.        কিরে হায়, হায়, হায় |
আর মাথাই এযে মাথা কুটে বলদায় বুক থাপড়ায় |

তোমার শ্যামা চেট্টি ভক্তবৃন্দে ও
.        তারা ধুলায় গড়াগড়ি যায় |
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও |


কান্দে রাজা মহারাজা তোমার পোষ্য বাছা
.        ফুঁপাইয়া ফুঁপাইয়া কান্দে ও
.                কালা বাজারের প্যাট্ লা হুতুম প্যাঁচা


তোমার নয়াদিল্লী ডুবু ডুবু ও
.        বুঝি ভঙ্গবঙ্গ ভেসে যায়
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও |

যেইনা তোমার পরবর্তী
আইলা গোপাল রাজ চক্রবর্তী
আইলা গান্ধীভস্ম তিলক মাথায়
.        ধুতি চাদর গায়
.        মরি হায় হায় রে-----
ক্লাইভ কার্জনের বংশে বাতি বামুনে জ্বালায়
.        মরি হায় হায় রে-----
বামুনের খুশী মন, হাপুস নয়ন
তোমার লেডির গাউন কান্দিয়া ভিজায় |
তোমার সাধের ব্যাটন কার হাতে থুইয়া গেলায় ও |

রাম গেলা বনবাসে বেউলা হইলা রাঁড়ি
(আর) যুগল ব্যাটন বিলাত গেলা কান্দে গোপালাচারী
দিল্লী হইতে  পুষ্পক থে গেলায় উড়িয়া
করজোরে ভক্তবৃন্দ আসমানে চাইয়া
.        প্রভু নাই নাই রে |
কান্দিও না সর্দার পন্ডিত
.        কাইন্দ না কাইন্দ না |
আমি যাহা দিয়া গেলাম নাই যে তার তুলনা---
.                ( আমি যাই যাই রে )

যাইবার যদি এটলী বাপার তুমি কইও গিয়া
ডোমিনিয়ন প্রেমের ডোরে রাখে যেন বান্দিয়া |
.                ( হায় নাই নাই রে )
মিছা কেনে ভাবনা কর, ভয়ের কিবা আছে
অশরীরী ছায়া আমার থাকবে কাছে কাছে
.                আমি যাই যাই রে | |


তোমার দক্ষিণ -পূর্ব এশিয়ার গতিক ভালো নয়,
জান সে মোদের খাঁচা ছাড়া কখন কি যে হয় | |
.                (প্রভু নাই নাই রে ) |
আমরা আছি, মার্শাল আছে, আছে আমেরিকা
এই জাহাজের হও গাধা বোট নইলে বিষম ঠেকা |
.                (আমি যাই যাই রে ) |


নয়া দিল্লীতে ঘোর কলিতে
.                আইলা কল্কি অবতার---কি বাহার
পতিত ভারত করিতে উদ্ধার |
.                বড় বড় দেশ নেতা দিলা পায়ে ধর্ণা
তপস্যায় লভিলেন বর স্বরাজ অন্নপূর্ণা
.                “হবে ধনধান্যে পূর্ণা” | |
.                হবে ধনধান্যে পূর্ণা  |

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
নিগ্রো ভাই আমার পল রবসন
কবি হেমাঙ্গ মিশ্বাস

নিগ্রো ভাই আমার পল রবসন
ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না
নিগ্রো ভাই আমার পল রুবসন

আমরা আমাদের গান গাই
ওরা চায় না, ওরা চায় না
নিগ্রো ভাই আমার পল রুবসন

ওরা ভয় পেয়েছে রুবসন
আমাদের রক্তচোখকে ভয় পেয়েছে
আমাদের দৃপ্তকণ্ঠে ভয় পেয়েছে
আমাদের কুচকাওয়াজে ভয় পেয়েছে রুবসন
ওরা বিপ্লবীর ডম্বরুকে ভয় পেয়েছে, রুবসন
নিগ্রো ভাই আমার পল রুবসন

ওরা ভয় পেয়েছে জীবনে
ওরা ভয় পেয়েছে মরণে
ওরা ভয় করে সেই স্মৃতিকে
ওরা ভয় পেয়েছে দুঃস্বপনে        

ওরা ভয় পেয়েছে রুবসন
জনতার কলোচ্ছাসে ভয় পেয়েছে
একতার তীব্রতায় ভয় পেয়েছে
হিম্মতের শক্তিকে ভয় পেয়েছে রুবসন
ওরা সংহারের মূর্তী দেখে ভয় পেয়েছে, রুবসন

নিগ্রো ভাই আমার পল রবসন
ওরা আমাদের গান গাইতে দেয় না
নিগ্রো ভাই আমার পল রুবসন

.                  ****************  
.                                                                               
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর