কবি হেমন্তবালা দত্তর কবিতা
|
মাতৃপূজা
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার আশ্বিন ১৩২৩ (সেপ্টেম্বর ১৯১৬)
সংখ্যায় প্রকাশিত, কবির মৃত্যুর পরে। সেই সময়কালে, কবির অপ্রকাশিত কাব্য
“নীলিমা” থেকে নেওয়া।
. ( ১ )
আমিবে জননী আশায় আশায়
. আশাভরা বুকে রই
এসেছে শুনিয়া এসেছি ছুটিয়া
. জননী আমার কই ?
. ( ২ )
ওই শোনা যায় কত ‘হুলু’ রব
. বেণু বীণা ঢাক ঢোল,
আবাল বনিতা সকলেপ মুখে
. কিবা হরষের রোল!
. ( ৩ )
মার আগমনে আগত প্রবাসী
. আপন আপন ঘরে,
বিরহ-বিষাদ ঘুচে গেছে আজি
. সবারি পুলক ভরে!
. ( ৪ )
দীন হতে আজি রাজা মহারাজা
. নব আভরণে শোভে,
সকল বেদনা সকল ভাবনা
. ভুলে গেছে আজি সবে!
. ( ৫ )
ভাই ভাই আজি নাই ঠাঁই ঠাঁই
. একতা বাঁধনে বাঁধা,
হৃদয়ের বাঁধ ভেঙে গেছে আজি
. মিলনে নাহিকো বাধা।
. ( ৬ )
মার আগমনে গাহে আগমনী
. হরষে বিহগ নীড়ে,
বরণের ডালা শোভে ঘরে ঘরে
সাধে বাদ
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার কার্তিক ও অগ্রহায়ণ ১৩২৩
(অক্টোবর নভেম্বর ১৯১৬) সংখ্যায় প্রকাশিত, কবির মৃত্যুর পরে। কবির অন্তিম রোগ-
শয্যার লিখিত কাব্য “বৈশাখী” থেকে নেওয়া।
. ( ১ )
ছিল সাধ মনে হয়ে “কণ্ঠহার”
. শোভিব গলায় তার,
ফিরে দেখি হায়! বিষম বিভ্রাট!
. হয়েছি “পশরা-ভার!”
. ( ২ )
ছিল সাধ মনে “কঙ্কণ” হইয়া
. রহিব গৌরব ভরে,
পড়িতে পসক ভাঙিল চমক
. ‘নিরখি বেড়ি’ যে করে!
. ( ৩ )
ছিল সাধ মনে নূপুর হইয়া
. বাজিবে চরণে তার,
একি বজ্রাঘাত! হইনু কণ্টক
. বহে যে রুধির বীর!
. ( ৪ )
বুঝি এইবার জনমের মত
. করিবে নিক্ষেপ হায়!
অনাথের গতি কোথা তুমি আজ
. দেও দেখা অনাথায়।
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
ব্যথায় শান্তি
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার পৌষ ১৩২৩ (ডিসেম্বর ১৯১৬)
সংখ্যায় প্রকাশিত, কবির মৃত্যুর পরে। কবির সেই সময়কালে অপ্রকাশিত কাব্য
“বৈশাখী” থেকে নেওয়া।
ধরণীর সুখ হ’ল না আমার
. করমফলের শাপে ;
অতুল বিভব হারাইনু হায়,
. গত জনমের পাপে!
সুখের লাগিয়া যাহা প্রয়োজন
. লভিয়া আপন করে,
হ’ল নাক ভোগ --- নিঠুর নিয়তি ---
. লুটাই ধূলায় পড়ে!
ইহকালে সুখ নাহি যে ভরসা
. আর যে তিলেক ভবে,
পরকালে সুখ আশার কুহকে
. বেঁধেছি হৃদয় এবে!
যা’ গিয়েছে যাক্ , ধর্ম্মধনটুকু
. রাখিব লুকায়ে বুকে,
তাহারি প্রভাবে যদি কোন দিন
. সকল বেদনা চুকে।
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কল্পনার প্রতি
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার বৈশাখ ১৩২৫ (এপ্রিল ১৯১৮)
সংখ্যায় প্রকাশিত, কবির মৃত্যুর পরে। কবির অন্তিম রোগ-শয্যার লিখিত রচিত।
এস মোর কল্পনা-সুন্দরী!
. ঊষার পূরবী তান লয়ে,
শোভাময় অমল শীতল
. কনক আঁচল উড়াইয়ে।
ভুলে যাও অতীত সঙ্গীত,
. রেখে দাও ভবিষ্য ভরসা,
সম্মুখের সুধার ভাণ্ডার
. কর পান মিটিয়ে তিয়াসা।
বাঁধ বীণা নব তার দিয়ে,
. গাও আজি নবীন সঙ্গীত,
রায় যদি একটু সান্ত্বনা
. আঁধারের কোনবা ব্যথিত।
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর
নিবেদন
কবি হেমন্তবালা দত্ত
কালীপ্রসন্ন দাশগুপ্ত সম্পাদিত মাসিক “মালঞ্চ” পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৫ (অগাস্ট ১৯১৮)
সংখ্যায় প্রকাশিত, কবির মৃত্যুর পরে।
তোমার চরণে এসে ফিরি বারবার,
কখন করিবে মুক্ত অবরুদ্ধ দ্বার ?
ওই তো গোধূলি এল দিন যায়-যায়,
আঁধারে কেমনে হায়, যাপিব নিশায় ?
দুরু দুরু করে মোর শঙ্কিত হৃদয়,
হে কল্যাণী! দাও সুতে সান্ত্বনা অভয়।
. ********************
. সূচীতে . . .
মিলনসাগর